15/08/2026
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ঘটনাবলী (বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড ও সামরিক অভ্যুত্থান)
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোররাতে বাংলাদেশে এক সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। এই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারকে হত্যা করা এবং সরকারের পতন ঘটানো।
ঘটনার ক্রম
১৪ আগস্ট রাত
• সেনানিবাসে কিছু অসন্তুষ্ট সেনা কর্মকর্তা (মেজর সৈয়দ ফারুক রহমান, মেজর খন্দকার আবদুর রশিদ, মেজর শরিফুল হক ডালিম প্রমুখ) পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
• বেঙ্গল ল্যান্সার্স ও অন্যান্য ইউনিটের ট্যাংক ও সৈন্য জড়ো করা হয়।
১৫ আগস্ট ভোর (প্রায় ৪:৩০–৫:১৫) একযোগে তিন জায়গায় হামলা চালানো হয়:
1. ধানমন্ডি ৩২ নম্বর (বঙ্গবন্ধুর বাসভবন)
• প্রথমে প্রহরী ও শেখ কামালকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
• বঙ্গবন্ধু ফোন করে সেনাপ্রধান জেনারেল কে এম সফিউল্লাহসহ বিভিন্ন জায়গায় সাহায্য চান।
• সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয় (প্রায় ভোর ৫:৪০)।
• এরপর বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের হত্যা করা হয়।
2. শেখ ফজলুল হক মণির বাসা
• বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে ও যুবলীগ নেতা শেখ ফজলুল হক মণি এবং তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণিকে হত্যা করা হয়।
3. আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসা
• বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি ও মন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাতসহ পরিবারের একাধিক সদস্যকে হত্যা করা হয়।
নিহত ব্যক্তিরা (ধানমন্ডি ৩২-এ)
• বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
• বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব (স্ত্রী)
• শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেল (পুত্র)
• সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল (পুত্রবধূ)
• শেখ আবু নাসের (ভাই)
• কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদ (নিরাপত্তা প্রধান, যিনি বাঁচাতে এসেছিলেন)
• এসবি কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমানসহ আরও কয়েকজন
বেঁচে যান: শুধুমাত্র দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা (তখন বিদেশে ছিলেন)।
পরবর্তী ঘটনা
• সকালে রেডিওতে মেজর ডালিম ঘোষণা দেন যে “স্বৈরাচারী শেখ মুজিবকে হত্যা করা হয়েছে”।
• খন্দকার মোশতাক আহমেদকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ক্ষমতায় বসানো হয়।
• বঙ্গবন্ধুর লাশ টুঙ্গিপাড়ায় এবং অন্যান্য নিহতদের বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এই ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে পরিচিত।