19/05/2025
আমি এখন এক নিবিড় নির্জনতায় আত্মনিবিষ্ট,
যেখানে প্রাক্তন কোলাহলের প্রতিধ্বনিও নৈঃশব্দ্যের গর্ভে বিলীন।
এক সময়ের বহুচর্চিত মুখ, বহু মুখের আরশিতে প্রতিফলিত আমার অস্তিত্ব—
আজ শুধুই এক অব্যক্ত বেদনাস্বরূপ,
যার শব্দ নেই, ভাষা নেই, কেবল একটি অনন্ত প্রশ্নবোধক ছায়া।
মানুষরা একে একে আমার জীবনপট থেকে অপসৃত হয়েছে—
কারো পদচিহ্ন আজ রিক্ত, কারো নাম এক মৃত কবিতার পঙ্ক্তি।
একা থাকাই এখন আমার অনিবার্য বৃত্ত,
যেখানে প্রত্যেক নিঃশ্বাসে আমি শুষে নিই বিস্মৃতির নির্মমতা।
তবু— একটি মুখ,
একটি অব্যক্ত, অপ্রাপ্ত, অপরিণত প্রেমের অবিনাশী প্রতীক,
আজও আমার অস্তিত্বের অন্তঃস্থলে স্থাপিত।
তাঁকে ভালোবাসি— নিছক মানবিক দুর্বলতায় নয়,
বরং এক ধ্বংসনির্মিত সৌন্দর্যের প্রায়ার্ধে।
তাঁকে কোনোদিন বলা হয়নি,
হয়তো বলাও হবে না—
কারণ শব্দ তার অতীত, আর উচ্চারণ এখন বিসর্জনের সমার্থক।
রাত গভীর হলে,
অনলাইন স্ট্যাটাসের নিঃসঙ্গ এক বিন্দুতে তাঁকে জেগে থাকতে দেখি,
মন চায়— সমস্ত অন্তর্লীন ক্লেদ, সমস্ত অপূর্ণতার ছাই তার চরণে ছুঁড়ে দিই।
তবু অদৃশ্য থেকে যাই—
কারণ আমার ভালোবাসা কোনো প্রাপ্যতায় বিশ্বাস করে না।
তা আত্মবিসর্জনের মতোন,
নীরবে জ্বলতে থাকা একটি শিখা—
যার উষ্ণতাও সে পাবে না, দহনও নয়।
এই নৈঃশব্দ্যই আমার ভাষা,
এই নির্জনতাই আমার উপাস্য।
এ এক নরকীয় অথচ রমণীয় বন্দিত্ব—
যেখানে আমি প্রতিনিয়ত নিজেকেই নিঃশেষ করি,
ভালোবাসা নামক এক অদৃশ্য মূর্তিকে আরাধনা করে।
আমার প্রেম প্রকাশ্য নয়, প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষাতীত নয়,
বরং সেটি এক তীব্র অন্তর্গত সমর,
যেখানে আমি প্রতিনিয়ত হেরে গিয়েও নিজেকে বিজিত বলে ঘোষণা করি