08/07/2025
সংসার জীবন ও ইসলাম
পাট -১
হযরত আদম (আ) পৃথিবীতে আগমন করে নিজের অপরাধের জন্যে যখন অনুতপ্ত হলেন তখন তিনি মহান আল্লাহর ক্ষমা লাভ করলেন। তারপর তিনি আল্লাহর নিকট হতে এ ওয়াদাও লাভ করলেন যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে পথ প্রদর্শন করা হবে মানবজাতীকে। মানুষ পৃথিবীতে যেন পথহারা হয়ে না পড়ে, উদ্ভ্রান্ত না হয়, শয়তান কর্তৃক প্রদর্শিত পথের অনুসারী হয়ে না পড়ে, সে কারণেই নবীদের মাধ্যমে হেদায়েত আসতে থাকবে। এ সমস্ত হেদায়েত অনুসরণ করলেই কেবল মানুষ প্রকৃত অর্থে মনুষত্বের গুণাবলী অর্জন করতে পারবে। ইসলাম নারী ও পুরুষের মধ্যে কি ধরনের চারিত্রিক গুণাবলী সৃষ্টি করতে চায় সে সম্পর্কে কোরআন বলছে, "আল্লাহর অনুগত পুরুষ ও স্ত্রীলোক, ঈমানদার পুরুষ ও স্ত্রীলোক, আল্লাহর দিকে মনোযোগকারী পুরুষ ও স্ত্রীলোক, সত্য ন্যায়বাদী পুরুষ ও স্ত্রীলোক, সত্যের পথে দৃঢ়তা প্রদর্শনকারী পুরুষ ও
আল্লাহর প্রতি আগ্রহ-উৎসাহ। দানশীল পুরুষ ও স্ত্রীলোক অর্থাৎ যারা গরীব দুঃখী ও অভাবগ্রস্তদের প্রতি অন্তরে দয়া অনুভব করে উদ্বৃত্ত মাল ও অর্থ কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে অভাবগ্রস্ত লোকদের দেয়। রোযাদার পুরুষ ও স্ত্রীলোক অর্থাৎ যারা আল্লাহর হুকুম মুতাধিক রোযা রাখে, যে রোযার ফল হচ্ছে তাকওয়া পরহেযগারী লাভ এবং যার মাধ্যমে ক্ষুৎপিপাসার জ্বালা ও যন্ত্রণা অনুভব করা যায় প্রত্যক্ষভাবে ও তার জন্যে ধৈর্য ধারণের শক্তি অর্জন করতে পারেন। লজ্জাস্থানের হেফাযতকারী পুরুষ ও স্ত্রীলোক অর্থাৎ যারা নিজেদের লজ্জাস্থান অন্য লোকদের সামনে প্রকাশ করে না৷৷ তাতে লজ্জাবোধ করে এবং নিজেদের লিঙ্গস্থানকে হারামভাবে ও হারাম পথে ব্যবহার করে না। ঢেকে রাখার যোগ্য দেহে॥ দেহের কোন অঙ্গকে ভিন্ন পুরুষ-স্ত্রীর সামনে উন্মুক্ত করে না। আল্লাহকে অধিক মাত্রায় স্মরণকারী পুরুষ ও স্ত্রীলোক অর্থাৎ যাঁরা আল্লাহকে কস্মিনকালেও এবং মুহূর্তের তরেও ভুলে যায় না, আর মুখ ও কল্ব উভয় ক্ষেত্রেই আল্লাহকে চিরস্মরণীয় রাখে। মৌলিক গুণ মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হোক এবং এ গুণধারী ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সমাজ গঠিত হোক, কুরআনের এ ভাষণের মূল লক্ষ্য তাই। এ মৌলিক গুণাবলী নারী ও পুরুষ উভয়ের মধ্যেই কাম্য। কেবল পুরুষদেরই নয়, নারীদেরও এই গুণাবলীর অধিকারী হতে হবে। আর তা হতে পারলেই এই পুরুষ ও নারী সমন্বয়ে গঠিত হবে আদর্শ সমাজ যা কুরআন গড়ে তুলতে চায়।
কুরআনের অপর একটি ছোট্ট আয়াতে বিশেষভাবে মুসলিম মহিলার গুণ বর্ণনা প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেনঃ "অতএব যারা নেককার স্ত্রীলোক, তারা তাদের স্বামীদের ব্যাপারে আল্লাহর হুকুম পালকারী এবং স্বামীদের অনুপস্থিতিতে গোপনীয় বা রক্ষণীয় বিষয়গুলোর হেফাযতকারী হয়ে থাকে; কেননা আল্লাহ নিজেই তার হেফাযত করেছেন। (যদি কেউ সে সবের হেফাযত করতে চায়, তবে তার পক্ষে তা সম্ভব ও সহজ হবে।" এ আয়াতের তাফসীরে লেখা হয়েছেঃ "অর্থাৎ নারীদের জন্যে কর্তব্য করে দেয়া হয়েছে যে, তারা তাদের স্বামীদের অধিকার রক্ষা করবে এর বিনিময়ে যে, আল্লাহ নিজেই তাদের অধিকার তাদের স্বামীদের উপর সংস্থাপন ও তার সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন। এজন্যেই তিনি স্ত্রীদের প্রতি ন্যায়নীতি ও সুবিচার স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন পুরুষদের। তাদেরকে সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে বলেছেন এবং আদেশ দিয়েছেন পুরুষদেরকে তাদের মোহরানা আদায় করতে।” কুরআন মজীদে মহিলাদের দুটো আদর্শ নারীর চরিত্র পেশ করা হয়েছে এবং দুনিয়ার ঈমানদার নারীদেরকে তাদের আদর্শ চরিত্রের অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। তার মধ্যে একটি আদর্শ হচ্ছে ফিরাউনের স্ত্রী আসিয়া বিনতে মুজাহিম। ফিরাউন ছিল আল্লাহ ও আল্লাহর দ্বীনের প্রকাশ্য দুশমন। কিন্তু তার স্ত্রী ছিলেন আল্লাহ ও আল্লাহর দ্বীনের প্রতি পূর্ণ ও মজবুত ঈমানদার।
কুফ তাঁর নিজে আলু