26/06/2026
"কপালকুণ্ডলা" উপন্যাসটির কথা স্যারদের কাছ থেকে অনেক আগেই শুনেছিলাম। অনেক দিন ধরে ইচ্ছা ছিল এটি পড়ার। অবশেষে পড়ে শেষ করলাম।
কপালকুণ্ডলাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক উপন্যাস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। উপন্যাসটি পড়ার সময় কয়েকটি লাইন বা উক্তি আমার কাছে ভীষণ ভালো লেগেছে—
“তুমি অধম—তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?”
“পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?”
“নবকুমার দেখিলেন যে, ইনি অসামান্যা সুন্দরী। রূপরাশির তরঙ্গে তাঁহার যৌবনশোভা শ্রাবণের নদীর ন্যায় উছলিয়া পড়িতেছিল।”
“আপনি সত্যই বলিয়াছিলেন—এ ফুল রাজ্যদ্যানেও ফুটে না। পরিতাপ এই যে রাজধানীতে এ রূপরাশি দেখাইতে পারিলাম না।”
“যা বিধাতা করাইবেন, তাহাই করিব; যাহা কপালে আছে, তাহাই ঘটিবে।”
“প্রেয়সী! তোমাকে আমার অদেয় কিছুই নাই। তোমার সেই প্রবৃত্তি হয়, তবে তদ্রূপই কর। কিন্তু আমাকে কেন ত্যাগ করিয়া যাইবে? এক আকাশে কি চন্দ্র ও সূর্য উভয়ে বিরাজ করেন না? এক বৃন্তে দুটি ফুল ফুটে না!”
“আর কিছু চাহি না—এক একবার তুমি এই পথে যাইও; দাসী ভাবিয়া এক একবার দেখা দিও, কেবল চক্ষু পরিতৃপ্ত করিব।”
‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসটি এক কথায় অসাধারণ। উপন্যাসের চরিত্রগুলো—কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, মতিবিবি এবং কাপালিক—এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যে এগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করার মতো।
হঠাৎ প্রেমে পড়া, পুরোনো প্রেমের পুনর্জন্ম, এবং ধন-সম্পদ থাকলেই মানুষ সুখী হয় না—এই বিষয়গুলো উপন্যাসে সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।
আপনি যদি উপন্যাস পড়তে ভালোবাসেন, তবে অবশ্যই এটি পড়তে পারেন—বিশেষ করে যারা সাধুভাষা ও রোমান্টিক উপন্যাস পছন্দ করেন।
সবমিলিয়ে, আমার মতে উপন্যাসটির রেটিং ৮.৫/১০।
তবে আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো—লেখক চাইলে উপন্যাসটির সমাপ্তি আরও সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে পারতেন।
✍️ লিখেছেন: জাহেদ হাসান চৌধুরী
ডিপার্টমেন্ট: বাংলা
শিক্ষাবর্ষ: ২০২৪–২৫
কলেজ: চট্টগ্রাম কলেজ।