17/07/2016
খালিয়াজুরী হাওর :
১৮৯৬ খ্রীস্টাব্দে খালিয়াজুরী কেন্দুয়া থানার একটি ফাড়ি থানা স্থাপন করা হয়। ১৬ জুন ১৯০৬ খ্রীঃ খালিয়াজুরী পুনাঙ্গ থানায় রূপনেয়।
সপ্তম পর্যায়ে ১৯৮৩ সালে ২৮ ডিসেম্বর খালিয়াজুরীকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয়ে ছিল।
কথিত আছে খালিয়াজুরীতে এক সময় কামরূপের রাজধানী প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। চর্তুদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে জিতারী নামক জনৈক সন্ন্যাসী কর্তৃক অধিকৃত হলে এ অঞ্চল কমরূপের শাসনচ্যুত হয। পরবর্তীকালে খালিয়াজুরী পরগনা ভাটি অঞ্চলের অধীশ্বর ঈশাখার শাসনেছিল। এ ভাটি মহাল তৎকালে সরকার বাজুহা জলকর মহালের অর্ন্তগত ছিল। ঈশাখাঁর মৃত্যুর পর এ পরগনা তার পরিষদ মজলিশদের হস্তগত হয়েছিল। অষ্টাদশ শতাব্দীতে এ পরগনা মজলিশদের হাত থেকে হোমবংশীয়দের শাসনাধীন হয়ে পড়ে। ১৭৮৭ খ্রীস্টাব্দে ময়মনসিংহ জেলা বন্দোবস্তের সময় এ পরগনা রামশংকর চৌধুরী, জয় প্রসাদ চৌধুরী, অনুপ নারায়ণ চৌধুরী, মহনরায় চৌধুরী, মানিকরাম চৌধুরী, আবুওয়াল্লা চৌধুরী, মুহাম্মদ গহুর, মুহাম্মদ রুশন ও মুহম্মদ রঞ্জি এই কয়জন এ পরগনার মালিক ছিল।
১২০৪ বঙ্গাব্দে মালিকগন ঋণগস্থ হয়ে পরগনার আট আনা হিস্যা খাজে ওয়াসাল নামক এক আম্মানীর কাছে ৫০০১/- টাকায় বিক্রি করে দেয়। বাকী আট আনা খাজে ওয়াসীলের কাছেই ৯বছর মেয়াদে ইজারা পত্তন দেয়। ১২১৫ বঙ্গাব্দে মালিকগন এই আট আনা জমিদারী ধানকুড়ার রামকৃষ্ণ ও রাজকৃষ্ণ রামের কাছে বিক্রি করেদেয়। আম্মানী খাজে ওয়াসিলের মৃত্যুর পর তার দু’ কন্যা আট আনা জমিদারীর মালিক হয়। এই কন্যাদ্বয়ের এক কন্যা চার আনা অংশ করটিয়া জমিদার সায়াদত আলী খাঁ-র নিকট ২২০০০/- টাকায় বিক্রি করে। অন্য কন্যার অংশ রামকৃষ্ণ ও রাজকৃষ্ণ রায়ের উত্তরাধিকারী গিরিশ ও গোবিন্দ বাবুর কাছে ৩২০০০/- টাকায় বিক্রি করেদেয়। এভাবে ধানকুড়ার জমিদারগন খালিয়াজুরী পরগনার ১২ আনা ও কয়টিয়ার জমিদার চার আনা জমিদারীর মালিক ছিল।