23/05/2026
মানুষের জীবনে প্রতিদিন অসংখ্য নেয়ামত থাকে—নিঃশ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা, সুস্থ শরীর, পরিবার, ভালোবাসা, খাবার, নিরাপদ ঘুম, চোখে দেখা, কানে শোনা, হাঁটতে পারা—এসবই এমন নেয়ামত, যেগুলো আমরা এত বেশি স্বাভাবিক ধরে নিয়েছি যে, সেগুলোর জন্য আলাদা করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার প্রয়োজনই অনুভব করি না। অথচ পৃথিবীতে এমন অসংখ্য মানুষ আছে, যারা এসবের একটিমাত্র জিনিসের জন্যও প্রতিদিন সংগ্রাম করছে।
মানুষ সাধারণত সুখের সময় স্রষ্টাকে ভুলে যায়, কিন্তু দুঃখ বা কষ্ট এলেই অভিযোগে ভরে ওঠে। সামান্য ব্যর্থতা, ছোট্ট আঘাত কিংবা কোনো অপূর্ণতা মানুষকে হতাশ করে দেয়। তখন সে ভাবতে শুরু করে—“আমার সাথেই কেন এমন হলো?” কিন্তু সে ভুলে যায়, তার জীবনে যে অসংখ্য ভালো জিনিস এখনো আছে, সেগুলোও তো স্রষ্টারই দান।
আসলে মানুষের মন এমনভাবে তৈরি যে, সে যা পায় তা খুব দ্রুত অভ্যাসে পরিণত হয়, কিন্তু যা হারায় সেটাই সবচেয়ে বেশি অনুভব করে। তাই আমরা প্রাপ্তির চেয়ে অপ্রাপ্তিকে বেশি গুরুত্ব দিই। এই কারণেই অনেক সময় সুখের মাঝেও মানুষ অসুখী হয়ে যায়। কারণ তার দৃষ্টি নেয়ামতের দিকে নয়, বরং অভাবের দিকে থাকে।
শুকরিয়া শুধু মুখে “আলহামদুলিল্লাহ” বলার নাম নয়; বরং অন্তর থেকে উপলব্ধি করা যে, আমি যা পেয়েছি তার সবকিছুই এক মহান অনুগ্রহ। একজন কৃতজ্ঞ মানুষ অল্পতেও শান্তি খুঁজে পায়, কারণ সে জানে—জীবনের প্রতিটি ছোট ভালো জিনিসও মূল্যবান। আর অকৃতজ্ঞ মানুষ হাজারো আশীর্বাদের মাঝেও শুধু কষ্টের হিসাবই গুনতে থাকে।
জীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য তখনই অনুভব করা যায়, যখন মানুষ অভিযোগ কমিয়ে কৃতজ্ঞতা বাড়ায়। কারণ অভিযোগ মানুষকে মানসিকভাবে দুর্বল করে, আর শুকরিয়া মানুষকে ধৈর্যশীল, শান্ত ও ইতিবাচক করে তোলে। স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা মানুষকে শুধু আধ্যাত্মিক শান্তিই দেয় না, বরং জীবনের প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গিও এনে দেয়।
তাই আমাদের উচিত, কষ্টের মুহূর্তেও জীবনের নেয়ামতগুলো স্মরণ করা। কারণ যে মানুষ ছোট ছোট আশীর্বাদের মূল্য বুঝতে শেখে, তার হৃদয়ে অভিযোগের চেয়ে শান্তি বেশি থাকে।