03/07/2024
"বাংলাদেশ থেকে মাছের আঁশ যাচ্ছে জাপান-চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে
মাছের আঁশ সাধারণত উচ্ছিষ্ট বা বর্জ্য হিসেবে বিবেচনা করে ফেলে দেয়া হয়। তবে টাঙ্গাইলে সেই আঁশ এখন দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আনতে শুরু করেছে, যা দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে প্রতি বছর ২০০ কোটি টাকার বেশি মাছের আঁশ রফতানি করা হচ্ছে। এ জেলায় মাছের বড় বাজারগুলোসহ প্রায় সব বাজারেই বঁটিওয়ালারা পাইকারদের কাছে ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে মাছের আঁশ বিক্রি করছেন। শুধু টাঙ্গাইল নয়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার টন আঁশ রফতানি হয় জাপান, চীন, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোয়। প্রতি মন আঁশ ৩৫০-৪৭০ ডলারে বিক্রি হয়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, মাছের আঁশের বিশ্বব্যাপী নানাবিধ ব্যবহার রয়েছে। মাছের আঁশে থাকে কোলাজেন যা খাদ্য, ওষুধ, ফুড সাপ্লিমেন্ট ও কসমেটিকস শিল্পে ব্যবহার হয়। কোলাজেন নামক একটি পণ্য বিক্রি হয় ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে। চীন ও জাপানে এ আঁশ ব্যবহার করে বায়ো পাইজোইলেকট্রিক ন্যানো জেনারেটর তৈরি করা হয়, যেগুলো দ্বারা রিচার্জেবল ব্যাটারিতে চার্জ দেয়া যায়। ঘরোয়া বিদ্যুৎ উৎপাদনেও এটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এছাড়া মাছের আঁশ ব্যাটারি তৈরি, বৈদ্যুতিক পণ্য, কৃত্রিম কর্নিয়া, মাছ ও পোলট্রি খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়।
রফতানি খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২৭ হাজার ২৭৮ টন মাছের আঁশ উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে ৯০ ভাগই রফতানি হয়। মূলত জাপান, হংকং, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও চীনে এসব আঁশ রফতানি হয়। প্রতি টন আঁশ ৩৫০-৪৭০ ডলারে বিক্রি হয়। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সমীক্ষা অনুযায়ী বাংলাদেশ বছরে ২০০ কোটি টাকার মাছের আঁশ রফতানি করে। এ পেশার সঙ্গে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ সরাসরি জড়িত। ১০-১২টি দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠান এ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে।
মৎস্যজীবীরা জানিয়েছেন, মাছের আঁশ সংগ্রহ করার পর সেই আঁশগুলো পরিষ্কার পানিতে অথবা গরম পানিতে ধুয়ে পরিষ্কার করা হয়। তারপর রোদে শুকানোর পর ঝরঝরে করা হয়। এরপরই বিক্রির উপযোগী হয়। বছরে দুই থেকে তিনবার এ আঁশ বিক্রি করা হয় পাইকারদের কাছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকার এসে মাছের আঁশগুলো কিনে নিয়ে যায়। প্রতি মণ আঁশ বিক্রি করা হয় ৩৬০০ থেকে ৪০০০ টাকা করে। শুধু আঁশ নয় মাছের নাড়িভুঁড়িও বিক্রি হয়। নাড়িভুঁড়ি ব্যবহার করা হয় মাছের খাদ্য হিসেবে। মাছের জাত অনুযায়ী আঁশের দাম ভিন্ন হয়।