Sharif Moaz

Sharif Moaz "The time to repair the roof is when the sun is shining." — John F. Kennedy Don't take advantages from your duty.

গ্রামের দুই জমিদার পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের (Acrimonious) বিবাদ ছিল। একবার গ্রামের মেলায় এক (Conundrum) তৈরি হলো যখন এ...
21/05/2026

গ্রামের দুই জমিদার পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের (Acrimonious) বিবাদ ছিল। একবার গ্রামের মেলায় এক (Conundrum) তৈরি হলো যখন একটি প্রাচীন দলিল পাওয়া গেল। দলিলটি ছিল এক (Benevolent) সমাজসেবকের লেখা। জমিদার অবিনাশ বাবু ছিলেন বেশ (Haughty), কিন্তু তার ছেলে ছিল অত্যন্ত (Gregarious)। ছেলের (Ebullient) স্বভাব ও সবার সাথে মেশার ক্ষমতা সবাইকে মুগ্ধ করত। একদিন এক (Fortuitous) ঘটনার মাধ্যমে দলিলটির আসল অর্থ বোঝা গেল। অবিনাশ বাবুর ব্যবহার সবসময় (Impeccable) ছিল না, কিন্তু সেইদিন তিনি বেশ (Jovial) মেজাজে ছিলেন। তার হৃদয়ে দীর্ঘদিন ধরে (Dormant) থাকা মানবতা হঠাৎ জেগে উঠল এবং বহু বছরের বিবাদের অবসান হলো।

নতুন শব্দসমূহ:
1. Acrimonious (এক্রিমোনিয়াস) - তিক্ত বা বিদ্বেষপূর্ণ
2. Conundrum (কোনানড্রাম) - ধাঁধা বা জটিল সমস্যা
3. Benevolent (বেনেভোলেন্ট) - দয়ালু বা পরোপকারী
4. Haughty (হটি) - উদ্ধত বা অহংকারী
5. Gregarious (গ্রেগারিয়াস) - মিশুক বা সঙ্গপ্রিয়
6. Ebullient (ইবুলিয়েন্ট) - অত্যন্ত উৎসাহী বা উচ্ছ্বসিত
7. Fortuitous (ফরচুইটাস) - আকস্মিক বা দৈবক্রমে ঘটা
8. Impeccable (ইমপেকাবল) - নিখুঁত বা ত্রুটিহীন
9. Jovial (জোভিয়াল) - প্রফুল্ল বা আমুদে
10. Dormant (ডরম্যান্ট) - সুপ্ত বা নিষ্ক্রিয়

সরকারি স্কুলে ছাত্র কমছে বছরের পর বছর। বিগত চার বছরে মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে ছাত্র-ছাত্রী কমেছে দশ লাখেরও বেশি। একই সময়ে ম...
18/05/2026

সরকারি স্কুলে ছাত্র কমছে বছরের পর বছর। বিগত চার বছরে মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে ছাত্র-ছাত্রী কমেছে দশ লাখেরও বেশি। একই সময়ে মাদরাসায় শিক্ষার্থী বেড়েছে সাড়ে দুই লাখ। আর ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে বেড়েছে শিক্ষার্থী। এই চিত্র একটি শিক্ষা বৈষম্যের স্পষ্ট প্রমাণ। সরকারি স্কুল ভাঙছে, আর সমৃদ্ধ পরিবারের সন্তানরা চলে যাচ্ছে বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে যেখানে বছরে খরচ হয় দুই লাখ থেকে চল্লিশ লাখ টাকা পর্যন্ত। এই অসমতাই বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সংকট।
সরকারি স্কুলে এখন যারা পড়ে তারা প্রায় সবাই গরিব পরিবারের সন্তান। তাদের বাবা-মা আয় করেন কম। তারা চায় তাদের সন্তান পড়ুক, কিন্তু বেসরকারি স্কুলের ফি দেওয়া তাদের সাধ্যের বাইরে। তাই সরকারি স্কুলে পড়ায়। কিন্তু সরকারি স্কুলে শিক্ষার মান কী? শিক্ষক উপস্থিতি নেই। অনেক সময় সারা সপ্তাহে একটি ক্লাসও হয় না। অভিভাবকরা খোঁজ নিলে শোনেন — শিক্ষক চেয়ারম্যানের দপ্তরে গেছেন, বা অন্য কাজে নিয়োজিত আছেন। সরকারি স্কুলে বহুদিন থেকেই শিক্ষক নিয়োগ হয় না। পদ খালি থাকে মাস-বছর ধরে। কোনো কোনো বিষয়ে শিক্ষক নেই বছরের পর বছর। ফলে ছাত্ররা পড়ুক বা না পড়ুক, শেখার কোনো সুযোগই পায় না।
সরকারি স্কুলে অবকাঠামোও ভালো নেই। ঘর ভাঙছে, ছাদ ফুটছে, জানালা ভাঙা, দরজা নেই। শ্রেণিকক্ষ এতটাই নোংরা যে কেউ বসতে চায় না। শৌচাগার সম্ভব না করে রাখা হয় বছরের পর বছর। পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই। স্কুলে খেলার মাঠ নেই, বা থাকলেও এতটাই ছোট যে ছাত্ররা খেলতে পারে না। বাথরুম-টয়লেটে তালা লাগানো থাকে মাসের পর মাস। এমন একটি পরিবেশে ছাত্ররা শিখবে কীভাবে? যে পরিবেশে পড়াশোনা করা নিরাপদ নয়, যেখানে কোনো শিক্ষক নেই, যেখানে কোনো সুবিধা নেই — সেখানে কোনো অভিভাবক তার সন্তানকে পাঠাতে চায় না।

বাজার থেকে কিনে আনা সবজি খান, ফল খান, মাছ খান — কিন্তু জানেন না সেই খাবারে কী আছে। রঙিন টমেটো, টকটকে আপেল, তাজা মাছ, সাদ...
17/05/2026

বাজার থেকে কিনে আনা সবজি খান, ফল খান, মাছ খান — কিন্তু জানেন না সেই খাবারে কী আছে। রঙিন টমেটো, টকটকে আপেল, তাজা মাছ, সাদা দুধ — সবকিছুই চোখ জুড়ায়, কিন্তু সব কিছুতেই লুকানো বিষ। বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা এখন এক ভয়াবহ সংকটে পরিণত হয়েছে, যেখানে মানুষ যা খাচ্ছে তার অর্ধেকই বিষাক্ত। ঢাকার বাজারে বিক্রি হওয়া দুধের ৬৫ শতাংশে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া এবং রাসায়নিক পাওয়া গেছে। দেশের বাজারে ৪৫ শতাংশ খাদ্যপণ্য কোনো না কোনোভাবে ভেজালের শিকার। প্রায় অর্ধেক খাবার মানুষ খেতে যাচ্ছে জেনে না যে সেটা নিরাপদ কিনা। এই অবস্থা একটি জাতীয় বিপর্যয়। যে মাছ আজ বাজারে বিক্রি হচ্ছে, তা ফরমালিন দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ফরমালিন একটি বিষাক্ত রাসায়নিক যা মৃতদেহ সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়। এই পদার্থ মানুষের নাক এবং শ্বাসনালিতে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে, শ্বাসকষ্ট বাড়ায়, ব্রঙ্কাইটিস এবং নিউমোনিয়া হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী সেবনে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। বাংলাদেশের প্রতিটি মৎস্য বাজারে এই ফরমালিন দিয়ে সংরক্ষিত মাছ বিক্রি হচ্ছে। কোনো কন্ট্রোল নেই, কোনো পরীক্ষা নেই। মৎস্যব্যবসায়ীরা এটাকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করেন কারণ এতে মাছ তাজা থাকে এবং দীর্ঘ দিন রাখা যায়। তারা জানেন না, বা জানলেও পরোয়া করেন না, যে এটা মানুষের শরীরে বিষ ঢালছে। ফলে একই অবস্থা। কার্বাইড দিয়ে আম, কলা, আনারস পাকানো হয়। কার্বাইড একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক পদার্থ যা ফল পাকানোর প্রক্রিয়াটিকে ত্বরান্বিত করে। এটা কৃত্রিমভাবে পাকলেও ভেতরের পুষ্টি থাকে না। বরং এতে ক্ষতিকর ধাতু এবং রাসায়নিক থেকে যায় যা পাচনতন্ত্র, লিভার এবং কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত করে। শাকসবজিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। ফসল বাঁচাতে গেলে কীটনাশকের প্রয়োজন আছে, কিন্তু বাংলাদেশে ব্যবহৃত কীটনাশকের পরিমাণ কোনো মান অনুসরণ করে না। কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। কৃষকরা পুরো বোতল ঢেলে দেয়, ফলে সবজিতে যে পরিমাণ বিষ থাকে তা মানবদেহের সহ্যক্ষমতা অতিক্রম করে। এই কীটনাশক শরীরে জমা হয়ে দীর্ঘ মেয়াদে ক্যান্সার, হরমোনজনিত সমস্যা এবং প্রজনন সংক্রান্ত জটিলতা সৃষ্টি করে। দুধ। এটি শিশু এবং গর্ভবতী নারীর জন্য অপরিহার্য। কিন্তু বাংলাদেশের দুধ কতটা নিরাপদ? ঢাকার বাজারে পরিবেশিত দুধের সিংহভাগে ইতিবাচক ব্যাকটেরিয়া এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ পাওয়া গেছে। দুধের গুণমান পরীক্ষা করার কোনো ব্যবস্থা নেই বাজার লেভেলে। ডেইরি ফার্মে যা উৎপাদিত হয় তার একটি অংশ সত্যি সত্যি বিষাক্ত। গরু যখন রোগী থাকে তখনও দুধ বিক্রি করা হয়। অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার পর দুধে সেই অ্যান্টিবায়োটিক অবশিষ্ট থাকে। ক্রেতা যখন সেই দুধ খায়, তখন অজানতে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পেতে থাকে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আছে কাগজে, বাস্তবে নেই। কর্তৃপক্ষের কোনো যথাযথ পরীক্ষাগার নেই, পর্যাপ্ত কর্মী নেই, নিয়মিত তৎপরতা নেই। বাজারে যায় যা খুশি বিক্রেতারা বিক্রি করে যা খুশি। নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্থান নিয়ে এত ব্যস্ত থাকে যে গ্রাহক সুরক্ষায় পৌঁছাতে পারে না। যেসব খাদ্য পরীক্ষা করা হয়, তাতেও ধরা পড়ে যে বেশিরভাগ পণ্যই নিরাপদ মান থেকে বাইরে। তাহলে যেসব পরীক্ষা করা হয় না তাদের অবস্থা কী? ৪৫ শতাংশ ভেজালকৃত খাবার বাজারে আছে — এই সংখ্যা বলে দেয় যে সিস্টেম সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, মানুষ তাদের খাবার খেতে বাধ্য। চয়ন করার সুযোগ নেই। গরিব পরিবার যা খাবার পাওয়া যায় তাই খায়। তার তথ্য নেই, তার ক্ষমতা নেই, কারো কাছে অভিযোগ করারও উপায় নেই। সমৃদ্ধ মানুষ যারা বাছাই করে খায়, চয়নমুক্ত খাবার কেনে, বিশ্বাসযোগ্য দোকান থেকে কেনে — তারা অনেকটা সুরক্ষিত। কিন্তু সাধারণ মানুষ নিরাপদ খাবার গ্রহণের স্বাধীনতা নেই। যা পাওয়া যায় তাই খায়। এভাবে দেশের প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ অজানতে বিষ খাচ্ছে। দীর্ঘ মেয়াদে এর প্রভাব কী হবে? বাংলাদেশে ক্যান্সারের হার বছরে বছরে বাড়ছে। কিডনি এবং লিভারের রোগও বাড়ছে। শিশুদের মধ্যে হরমোনাল সমস্যা দেখা যাচ্ছে। শিশুরা ছোট বয়সেই যৌন পরিপক্বতা অর্জন করছে। এর সব কারণ শুধু বিষাক্ত খাবার নয়, কিন্তু তার একটা বড় অংশ। অনেক আন্তর্জাতিক গবেষণা দেখায় যে খাদ্য বিষ দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সার এবং হরমোনজনিত রোগ সৃষ্টি করে। বাংলাদেশে এই গবেষণাগুলোকে গুরুত্বের সাথে নেওয়া হয় না। সবচেয়ে অসহায়ের বিষয় হলো, খাবার না খাইয়ে কোনো বিকল্প নেই। মানুষকে খেতে হবে। মানুষ জানে না তার খাবার কোথা থেকে এসেছে, কীভাবে তৈরি হয়েছে, কী কী রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে। এক একটি খাবার একটি সম্ভাব্য বিষের উৎস হয়ে উঠেছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দরকার কঠোর নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত পরীক্ষা, এবং উৎপাদকদের দায়বদ্ধতা। কিন্তু এর কোনোটাই আছে না বাংলাদেশে। রাষ্ট্র যখন নাগরিকদের খাদ্য সুরক্ষা দিতে পারে না, তখন সেটা রাষ্ট্রের বড় ব্যর্থতা।

#নিরাপদখাবার #খাদ্যনিরাপত্তা #বাংলাদেশ #ফরমালিন #কীটনাশক #স্বাস্থ্য #অব্যবস্থাপনা

একদা এক শান্ত গ্রামে এক (Pensive) যুবক থাকত। সে ছিল খুব (Reticent) প্রকৃতির, তাই সবার সাথে কথা বলত না। গ্রামের মানুষ ছিল...
16/05/2026

একদা এক শান্ত গ্রামে এক (Pensive) যুবক থাকত। সে ছিল খুব (Reticent) প্রকৃতির, তাই সবার সাথে কথা বলত না। গ্রামের মানুষ ছিল খুব (Diligent), তারা সারা দিন কঠোর পরিশ্রম করত। একদিন ভারী বর্ষণে গ্রামটি (Inundated) হয়ে পড়ল। এই বিপর্যয় মানুষের দুঃখকে (Exacerbate) করে তুলল। সবাই (Lethargic) হয়ে বসে না থেকে পরিস্থিতির (Cognizant) হয়ে সমাধানের পথ খুঁজতে লাগল। সরকার চেষ্টা করল মানুষের কষ্ট (Alleviate) করতে। তারা একটি (Frugal) পরিকল্পনা গ্রহণ করল যাতে সম্পদ নষ্ট না হয়। পরিস্থিতির ভয়াবহতা (Mitigate) করতে গ্রামের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ শুরু করল।

নতুন শব্দসমূহ:
1. Pensive (পেন্সিভ) - চিন্তামগ্ন
2. Reticent (রেটিসেন্ট) - স্বল্পভাষী
3. Diligent (ডিলিজেন্ট) - পরিশ্রমী
4. Inundated (ইনানডেটেড) - প্লাবিত বা অভিভূত
5. Exacerbate (এক্সাসারবেট) - অবনতি ঘটানো
6. Lethargic (লেথার্জিক) - অলস বা নিস্তেজ
7. Cognizant (কগনিজান্ট) - সচেতন
8. Alleviate (অ্যালিভিয়েট) - উপশম করা
9. Frugal (ফ্রুগাল) - মিতব্যয়ী
10. Mitigate (মিটিগেট) - হ্রাস করা

16/05/2026
উন্নয়ন প্রকল্প শুরু হয়, বছরের পর বছর কাজ চলে, কিন্তু সেগুলো কখনো শেষ হয় না। বাংলাদেশে এমন অসম্পূর্ণ প্রকল্পের সংখ্যা ...
16/05/2026

উন্নয়ন প্রকল্প শুরু হয়, বছরের পর বছর কাজ চলে, কিন্তু সেগুলো কখনো শেষ হয় না। বাংলাদেশে এমন অসম্পূর্ণ প্রকল্পের সংখ্যা হাজারের উপরে। এক এলাকায় দেখা যায় তিন বছর ধরে সড়ক নির্মাণ চলছে, কিন্তু এখনো অর্ধেকও হয়নি। অন্য এলাকায় আছে ভাঙা পুল, যা তিন বছর ধরে মেরামত হচ্ছে না। আরও একটি এলাকায় দেখা যায় স্কুল-কলেজ নির্মাণ স্থগিত হয়েছে, ছাত্ররা এখনো টিনের ঘরে ক্লাস করছে। এটি শুধু নির্মাণ প্রকল্পের অসমাপ্তির গল্প নয় — এটি হলো রাষ্ট্রের ব্যর্থতা ও অব্যবস্থাপনার চিত্র। বাংলাদেশের উন্নয়ন বাজেট বছরের পর বছর বাড়ছে। কিন্তু এই বাজেটের কতটা বাস্তবে কাজে লাগছে? বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২০२৬ অর্থবছরে উন্নয়ন বাজেট ছিল ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকা বছরে ব্যয় হচ্ছে উন্নয়ন কাজে। এই অঙ্কটা যদি ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ভাগ করেন, তাহলে একজনের জন্য বছরে পড়ে মাত্র ৬৬ টাকার মতো। আর যা আসলে পৌঁছায়, তার পরিমাণ আরও কম। কারণ প্রকল্পের নামে অর্থ বরাদ্দ হয়, প্রকল্পের কাজ হয় না। অঙ্কটা বাড়লেও মানুষের জীবনমান বাড়ে না। বিশ্বব্যাংক এবং এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক বছরের পর বছর ধরে বলে আসছে, বাংলাদেশে অবকাঠামো প্রকল্পগুলো কার্যকর নয়। কেন? কারণ প্রকল্পগুলো সঠিকভাবে পরিকল্পনা করা হয় না, বাস্তবায়ন সঠিকভাবে হয় না, এবং মনিটরিং থাকে না। এর বাইরে আছে দুর্নীতি ও অস্বচ্ছতা, যা প্রতিটি প্রকল্পের খরচ বাড়িয়ে দেয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক নির্মাণে বছরের পর বছর লেগেছে। সেতু নির্মাণে কয়েক বছর পিছিয়ে গেছে। নদীবন্দর সম্প্রসারণে বিলম্ব হয়েছে। এসব বিলম্বের খরচ কী? আপনি যদি একটি সড়ক প্রকল্পের জন্য ১০০ টাকা বাজেট করেন, এবং তিন বছরে সেটা শেষ হয় তাহলে ইনফ্লেশনের কারণে খরচ বেড়ে দাঁড়াবে ১२०-१३० টাকার মতো। অর্থাৎ বিলম্বের কারণে অতিরিক্ত ২०-३० টাকা খরচ হচ্ছে। আর এই অতিরিক্ত খরচগুলো কোথা থেকে আসছে? অর্থনীতি থেকে। বাংলাদেশে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প আছে যেগুলোর সামাজিক সুবিধা নেই বললেই চলে। বড় শহরে মেট্রো রেল প্রকল্প চলছে, যা মূলত শহুরে মানুষের জন্য। গ্রাম এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই, পানীয় জল নেই। কিন্তু বাজেটের বেশিরভাগ চলে যাচ্ছে শহরের অবকাঠামোতে। এর ফলে সম্পদের বণ্টন আরও অসমান হয়ে যাচ্ছে। যারা শহরে আছেন তারা সুবিধা পাচ্ছেন, যারা গ্রামে আছেন তারা উপেক্ষিত থাকছেন। এটা উন্নয়ন নয়, এটা বৈষম্য। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, উন্নয়ন প্রকল্পগুলো স্বচ্ছতার সাথে গ্রহণ করা হয় না। তথ্যের স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে নাগরিক যখন প্রকল্প সম্পর্কে তথ্য চায়, তখন অনেক সময় পায় না। কেন? কারণ তথ্য সরাজ্ঞান করে দিলে দুর্নীতি ধরা পড়বে। কিন্তু যখন দুর্নীতি লুকানো হয়, তখন প্রকল্প ভালোভাবে বাস্তবায়ন হয় না, এবং মানুষ উপকৃত হয় না। প্রকল্প শেষ হওয়ার পরেও অনেক সমস্যা দেখা যায়। যেমন বাঁধ নির্মাণের পর তার রক্ষণাবেক্ষণ নেই। সড়ক নির্মাণের পর মেরামতের বাজেট নেই। এর ফলে নতুন অবকাঠামো দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। একটি সেতু নির্মাণে পাঁচ বছর লাগল, কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অর্থ নেই। এটা কোনো উন্নয়ন নয়, এটা সম্পদের অপচয়। বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় একটি বড় সমস্যা হলো, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উপর নির্ভরতা। বিশ্ব ব্যাংক, এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক, জাইকা, জিআইজেড — এরা আসে এবং প্রকল্প ডিজাইন করে দেয়। কিন্তু স্থানীয় চাহিদা কতটা বিবেচনা করা হয়? সেই প্রশ্ন থাকে। উপরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া প্রকল্প অনেক সময় কাজ করে না। কারণ স্থানীয় মানুষের সাথে আলোচনা করা হয় না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একটি জলাশয় উন্নয়ন প্রকল্পে মৎস্যজীবীদের সাথে আলোচনা করা হয়নি। ফলে প্রকল্পটা শেষ হওয়ার পর মৎস্যজীবীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই ধরনের উদাহরণ অসংখ্য। অবকাঠামো উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে ভালো সড়ক, রেল, বিদ্যুৎ, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা প্রয়োজন। কিন্তু শুধু নির্মাণ করলেই হয় না। সেগুলোকে টেকসই হতে হবে, সাশ্রয়ী হতে হবে, এবং সবার জন্য সমানভাবে উপকারী হতে হবে। বাংলাদেশে উন্নয়ন হচ্ছে, কিন্তু সেটা সুষম উন্নয়ন নয়। শহর-গ্রাম ভেদ বাড়ছে। ধনী-গরিব ভেদ বাড়ছে। এবং অবকাঠামো অপচয় হচ্ছে। এটা পরিবর্তন করতে হলে দরকার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ।

#উন্নয়ন #অবকাঠামো #বাংলাদেশ #দুর্নীতি #অব্যবস্থাপনা #প্রকল্প #টেকসই উন্নয়ন

🔴 ব্যাংক লুট, বাজেট ফাঁপা — অর্থনীতির তিন ক্ষতে রক্তক্ষরণ থামছে নাবাংলাদেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের অস্বাভাবিক উত্থান, ...
15/05/2026

🔴 ব্যাংক লুট, বাজেট ফাঁপা — অর্থনীতির তিন ক্ষতে রক্তক্ষরণ থামছে না

বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের অস্বাভাবিক উত্থান, রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি এবং বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকারের ক্রমবর্ধমান ঋণনির্ভরতা — এই তিনটি ইস্যু এখন অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। তিনটি আলাদা সমস্যা নয় — এটা একটাই রোগের তিনটি উপসর্গ। রোগের নাম হলো জবাবদিহিহীন ক্ষমতা। ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশের মাধ্যমে লুটেরাদের ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার। সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, ব্যাংক লুট ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা প্রয়োজন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা — ২০২২ সালের তুলনায় বেড়েছে ২৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা বা ২০ দশমিক ৭০ শতাংশ। এই টাকা কোথায় গেছে? কারো না কারো পকেটে। কিন্তু কে দেবে এর জবাব? ব্যাংক থেকে টাকা নিয়েছেন, ফেরত দেননি — এই অপরাধ করে বাংলাদেশে অনেকেই দিব্যি বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কেউ বিদেশে আছেন, কেউ দেশেই আছেন। আদালতে মামলা আছে, রায় নেই। রায় আছে, কার্যকর নেই। এই ব্যবস্থাটা কে তৈরি করেছে? যারা ক্ষমতায় ছিলেন এবং আছেন, তারা সবাই মিলে। সীমিত আয়ের মানুষদের স্বস্তি দিতে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে করছাড়ের পরিকল্পনা করছে সরকার। এটা ভালো কথা। কিন্তু একই সময়ে যখন রাজস্ব ঘাটতি থাকে, বাজেট ঘাটতি থাকে, খেলাপি ঋণ পাহাড়সমান — তখন করছাড়ের টাকা আসবে কোথা থেকে? আসবে নতুন ঋণ করে। সেই ঋণের বোঝা বহন করবে আগামী প্রজন্ম। আজকের শিশু, আজকের তরুণ — যারা এখনো ভোটার নয়, যাদের মতামত নেওয়া হয়নি — তাদের কাঁধে চাপানো হচ্ছে আজকের শাসকদের ব্যর্থতার দায়। বাংলাদেশে প্রতি বছর বাজেট হয় বড়, ঘাটতি হয় বড়, ঋণ হয় বড়। কিন্তু মানুষের জীবনমান বাড়ে ধীরে, অথবা বাড়েই না। বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে, বেতন বাড়ে না। বিদ্যুতের দাম বাড়ে, সরবরাহ বাড়ে না। কর বাড়ে, সেবা বাড়ে না। এই অসামঞ্জস্যটাই হলো বাংলাদেশের অর্থনীতির আসল সমস্যা — সম্পদ আছে, সুশাসন নেই। টাকা আসে, টাকা যায় — মানুষের কাছে পৌঁছায় না। অর্থনীতিকে সারাতে হলে আগে এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে — টাকা কোথায় যাচ্ছে, কে নিচ্ছে, কেন জবাব দিতে হচ্ছে না?

#অর্থনীতি #খেলাপিঋণ #বাংলাদেশ #ব্যাংক #বাজেট #অব্যবস্থাপনা #দুর্নীতি

Address

Uttar-Baligaon,Keramatnagar,kamalganj

3221

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sharif Moaz posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

  • Want your business to be the top-listed Photography Service?

Share