13/07/2016
একটা বাচ্চা ছেলের সত্যিকারের ভালবাসার গল্প..........
।
৮ বছরের একটি ছেলে এবং ৯ বছরের একটি মেয়ে, দুজন একি সাথে ৩য় শ্রেনীতে পরে...।
ধরি ছেলেটির নাম আকাশ, আর মেয়েটির নাম মেঘ।
আকাশের থেকে মেঘ দেখতে এবং বয়সেও ১ বৎসর এর বড়।
আকাশের বাড়ি প্রায় স্কুল এর পাশেই মেইন রড এর সাথে, আর মেঘের বাড়ি আকাশের বাড়ি ছেরে আর-ও ৬/৭ মিনিটের পথ। তবে মেঘ কিন্তু প্রতিদিন আকাশের বাড়ি হয়ে-বাড়ির উপর দিয়ে তারপর স্কুল এ যায়..। এর অবশ্য বিশেষ একটা কারন আছে আর সেই বিশেষ কারনটা হচ্ছে আকাশের বাড়িতে একটা বড় জামরুল গাছ আছে,
আর মেঘের হয়ত জামরুল খুব পছন্দ, তাইত মেঘ প্রতিদিন খুব সকালে এসে স্কুল এ যাবার আগে আকাশের বাড়ি থেকে জামরুল কুড়িয়ে হাতে/ আচল এ নিয়ে আকাশ কে ডেকে জামরুল খেতে খেতে দুজন এক সাথে স্কুল এ যাবে, এ যেন মেঘের নিত্যদিনের অভ্যাস- এ যেন মেঘের প্রতিদিনের রুটিন এর একটি অংশ.....।
মেঘের সাথে চলতে-চলতে আকাশ যে কবে-কখন মেঘের প্রতি দর্বল আর পছন্দ করে ফেলেছে তা হয়ত আকাশ নিজেও জানেনা, আর জানবেই বা কি করে ৮ বৎসর এর একটা ছেলে কারো প্রতি দুর্বল বা পছন্দের-ই বা কি বোঝে?? তবে আকাশ কিন্তু সত্যি মেঘকে অনেক পছন্দ করত তাও আবার একটা বিশেষ কারনে,
বিশেষ কারনটা হল- মেঘ ছিল অন্ন্যদের থেকে একটু আলাদা, আলাদা বলতে মেঘ কঠিন কোন শব্দ বলতে গেলে অথবা কথা বলতে গেলে মাঝে মাঝে ওর কথা গুলা একটু বেধে যেত যাকে আমরা বলে থাকি তোতলা, যেমন আকা-আকা-আকাশ, সত্যি বলতে কি মেঘের এই যিনিসটাই আকাশের খুব বেশি ভাল লাগত।
অনেকেই মেঘের সাথে এই জন্ন্য দুষ্টামি করত আবার কেউ কেউ মেঘের কথা নিয়ে ব্যাঙ্গও করত আর মাঝে মাঝে মেঘের হয়ত এর জন্ন্য কষ্টও হত, মেঘের কষ্ট দেখে আকাশের ও কষ্ট হত, হয়ত এরই নাম মেঘের প্রতি আকাশের দুর্বলতা ,
অার মেঘের কথা নিয়ে যদি কেও ব্যাঙ্গ করত আকাশের যে কি রাগ হত তা শুধু একমাত্র আকাশ-ই জানে, অার এই রাগের নামিই হয়ত মেঘের প্রতি আকাশের ভালবাসা, আর সেই রাগের কারনে অনেক সময় আকাশ স্কুল ছেরে চলে এসে এলাকার বন্ধুদের নিয়ে রাস্তায় ঢিলা নিয়ে বসে থাকত কক্ষন স্কুল ছুটি হবে আর ঐ ছেলেকে বা বন্ধুকে মেঘকে ব্যাঙ্গ করার অপরাধে মারবে, এমন অনেক গল্প আছে যা হয়ত মেঘর অজানা, মেঘ হয়ত এরকম অনেক গল্পই যানেনা, যানে শুধুমাত্র আকাশের ডায়েরি....।
মেঘ আজ-ও আকাশের বাড়িতে
এসেছে জামরুল খুটতে কিন্তু দুর্ভাগ্য আজ অনেক দেরি করে ফেলেছে এখন আর ৮ টা বাজে না এখন বাজে ৯:৩০ মিনিট,
আকাশ অবশ্য মেঘের জন্ন্য প্রায় ৯ টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছে কিন্তু মায়ের হাতের মার খাবার ভয়ে বেশি ক্ষন আর থাকতে পারেনি, তাইত মেঘ আজ জামরুল এবং আকাশ কোনটার দেখাই না পেয়ে বিষণ্ণ মনে একাই স্কুল এর দিকে রউনা হল....... যাক এতক্ষনে হয়ত মেঘ হয়ত একটু সস্তি পেল কারন মেঘ আকাশের দেখা পেয়েছে, আর আকাশের দেখা পাওয়া মানে জামরুল এর ব্যবস্তা হতে পারে, সত্যি-সত্যি মেঘ আকাশের কাছে গিয়ে তার মিষ্টি তোতলা কন্ঠে বলল আকা-আকা-আকাশ আজ না জা-জা-জামরুল পাইনি তুই আমাকে এক্ষন জা-জা-জামরুল পেরে এনে দিবি আকাশ বলল ঠিক আছে কিন্তু এখন না স্কুল শেষ হক তার পর তুই আমাদের বাড়িতে যাবি, তুই গাছের নিচে থাকবি আমি গাছে উঠে পারব আর তুই খুটবি, যাক মেঘ মেনে নিল। এখন শুধু প্রতিক্ষা স্কুল শেষ হবার....।
ছুটির ঘন্টা পরল কিন্তু প্রাইমারি স্কুল ছুটি হলে ত বাচ্চা ছেলে-মেয়েরা মৌমাছির মত সব রুম থেকে বের হয়,
আজো সবাই মৌমাছির মত ছুটি-ছুটি বলতে বলতে বের হল,
এখন এই ২০০-৩০০ ছেলে- মেয়ের মধ্য মেঘকে কিভাবে খুজে পাই??? আকাশ এই একটি কথা ভাবতেছে আর মেঘকে খুজতেছে হঠাত মেঘ পিছন থেকে আকাশ কে টুকা দিল, অবশেষে আকাশ সস্তি পেল তারপর দুজন একসাথে আকাশ দের বাড়িতে আসল, আকাশ বাড়িতে এসেই বইটা রুম এ রেখেই জামরুল গাছে উঠল আর মেঘ গাছের নিচে, আকাশ অনেকগুলা জামরুল পারল আর মেঘ সেই জামরুল গুলা কুড়িয়ে তার আচল এ রাখল, আপাতত জামরুল পারা শেষ, আকাশ জামরুল গাছ থেকে নেমে আসল, নেমে এসে যা করল তা প্রায় অবিশাস্য.......
কি ভেবে যেন আকাশ জামরুল গাছ থেকে নেবে এসেই মেঘ এর হাত ধরে টানতে লাগল, মেঘ বলল কি হয়েছে? আকাশ বলল এদিকে আয়...... তারপর হাত ধরে টানতে-টানতে আকাশ মেঘ কে, আকাশের মা এবং ২ কাকি যেখানে বসে গল্প করতেছিল সেখানে নিয়ে হাজির করল, তারপর....... আকাশ তার মাকে বলল মা আমি ওকে বিয়ে করব, এই কথা বলেই আকাশ লজ্জায় তার মায়ের কোলে মুখ লুকোল..। সবাই তো অবাক...!!!!! ছেলের মুখে মা এই কথা শুনে আকাশের মা মেঘকে প্রশ্ন করল তুমি কি আমার ছেলের বউ হবে???
মেঘ লজ্জা পেয়ে বলল আমার বাবা-মা যার সাথে আমার বিয়ে দেবে আমি তার বউ হব.... আকাশের মা আবার মেঘকে প্রশ্ন করল- তোমার বাবা-মা যদি হাত-পা ভাঙা (খুড়া) ছেলে তোমার জন্ন্য ঠিক করে তবুও কি তুমি তার বউ হবে???
মেঘ বলল হুমম...।
এই কথা শোনার পর আর কি-বা বলার থাকে, এই কথা শুনে আকাশের মা মেঘকে বলল ঠিক আছে মা তুমি বাসায় যাউ আমি তাহলে তোমার বাবা-মায়ের সাথেই কথা বলব...।।
সেদিন আকাশ এতটাই লজ্জা পেয়েছিল যে আজো মেঘের সামনে যায়নি। সেদিনের পর থেকে আর দুজন এক সাথে স্কুল এ জায়নি, স্কুল এ গিয়ে দুজন একি সাথে এক ব্রাঞ্চ-এ বই রাখেনি,
আর মেঘ-ও আকাশের বাসায় আর লজ্জায় জামরুল কুরাতে আসেনি, সত্যি বলতে কি মেঘ অল্পতেই অনেক লজ্জা পেত আর আকাশ-ত...........
আকাশের বাড়ির লোক মেঘকে স্কুল এ যেতে দেখলেই বৌমা-বৌমা করে ডাকত, মেঘত লজ্জায় আকাশের বাড়ির পাশ দিয়ে স্কুল এ না গিয়ে অন্ন্য পাশ দিয়ে যেত....। আর আকাশের বাড়ির সবাই আজো আকাশের সেই ঘটনা নিয়ে মজা করে..।
আকাশ লজ্জা পেলেও মেঘকে কিন্তু আজো প্রচন্ড ভালবাসে, এক ব্রাঞ্চ এ-তে না বসলেও পিছনের ব্রাঞ্চ এ বসে আকাশ কিন্তু শুধু মেঘকেই দেখত..। ভালবাসে যে তাই.....।।।
মেঘকি জানে এসব গল্প, মেঘের কি মনে আছে এসব কথা????? হয়ত-বা মনে আছে, হয়ত-বা মনে নেই, হয়ত এতদিনে মেঘের জিবনে কোন রাজপুত্র চলেও এসেছে, কিন্তু আকাশ??? আকাশের জিবনে??? আকাশ যে আজো মেঘকে ভালবাসে, আকাশ যে আজো মেঘকে নিয়ে সপ্ন দেখে, আকাশের সপ্ন কি শুধু সপ্নই থেকে যাবে নাকি-নাকি মেঘ আসবে আকাশের সপ্ন পুরন করতে????
শখের ডায়েরি টাকেও কি আকাশ বলবে যে ডায়েরি আকাশ আর মেঘের গল্পত এখানেই শেষ, নাকি মেঘ এসে আকাশের অসামাপ্ত ডায়েরির বাকি গল্প টুকু লিখবে?? এরকম অনেক সপ্ন, অনেক আশা- অনেক ভালবাসা, আর মেঘকে নিয়ে অনেক ভাবনা ভেবে আকাশের রাত কাটে.....।
মেঘ হয়ত এখন আকাশের ফেসবুক বন্ধুদের মধ্য একজন....
মেঘের উদ্দেশ্য আকাশের শেষ লেখা:- মেঘ, ঐ মেঘ শুনতে পাচ্ছিস????? ছোট বেলার মত ওত সাহস দেখিয়ে সামনে এসে বলতে পারলাম না ভালবাসি, কারন একবার সাহস দেখিয়েই আজ প্রায় ১১ বৎসর তোর সামনে আসতে পারিনি তাই আর........
তবে মেঘ শুনে রাখ তোকে আজ -ও প্রচন্ড ভালবাসি, খুব, খুব-খুব বেশি, খুব বেশি ভালবাসি রে,
মন সায় দিলে এ বুকে মাথা রেখে দেখিস, এতটা ভাল কেও কোনদিন তোকে বাসতে পারবে কিনা জানিনা,
সর্বশেষ একটি কথাই বলব- ভালবাসি আর ভালবেসে যাব তুই আমাকে ভালবাসতে পারিস আর না পারিস ভালবাসতে নিষেধ করিস না, তাহলে হয়ত তোকে ভাবাহীন বেচে থাকাটা অসম্ভব হয়ে যাবে।।
মেঘ একটি কথা যেনে রাখ, জিবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত হয়ত তুই কারো কাছে তার রাজকন্ন্যা হয়েই থাকবি,
I Love you Megh......
I Love You A Lot........
হয়ত প্রতিক্ষায় থাকব..........
....The End...
Writing by Me.......
jahid hasan akash