17/06/2026
আমি ক্রমশই একটি ছায়ায় পরিণত হচ্ছি—
অবয়বহীন এক নিথর ছায়া।
আমার শরীর থেকে দিন দিন খসে পড়ছে অবয়ব।
ঘুম ভাঙলে দেখি, আঙুল কিংবা কোনো অদৃশ্য অস্থিখণ্ড—
উধাও হয়ে গেছে নিঃশব্দে!
হাড়ের প্রকোষ্ঠে ঘন কুয়াশা,
বরফের মতো জমাটবদ্ধ হিম।
আমার ভেতরে যে অরণ্য জন্ম নিয়েছিল,
সেখানে আজ ধূ ধূ মরুদ্বীপ!
কোনো কোনো রাতে
এখানে গাছের বদলে মরীচিকা জন্মায়।
অথচ আমার তো রোহিনী লতার মতো
লতিয়ে লতিয়ে
তোমার বুকে সওয়ার হওয়ার কথা ছিল, নিশিকান্ত!
তোমার শরীরের চারপাশে লেপ্টে থাকা এক ঘনসবুজ।
তা আর হলো না!
আমি কতবার বাধ্য বীজ হয়ে মাটির জঠরে শুয়ে থেকেছি,
একটু ওমের আশায়—
হাতজোড় করেছি মাটির কাছে।
যদি আরেকটি বার অঙ্কুরিত হতে পারতাম!
কিন্তু প্রতিবারই,
গভীর ঘুমে বয়ে গেছে অপেক্ষার বসন্ত।
এখন আমার এই দুহাত বড় অচেনা লাগে;
এক বিবর্ণ,
অপরিচিত প্রতিকৃতি—
সে-ই কি আমি?
আমার চারপাশে এখন
মৃত শেকড়ের ঘুম,
বিলুপ্ত বৃষ্টির ঘ্রাণ,
আর অন্ধকারের ধীর স্তরবিন্যাস।
হয়তো এখানে আর কোনো অরণ্য জন্ম নেবে না।
তবুও, যদি তোমার আকাশের নক্ষত্ররা
ভুল করে নেমে আসে কোনদিন—
আমি তখনও এখানেই থাকব;
অঙ্কুরহীন, মাটিমগ্ন।
নিজের খসে পড়া শরীরের পাশে
এক দীর্ঘ ছায়া হয়ে।