27/02/2025
উৎসর্গ তে লেখাটা দেখে কেমন যেন নস্টালজিক হয়ে গেলাম।
সাল কত হবে? ২০১৪/১৫। বই পড়ার সে কি তীব্র নেশা। মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় মেয়ে, তারওপর আমি ছাড়া নন একাডেমিক বই বাসায় কেই বা পড়ে? ভীষণ অপ্রয়োজনীয় একাডেমিক দিক থেকে, আবার শখটাও বড্ড বিলাসিতা। তাই বলে বই কিনতাম না বা পড়তাম না তেমন না। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, স্কুলের পাঠাগার, বন্ধুদের থেকে বই নিয়ে কত শত দিন গেছে, বিকেল গেছে, গাইড বইয়ের ভেতরে লুকানো বইয়ের পাতা এক এক করে শেষ হয়েছে। তাও বুকের তৃষ্ণা কি মিটেছে?
না!
বৃত্তির টাকার যে বেমিল অংশটা থাকতো, তা ছিলো আমার। ১২-১৩ বছরের আমার জন্য সেই ১২৫০ টাকা কত বেশি! এতো টাকা আমি সামলাতে না জানলেও ২৫০ টাকায় ২ টা বই কিন্তু আমি কিনতাম। আম্মু কিনে দিতো।
দিনে দশ টাকা করে বরাদ্দ ছিলো, হালকা কিছু খাওয়ার জন্য। সকাল ৬ টায় প্রাইভেট, ৮ টা থেকে কোচিং, ১১ টা ৪৫ থেকে ৪ টা অব্ধি ক্লাস। মাঝখানে ১১ টা ৩০ থেকে ১৫ মিনিট এর ব্রেক। ওই ব্রেকে কি যে ক্ষুধা লাগতো! একটা সিঙারা, একটা পুরি বা প্যাডিস বেশ ভালো আর মুখো রচক নাস্তা। কয়দিন খেয়েছি, আমি জানি না!
আমার দীর্ঘ ২৬ দিনের অনাহারে ( একটু বাড়িয়েই বললাম) জমানো ২৬০ টাকার ১-২ বই, আমার মনের খোরাক ঠিকই মিটাতো।
কি অদ্ভুত এক নেশা তাই না? দুনিয়ার সব কিছু তুচ্ছ যেখানে, সেখানেই বুঝি মনের আনন্দ, সব পূর্ণতা!
কি সুন্দর না দিন ছিলো সেগুলো!
এখন টিফিনের টাকা জমিয়ে বই কিনা লাগে না। হাতে কিছু টাকা থাকে। তাও বই কিনে যেন মন ভরে না!
একদিন অনেক টাকা হবে, মস্ত বড় বুকসেল্ফ হবে। হাজার হাজার বই থাকবে। তাও আমি হলফ করে বলতে পারি, ২৬০ টাকায় কেনা বইগুলোয় যে শান্তি আর পূর্ণতা ছিলো, তা আমি আর কোথাও পাবো না।