05/08/2025
অধ্যায় ১: নতুন ভাড়াটিয়া
রাফি শহরে নতুন এসেছে। সদ্য একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেয়েছে, আর অফিসের কাছাকাছি থাকার জন্য মরিয়া হয়ে খুঁজছিল ভাড়া ফ্ল্যাট। কিন্তু শহরের ভাড়ার হার তার বাজেটের বাইরে।
হঠাৎ একদিন একটি পুরোনো বিল্ডিংয়ের বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে—“দুই রুমের ফ্ল্যাট, খুব সস্তায়।”�সে অবাক হয়ে ফোন করে। মালিক, এক বৃদ্ধ, খুব কম কথা বললেন। শুধু বললেন,�“ভাড়া কম কারণ ফ্ল্যাটটা অনেকদিন খালি। তুমি চাইলে আজই দেখে যেতে পারো।”
ফ্ল্যাটে গিয়ে রাফি প্রথমেই অদ্ভুত এক ধরনের ঠান্ডা অনুভব করল। দেয়ালগুলো বিবর্ণ, কিন্তু ঘর পরিষ্কার। আলো কিছুটা ম্লান, যেন ঠিকভাবে ছড়াচ্ছে না।�মালিক এসে বললেন,�“এই ফ্ল্যাটে একটা নিয়ম আছে—রাতে বেশি আওয়াজ কোরো না।”�রাফি হেসে উড়িয়ে দিল।�“আমি একা থাকব, বেশি আওয়াজের প্রশ্নই নেই।”
সেদিনই চুক্তি সেরে ফেলল। ভাড়া ছিল অবিশ্বাস্যরকম কম, তাই দ্বিতীয়বার ভাবল না।
রাতের বেলা যখন সবকিছু গুছিয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল, হঠাৎ খেয়াল করল—বিল্ডিংয়ের আশেপাশে যেন খুব কম শব্দ হয়। এমনকি দূরের গাড়ির আওয়াজও প্রায় শোনা যায় না।�“দারুণ তো,” নিজেকে বলল সে।�কিন্তু ঘুমোতে যাওয়ার আগে অদ্ভুত একটা বিষয় খেয়াল করল—�লাইট বন্ধ করার পর মনে হলো কেউ যেন রান্নাঘরের দিক থেকে ধীরে ধীরে হেঁটে আসছে।
সে উঠে দেখল—কেউ নেই।�প্রথম রাত বলে হয়তো মনের ভুল মনে করল।
অধ্যায় ২: প্রথম কণ্ঠ
দ্বিতীয় দিনটা স্বাভাবিকভাবেই কেটেছিল। অফিস থেকে ফিরে রাফি বাজার করল, রান্না করল, আর কিছুক্ষণ নেটফ্লিক্স দেখে ঘুমোনোর প্রস্তুতি নিল। প্রথম রাতের সেই অদ্ভুত অনুভূতিটা সে ভুলে গিয়েছিল।
রাত তখন প্রায় বারোটা। হঠাৎ রান্নাঘর থেকে একটা শব্দ ভেসে এলো—টং করে ধাতব কিছুর ঠোকাঠুকি।�রাফি প্রথমে ভাবল হয়তো থালাবাটি সরে গিয়ে মাটিতে পড়েছে।�কিন্তু গিয়ে দেখে সব ঠিকঠাক। এমনকি চুলাও বন্ধ।
সে কিছুটা বিরক্ত হয়ে নিজের ঘরে ফিরে এল। লাইট বন্ধ করে শুয়ে পড়ল।�মিনিট পাঁচেক যেতে না যেতেই হঠাৎ পিছন থেকে মৃদু একটা কণ্ঠ শোনা গেল—�“তুই আমার ঘরে কেন?”
রাফি চমকে উঠে বসল। প্রথমে ভেবেছিল হয়তো পাশের ফ্ল্যাট থেকে এসেছে।�কিন্তু সে জানে পাশের ফ্ল্যাট এখনো খালি। মালিকই বলেছিলেন।
নিজেকে বোঝাল—“সম্ভবত হ্যালুসিনেশন। ক্লান্তি থেকে হতে পারে।”�কিন্তু যতই বোঝাক, শরীরের শিরদাঁড়া বেয়ে ঠান্ডা একটা স্রোত নেমে যাচ্ছিল।
ঘুম আসছিল না। সে লাইট জ্বালিয়ে ল্যাপটপে কাজ শুরু করল।�তারপর আবার সেই কণ্ঠ—এবার আরও কাছে, আরও স্পষ্ট:�“বল, আমার ঘরে কেন?”
রাফি লাফিয়ে উঠে দরজার দিকে দৌড় দিল। দরজা সাধারণত খোলা থাকে, কিন্তু এবার যেন কেউ ভেতর থেকে আটকে রেখেছে। যতই টানে, দরজা নড়ে না।
তখনই রান্নাঘর থেকে হালকা পায়ের আওয়াজ শোনা গেল—ধীরে ধীরে ঘরের দিকে এগিয়ে আসছে।
Next…