30/04/2022
শেষ দশকে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোমর বেঁধে ইবাদতে নামতেন বলে শুধু কিতাবে পড়েছি। হারামে এসে এটা চাক্ষুষ দেখছি। গতকাল সাতাশের রাত ছিল এখানে। মনে হচ্ছিল বিশ্বের সব মুসলিম এসে হাজির হয়েছে। এত ভীড় আর লোকসমাগম সুবহানাল্লাহ! তবে নিরাপত্তা কর্মীরা শক্তহাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। তাদেরকে শুকরিয়া জানাতেই হয়। প্রায় বিশ লক্ষ মানুষ গতকালের কিয়ামুল লাইলে হাজির হয়েছিল। শায়খ জুহানি আর ইয়াসির দুসারি তারাবিতে তিলাওয়াতের ঝড় তুলেছেন। মাইকের গুরুগম্ভীর আওয়াজ, সেটা বড় বড় দালানে প্রতিধ্বনিত হয়ে পুরো এলাকার চারপাশে ছড়িয়ে পড়া, সবকিছু মিলিয়ে মনে হচ্ছিল সবাইকে নিয়ে আকাশে উড়ছেন তারা দু'জন। তাহাজ্জুদে মাহির মুআইকিলির লম্বা টানের তিলাওয়াত মোহনীয় করে তুলছিল প্রতিটি মুহুর্তকে। শেষে এসে শায়খ সুদাইসি বিতরে লম্বা সময়ের হৃদয়ছোঁয়া দুআ সবার চোখে পানি নিয়ে এসেছিল। এভাবে কখন যে পুরো রাত পার হয়ে গেল টের পাওয়া গেল না।
দেশীয় সাতাশ বহুবার দেখলেও এবার দেখলাম হারামের সাতাশ। পবিত্রতার পরশে মোড়ানো অন্যরকম এক বিনিদ্র রাত। রমজানে প্রচুর ভীড়ের কারণে মন মত তাওয়াফ করার সুযোগ না পাবার অপ্রাপ্তিকে মুছে দেবার জন্য এগুলোই যথেষ্ট। আল্লাহ সবাইকে বারবার হারামে আসার তাওফীক দিন। আমিন।
(ছবিটা হারামাইনের পেজ থেকে নেওয়া। গত রাতে মসজিদে হারামের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। সমপরিমাণ মানুষ ছিল রাস্তায়, যা ছবিতে অনুপস্থিত।)