16/06/2020
মানসিকভাবে প্রচণ্ড শক্ত মেয়েগুলিরও বেঁচে থাকার জন্য প্রেম লাগে। এরা একলা থাকতে পছন্দ করে না, এদের কেউ অবহেলা করলে এরা মেনে নিতে পারে না। নিজের জীবনের পুরোটা ভার নিজের হাতে নিতে নিতে প্রচণ্ড শক্ত মেয়েগুলিও একসময় ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
এরা ভেবে নেয় আমার ক্লান্তি তো আমাকেই দূর করতে হবে। ওই যে প্রচণ্ড শক্ত তো! গা ঝাড়া দিয়ে উঠে সুন্দর করে সাজে, মন মতো কোন একটা কিছু রেঁধে খায়। নিজেকে ভালোবাসে। নিজের আশেপাশে সাজিয়ে গুজিয়ে পরিপাটি করে রাখে। তার মতোই ঘরপোড়া কিছু মেয়ের গল্প শোনে। সাহস দেয় তাদের। নিজের সবচে কাছের বন্ধু হয়। নিজের ভালোবাসার মানুষ মেয়েটা নিজেই হয়, নিজের পুজা করতে করতে এদের এক একটা জীবন কেটে যায়। আমরা যাদের নাম দেই সেলফ অবসেসড, নারসিসিষ্ট!
কিন্তু জানেন এই প্রচণ্ড শক্তিশালী মেয়েগুলিরও দিনের শেষে আর পালাবার জায়গা থাকে না। এদেরও ভাবতে মন চায় ক্যামনটা হতো যদি সত্যিকারের প্রেম এসে কাঁধ ঝেঁকে দিয়ে বলতো,
এই মেয়ে!
আছি তো!?
কি !!??
দিনের বেলার এই শক্তিশালী প্রতিমাগুলি রাত হলেই চুর চুর করে ভেঙ্গে যায়। যখন চার দেয়াল চাপতে চাপতে একদম নিশ্বাস সমান দূরত্বে এসে দাঁড়ায় মেয়েটা আর নিতে পারে না। এক জীবন শক্তিশালী থাকার অভিনয় করতে করতে একসময় জীবনটাই শেষ করে ফেলতে মন চায় এদের। মেয়েটার মনের ওজনে শরীরটা বিছানা থেকে টেনে তোলার শক্তি থাকে না। হাতে জোর থাকে না জ্বর কত হল ছুঁয়ে দ্যাখার। স্পষ্ট চিন্তা করার সকল শক্তি হারিয়ে বালিশ ভেজে প্রতিরাতে! চিৎকার করে মেয়েটা চেপে আসা দেয়ালকে বলতে চায় আমি চাই নি শক্তিশালী হতে, এই অভিশাপ থেকে আমাকে মুক্তি দাও। আমাকেও কেউ যত্ন করুক, আগলে রাখুক। সিঁথির সিঁদুরে না হোক কারো পায়েই নাহয় জায়গা হোক তবুও এই অভিশাপ থেকে আমাকে মুক্তি দাও।
নতুন ভোরে মেয়েটা নতুন জামাটা পরে। আরেকটু যত্ন নিয়ে সাজে। নিজেকেই বোঝায় ভেতরে বাস করা মানুষটাকে মুছতে হলে রাবারে কাজ হবে না। কাগজটাই ছিড়ে ফেলতে হবে!
"কল্পকথন"
Tahmina Zafar Kalpona ©