02/12/2024
সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় বিয়ে হয় আমার। বাবা শশুরের সাথে আগেই কথা বলে নিয়েছিলেন- মেয়ে আর পড়াশোনা করতে পারবে না। তারা বনেদি পরিবারের মানুষ। বউয়ের রোজগারে দিন পার করতে হবে না। ছেলের বউ ঘরকন্না সামলাবে, পোলাপান মানুষ করবে। মেয়েদের পা বাইরে গেলে তাদের শেকল কে’টে যায়। তখনও ভালো করে সংসার জ্ঞান আসেনি। অতশত বুঝতাম না। মা এই বিয়ের ঘোর বিরোধী ছিলেন। তবে বাবা তার কথা শোনেননি। ছেলে ভালো, পড়াশোনা শেষ করেই সরকারি চাকরি পেয়ে গেছে। বিশ কাঠার ওপর বিশাল বাড়ি। বছরের চাল ঘরে তোলা থাকে। এমন সুযোগ কেউ হাতছাড়া করে নাকি!
বিয়ের দিন সকালেও বই নিয়ে বসেছি। মা এসে বই কেঁড়ে নিতে নিতে বললেন, “এখন থেকে এসব চিন্তা মাথায় আনবি না। মন দিয়ে সংসার করবি। ও বাড়ি থেকে যেন কোন নালিশ না শুনি।”
পরক্ষণেই মা সুর বদলে ফেললেন। অসম্ভব কোমল গলায় বললেন, “মেয়েদের বেশি পড়াশোনা ভালো না মা। ঘর সংসার আসল। আমরা তোর ভালো চাই।”
কিছু বলিনি। ভয়ে নিজেকে নিজের মধ্যে গুটিয়ে নিয়েছি। বিয়ের আলোকসজ্জা, লোকের সমাগম, কোন কিছুই আমার ভয় কাটাতে পারেনি। এখনও মনে পড়ে সে রাতে খুব বৃষ্টি পড়ছিল। চারদিকে ভিজে গন্ধ, কাঁদা মাটি, বাচ্চাদের চিৎকার সবকিছু মিলিয়ে খারাপ অবস্থা। দাদি শাশুড়ি বললেন, “বউয়ের কপাল ভালো। শুভ কাজে বৃষ্টি হওয়া রহমতের লক্ষন। মানিক খুব সৌভাগ্যবান।”
বাসর রাতে মানুষটার সাথে প্রথম দেখা। ছিপছিপে লম্বা শরীর, মেয়েদের মতো বড় বড় চোখ, কোমল কন্ঠস্বর। কাকা ভেজা হয়ে ঘরে ঢুকেছেন। আমার দিকে তাকিয়ে লজ্জায় পড়ে গেলেন। বিব্রত গলায় বললেন, “কয়েকজন বন্ধু এসেছিল। ওদের আবার ফেরত যেতে হবে। এগিয়ে দিয়ে এই অবস্থা হয়েছে।”
কথাগুলো বলেই তোয়ালে হাতে বাথরুমে ঢুকে গেলেন। আমার ভয় তখনও কাটেনি। কিছুক্ষণ আগে বয়স্ক এক মহিলা এসেছিলেন। তিনি হঠাৎই আমার গায়ে হাত দিয়েন। কুৎসিত গলায় বললেন, “আমার ছোঁয়ার এমন হলে, বরের ছোঁয়ায় কি করবে মেয়ে? তবে আর যা-ই করো না কেন, স্বামীকে বাঁধা দেবে না। চিৎকার করবে না।”
অবাক হয়ে প্রশ্ন করলাম, “তিনি কি আমায় মা'র'বে’ন?”
জবাবে কিছু কিছু বলেননি। দাঁত চিবিয়ে হেসেছেন। হাসি দেখে রাগে শরীর জ্বলে যাচ্ছিল। দরজা খোলার শব্দে কেঁপে উঠলাম। বুকের ওপর থুথু ছিটিয়ে দম খিঁচে রইলাম। উনি খুব হাসলেন। খাটের ওপর বসতে বসতে বললেন, “ভয় পেয়ে গেলে নাকি?”
ভীতু চোখে তাকালাম। তিনি অসম্ভব কোমল গলায় বললেন, “দুঃখিত। আমার একটু সাবধান হবার দরকার ছিল। বর্ষাকালে কাঠের দরজ