HM Hridoy

Website

HM Hridoy No matter how difficult life gets, remember—no hardship lasts forever.
(4)

প্রশ্ন: স্বামী যদি ভুলবশত কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে স্ত্রীর বুকের দুধ পান করে ফেলেন, তাহলে কি তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যাবে? উত...
30/10/2026

প্রশ্ন: স্বামী যদি ভুলবশত কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে স্ত্রীর বুকের দুধ পান করে ফেলেন, তাহলে কি তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যাবে?

উত্তর: না! স্ত্রীর বুকের দুধ পান করার কারণে তালাক হয় না, নিকাহও ভেঙে যায় না। এ কারণে স্ত্রী স্বামীর জন্য হারাম হয়ে যান না। তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকে।

সহিহ হাদিসের আলোকে বিষয়টি বুঝুন:

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“নিশ্চয়ই দুধপান সেই সম্পর্কই হারাম করে, যা বংশগত সম্পর্ক হারাম করে।”
সূত্র: সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৬৪৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৪৪৭।
তাহলে কি প্রাপ্তবয়স্ক স্বামী স্ত্রীর দুধ পান করলে দুধ-সম্পর্ক তৈরি হবে?
সাধারণ বিধান অনুযায়ী, যে দুধপানের কারণে মাহরাম সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়, তা শিশুকালের নির্ধারিত দুধপানের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই প্রাপ্তবয়স্ক স্বামীর স্ত্রীর দুধ পান করার কারণে তাঁদের নিকাহ ভেঙে যায় না এবং স্ত্রী তাঁর জন্য হারাম হয়ে যান না।
তবে একটি বিষয় মনে রাখুন: ইচ্ছাকৃতভাবে স্ত্রীর বুকের দুধ পান করার হুকুম নিয়ে নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়া উত্তম। ভুলবশত এমনটি হলে অযথা আতঙ্কিত হবেন না।

ইসলামকে জানুন, ভুল ধারণা থেকে বাঁচুন!
প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা, দাম্পত্য জীবনের কোনো মাসআলা নিয়ে শোনা কথায় বিভ্রান্ত হবেন না। কুরআন, সহিহ হাদিস ও নির্ভরযোগ্য আলেমদের ব্যাখ্যার আলোকে সঠিক জ্ঞান অর্জন করুন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক দ্বীনি জ্ঞান দান করুন এবং ভুল ধারণা থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

পোস্টটি শেয়ার করে অন্যদেরও সঠিক বিষয়টি জানতে সাহায্য করুন।

#ইসলামিক_জ্ঞান #ইসলামের_বিধান #দাম্পত্য_জীবন #ইসলামিক_প্রশ্ন_উত্তর #কুরআন_ও_হাদিস

😭 ডাক্তার বলেছিলেন, আমার শরীরে ক্যান্সার! মৃত্যুর ভয়ে যখন প্রতিটি রাত কাঁদতাম, তখন হজরত আইয়ুব (আ.)-এর এই দোয়াটি আঁকড়ে ধর...
30/10/2026

😭 ডাক্তার বলেছিলেন, আমার শরীরে ক্যান্সার! মৃত্যুর ভয়ে যখন প্রতিটি রাত কাঁদতাম, তখন হজরত আইয়ুব (আ.)-এর এই দোয়াটি আঁকড়ে ধরেছিলাম! আল্লাহর রহমতে জীবনে ফিরে পেলাম নতুন আশার আলো!

একটি হৃদয়স্পর্শী শিক্ষামূলক ইসলামিক গল্প।

আমার নাম মেহেরুন নেছা। বয়স মাত্র ৩৪ বছর। ছোট্ট একটি সন্তান, ভালোবাসার স্বামী আর সাজানো সংসার নিয়ে বেশ ভালোই কাটছিল আমার জীবন।

কিন্তু কে জানত, একদিন একটি মেডিকেল রিপোর্ট আমার পুরো পৃথিবীটাকে ওলটপালট করে দেবে!

কয়েক মাস ধরে শরীরটা ভালো যাচ্ছিল না। প্রচণ্ড দুর্বলতা, ব্যথা আর নানা সমস্যায় ভুগছিলাম। প্রথমে তেমন গুরুত্ব দিইনি। কিন্তু যখন পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পেলাম, তখন চিকিৎসকের মুখের কথাগুলো শুনে আমার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেল।

চিকিৎসক জানালেন, আমার শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়েছে!

মুহূর্তের মধ্যে মনে হলো, আমার চারপাশের সবকিছু অন্ধকার হয়ে গেছে।

হাসপাতাল থেকে বের হয়ে স্বামীর হাত ধরে শুধু একটি কথাই বলেছিলাম—

— আমাকে বাঁচাও! আমি মরতে চাই না। আমার সন্তানটা এখনো অনেক ছোট। ওকে কে দেখবে?

স্বামী নিজেও চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। আমাকে বুকে জড়িয়ে বলেছিল,

— তুমি শুধু সাহস রাখো। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আর আল্লাহর কাছে দোয়া করব।

এরপর শুরু হলো আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়।

হাসপাতালের বিছানা, কেমোথেরাপি, একের পর এক পরীক্ষা, শরীরের অসহ্য যন্ত্রণা—সবকিছু মিলিয়ে জীবনটা যেন দুর্বিষহ হয়ে উঠল।

রাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়ত, তখন বালিশে মুখ গুঁজে কাঁদতাম।

মাঝেমধ্যে সন্তানের ছবি বুকে জড়িয়ে বলতাম,
— বাবা, তোমার মা যদি একদিন আর ফিরে না আসে, তাহলে তুমি কাকে মা বলে ডাকবে?

একদিন গভীর রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। হাসপাতালের জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলাম। মনে হলো, আমার আর কিছুই করার নেই।

কিন্তু ঠিক তখনই মনে পড়ল, আমার রব তো সবকিছুর মালিক! তিনি চাইলে কঠিন বিপদের মধ্যেও বান্দার জন্য আশার দরজা খুলে দিতে পারেন।

আমি দুই হাত তুলে আল্লাহর কাছে কাঁদতে কাঁদতে বললাম,

হে আল্লাহ! আমি দুর্বল, আপনি শক্তিশালী। আমি অসহায়, আপনি সর্বশক্তিমান। চিকিৎসা নিচ্ছি, চেষ্টা করছি, কিন্তু আমার অন্তর জানে—সুস্থতা দেওয়ার মালিক একমাত্র আপনি। আমাকে আপনার রহমত থেকে বঞ্চিত করবেন না।

এরপর থেকে আমি নিয়মিত একটি দোয়া পড়তে শুরু করলাম। এটি হজরত আইয়ুব (আ.)-এর সেই বিখ্যাত দোয়া, যা তিনি কঠিন অসুস্থতা ও কষ্টের সময় আল্লাহর কাছে করেছিলেন।

সেই হৃদয় কাঁপানো দোয়াটি হলো:

আরবি:

رَبِّ أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ

বাংলা উচ্চারণ:

রব্বি আন্নী মাসসানিয়াদ দুররু ওয়া আনতা আরহামুর রাহিমীন।

বাংলা অর্থ:

হে আমার রব! নিশ্চয়ই আমি দুঃখ-কষ্টে আক্রান্ত হয়েছি, আর আপনি তো দয়ালুদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।

📖 সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত ৮৩।

এই দোয়াটি পড়তে পড়তে আমার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরে পড়ত। মনে হতো, আমার মনের সব কষ্ট আমি আমার রবের কাছেই প্রকাশ করছি।

প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের চেষ্টা করতাম। ইস্তিগফার করতাম, কোরআন তিলাওয়াত করতাম এবং আল্লাহর কাছে সুস্থতার জন্য দোয়া করতাম।

তবে চিকিৎসা বন্ধ করিনি। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে গিয়েছিলাম।

কয়েক মাস পর আবারও কিছু পরীক্ষা করা হলো। রিপোর্ট নিয়ে চিকিৎসকের সামনে বসে ছিলাম। বুকের ভেতর তখন প্রচণ্ড ভয়।

চিকিৎসক রিপোর্টগুলো দেখে বললেন, চিকিৎসায় আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। তবে এখনো চিকিৎসা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যেতে হবে।

কথাগুলো শুনে আমার চোখে পানি চলে এল।

সেদিন হাসপাতালের বাইরে এসে আকাশের দিকে তাকিয়ে শুধু বলেছিলাম—

আলহামদুলিল্লাহ! হে আল্লাহ, আপনার রহমতের জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ।

আমি বুঝতে পারলাম, জীবনে যত বড় বিপদই আসুক, আল্লাহর রহমত থেকে কখনো নিরাশ হওয়া উচিত নয়।

আজও আমি সেই দোয়াটি পড়ি। কারণ আমার কাছে এটি শুধু কয়েকটি শব্দ নয়; এটি আমার অসহায় হৃদয়ের রবের কাছে ফিরে যাওয়ার ভাষা।

🥺 প্রিয় ভাই ও বোনেরা!

আপনারা যারা ক্যান্সারসহ কঠিন কোনো রোগে আক্রান্ত, তারা কখনো নিজেকে একা ভাববেন না। আল্লাহর কাছে দোয়া করুন, ধৈর্য ধারণ করুন এবং চিকিৎসা চালিয়ে যান।

মনে রাখবেন, দোয়া কোনো জাদুকরী চিকিৎসা নয় এবং এই দোয়া পড়লেই ক্যান্সার নিশ্চিতভাবে ভালো হবে—এমন কোনো দাবি ইসলামে নেই। তবে আল্লাহর কাছে শিফা চাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“আল্লাহ এমন কোনো রোগ অবতীর্ণ করেননি, যার প্রতিকারও তিনি অবতীর্ণ করেননি।”

📚 সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৬৭৮।

🤲 হে আল্লাহ! পৃথিবীর প্রতিটি অসুস্থ মানুষকে সুস্থতা দান করুন। ক্যান্সারে আক্রান্ত প্রতিটি রোগীর কষ্ট সহজ করে দিন। তাঁদের পরিবারকে ধৈর্য দিন এবং সবাইকে উত্তম শিফা দান করুন। আমিন।

পোস্টটি শেয়ার করে অসুস্থ মানুষের মনে আশার আলো ছড়িয়ে দিন।

✍️ লেখক: HM Hridoy

তৃতীয়বারের মতো নববধূ সেজে বাসর ঘরে বসেছিল প্রিয়া! কিন্তু প্রতিবারের মতো এবারও বাসর রাতেই এলো স্বামীর মৃত্যুর খবর! কেন ...
30/10/2026

তৃতীয়বারের মতো নববধূ সেজে বাসর ঘরে বসেছিল প্রিয়া! কিন্তু প্রতিবারের মতো এবারও বাসর রাতেই এলো স্বামীর মৃত্যুর খবর! কেন বারবার এমন নির্মম পরিণতি তার জীবনে?

বাসর ঘরটা ফুল দিয়ে সাজানো। বিছানার চারপাশে গোলাপের পাপড়ি, ঘরে মিষ্টি আতরের সুবাস। পরনে লাল বেনারসি, হাতে মেহেদি, কপালে লাল টিপ আর চোখভর্তি স্বপ্ন নিয়ে বসে আছে প্রিয়া।

কিন্তু আজ তার চোখে অন্য নববধূদের মতো লজ্জা নেই, মুখে নেই কোনো হাসি। আছে শুধু এক অজানা আতঙ্ক!

কারণ, এই নিয়ে তৃতীয়বার সে নববধূ সেজেছে। আর আগের দুবারের স্মৃতি তাকে প্রতিনিয়ত তাড়া করে বেড়ায়।

প্রথম বিয়ে:

প্রথমবার যখন প্রিয়ার বিয়ে হয়েছিল, তখন তার চোখেও ছিল হাজারো স্বপ্ন। নতুন স্বামীকে নিয়ে কত পরিকল্পনা, কত আশা! কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই নেমে আসে অন্ধকার।

বাসর রাতেই স্বামীর ফোন আসে না দেখে পরিবারের সবাই চিন্তিত হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর একটি ফোনকল আসে। ওপাশ থেকে জানানো হয়, তার স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন!

খবরটি শোনার পর প্রিয়া পাথরের মতো বসে ছিল। যে মানুষটির সঙ্গে সারাজীবন কাটানোর কথা ছিল, সেই মানুষটিকে একবারের জন্যও স্বামী বলে ডাকার সুযোগ পেল না সে!

দ্বিতীয় বিয়ে:

সময় কারও জন্য থেমে থাকে না। পরিবারের মানুষ তাকে বুঝিয়ে আবার বিয়ে দেয়। প্রিয়াও বুকভরা ভয় নিয়ে নতুন করে সংসার সাজানোর স্বপ্ন দেখে।

কিন্তু এবারও সেই একই ঘটনা!

বিয়ের রাতে স্বামীর অপেক্ষায় বসে ছিল প্রিয়া। হঠাৎ খবর এলো, তার স্বামী কর্মস্থলে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তিনি মারা গেছেন!

সেদিন প্রিয়া আর চিৎকার করে কাঁদেনি। শুধু নিজের ভাগ্যকে প্রশ্ন করেছিল।

তৃতীয় বিয়ে:

দীর্ঘদিন পর পরিবারের অনুরোধে তৃতীয়বার বিয়েতে রাজি হয় প্রিয়া। এবার সে বিয়ের আগে স্বামীকে সবকিছু খুলে বলেছিল।

প্রিয়া বলেছিল, "আমি জানি না কেন আমার জীবনে এমন হয়। আমার অতীত শুনে যদি আপনি ভয় পান, তাহলে এখনই আমাকে জানাতে পারেন। আমি কাউকে হারানোর ভয়ে আরেকবার ভেঙে পড়তে চাই না।"

ছেলেটি তার হাত ধরে বলেছিল, "তোমার অতীতের জন্য তোমাকে আমি কখনো দোষ দেব না। মৃত্যু আল্লাহর হাতে। আমরা দুজন একসঙ্গে নতুন জীবন শুরু করব।"

কথাগুলো শুনে প্রিয়ার চোখে আবার আশার আলো জ্বলে উঠেছিল।

আজ সেই তৃতীয় বিয়ের রাত।

প্রিয়া বাসর ঘরে বসে স্বামীর অপেক্ষা করছে। বারবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে। হঠাৎ তার ফোন বেজে উঠল।

অচেনা নম্বর!

কাঁপা হাতে ফোনটি রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে বলা হলো,

"আপনি কি প্রিয়ার পরিবারের কেউ? আপনার স্বামী একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। দুঃখিত, তিনি আর বেঁচে নেই!"

কথাগুলো শুনে প্রিয়ার হাত থেকে ফোনটি মেঝেতে পড়ে গেল।

তার চোখের কাজল বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগল। মাথার ওপরের ফুলগুলো যেন তার কাছে কাঁটার মতো মনে হতে লাগল।

সে চিৎকার করে বলল,

"হে আল্লাহ! আমি কি শুধু একটু সুখের সংসার চেয়েছিলাম? কেন আমার বাসর ঘর বারবার কবরের খবর নিয়ে আসে? আমি কি কোনো অপরাধ করেছি? কেন বারবার আমাকে এভাবে প্রিয় মানুষ হারাতে হয়?"

সেদিন প্রিয়ার মা ছুটে এসে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।

মা কাঁদতে কাঁদতে বললেন, "মা, তুই নিজেকে দোষ দিস না। তোর কোনো অপরাধ নেই। মানুষের মৃত্যু কারও ভাগ্যের অভিশাপ নয়। যারা তোকে অপয়া বলবে, তাদের কথায় কান দিবি না।"

প্রিয়া মায়ের বুকে মাথা রেখে শুধু কাঁদতে লাগল।

সেই রাতে তার সাজানো বাসর ঘর আবারও শোকের ঘরে পরিণত হলো।

🌸 গল্পটি আমাদের যে শিক্ষা দেয়

১. কোনো নারীর স্বামী মারা গেলে তাকে কখনোই অপয়া, অলক্ষুণে কিংবা অভিশপ্ত বলবেন না। এটি নিষ্ঠুরতা ও কুসংস্কার।

২. মৃত্যু সম্পূর্ণ আল্লাহর নির্ধারিত বিষয়। কারও উপস্থিতি বা ভাগ্যকে অন্য কারও মৃত্যুর কারণ মনে করা ইসলামের শিক্ষা নয়।

৩. বিপদে পড়া মানুষকে দোষারোপ না করে তার পাশে দাঁড়ান। কারণ, সে এমনিতেই জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে।

৪. কারও জীবনের কষ্ট দেখে তাকে বিচার করবেন না। আপনি হয়তো তার চোখের পানি দেখছেন, কিন্তু তার অন্তরের যন্ত্রণা বুঝতে পারছেন না।

৫. মনে রাখবেন, স্বামী হারানো একজন নারীর জীবনে নতুন করে বেঁচে ওঠার অধিকার রয়েছে। তাকে সম্মান, ভালোবাসা ও নিরাপত্তা দিন।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

"নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি।"
— সূরা আল-ইনশিরাহ: ৬

🤲 আল্লাহ পৃথিবীর সব শোকাহত মানুষকে ধৈর্য ধারণের শক্তি দান করুন। প্রিয়জন হারানো প্রতিটি হৃদয়ে প্রশান্তি দান করুন। আমিন।

💬 পাঠকদের কাছে একটি প্রশ্ন:

প্রিয়ার জীবনে বারবার এমন ঘটনা ঘটার পরও কি আপনারা তাকে নতুন করে সংসার করার সাহস দিতেন? নাকি সমাজের মানুষ তাকে অপয়া বলে দূরে সরিয়ে দিত?

আপনার মূল্যবান মতামত কমেন্টে জানাবেন।

লেখক: সঙ্গিহিনী

🚨 স্বামী-স্ত্রী মিলনের সময় এই ৩টি ভুল কখনো করবেন না! সামান্য অসচেতনতায় নষ্ট হতে পারে দাম্পত্য সুখ, হতে পারে গুনাহ ও শা...
30/10/2026

🚨 স্বামী-স্ত্রী মিলনের সময় এই ৩টি ভুল কখনো করবেন না! সামান্য অসচেতনতায় নষ্ট হতে পারে দাম্পত্য সুখ, হতে পারে গুনাহ ও শারী/রিক ক্ষতি!

😥 অনেকেই মনে করেন, বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সব ধরনের শারী/রিক সম্পর্কই বৈধ। কিন্তু ইসলামের বিধান হলো—বৈবাহিক সম্পর্ক হালাল হলেও এর প্রতিটি পদ্ধতি হালাল নয়!

স্বামী-স্ত্রীর ঘনিষ্ঠতা হবে ভালোবাসা, সম্মান, কোমলতা ও পারস্পরিক অধিকার রক্ষার মাধ্যমে। অথচ অজ্ঞতার কারণে অনেক দম্পতি এমন কিছু ভুল করেন, যা ইসলাম সমর্থন করে না এবং স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।

তাই প্রত্যেক বিবাহিত নারী-পুরুষের এই ৩টি বিষয় জানা অত্যন্ত জরুরি।

❌ ১. স্ত্রীর কষ্ট, অসুস্থতা ও অনিচ্ছাকে উপেক্ষা করে জো*রপূর্বক মি'লন করা!

একজন স্ত্রী শুধু স্বামীর চাহিদা পূরণের কোনো বস্তু নন। তিনিও একজন মানুষ, তাঁরও অনুভূতি, শারী/রিক কষ্ট ও মানসিক অবস্থার মূল্য রয়েছে।

স্ত্রী অসুস্থ হলে, ব্যথা অনুভব করলে কিংবা
শারী/রিকভাবে প্রস্তুত না থাকলে তাঁর অবস্থাকে গুরুত্ব না দিয়ে জোর করা উচিত নয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

"আর তোমরা তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো।"

📖 (সুরা আন-নিসা: ১৯)

মনে রাখবেন, দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসা মানে শুধু নিজের চাহিদা পূরণ করা নয়; বরং সঙ্গীর অনুভূতি ও অধিকারকেও সম্মান করা।

এ ধরনের জো/রজবরদস্তি নারীর শারী/রিক আঘাত, মানসিক কষ্ট এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতে পারে।

❌ ২. স্ত্রীর পায়ু/পথে সহ/বাস করা!

এটি এমন একটি বিষয়, যা অনেকের জানা থাকলেও কেউ কেউ অবহেলা করেন।

ইসলামে স্ত্রীর পায়ু/পথে সহ/বাস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক বৈধ হওয়ার অর্থ এই নয় যে, ইচ্ছামতো যেকোনো পদ্ধতি গ্রহণ করা যাবে।

রাসুলুল্লাহ ﷺ এ বিষয়ে কঠোর সতর্কবাণী প্রদান করেছেন।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও এ ধরনের সম্পর্কে পায়ুপথে ক্ষত, রক্তপাত, তীব্র ব্যথা এবং সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।

তাই আল্লাহর নিষেধাজ্ঞাকে ভয় করুন। নিজের প্রবৃত্তির জন্য এমন কাজ করবেন না, যা আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন।

❌ ৩. স্ত্রীর মাসিক চলাকালীন সহবাস করা!

অনেক স্বামী-স্ত্রী এই বিধান সম্পর্কে জানেন না, আবার কেউ কেউ জানার পরও অবহেলা করেন।

অথচ পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে ঋতুস্রাব চলাকালীন যৌ/নমিলন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

আল্লাহ বলেন:

"সুতরাং ঋতুস্রাবের সময় তোমরা স্ত্রীদের থেকে বিরত থাকো এবং তারা পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হয়ো না।"

📖 (সুরা আল-বাকারা: ২২২)

অর্থাৎ মাসিক চলাকালীন যো/নিপথে সহ/বাস করা হারাম। তবে এ সময় স্ত্রীকে অবহেলা করা, দূরে সরিয়ে রাখা কিংবা ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। অন্যান্য বৈধ ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখা যায়।

মাসিক শেষ হওয়ার পর গোসল করে পবিত্র হলে স্বাভাবিক দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে।

❤️ স্বামী-স্ত্রীর মিলনের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহর দোয়া

রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাদের মিলনের আগে এই দোয়া শিখিয়েছেন:

بِسْمِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ، وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি, আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শাইতানা, ওয়া জান্নিবিশ শাইতানা মা রাযাকতানা।

অর্থ: আল্লাহর নামে শুরু করছি। হে আল্লাহ! আমাদের থেকে শয়তানকে দূরে রাখুন এবং আপনি আমাদের যা দান করবেন, তা থেকেও শয়তানকে দূরে রাখুন।

📚 (সহিহ বুখারি: ১৪১, সহিহ মুসলিম: ১৪৩৪)

🌺 একজন আদর্শ স্বামীর পরিচয় কী জানেন?

যিনি স্ত্রীর শরীরের পাশাপাশি তাঁর মনেরও যত্ন নেন। যিনি নিজের অধিকার বোঝেন, পাশাপাশি স্ত্রীর অধিকারও আদায় করেন। যিনি স্ত্রীর সঙ্গে ভালোবাসা, সম্মান ও কোমল আচরণ করেন।

একইভাবে একজন আদর্শ স্ত্রীরও উচিত স্বামীর অনুভূতি ও বৈধ অধিকারকে সম্মান করা।

💔 মনে রাখবেন, বিয়ে মানে শুধু শারী/রিক সম্পর্ক নয়; বিয়ে মানে একে অপরের আমানত রক্ষা করা, ভালোবাসা দেওয়া এবং জান্নাতের পথে একসঙ্গে চলা।

📢 অনুরোধ: লজ্জায় অনেকেই এসব বিষয় জানতে চান না। অথচ সঠিক জ্ঞান না থাকলে মানুষ অজান্তেই ভুল করতে পারে।

পোস্টটি শেয়ার করে অন্য বিবাহিত ভাই-বোনদেরও জানার সুযোগ করে দিন।

বিয়ে শুধু দুটি মানুষের একসঙ্গে বসবাসের নাম নয়; বরং এটি ভালোবাসা, দায়িত্ব, আমানত ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি সুন্...
30/10/2026

বিয়ে শুধু দুটি মানুষের একসঙ্গে বসবাসের নাম নয়; বরং এটি ভালোবাসা, দায়িত্ব, আমানত ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি সুন্দর মাধ্যম।

ইসলামে স্বামী-স্ত্রী একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নন; বরং তাঁরা একে অপরের পোশাকস্বরূপ। আল্লাহ তাআলা বলেন—
“তারা তোমাদের পোশাক এবং তোমরা তাদের পোশাক।”

সূরা আল-বাকারা: ১৮৭
তাই বিয়ের পর স্ত্রীকে শুধু শর্ত দেওয়ার পরিবর্তে এমন কিছু বিষয়ে একমত হওয়া উচিত, যা স্বামী-স্ত্রী উভয়কে আল্লাহর পথে চলতে এবং একটি শান্তিময় পরিবার গড়তে সাহায্য করবে।

১. নামাজ ও দ্বীনের প্রতি যত্নশীল হওয়া
সংসারের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো আল্লাহর আনুগত্যের মধ্যে থাকা।
স্ত্রীকে ভালোবাসার সঙ্গে উৎসাহিত করুন—
▪️ পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায় করতে।
▪️ হালাল-হারামের বিধান মেনে চলতে।
▪️ কুরআন তিলাওয়াত ও দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করতে।
▪️ সন্তানদের ইসলামী আদর্শে গড়ে তুলতে।
তবে মনে রাখবেন, শুধু স্ত্রী নন—স্বামীকেও নিজের নামাজ, চরিত্র ও দ্বীনি দায়িত্বের ব্যাপারে যত্নশীল হতে হবে।
আল্লাহ বলেন: “তোমরা নিজেদের ও তোমাদের পরিবারকে আগুন থেকে রক্ষা করো।” — সূরা আত-তাহরীম: ৬

২. পরস্পরের প্রতি সম্মান বজায় রাখা
ভালোবাসার সম্পর্ককে সুন্দর রাখতে সম্মান অপরিহার্য।
▪️ রাগের সময় গালি*গালাজ বা অপমান করা যাবে না।
▪️ একে অপরের দুর্বলতা নিয়ে উপহাস করা যাবে না।
▪️ উভয়ের মা-বাবা ও পরিবারের সঙ্গে শালীন আচরণ করতে হবে।
▪️ মতের অমিল হলেও ভদ্রভাবে কথা বলতে হবে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার পরিবারের কাছে উত্তম।”

জামে আত-তিরমিযি: ৩৮৯৫

৩. সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততা বজায় রাখা
একটি সংসার টিকে থাকে বিশ্বাসের ওপর।
▪️ মিথ্যা ও প্রতারণা থেকে দূরে থাকতে হবে।
▪️ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সততা বজায় রাখতে হবে।
▪️ ভুল হলে তা স্বীকার করে সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে।
▪️ একে অপরের বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।
মনে রাখবেন, সন্দেহ, অযথা নজরদারি ও জোর করে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভঙ্গ করা বিশ্বাসের বিকল্প নয়।

৪. পর্দা, শালীনতা ও পবিত্র চরিত্র রক্ষা করা
একজন মুসলিম নারী ও পুরুষ উভয়েরই দৃষ্টি সংযত রাখা, শালীনতা বজায় রাখা এবং পবিত্র চরিত্র রক্ষা করা কর্তব্য।
▪️ ইসলামের বিধান অনুযায়ী পর্দা মেনে চলতে হবে।
▪️ পরনারী ও পরপুরুষের সঙ্গে আচরণে শরিয়তের সীমা রক্ষা করতে হবে।
▪️ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীনতা ও অনুচিত ঘনিষ্ঠতা থেকে দূরে থাকতে হবে।
▪️ স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই বিশ্বস্ত থাকতে হবে।
সূরা আন-নূর: ৩০–৩১ — এখানে মুমিন নারী ও পুরুষ উভয়কেই দৃষ্টি সংযত রাখা ও পবিত্রতা রক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৫. রাগের সময় ধৈর্য ধারণ করা
সংসারে মতবিরোধ হতে পারে। কিন্তু মতবিরোধের কারণে যেন সম্পর্কের সম্মান নষ্ট না হয়।
▪️ রাগের সময় কটু কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে।
▪️ সমস্যা হলে শান্তভাবে আলোচনা করতে হবে।
▪️ ভুল বোঝাবুঝি হলে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করতে হবে।
▪️ নিজের জেদকে সম্পর্কের চেয়ে বড় করা যাবে না।
আল্লাহ তাআলা বলেন, “যারা রাগ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে; আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।” — সূরা আলে ইমরান: ১৩৪

৬. উভয় পরিবারের সঙ্গে সুন্দর আচরণ করা
বিয়ের পর নতুন আত্মীয়তার সম্পর্ক তৈরি হয়। তাই স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই উচিত পরস্পরের পরিবারের সঙ্গে সদাচরণ করা।
▪️ শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করা।
▪️ স্ত্রীকে তার মা-বাবার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে সহযোগিতা করা।
▪️ স্বামীরও স্ত্রীর আত্মীয়দের সম্মান করা।
▪️ পারিবারিক সমস্যা হলে অপমান বা ঝগড়ার পরিবর্তে ন্যায়সংগত সমাধান খোঁজা।
তবে মনে রাখবেন: শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করা ইসলামে অত্যন্ত প্রশংসনীয় সদাচরণ হলেও স্ত্রীকে জোর করে সেবা করানো বা তার ওপর শরিয়তবহির্ভূত দায় চাপানো ঠিক নয়। স্বামী-স্ত্রী উভয়ের অধিকার ও সামর্থ্যের প্রতি সম্মান রাখতে হবে।

৭. অন্যের সংসারের সঙ্গে তুলনা না করা
প্রত্যেক পরিবারের অবস্থা, সামর্থ্য ও বাস্তবতা আলাদা।
▪️ অন্যের স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে তুলনা করে কষ্ট দেওয়া যাবে না।
▪️ সামর্থ্যের বাইরে অযৌক্তিক দাবি করা যাবে না।
▪️ আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞ থাকতে হবে।
▪️ নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সুন্দর জীবন গড়ার চেষ্টা করতে হবে।
কৃতজ্ঞতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা সংসারে প্রশান্তি বাড়ায়।

৮. অর্থ ও সংসারের দায়িত্বে সচেতন হওয়া
অর্থ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি অনেক সময় সংসারে অশান্তি তৈরি করে।
▪️ আয় ও ব্যয়ের ব্যাপারে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে।
▪️ অপ্রয়োজনীয় অপচয় থেকে বিরত থাকতে হবে।
▪️ ভবিষ্যতের জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী সঞ্চয় করা যেতে পারে।
▪️ আর্থিক সিদ্ধান্তে পরস্পরের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।
ইসলামে স্ত্রীর ভরণপোষণের দায়িত্ব স্বামীর ওপর রয়েছে—তার সামর্থ্য ও শরিয়তের বিধান অনুযায়ী। স্ত্রীর নিজস্ব সম্পদ বা উপার্জন স্বামীর সম্পদ হয়ে যায় না; তার সম্মতি ছাড়া তা গ্রহণ করা উচিত নয়।

৯. ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও দাম্পত্য আমানত রক্ষা করা
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও সম্মানের।
▪️ দাম্পত্য জীবনের অন্তরঙ্গ বিষয় অন্যের কাছে প্রকাশ করা যাবে না।
▪️ একে অপরের দুর্বলতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা যাবে না।
▪️ অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত বার্তা বা ছবি প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
▪️ মতবিরোধের সময় পুরোনো ভুলকে অপমানের অস্ত্র বানানো যাবে না।
রাসুলুল্লাহ ﷺ দাম্পত্যের গোপনীয়তা প্রকাশ করাকে গুরুতর নিন্দনীয় কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সহিহ মুসলিম: ১৪৩৭

১০. সুখে-দুঃখে একে অপরের পাশে থাকা
বিয়ের প্রকৃত সৌন্দর্য বোঝা যায় কঠিন সময়ে।
▪️ অসুস্থতায় একে অপরের যত্ন নিতে হবে।
▪️ বিপদে দোষারোপ না করে সহযোগিতা করতে হবে।
▪️ মানসিক কষ্টের সময় মনোযোগ দিয়ে কথা শুনতে হবে।
▪️ সন্তান লালন-পালন ও পারিবারিক দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে।
▪️ সমস্যা হলে বিচ্ছেদ বা তালাকের হুমকি না দিয়ে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন—
“আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করো; আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।”

সূরা আর-রূম: ২১
শেষ কথা: স্ত্রীকে শর্ত দেওয়ার আগে স্বামী নিজেকেও প্রশ্ন করুন!
আমি কি স্ত্রীর অধিকার আদায় করছি?
আমি কি তার সঙ্গে কোমল আচরণ করছি?
আমি কি তার মতামত, অনুভূতি ও সম্মানকে মূল্য দিচ্ছি?
আমি কি তার জন্য নিরাপদ ও শান্তিময় পরিবেশ তৈরি করছি?
মনে রাখবেন, ইসলামে বিয়ে একতরফা কর্তৃত্বের সম্পর্ক নয়; এটি পারস্পরিক অধিকার, দায়িত্ব, ভালোবাসা ও আমানতের বন্ধন।
স্ত্রীর কাছে যেমন দ্বীনদারি, বিশ্বস্ততা ও সুন্দর আচরণ প্রত্যাশা করবেন, নিজের জীবনেও তেমন গুণ প্রতিষ্ঠা করুন। কারণ একজন ভালো স্বামী ও একজন ভালো স্ত্রী—দুজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই একটি শান্তিময় পরিবার গড়ে ওঠে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রত্যেকের দাম্পত্য জীবনকে ভালোবাসা, রহমত, বরকত ও দ্বীনি প্রশান্তিতে পরিপূর্ণ করে দিন। আমিন।

পোস্টটি উপকারী মনে হলে শেয়ার করুন, যাতে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই ইসলামের আলোকে নিজেদের দায়িত্ব ও অধিকার সম্পর্কে জানতে পারেন।

#ইসলামিক_পোস্ট #দাম্পত্য_জীবন #স্বামী_স্ত্রীর_সম্পর্ক #ইসলামী_পরিবার #সুখী_সংসার

ইনবক্সে এক ভাইয়ের প্রশ্ন—“হিজড়া মেয়েকে কি বিয়ে করা ইসলামে জায়েজ?”এই প্রশ্নের উত্তর না জেনে অনেকেই বিভ্রান্ত হন! আসু...
29/10/2026

ইনবক্সে এক ভাইয়ের প্রশ্ন—“হিজড়া মেয়েকে কি বিয়ে করা ইসলামে জায়েজ?”
এই প্রশ্নের উত্তর না জেনে অনেকেই বিভ্রান্ত হন! আসুন, ইসলামী ফিকহের আলোকে বিষয়টি সহজভাবে জেনে নিই।
হিজড়া ব্যক্তিকে বিয়ে করা কি বৈধ? ইসলাম কী বলে?
ইসলামী ফিকহে ‘খুনসা’ বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়, যার জন্মগত শারী/রিক বৈশিষ্ট্যে পুরুষ বা নারী নির্ধারণে জটিলতা থাকতে পারে। তবে সমাজে প্রচলিত ‘হিজড়া’ পরিচয়ের প্রত্যেক ব্যক্তি ফিকহের পরিভাষায় খুনসা নন। তাই সবার ক্ষেত্রে একই বিধান প্রয়োগ করা সঠিক নয়।

১️⃣ খুনসা গায়রে মুশকিলা
যে ব্যক্তির লি*ঙ্গ নির্ভরযোগ্য আলামতের মাধ্যমে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়, তার লি*ঙ্গ অনুযায়ী প্রযোজ্য শরয়ি বিধান বিবেচনা করা হয়। অন্যান্য শর্ত পূরণ হলে বিপরীত লিঙ্গের ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহের বিষয়টি বিবেচিত হতে পারে।

২️⃣ খুনসা মুশকিলা
যে ব্যক্তির ক্ষেত্রে পুরুষ না নারী—তা নির্ধারণ করা কঠিন, তার বিবাহের বিধান আরও জটিল। প্রচলিত ফিকহি আলোচনায় এমন ব্যক্তির লি*ঙ্গ নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত বিবাহের অনুমতি দেওয়া হয় না।

লি*ঙ্গ নির্ধারণে কোন বিষয়গুলো বিবেচিত হয়?
▪️ জন্মগত শারী/রিক বৈশিষ্ট্য
▪️ প্রস্রাবের পথসহ প্রাসঙ্গিক শারী/রিক আলামত
▪️ বয়ঃসন্ধিকালের শারী/রিক পরিবর্তন
▪️ প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মূল্যায়ন

⚠️ একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখবেন!
শুধু বাহ্যিক চেহারা, পোশাক, কণ্ঠস্বর কিংবা ব্যক্তির আচরণ দেখে তার লি*ঙ্গ বা বিয়ের বিধান নির্ধারণ করা ঠিক নয়। এ ধরনের জটিল বিষয়ে নির্ভরযোগ্য আলেম ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ইসলাম আমাদের সঠিক জ্ঞান অর্জন করতে শেখায়, কাউকে অপমান করতে নয়। তাই যাচাই না করে কোনো কথা প্রচার করবেন না এবং কারও শারী/রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে উপহাস করবেন না।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সঠিক দ্বীনি জ্ঞান দান করুন এবং সেই জ্ঞান অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দিন। আমিন।

একটি অনুরোধ: জানি না আপনি পোস্টটি শেয়ার করবেন কি না! তবে শেয়ার করলে আপনার একটি শেয়ারের মাধ্যমে হয়তো অনেকেই এ বিষয়ে সঠিক ধারণা লাভ করবেন।

ইসলামিক শিক্ষামূলক পোস্ট পেতে HM Hridoy এর সঙ্গে থাকুন।

29/10/2026

ক্যান্সার থেকে বাঁচার পরীক্ষিত দোয়া

শুধু স্ত্রীর সঙ্গে সহ-বাস করলেই গোসল ফরজ হয় না? গোসল ফরজ হওয়ার সঠিক নিয়ম জেনে নিন!গোসল ফরজ হওয়ার একাধিক কারণ রয়েছে?...
29/10/2026

শুধু স্ত্রীর সঙ্গে সহ-বাস করলেই গোসল ফরজ হয় না? গোসল ফরজ হওয়ার সঠিক নিয়ম জেনে নিন!
গোসল ফরজ হওয়ার একাধিক কারণ রয়েছে?
অনেকেই জানেন না—কোন অবস্থায় গোসল ফরজ হয়, আর কোন অবস্থায় শুধু অজু করলেই চলে!
ইসলামে পবিত্রতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নামাজ আদায় করার আগে কখন গোসল ফরজ হয়, কখন অজু করতে হয় এবং কখন শুধু শরীরের নির্দিষ্ট স্থান পরিষ্কার করলেই যথেষ্ট—এসব বিধান জানা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য জরুরি।
চলুন, কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে জেনে নিই গোসল ফরজ হওয়ার প্রধান কারণগুলো।

১️⃣ স্বামী-স্ত্রীর সহবাস হলে
অনেকের ধারণা, স্বামী-স্ত্রীর সহ-বাসের পর বী-র্যপাত না হলে গোসল ফরজ হয় না। কিন্তু ইসলামের বিধান হলো, সহবাস সংঘটিত হলে বী-র্যপাত না হলেও স্বামী-স্ত্রী উভয়ের ওপর গোসল ফরজ হয়।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“যখন দুই খতনার স্থান পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হয়, তখন গোসল ফরজ হয়ে যায়।”
সূত্র: সহিহ মুসলিম, হাদিস ৩৪৯।
অর্থাৎ, সহ-বাসের ক্ষেত্রে বী-র্যপাত হওয়া গোসল ফরজ হওয়ার শর্ত নয়।

২️⃣ বী-র্যপাত হলে

জাগ্রত অবস্থায় বী-র্যপাত হলে গোসল ফরজ হয়। একইভাবে ঘুমের মধ্যে স্বপ্নদোষের কারণে বী-র্য বের হলেও গোসল ফরজ হবে।
তবে শুধু যৌ-নস্বপ্ন দেখলেই গোসল ফরজ হয় না; বীর্যপাতের প্রমাণ থাকতে হবে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

“হ্যাঁ, যদি সে পানি (বী-র্য) দেখতে পায়।”
📚 সূত্র: সহিহ বুখারি, হাদিস ২৮২; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৩১৩।
অর্থাৎ, নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই স্বপ্নদোষের পর বী-র্যপাতের চিহ্ন পাওয়া গেলে গোসল করতে হবে।

৩️⃣ মযি বের হলে কি গোসল ফরজ হয়?
অনেকেই এ বিষয়ে ভুল ধারণা পোষণ করেন।
মযি হলো উত্তে/জনার সময় নির্গত পাতলা তরল। এটি বের হলে গোসল ফরজ হয় না। বরং লজ্জাস্থান ও যেখানে মযি লেগেছে, সেই স্থান পরিষ্কার করতে হবে এবং অজু করতে হবে।
আলী (রা.)-এর মযি বেশি নির্গত হতো। রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁকে এ অবস্থায় অজু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
সূত্র: সহিহ বুখারি, হাদিস ২৬৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৩০৩।

৪️⃣ নারীদের মাসিক শেষ হলে
নারীদের মাসিক বা হায়েজ শেষ হলে পবিত্রতা অর্জনের জন্য গোসল করতে হয়। এরপর নামাজসহ অন্যান্য ইবাদত আদায় করা যায়।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
“আর তারা যখন পবিত্র হয়ে যায়, তখন তাদের কাছে যাও।”
সূত্র: সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২২২।
মাসিকের র-ক্তস্রাব বন্ধ হওয়ার পর পবিত্রতা নিশ্চিত করে গোসল করতে হবে।

৫️⃣ সন্তান জন্মের পর নিফাসের র-ক্তস্রাব বন্ধ হলে
সন্তান জন্মের পর নারীদের যে র-ক্তস্রাব হয়, তাকে নিফাস বলা হয়।
নিফাসের র-ক্তস্রাব বন্ধ হলে গোসল করে পবিত্রতা অর্জন করতে হয়। এরপর নামাজসহ অন্যান্য ইবাদত আদায় করতে হয়।
শুধু স্ত্রীকে চুম্বন বা আলি-ঙ্গন করলে কি গোসল ফরজ হয়?
সাধারণভাবে, শুধু চুম্বন, আলিঙ্গন বা স্পর্শের কারণে গোসল ফরজ হয় না—যদি সহ-বাস না ঘটে এবং গোসল ফরজ হওয়ার মতো বী-র্যপাতও না হয়।
তবে মযি নির্গত হলে লজ্জাস্থান পরিষ্কার করে অজু করতে হবে।
আর বী-র্যপাত হলে গোসল ফরজ হবে।
স্বপ্নদোষ হলে কী করবেন?
ঘুমের মধ্যে যৌ-নস্বপ্ন দেখেছেন, কিন্তু ঘুম থেকে উঠে বী-র্যের কোনো চিহ্ন পাননি—তাহলে শুধু স্বপ্ন দেখার কারণে গোসল ফরজ হবে না।
কিন্তু বী-র্যের চিহ্ন পাওয়া গেলে গোসল করতে হবে।
এ বিধান নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য প্রযোজ্য।

একনজরে গোসল ফরজ হওয়ার প্রধান কারণগুলো
স্বামী-স্ত্রীর সহ-বাস সংঘটিত হওয়া—বী-র্যপাত হোক বা না হোক।
বী-র্যপাত হওয়া।
নারীদের মাসিক বা হায়েজ শেষ হওয়া।
সন্তান জন্মের পর নিফাসের র-ক্তস্রাব বন্ধ হওয়া।
শুধু চুম্বন বা আলি-ঙ্গন করলে সাধারণভাবে গোসল ফরজ হয় না।
শুধু যৌ-নচিন্তা বা স্বপ্ন দেখার কারণে গোসল ফরজ হয় না, যদি বী-র্যপাতের চিহ্ন না থাকে।
মযি বের হলে গোসল ফরজ হয় না; পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অজু করতে হয়।
মনে রাখবেন, পবিত্রতা শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি ইবাদতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কখন গোসল ফরজ হয়, কখন অজু যথেষ্ট এবং কখন শরীরের নির্দিষ্ট স্থান পরিষ্কার করতে হয়—এসব বিধান সঠিকভাবে জানা আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে দ্বীনের সঠিক জ্ঞান অর্জন করার এবং পবিত্রতা বজায় রেখে তাঁর ইবাদত করার তাওফিক দান করুন।

আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন। 🤲

📢 উপকারী মনে হলে পোস্টটি শেয়ার করুন, যাতে অন্য মুসলিম ভাই-বোনেরাও পবিত্রতার সঠিক বিধান জানতে পারেন।

#ইসলামিক_শিক্ষা #পবিত্রতা #গোসল_ফরজ #সহিহ_হাদিস #ইসলামিক_জ্ঞান

29/10/2026

অবাক করা একটি হাদিস শুনুন!

যে স্ত্রী নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে স্বামী-সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়লেন, সেই স্ত্রীকেই কি প্রতিদানে প্রতারণা পেতে হবে? ইসলাম কী ব...
29/10/2026

যে স্ত্রী নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে স্বামী-সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়লেন, সেই স্ত্রীকেই কি প্রতিদানে প্রতারণা পেতে হবে? ইসলাম কী বলে এমন স্বামীর ব্যাপারে?
পাঁচ বছর প্রবাসে কাটালেন স্ত্রী, আর তাঁর অনুপস্থিতিতে অন্য নারীকে নিয়ে সংসার সাজালেন স্বামী!

একবার ভাবুন তো, একজন নারী কতটা স্বপ্ন আর বিশ্বাস নিয়ে নিজের স্বামী-সন্তানকে দেশে রেখে প্রবাসে পাড়ি জমান!

পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে, সন্তানের ভবিষ্যৎ সুন্দর করতে এবং স্বামীর পাশে দাঁড়াতে নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে বিদেশের মাটিতে দিনরাত পরিশ্রম করেন। বুকের ভেতর সন্তানের জন্য হাহাকার নিয়ে, একাকিত্বের কষ্ট সহ্য করে উপার্জিত টাকা পাঠিয়ে দেন স্বামীর কাছে।

তাঁর মনে একটাই স্বপ্ন—
একদিন দেশে ফিরবেন, সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরবেন, স্বামী-সন্তানকে নিয়ে সুন্দর একটি জীবন গড়বেন।

কিন্তু সেই বিশ্বাসের আড়ালে যদি স্বামী অন্য একজনকে বিয়ে করে নতুন সংসার সাজান, আর স্ত্রীর পাঠানো অর্থ সেই সংসারে ব্যয় করেন, তাহলে ওই নারীর হৃদয়ে কতটা আঘাত লাগতে পারে, তা কি একবারও ভেবে দেখেছেন?

একজন স্ত্রী শুধু অর্থ উপার্জনের যন্ত্র নন; তিনিও একজন মানুষ। তাঁরও ভালোবাসা, সম্মান, নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার রয়েছে।

সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, ওই নারীর একটি প্রতিবন্ধী সন্তানও রয়েছে। সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় তিনি বছরের পর বছর প্রবাসে কাটিয়েছেন। অথচ দেশে ফিরে যদি দেখেন, তাঁর স্বামী অন্য স্ত্রীকে নিয়ে চলে গেছেন এবং নিজের ও সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার মতো অর্থও তাঁর হাতে অবশিষ্ট নেই, তাহলে সেই কষ্টের ভার বহন করা কতটা কঠিন!

ইসলাম এ বিষয়ে কী শিক্ষা দেয়?

১️⃣ স্ত্রীর সঙ্গে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গ করা কি ইসলামের শিক্ষা?

আল্লাহ তাআলা বলেন—

“নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন আমানতসমূহ তার হকদারদের কাছে পৌঁছে দিতে।”

সূরা আন-নিসা, আয়াত ৫৮

স্ত্রী যদি স্বামীর কাছে বিশ্বাস করে অর্থ পাঠান, তবে সেই অর্থের মালিকানা ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য বিবেচনা করা জরুরি। অর্থটি যে উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে, তা উপেক্ষা করে প্রতারণা করা বা অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করা আমানতদারিতার পরিপন্থী।

২️⃣ স্ত্রীর সঙ্গে সদাচরণ করা স্বামীর দায়িত্ব।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

“আর তোমরা তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো।”

📖 সূরা আন-নিসা, আয়াত ১৯

একজন স্ত্রীকে বছরের পর বছর অবহেলা করা, তাঁর বিশ্বাসের সুযোগ নেওয়া, তাঁর ন্যায্য অধিকার নষ্ট করা কিংবা তাঁর অসহায়ত্বকে কাজে লাগানো—কোনোটিই উত্তম দাম্পত্য আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

স্ত্রী প্রবাসে থাকেন বলে তাঁর অনুভূতি, মর্যাদা কিংবা অধিকার কমে যায় না।

৩️⃣ একাধিক বিয়ে করা বৈধ, কিন্তু ইনসাফ করা বাধ্যতামূলক।

ইসলামে নির্দিষ্ট শর্ত ও দায়িত্বের অধীনে একাধিক বিয়ের অনুমতি রয়েছে। কিন্তু এই অনুমতি কাউকে প্রতারণা, জুলুম কিংবা স্ত্রীর অধিকার নষ্ট করার ছাড়পত্র দেয় না।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

“আর যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে, ন্যায়বিচার করতে পারবে না, তবে একজনকেই (বিয়ে করো)।”

📖 সূরা আন-নিসা, আয়াত ৩

অতএব, শুধু দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন বলেই কাউকে অন্যায়কারী বলা যায় না। কিন্তু সেই বিয়ের কারণে প্রথম স্ত্রীর ভরণপোষণ, প্রাপ্য অধিকার কিংবা সন্তানের দায়িত্ব অবহেলা করা হলে তা গুরুতর অন্যায়ের বিষয়।

৪️⃣ অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করা নিষিদ্ধ।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

“তোমরা পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না।”

📖 সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৮৮

স্ত্রীর পাঠানো অর্থ যদি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়ে থাকে, আর স্বামী প্রতারণা করে তা আত্মসাৎ করেন বা তাঁর ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করেন, তাহলে বিষয়টি ইসলামের সম্পদসংক্রান্ত নীতির পরিপন্থী হতে পারে।

তবে অর্থটি উপহার, সংসারের খরচ, নাকি নির্দিষ্ট কোনো আমানত ছিল—তা বিবেচনা করে সঠিক বিধান নির্ধারণ করতে হবে।

যে কথাটি প্রত্যেক স্বামীর মনে রাখা উচিত

আপনার স্ত্রী হয়তো নিজের শখ পূরণ না করে আপনার সংসারের জন্য টাকা পাঠাচ্ছেন।

হয়তো নিজের কষ্ট লুকিয়ে সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রবাসে দিন কাটাচ্ছেন।

হয়তো প্রতিদিন মনে মনে ভাবছেন—আর কিছুদিন কষ্ট করি, তারপর দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে সুখে থাকব।

মনে রাখবেন, কারও বিশ্বাস নিয়ে খেলবেন না। কারও ত্যাগকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করবেন না।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

“তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম।”

জামে আত-তিরমিজি, হাদিস ৩৮৯৫।

একজন উত্তম স্বামী শুধু পরিবারের ভরণপোষণ করেন না; তিনি পরিবারের সদস্যদের সম্মান করেন, তাঁদের অধিকার রক্ষা করেন এবং তাঁদের বিশ্বাসের মর্যাদা দেন।

🤲 আর সেই অসহায় নারীর প্রতি আমাদের দায়িত্ব কী?

তাঁকে দোষারোপ নয়, সহযোগিতা করুন।

তাঁর সন্তানকে অবহেলা নয়, ভালোবাসা দিন।

তাঁর অসহায়ত্ব নিয়ে উপহাস নয়, তাঁর পাশে দাঁড়ান।

কোনো নারী প্রবাসে থাকেন বলে তাঁকে প্রতারণার শিকার হতে হবে—এমন কোনো বিধান ইসলামে নেই।

আল্লাহর কাছে প্রত্যেক মানুষের অধিকার গুরুত্বপূর্ণ। কেউ অন্যের প্রতি জুলুম করলে তার জন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

“জুলুম থেকে বেঁচে থাকো। কেননা জুলুম কিয়ামতের দিন বহু অন্ধকারের কারণ হবে।”

সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৫৭৮।

শেষ কথা:

একজন স্ত্রী তাঁর স্বামীর কাছে শুধু অর্থ পাঠান না; অনেক সময় পাঠান নিজের ঘাম, ত্যাগ, ভালোবাসা আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন।

সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করুন।

মনে রাখবেন, সংসার শুধু টাকায় চলে না; সংসার টিকে থাকে বিশ্বাস, দায়িত্ব, ভালোবাসা ও ইনসাফের ওপর।

যে নারী নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে আপনার পরিবারকে আগলে রাখেন, তাঁর চোখের পানির কারণ হবেন না। তাঁর ত্যাগের মূল্য দিন, তাঁর অধিকার রক্ষা করুন।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে আমানতদার, ন্যায়পরায়ণ ও দায়িত্বশীল জীবনসঙ্গী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Address

Dhaka
3700

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when HM Hridoy posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share