23/10/2026
কাঞ্চনজঙ্ঘা সমাচার
আমি এই বছর দুই মাস অপেক্ষা করার পর প্রথম কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা পেয়েছি। আর আপনারা চান, এক দিন গিয়েই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখে ফিরে আসতে!
কাঞ্চনজঙ্ঘা যদি প্রতিদিনই দেখা যেত, তাহলে হয়তো এর জন্য এত অপেক্ষা, এত আগ্রহ থাকত না। কিছু জিনিস দূর থেকে, অনেক অপেক্ষার পর দেখতেই ভালো লাগে। স্বর্গীয় জিনিস সব সময় চোখের সামনে ধরা না দেওয়াই ভালো।
যারা কাঞ্চনজঙ্ঘা কাছ থেকে দেখেছেন, তারা জানেন কাঞ্চনজঙ্ঘা আসলে কী জিনিস। শুধু একটা ছবি দেখে বা দূর থেকে একবার দেখেই এর সৌন্দর্য বোঝা যায় না।
অনেকে বলেন, দামি ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলি বলেই নাকি কাঞ্চনজঙ্ঘা এত সুন্দর দেখায়। বিশ্বাস করেন, এই ক্যামেরায় তোলা ছবির চেয়েও অনেক পরিষ্কার কাঞ্চনজঙ্ঘা আমি ২০২০ ও ২০২১ সালে নিজের চোখে দেখেছি। ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলা যায়, কিন্তু চোখে দেখা সেই অনুভূতিটা তো আর ক্যামেরায় বোঝানো যায় না।
একটা প্রচলিত কথা আছে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি সাতবার দার্জিলিং যাওয়ার পর কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পেয়েছিলেন। কথাটা সত্যি কি না জানি না, তবে প্রকৃতির সৌন্দর্য যে সব সময় চাইলেই দেখা যায় না, সেটা আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বুঝেছি।
আর আপনারা বলেন, কাঞ্চনজঙ্ঘা স্ক্যাম, ওভাররেটেড!
ভাই, দুই মাস অপেক্ষা করার পর যখন প্রথম পাহাড়টা চোখের সামনে ভেসে ওঠে, তখন বোঝা যায় কেন মানুষ বারবার সেখানে ছুটে যায়।
এক দিন গিয়ে না দেখতে পেলে সেটা প্রকৃতির দোষ না, আর দেখে এসে ভালো না লাগলে সেটাও ব্যক্তিগত ব্যাপার।
কিন্তু নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে একটা জায়গাকে স্ক্যাম বলে দেওয়ার আগে, প্রকৃতিকে একটু সময় দিয়ে দেখুন। কাঞ্চনজঙ্ঘা শুধু দেখার জিনিস না, অপেক্ষা করারও একটা নাম।