28/03/2016
"ইস্যু নিয়ে কিছু লিখি না এখন ... লিখলে কোন কাজ হয় না আসলে ... বসে বসে চিন্তা করছিলাম অনেক কিছু ... হঠাৎ খেয়াল করলাম, বাড়িতে আমার একটা বোন আছে ... বোনটা তার প্রফেশনাল লাইফে একা একা অনেক জায়গায় যায় ... বাসায় ফিরতে মাঝে মাঝেই রাত হয়ে যায় ... ইদানিং আমার এগুলা চিন্তা করলে ভয় লাগে ... গা শিউরে উঠে ... আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, আমি তাকে ফোন করে বলিঃ
"আপু, প্লিজ রাতে বের হইস না ... দিনের মাঝে বাসায় ফেরত আসিস !!"
আমার মা বাজার করতে গেলে, শপিং এ গেলেও আমার টেনশন হয় ... লোকাল বাস, রিকশা, সিএনজি, অলিগলি, পার্ক, শপিং মল - কিচ্ছু এখন নিরাপদ না ... নাথিং ... আমার ইচ্ছা হয়, মা কে বলিঃ
"আম্মু, শপিং মল এ যাওয়া লাগবে না ... বাজার করা লাগবে না ... তুমি বাসায় বসে থাকো প্লিজ !!"
এগুলা আসলে সম্ভব না ... জীবন থেমে থাকে না !!
একেকটা ধর্ষণ এর খবর চোখের সামনে আসার পরই আমরা হা-হুতাশ করি, ইমোশনাল হই, বিচারের জন্য চিৎকার করি ... একটু রেকর্ড খুঁজে প্লিজ বলবেন, এই দেশে কয়টা ধর্ষণ মামলার বিচার হইছে ?? ... ৫% এরও বিচার হয় নাই, ট্রাস্ট মি !!
আর সারা দেশের সব খবর, সব ঘটনা মিডিয়াতে আসে না ... ধরেন, কোন এক প্রত্যন্ত গ্রামের কোন এক জায়গায় একটা ধর্ষণ হয়েছে, সেটার খবর আমি আপনি কেউ জানবে না ... ১০০ টা ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে তার ১-২ টা মিডিয়াতে আসে ... তাহলে চিন্তা করেন, কি পরিমাণে ধর্ষণের বিচার আদৌ হচ্ছে !!
খুব তিতা সত্য হলো, আগামী ১-২ সপ্তাহ আমি আপনি সবাই ইভেন্ট খুলবো, আবেগী স্ট্যাটাস দিবো, মানববন্ধন করবো, হ্যাশট্যাগ দিবো, কভার ফটো চেঞ্জ করবো ... কিন্তু তনু হত্যার বিচার হবে বলে মনে হয় না !!
কেন মনে হয় না ?? ... কারণ, দেশের বিচার ব্যবস্থার উপর থেকে বিশ্বাস উঠে গেছে ... কেন বিশ্বাস উঠে গেছে ?? ... একটু চেক করে দেখেন, গত কয়েক বছরে কতগুলা ইস্যু, কতগুলা খুন, গুম, ধর্ষণ হইলো, কতবার আন্দোলন হইলো, হ্যাশট্যাগ হইলো ... নিজ চোখে দেখা, ফলাফল শূন্য !!
আপনি উদাহরণ দিতে পারেন দুই-একটা ... পরিমল এর বিচার হইছে ... বিশ্বজিতের খুনিদের ধরা হইছে ... আমি উদাহরণ দিতে পারি ১০০ টা, যেগুলার বিচার হয় নাই !!
আমি হতাশাবাদী মানুষ ... আমি আশা করি না, এই দেশে কোন কিছুর বিচার হবে ... আর বিচার যদি হয়ও, লাভটা কি ?? ... আমাদের বোন তনু আর ফেরত আসবে না ... কখনো না !!
আমি আবেগী দশটা কথা বললে সবাই আহা-উহু করতো, লাইক দিতো, শেয়ার দিতো ... কিন্তু তাতে কোন লাভ হতো না ... আমাদের খুঁজতে হবে কিভাবে ধর্ষণ রোধ করা যায় ... সরকারের মুখের দিকে চেয়ে লাভ নাই ... তিতা সত্য হইলো, আপনি যখন রাস্তায় নামবেন, আপনাকে কেউ সেইভ করবে না ... তাহলে কি করা যায় ??
আমার বোনটাকে আমি বলি, ব্যাগে একটা অ্যান্টি-কাটার রাখো ... জিনিসটা দরকারি ... এইটা কোন অস্ত্র না হলেও অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যায় না ... বিপদের মূহুর্তে চোখ বন্ধ করে হিট করে দৌড় দিতে হবে ... তোমার জন্য কোন পুলিশ, আর্মি ছুটে আসবে না ... তোমার নিজেকেই নিজে রক্ষা করতে হবে ... শক্ত হও তুমি, অ্যাগ্রেসিভ হয় ... যে জানোয়ারটা তোমার শরীরে হাত দিতে গিয়ে একবার কাটারের আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত হবে, সে দ্বিতীয়বার অন্য কোন মেয়ের শরীরে হাত দেয়ার আগে থেমে যাবে, ভয় পাবে !!
ব্যাগে রাখা যেতে পারে পিপার স্প্রে ... সোজা বাংলায়, মরচের গুড়া ... কেউ অ্যাটাক করতে আসলে চোখে মরিচের গুড়া ছিটিয়ে পালানো যাবে !!
জানোয়ারদের মনে ভয় ঢুকাও ... হ্যাঁ, তুমি, তোমরা সবাই ... লোকাল বাসে যে তোমাকে ইচ্ছা করে কনুই দিয়ে গুতো দিচ্ছে, তার বলস এ একটা কষে লাথি মেরে তার মনে ভয় ঢুকিয়ে দাও ... একদিনে এগুলা হবে না ... আস্তে আস্তে হবে ... আর কতদিন একেকটা জীবন নষ্ট হবে আর আমরা হা হুতাশ করবো ?? আর কতদিন ??
আমার যে বান্ধবীটা সময় নিয়ে কারাটে, মার্শাল আর্ট শিখেছে, তার মনে ভয় অনেক কম ... এক রিকশাওয়ালা তার গায়ে হাত দেয়ার পর সে তার মার্শাল আর্ট এর প্রয়োগ ঘটিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছিলো মেয়ে মানেই দুর্বল না ... বিশ্বাস করেন, ঐ রিকশাওয়ালা এরপর থেকে মেয়ে দেখলেই আঁতকে উঠবে ... তার ঠোঁট থেকে গড়িয়ে পড়া রক্ত বারবার তাকে থামিয়ে দিবে কোন মেয়ের গায়ে হাত দেয়ার আগে !!
পরিবর্তন আসুক ... পরিবর্তন আসতেই হবে ... যে যেভাবে পারে, নিজেকে সেইভ করার জন্য যা যা করা দরকার করুক ... চোর এসে সব নিয়ে যাওয়ার পর বারবার কেন আমরা কাঁদি ?? ... চোর যাতে আসতে না পারে, সেই ব্যবস্থাই করি না ?? ... হ্যাঁ, ১০০% হয়তো সম্ভব না ... কিন্তু যতটা সম্ভব চেষ্টা তো করি !!
ধর্ষণের একমাত্র কারণ কি, জানেন ?? একমাত্র কারণ ??
ধর্ষণের একমাত্র কারণ হলোঃ ধর্ষক ... এই দেশে ধর্ষক জন্মায়, ধর্ষক আছে বলেই ধর্ষণ হয়, হচ্ছে ... এই দেশে ধর্ষকের বিচার হয় না দেখেই ধর্ষণ থামছে না, থামবে না ... একটাবার একটা দৃষ্টান্ত যদি স্থাপন করা যেতো ... একটাবার একজন কে বিচ্ছিরিভাবে শাস্তি যদি দেয়া হইতো, ওদের মনে ভয় ঢুকতো ... হাত জোর করে সরকারের কাছে অনুরোধ করি, প্লিজ একটাবার একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন ... প্লিজ !!
সেটা হওয়ার আগ পর্যন্ত ... মেয়ে,
তুমি শক্ত হও ... অ্যাগ্রেসিভ হও ... লম্বা লম্বা স্ট্যাটাস, ইভেন্ট, কভার ফটো দিয়ে আর কত ?? ... সরকারের মুখের দিকে চেয়ে আর কত ?? ... মেয়ে, তোমাকে কেউ বাঁচাবে না - এটাই নিষ্ঠুর সত্যি ... নিজেকে নিজেই বাঁচাতে হবে ... তুমি পারবা ... তোমাকে পারতেই হবে ... তোমাকে পারতেই হবে !!
আজকে তুমি আমি ভয় পাচ্ছি ... কিন্তু একদিন এই দেশে ধর্ষকরা ভয় পাবে ... শিউরে উঠবে ... কোন মেয়েকে স্পর্শ করার চিন্তা করারও সাহস পাবে না ... দেখো ... পরিবর্তন আসবেই ... এমন দিন আসবেই ... সেই দিনের অপেক্ষায় রইলাম !!"
smile emoticon