12/08/2026
১৮ থেকে ২২ বছর—এই সময়টা তরুণীদের জীবনের একটি আনন্দময় সময়। হুমায়ূন আহমেদের লেখা থেকে অন্তত তাই অনুমান করা যায়। এই বয়সে তারা অদ্ভুত জিনিসের প্রতি আকৃষ্ট হয়, তারা অবাক হতে পছন্দ করে।
হুমায়ূন আহমেদের লেখা হিমু একটি বিখ্যাত চরিত্র। চরিত্রটি অদ্ভুত। তার জীবনের লক্ষ্য তার বাবার রেখে যাওয়া সকল নির্দেশ পালন করা। তার বাবার একটিই স্বপ্ন ছিল—তিনি তার ছেলেকে মহাপুরুষ পর্যায়ের একজন মানুষে পরিণত করবেন। কিন্তু নিজের কর্ম শেষ করে যেতে পারেননি। তবে ছেলের জন্য তিনি তার আদেশবাণী লিখে গিয়েছেন।
হিমু সম্পর্কিত যত বই আছে, তাতে কোনো না কোনো তরুণী তার প্রেমে পড়ে। এর কারণ কী? সে অদ্ভুত বলে? সে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে বলে? নাকি সে অন্যদের থেকে আলাদা বলে?
হিমু হয়তো নিজেও এর উত্তর জানে না। হিমু শুধু পারে খালি পায়ে পুরো শহর ঘুরে বেড়াতে, কাকফাটা রোদে হাঁটতে, পকেটহীন হলুদ পাঞ্জাবি পরে ঘুরে বেড়াতে। তার জীবনে স্বাভাবিকতার খুব বেশি জায়গা নেই। অথচ এই অদ্ভুত মানুষটির প্রতিই তরুণীরা এত আকৃষ্ট হয়।
কিন্তু কেন?
হয়তো মানুষ এমন কিছুর প্রতিই বেশি আকৃষ্ট হয়, যাকে সে সহজে বুঝতে পারে না। হিমুকে বোঝা কঠিন। তাকে ভালোবাসা আরও কঠিন। কারণ সে কখনো কাউকে ভালোবাসার নিশ্চয়তা দেয় না। তবুও কেউ একজন তার প্রতি ভালোবাসা অনুভব করে যায়।
এই অদ্ভুত চরিত্রের প্রতি তরুণীরা এত আকৃষ্ট হয় কেন—হয়তো এর উত্তর হিমুর মধ্যেই নেই। হয়তো উত্তরটা তাদের নিজেদের মধ্যেই লুকিয়ে আছে।
প্রতিটি তরুণীর মধ্যে হয়তো এমন একটি আকাঙ্ক্ষা থাকে—যাকে বোঝা যায় না, তাকে বোঝার; যে দূরে থাকে, তার কাছে যাওয়ার; যে ভালোবাসে না, তাকে ভালোবাসার।
“তুমি আমার প্রেমে পড়োনি, তবুও আমি তোমাকে ভালোবাসি।”
By Sakib Arefin
#হিমু #হুমায়ূনআহমেদ #সাহিত্য #দর্শন #অপ্রাপ্তপ্রেম