28/05/2026
ঈদ মোবারক! সবাইকে পবিত্র ঈদুল আযহার আন্তরিক শুভেচ্ছা। 🌙✨
আজকের এই আনন্দের দিনে আমাদের সবার ঘরে ঘরে কুরবানি হচ্ছে। কিন্তু আমরা কি জানি, এই কুরবানির পেছনের মূল ইতিহাস এবং ইসলামের ‘জাতির পিতা’ হযরত ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে এর সম্পর্ক কী?
খুব সংক্ষেপে চলুন জেনে নিই সেই ঐতিহাসিক ও হৃদয়স্পর্শী ঘটনা:
📌 আল্লাহর কঠিন পরীক্ষা:
হযরত ইব্রাহিম (আঃ) বৃদ্ধ বয়সে আল্লাহর দরবারে অনেক কান্নাকাটির পর একটি পুত্রসন্তান লাভ করেন—হযরত ইসমাইল (আঃ)। স্বভাবতই তিনি ছিলেন বাবার কলিজার টুকরো। কিন্তু ইসমাইল যখন কিশোর বয়সে পদার্পণ করলেন, তখন আল্লাহ তাআলা ইব্রাহিম (আঃ)-কে স্বপ্নে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বস্তু (পুত্র ইসমাইলকে) কুরবানি করার নির্দেশ দেন। এটি ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে এক চরম পরীক্ষা।
📌 পিতা-পুত্রের অভূতপূর্ব আনুগত্য:
হযরত ইব্রাহিম (আঃ) যখন তাঁর স্বপ্নের কথা পুত্রকে জানালেন, তখন কিশোর ইসমাইল (আঃ) বিন্দুমাত্র ভয় না পেয়ে জবাবে বলেছিলেন— "বাবা, আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে আপনি তাই করুন। আল্লাহর ইচ্ছায় আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন।" (সূরা আস-সাফফাত: ১০২)
📌 অলৌকিক সেই মুহূর্ত:
আল্লাহর নির্দেশে পিতা তাঁর প্রিয় পুত্রকে কুরবানি করার জন্য মিনা প্রান্তরে শুইয়ে দিলেন। চোখের ভালোবাসা যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেজন্য ইব্রাহিম (আঃ) নিজের চোখ কাপড় দিয়ে বেঁধে নিলেন। এরপর যখন তিনি পুত্রের গলায় ধারালো ছুরি চালালেন, তখন মহান আল্লাহর কুদরতে জান্নাত থেকে একটি দুম্বা এসে ইসমাইল (আঃ)-এর জায়গায় প্রতিস্থাপিত হলো। ইসমাইল (আঃ) অক্ষত রয়ে গেলেন আর দুম্বাটি কুরবানি হয়ে গেল।
📌 আমাদের জন্য শিক্ষা:
আল্লাহ তাআলা হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর এই নিখাদ ভালোবাসা ও ত্যাগকে এতটাই পছন্দ করেছিলেন যে, কিয়ামত পর্যন্ত সকল সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য পশু কুরবানি করাকে আবশ্যক (ওয়াজিব) করে দিয়েছেন।
তাই কুরবানি মানে শুধু পশু জবাই করা বা মাংস খাওয়া নয়; কুরবানি হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের ভেতরের অহংকার, স্বার্থপরতা আর পশুবৃত্তিকে বিসর্জন দেওয়া।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবার কুরবানি কবুল করুন। আমিন। 🤲❤️
#ঈদুল_আযহা Mohammad Basar emon