01/01/2026
জানাযা শুরুর আগে সর্বশেষ কথা বলতে স্টেইজে উঠলেন তারেক রহমান। এ ধারণা ছিল, তিনি সংক্ষেপে বক্তৃতা শেষ করবেন; তবে বেগম জিয়ার উপর যে অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নিপিড়ন চালিয়ে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করেছিলো হাসিনা, তার দুয়েকটা বর্ণনা দেবেন। তার ব্যক্তি জীবনে মায়ের সঙ্গে দু—একটা স্মৃতির কথা স্মরণ করবেন।
কিন্তু তার কিছুই ঘটেনি। সবাইকে অবাক করলেন তারেক রহমান। স্টেইজে উঠে চিরায়ত বাঙালি মুসলমানের মতো বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বাক্য দিয়ে শুরু করে বলতে লাগলেন, আমি মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বড় সন্তান।
উপস্থিত সকলকে উদ্দেশ্যে করে বললেন, মরহুমা জীবিত থাকাকালে কারো কাছে থেকে ঋণ নিয়ে থাকলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে ’ইনশাআল্লাহ’ তিনি ঋণ পরিশোধ করে দেবেন। মরহুমার আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তাকে মাফ করে দিতে মরহুমার পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইলেন। এবং তার পরকালীন নাজাতের জন্য দোয়া চেয়ে দুইবার সালাম দিয়ে বিদায় নিলেন।
জাস্ট এতটুকুই। মাত্র ১ মিনিট সময় নিলেন। তিনি যখনি সালাম দিয়ে বিদায় নিলেন, তখন উপস্থিত সমবেত সকলে বলতে লাগলেন, এইতো নেতা!
অযথা সময় নষ্ট করলেন না। শোকে-কাতর জনতার সামনে রাজনৈতিক বক্তৃতা দিয়ে সিম্প্যাথি কুড়াতে চান নাই।
তার মায়ের উপর চলা নির্মমতার গল্প বলে মানুষের করুণা নিতে চেষ্টা করেন নাই। রাজনৈতিক একটি শব্দও ব্যবহার করলেন না। নিজেকে পরিচয় দিলেন যে মরদেহের জানাযা পড়ার জন্য অপেক্ষারত, তার সন্তান হিসেবে।
জাস্ট অল্প কিছু শব্দে, নিজের পক্ষে না বলে কিংবা চেয়ে, রাজনৈতিক কোনো বাক্য ব্যয় না করেও কীভাবে মানুষের মন রাজনীতিবিদেরা জিতে নিতে পারেন, তা প্রত্যক্ষভাবে অনুভব ও শিখলাম আজ তারেক রহমানের কাছে থেকে।
তিনি সময়জ্ঞান নিয়েও সচেতন ছিলেন। লক্ষ লক্ষ মানুষের মনের অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে রিড করতে সক্ষম হয়েছেন।
কারণ, মানুষ কিছুটা বিরক্ত হচ্ছিলো জানাযা শুরু করতে দেরি করায়।
মানিক মিয়া এভিনিউ ছাড়িয়ে আশেপাশের এলাকা, ঢাকা শহরে অলিতে-গলিতে যে যেখানে পারছে দাঁড়িয়ে পড়ছে, তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। বেগম খালেদা জিয়ার কফিন এসে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছিলো, তারমধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে যে স্টেটমেন্ট পড়তেছিলেন নজরুল ইসলাম, সেটা দীর্ঘ ছিল। ফলে, মানুষ কিছুটা বিরক্ত হয়ে উঠছিল, কিন্তু তারেক রহমান স্টেইজে উঠে যখন ১ মিনিটে চমৎকারভাবে তার বক্তৃতা শেষ করে নেমে গেলেন, সকলের বিরক্ত কেটে গেল। সবাই ভূয়সী প্রশংসা শুরু করলেন। অনেকেই বলতে লাগলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়া তাদের যোগ্য উত্তরসূরী রেখে যাচ্ছেন।