11/04/2025
জীবন এক অদ্ভুত যুদ্ধ!
বয়স যত বাড়ে, তত বোঝা যায়—এই যুদ্ধটা মোটেও ফেয়ার না।
চোখের সামনে দেখি, কেউ অসাধারণ ব্রেন নিয়ে জন্মায়। পরীক্ষার আগের রাতে বইয়ের পাতা উল্টেই দারুণ রেজাল্ট করে।
আর আপনি? দিনের পর দিন পড়ে যাচ্ছেন, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাচ্ছেন না।
কেউ জন্মেছে ধনীর ঘরে—অভাবের কিছু চেনে না।
আর আপনার বাবাকে সেমিস্টার ফি জোগাড় করতে গিয়ে হাঁসফাঁস করতে হয়।
সত্যি, তখন পৃথিবীর উপর অভিমান হয়, রাগ হয়।
আরও দেখি—কেউ খারাপ রেজাল্ট নিয়েও ভালো চাকরি পেয়ে যায়।
কারও হয়তো স্কিল ছিল, কারও রেফারেন্স, কারও শুধুই ভাগ্য।
আর কেউ ইউটিউবে ভিডিও বানিয়ে মাসে লাখ টাকা আয় করছে!
নিজের ক্যারিয়ার চয়েস তখন বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ে।
একজন পিএইচডি করছে নিউইয়র্কে,
আর কেউ ব্যবসায় লস খেয়ে লোন শোধ করতে না পেরে জেল খাটছে।
কেউ ২০+ ইন্টারভিউ দিয়ে এখনো বসে আছে চাকরির অপেক্ষায়।
হ্যাঁ, এই জীবন অসম। দৌড় প্রতিযোগিতা।
কিন্তু সব দৌড়েই কি শুধু সবার আগে পৌঁছানোই জয়?
আপনি চাইলে সারাদিন অন্যের সাথে তুলনা করে কাটাতে পারেন।
কিন্তু সেখান থেকে কী পাবেন? হতাশা ছাড়া আর কিছুই নয়।
সত্যিটা হলো—জীবন একেকজনের একেকরকম।
ভাগ্য, মেধা, সময়, পরিশ্রম—সবকিছু মিলিয়ে এই যুদ্ধের সমীকরণ তৈরি হয়।
আর এই সমীকরণ সবার জন্য এক না।
তাই তুলনা নয়—নিজেকে নিজের মতো গড়ে তোলাটাই আসল।
আপনি হয়তো এখন কষ্টে আছেন,
কিন্তু আপনার এই লড়াইটাই একদিন আপনার গল্প হবে।
ভালো থাকার চাহিদা তো কখনোই ফুরায় না—
যার ঘর নেই, সে ঘর চায়। যার ঘর আছে, সে গাড়ি চায়।
গাড়িওয়ালা মানুষটা আবার চায় ফ্ল্যাট।
এই চাওয়া শেষ হয় না।
কিন্তু একটা জিনিস মনে রাখবেন—আপনার আজকের কষ্ট, আজকের লড়াই—এটাই আপনাকে তৈরি করছে।
একদিন আপনি নিজেই বলবেন, “ভালো না থাকলেও, আমি লড়ে গিয়েছিলাম!”
আর ওই লড়াটাই আপনাকে আলাদা করবে, সবাই থেকে।
তাই থেমে যাবেন না।
তুলনা নয়, নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখুন।
সময় সবার আসে—আপনারটাও আসবে।
শুধু লড়াইটা ধরে রাখুন।