10/05/2026
রাজনীতির মাঠে সময়ে সময়ে এমন নির্লজ্জতার প্রমাণ দেখা যায়, যা সাধারণ জনগণ কখনোই ভুলে যায় না। শ্রীমঙ্গলের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হওয়ার পর থেকে ঘটেছে অসংখ্য মিথ্যা নাটক, ষড়যন্ত্র ও প্রতিহিংসার রাজনীতি।
আমি যখন ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলাম, তখন জনাব আতাউর রহমান লাল হাজী সাহেব উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই কেন যেন উনার মতো একজন নিবেদিত প্রাণ মানুষ ধীরে ধীরে হারিয়ে গেলেন। কারা ছিল এসবের পেছনে—তৃণমূল নেতাকর্মীরা আজ পর্যন্ত সেই কাহিনী জানতে পারলো না।
ঠিক এভাবেই জনাব ইয়াকুব আলী, এম. ইদ্রিস আলীসহ অনেক নেতাকর্মী রাজনৈতিকভাবে হারিয়ে গেলেন। যাদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার রাজনীতি হয়েছে, কিন্তু সেসবের বিরুদ্ধে তেমন প্রতিবাদ দেখা যায়নি।
সর্বশেষ শ্রীমঙ্গলে যে আলোচিত ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে, তা ইতিহাস হয়ে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ সৃষ্টি করেছে। যাকে ঘিরে আজ এত আলোচনা, তিনি আর কেউ নন—জনাব তাজ উদ্দিন তাজু ভাই।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার প্রতিটি গ্রামে যার পদচারণা ছিল বিএনপিকে টিকিয়ে রাখা, কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচি সাহসিকতার সাথে পালন করা এবং শ্রীমঙ্গলে বিএনপির শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করা—যাতে ভবিষ্যতে নির্বাচনে জয়লাভ করে ইতিহাস সৃষ্টি করা যায়।
কিন্তু সেই লড়াকু সৈনিকের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ একটি চক্র সক্রিয় হয়ে গভীর ষড়যন্ত্রে নামে। নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে মিথ্যা ও বানোয়াট কাহিনী তৈরি করে তাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার অপচেষ্টা চালানো হয়।
শুধু তাই নয়, তার দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তা দেখে শ্রীমঙ্গলের সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচারের আশায় উনার কাছে ছুটে আসতেন। স্পষ্ট ভাষায় সত্য কথা বলা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কারণেও তাকে রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করা হয়েছে।
এখানেই শেষ নয়—রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে তার আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের বিরুদ্ধেও মিথ্যা অভিযোগ এনে তাদের সরিয়ে রাখার অপচেষ্টা করা হয়েছে।
প্রশ্ন থেকে যায়— কেন শ্রীমঙ্গলে এত সক্রিয় ষড়যন্ত্র? কারা এর সাথে জড়িত? যারা রাজনৈতিকভাবে জনপ্রিয় হবে, তাদের কি এভাবেই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দুর্বল করে রাখা হবে?
তাহলে কি ন্যায়-অন্যায়ের কথা বলা যাবে না? সত্য কথা বলার সাহস না থাকলে রাজনীতি করে লাভ কী? নেতার মতের বিরুদ্ধে কথা বললেই কি একজন অপরাধী হয়ে যায়?
নাকি শ্রীমঙ্গলে ভালো রাজনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে উঠতে না দেওয়ার জন্যই এই অপকৌশল?
আজ এসব বিষয় সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
আমি একজন দলের কর্মী হিসেবে মনে করি—সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে দলের সাংগঠনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে হবে এবং জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিটি নেতাকর্মীর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে সকল চক্রান্তকারীদের মোকাবিলা করতে হবে।