₱AKNA ₱∅LA

₱AKNA ₱∅LA �K@Ï¥@ D@Ï¥@ K∅Ñ∅ K@J Ñ@Ï ‡@Ï ₱@mi K∅RÏ�

03/01/2026
ami kisoi jani na..
24/04/2018

ami kisoi jani na..

18/04/2018

আমায় নিয়ে একটা গল্প লিখবেন? (মেয়ে আইডি)

: না।(আমি)

: কেনো।

: সব কিছুর কি কারন থাকতে হয়।

: হ্যা থাকতে হয়। কারণ না বললে কিন্তু,,,,,

: কিন্তু কি?

: সবাইকে বলে দিবো আমাদের রিলেশন ছিলো , কিন্তু এখন সেলিব্রেটি হয়ে অন্য ৫-৭ টা মেয়ের সাথে ডেটিং মারছেন আপনি। এবং আমাকে আর টাইম দেন না। তারপর সব ভাব একদম ফুস করে বেরিয়ে যাবে হুহ।

: কিন্তু আমি তো তেমন টা করি নাই।

: সেটা তো শুধু আপনি আর আমি জানি,,,, সবাইতো আর জানে না।

: আপনি বললেন আর সবাই বিশ্বাস করলো।

: হাহাহা,,,, প্রমাণ দিলে কেনো বিশ্বাস করবে না।

: কিসের প্রমাণ।

: হিহিহি, আপনার নামে একটা আইডি খুলে, সেটা থেকে আমার আইডিতে ইচ্ছে মত মেসেজ দিয়ে স্কিন শর্ট নিয়ে রাখবো,,,, তখন বুঝবেন কত ধানে কত চাল।

: কি ডেন্জারাস, ক্রিমিনাল মেয়েরে বাবা।

: এখনো তো কিছুই শুরু করিনি,,,,, আর হ্যা আপনার পিক দেন এখুনি,,,,,

: পিক দিয়ে কি করবেন।

: না দিলে কিন্তু কালকেই স্কিন শর্ট বের করবো।

: আপনি আমাকে এভাবে ব্লাক মেল করছেন কেনো।

: ১০০ বার করবো। এত ভাব কেন আপনার,,,,,

: উফফ্,,,,, এখন আপনাকে ব্লক দিবো, বায়।

: সেই ভুলটা করবেন না ভুলেও। তাহলে তো সবাইকে বলবো, আপনি আমায় ঠকিয়েছেন,,,, আমার সাথে ফিজিক্যাল রিলেশন করতে চাইছিলেন। আমি রাজি না হওয়ায় ব্রেকআপ করে আমায় ব্লক দিয়েছেন।

: নাইস পাকা টমেটো 😊

: আমি টমেটো নই,,,,,

: আপনাকে কে বলছে।

: তাহলে কাকে বলছেন।

: ওই লাল ইমো গুলারে বলছি,,,,,

: ওহহহ

: এখন বলেন লিখবেন কিনা।

: ওকে বলেন আপনার গল্প।

: অনেক কথা, এত কথা লিখতে পারবো না।

: তাহলে আমি কেমনে জানবো,আপনার গল্প।

: আপনার নাম্বার টা দেন।

: নো ওয়ে,,,,,

: কি,,,,😡

: ওকে দিচ্ছি,,, ০১৫২১******

: কি জঙ্গলী নাম্বার দিলেন।

: ছিঃ, তুমি জানো এটা আমাদের গর্ব, একমাত্র বাংলাদেশী সিম।

: এহ, দেশ প্রেমিক হয়ে আসছেরে,,,,,

: তার চেয়ে বড় কথা, এটা A+ পাওয়ায়, গিফট পাইছি, টেলিটক আগামী।

: এহহ,,, বালের A+ পাইছে, তায় সবাইরে শোনায়। এবাউটে তো বড় বড় করে লিখছে, এখন আবার মেসেজেও বলছে,,, মনে হয় আর কেউ কোন দিন A+ পায় নাই।

: 😒(আমিতো চোদনা হয়ে গেলাম) আপনি এভাবে আমাকে বলতে পারলেন, খুব কষ্ট পেলাম।

: ঢং কত,,,, ঢং বাদ দিয়ে গ্রামীণ নাম্বার দেন। আমার ফোনে ১১৭ মিনিট আছে, রাত ১২ টার পর মেয়াদ শেষ হবে।

: ০১৭৭৩***** এটা

: কল দিচ্ছি, যদি ভুল রঙ নাম্বার দিয়ে থাকেন তবে আপনার ১২ টা বাজাবো।

: আপনি শুধু ডেন্জারাসেই নন, সন্দেহবাদীও।

: হুহ,,,, আমি যা খুশি তাই, আপনাকে কি বলতে বলছি।

: খাইচ্চর

: কি বললেন 😡

: না মানে বললাম, আপনি খুব ভালো মেয়ে।

: আমি ভালো না খারাপ আপনাকে কে বলতে বলছে।

: [সালার, আগে পিছে দুদিকেই মরণ]

: ওকে ভালো থাকেন,,, আমি আপনাকে রাত ১০ টার পর কল দিবো,,,, কল রিসিভ না করলে কিন্তু,,,,,,

: না না, করবো,,, বায়

: বায়,,,,,

উফফ্ বাচলাম। সালার এটা কোন মেয়েরে বাবা,,,, এর সাথে যে প্রেম করবে তারতো মনে হয় ১২ টা বাজিয়েই ছারবে এই মেয়ে,,,,,,। তবে এরকম মেয়েরা একটু আবেগী হয়, যেমন রাগ তেমন একটু কিছু না হতেই কেদে ফেলে। যাই হোক দেখা যাক ১০ টার পর কল দিয়ে কোন কাহিনী করে, আর তার জীবনের কি গল্প বলে,,,,,

রাত ১০:১২ এসাইনমেন্ট রেডি করছি। সোমবার জমা দিতে হবে। মেজাজ টা একটু গরমি বলা চলে। জীবনের ১২ টা বছর বাংলা মিডিয়াম পড়ে এসে হঠাৎ ইংলিশ মিডিয়ামের সাথে কোন ভাবেই পেরে উঠতে পারছি না

তার উপর পুরো এসাইনমেন্ট ইংলিশে লিখতে হবে। মনে মনে অর্থনীতি ডিপার্টমেন্ট এর গুষ্টি উদ্ধার করছি আর লেখার চেষ্টা করছি। হঠাৎ টেবিলকে কাপিয়ে ঘর ঘর শব্দে ফোনটা ভাইব্রেট করে উঠলো। আননোন নাম্বারের কল। মুখটা অন্ধকার করে। কলটা রিসিভ করলাম। একটা মেয়ে কন্ঠ সালাম দিলো.....

: আসসালামু আলাইকুম

: অয়ালাইকুম আসসালাম।

: চিনতে পারছেন?

: জ্বী

: কে আমি বলুনতো।

: ডেন্জারাস মেয়ে।

: কি বললেন?

: না মানে সেই ভদ্র মেয়ে টা। যাকে আমি বিকালে নাম্বার দিয়ে ছিলাম।

: কেমনে বুঝলেন?

: আমার ফোনে আননোন নাম্বার থেকে তেমন একটা কল আসে না।

: পার্ট নিচ্ছেন নাকি।

: পার্ট নিবো কেনো?

: এই যে বলছেন আননোন নাম্বার থেকে কল আসে না। এটা বলে বুঝাতে চাচ্ছেন আপনি খুব ভদ্র মানুষ, কারো সাথে ফোনে কথা বলেন না।

: আমি তো তেমন কাউকে আমার নাম্বার দেই না, আর এটাই সত্য।

: এহহহহ মিচকা শয়তান।

: আমি আবার কি করলাম?

: এসব বলে লাভ নাই। আপনাদের মত কম কথা বলে বোকা সাজার চেষ্টা করা ছেলেদের আমি হারে হারে চিনি। এরা মেয়েদের ইমপ্রেজ করার জন্য একদম নিরীহ সাজে। কিন্তু আমি ইমম্প্রেজ হচ্ছি না।

: মারডালা।

: এই সব ইনসেন্ট সাজার চেষ্টা করা ছেলেরা সুযোগ পেলে যাতা করে ফেলে। এই টাইপের ছেলেরা লোকাল বাসে মেযেদের গায়ে হাত দেয়। এদের বিশ্বাস করা যায় না।

: আপনি এত বেশি বুঝেন কেন?

: আমি বেশি বুঝবো না কম বুঝবো সেটা আমার ব্যাপার আপনাকে নাক গলাতে বলছি নাকি। এহহ আসছে একবারে, আজাইরা লেখক।

: দেখুন আপনি কিন্তু রিতিমত আমাকে অপমান করছেন। আর আমার লেখা আপনার কি সমস্যা করছে হ্যা।

: ওরে বাবা, আপনার সাহস কি বেশি হয়ে গেলো নাকি?

: আপনি আমাকে নিয়ে যা ইচ্ছা বলুন। কিন্তু আমার লেখা কে নিয়ে কিছু বলবেন না। আর আমি কি আপনাকে পড়তে বলছি নাকি। ভালো না লাগলে পড়বেন না।

: ওই এত ভাব দেখান কেন আপনি। আমি ১০০ বার বলবো। পারলে ঠেকান।

: উফফ্ আপনার সাথে আর কথাই বলবো না। যত সব আজাইরা। বায়

: ওই ওই ফোন কাটবেন না বলে দিচ্ছি।

: ফোন কাটলে কি করবেন?

: রাজশাহিতে গিয়ে আপনাকে পিটিয়ে আসবো।

: ওকে তাই করুন। আমি দেখতে চাই আপনি কত বড় মাস্তান।

: আপনিতো আচ্ছা ঝগড়ুটে দেখছি,,,, এর জন্যই আপনার গার্লফ্রেন্ড আপনাকে ছেকা দিছে।

: আমি ঝগড়ুটে???

: তা নয়তো কি,,,,, সেই প্রথম থেকে পায়ে পারা দিয়ে ঝগড়া করে যাচ্ছেন।

: আমি শুরু করছি না, আপনি????

: আপনিই শুরু করছেন।।।। আপনি একটা ঝগড়ুটে।

: মারডালা,,,, ওকে আমি যখন শুরু করছি তখন আমি সরি বলছি। এবার হ্যাপি

: আমি কি আপনাকে সরি বলতে বলছি নাকি।

: আজবতো

: ওই আজবের কি দেখলেন, হুম আজবের কি দেখলেন। একদম মেরে হারগোর ভেঙ্গে দিবো। সরি বলে নিজেকে মহান আর উদার সাজানোর চেষ্টা করছেন না।

: কি মেয়েরে বাপ আগে পিছে যেদিকে যাবো, সেদিকেই দোষ।

: আপনাকে আগে পিছে যেতে বলিনি। যেটার জন্য কল দিছি সেটা শুনুন।

: ওকে বলে আমায় উদ্ধার করুন।

: কি বললেন?

: হাহাহা,,,, বলুন কি বলবেন।

: শুনুন আপনাকে আমার জীবনের গল্পটা বলবো। আপনি সাজিয়ে সুন্দর করে লিখবেন। না হলে আপার ভার্সিটিতে গিয়ে ডিপার্টমেন্ট থেকে খুজে বের করে, পিটিয়ে, হাত পা ভেঙ্গে দিবো।

: ওকে চেষ্টা করবো।

: চেষ্টা না। মনোযোগ দিয়ে সুন্দর করে লিখবেন।

: আপনিতো একটু আগে বললেন আমি লিখতে পারি না। তাহলে এখন সুন্দর করে লিখতে বলছেন কেনো।

: ওই ওই,,, ঝগড়ার কথা টানা কি আপনার স্বভাব নাকি।

: আপনিতো যত অপবাদ প্রথম দিনেই দিলেন। এটা আর বাকি রাখবেন কেনো বলে নিন।

: হিহিহি,,,,, ১০০ বার দিবো। আর শুনুন,,, একদম ছোট বেলা থেকে বলি,,, নাকি

: হুম বলেন।

: জানেন হাসান ভাইয়া। আমারা দু বোন, আর আমি ছোট। আমার বাবার খুব ইচ্ছা ছিলো আমি ছেলে হবো। কিন্তু আমি মেয়ে হয়েই জন্মেছি। তবে আব্বু আমাকে ছেলের মত করেই মানুষ করেছে। এক কথায় যেটাকে বলে টমবয়। কিন্তু আমার আম্মু এটা মোটেও পছন্দ করতেন না।

ক্লাশ ৪ থেকে গাছে চরতাম। সাতার কাটতাম। আর ক্লাশ ৫ এ থেকে সাইকেল চালাতাম। সাইকেল চালিয়েই মূলত তখন স্কুলে যাইতাম। আর ক্লাশ নাইন থেকে বাইক চালাতাম।

আর ইন্টার ১ম বর্ষ থেকে সিগারেট খাইতাম।

: সিগারেট খাইতেন আপনি ?

: এত অবাক হওয়ার কি আছে। মেয়ে বলে কি সিগারেট খেতে পাবে না।

: না না পারবেন পারবেন। আপনি তো টম বয়।

: চুপ!! কথার মধ্য আরেক বার আঙ্গুল চালালে এক দম হাত পা ভেঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি করে দিবো।

: ওকে আর বলবো না।

: আমি বেন্ডে গান করতাম। সব কিছুই ছিলো ছেলে মানুষের মত। এমনকি আমি ছেলে মানুষের চেয়ে মেয়ে মানুষের প্রতি বেশি ক্রাশ খাইতাম। কিন্তু একটা ঝড় এসে আমায় বদলে দিলো বদলে দিলো আমার জীবন ধারাকে।

: কি সেই ঝর?

: ভালোবাসা।

: কোন মেয়েকে ভালোবেসে কি নিজেকে বদলে ফেলছেন।

: চুপ। আমি কি ছেলে নাকি যে মেয়েকে ভালোবাসবো।

: আপনিতো বললেন আপনি মেয়েদের উপর ক্রাশ খান। তাই ভাবলাম.......

: যাই করি না কেনো,,, অভার অল ামমি একটা মেয়েই তো।

: বাহ এত তারা তারি বুঝতে পারলেন?

: এটা এত তারাতারি ছিলো না। এই একটা জিনিস বুঝতে আমার সময় লেগেছে ১২ টা বছর।

: তাই। তাহলে তো প্রথম থেকে শুনতে হয়। বলুন একদম শুরু থেকে।

: যখন ক্লাশ টুতে পরতাম। তখন আমার একটা দোস্ত ছিলো। ওর নাম ছিলো সাগর। আমাদের পাশের বাসায় ভারা থাকতো। ওই ছিলো আমার জীবনের প্রথম ক্রাশ।

: মারডালা। আমিতে টুতে পড়ার সময় পেন্টটাও ঠিক ভাবে পরতে পারতাম না। আর আপনি কিনা ক্রাশ........ মাই গড।

: আসলে আমি একটু বেশি পাকনা ছিলাম। সেই সময় সবাই যকন জিজ্ঞেস করতো মা মনি বড় হয়ে কি হবা। আমি কি বলতাম জানেন?

: কি?

: সাগর কে বিয়ে করবো। সবাই তখন হাহা করে হাসতো। আমার খুব রাগ লাগতো এটা নিয়ে। মাঝে সাগরের আম্মুকেও বলতাম আন্টি আমি কিন্তু সাগরকে বিয়ে করে আমাদের বাড়িতে নিয়ে যাবো। আন্টিও সবার মত হাসতো।

: তারপর?

: কিন্তু ক্লাশ থ্রীতে উঠতেই সাগররা খাগড়াছরি চলে গেলো। ওর বাবার বদলি হয়ে ছিলো। সেদিন খুব কষ্ট হয়ে ছিলো। কারণ সাগর ছিলো আমার অন্যতম খেলার সাথি।

: তারপর।

: এরপর থেকে দীর্ঘদিন আমি বেস্তছিলাম আমার ছেলে মানুষিকতা নিয়ে। আমি ছিলাম আমার পাড়ার মধ্যে অন্যতম হাইলাইট মেয়ে। সুন্দরযে কম ছিলাম তাও না। অলটাইম ছেলেদের ড্রেস পরে ঘুরতাম বলে অনেকে উল্টাপাল্টা কথা বলতো কিন্তু আমি তার কেয়ার করতাম না।

ক্লাশ ৮ এ উঠতে উঠতে এলাকার বেশির ভাগ ছেলেই আমায় প্রপোজ করা শেষ করে ফেলেছিলো। এরি মধ্যে ৫ টা ছেলেকে রাস্তায় থাপ্পড় মেরে ছিলাম।

: বলেন কি? কি করছিলো সেই সব ছেলে?

: ৩ টা ছেলেরে বাজে কমেন্ট করার জন্য আর দুইটারে প্রপোজ করার জন্য।

: আপনিতো ভয়ানক মেয়ে। যদি ওই ছেলেরা আপনার কিছু করে ফেলতো।

: এত বড় সাহস আমার পাড়া এবং এর আসে পাশের কারো নাই। কারণ আবার বাবা মোটামুটি প্রভাবশালী ছিলেন আমাদের এলাকায়।

: ওহহ আচ্ছা।

: আপনাকে ক্লাশ সেভেনের একটা মজার ঘটনা বলি। ওই ছেলেরে তো আমি আমাদের বাসার সামনে সেই মাইর দিসলাম। পরে ছেলের মা আব্বুর কাছে বিচার নিয়ে আসছিলো।

: কেনো কেনো, কি হইছিলো........

: আপনাকে ক্লাশ সেভেনের একটা মজার ঘটনা বলি। ওই ছেলেরে তো আমি আমাদের বাসার সামনে সেই মাইর দিসলাম। পরে ছেলের মা আব্বুর কাছে বিচার নিয়ে আসছিলো।

: কেনো কেনো, কি হইছিলো,,,, কি করছিলেন।

: একদিন সকালে স্কুল বন্ধ ছিলো। আম্মু আমাকে পাশের দোকান থেকে মসুর ডাল আনতে দিছিলো।

: তারপর।

: আমার যেতে ইচ্ছা করছিলোনা। তাই বাসা থেকে বাহিরে বের হয়ে কাউকে খুজছিলাম। হঠাৎ কাওছারের দেখা পেলাম। আমাদের বাসা থেকে একটু দূরেই ওদের বাসা। আমাদের সাথে পড়তো। একটু বোকা টাইপের। তাই আমি ওকে বললাম দোকান থেকে ডাল নিয়ে আসতে। ও টাকা না নিয়েই গেলো ডাল আনতে।

: তারপর

: যখন ডাল আনলো, আমি টাকা দিচ্ছিলাম, কিন্তু ও নিচ্ছিলো না। আমি কারণ জিজ্ঞেস করলাম। আর ও অমনি বললো ও নাকি আমাকে ভালোবাসে,,,,, মেজাজ টা এমন খারাপ হয়ে গেছিলো,,,,, যে ধরে সেই মাইর দিছিলাম।

: হাহাহা,,,,, বখাটে মেয়ে। তারপর কি হইছিলো।

: কাউছার কাদতে কাদতে বাসায় গেছিলো। বিকালে ওর নাকি জর আসছিলো। পরে ওর আম্মু, আব্বুর কাছে বিচার নিয়ে আসছিলো।

: আপনার আব্বু কি বললো।

: আমাকে অন্য ঘরে আটকিয়ে রেখে আব্বু কথা বলছে ওনাদের সাথে। না হলে আবার মাইর খাইতো আমার হাতে।

: পরে শুনি কাউছারের মা নাকি বলছে আপনার মেয়ে এমন গুন্ডা কেন। আমার ছেলেটাকে মেরে কি করছে দেখছেন।

: হাহাহা।

: আর একটা মজার ঘটনা ঘটতো ক্লাশ ৮ এর মাঝা মাঝি সময়।

: কি রকম।

: মে কি জুন মাসের কথা। আমি আর আপু যখন বিকালে ছাদে বসতাম তখন একটা ছেলে ঢিল দিতো।

: কি সাংঘাতিক।

: মাঝে মাঝে ঢিলের সাথে চিঠিও থাকতো।

: চিঠিতে কি লেখা থাকতো।

: কি করছো। কিন্তু কোন নাম লিখা থাকতো না। তারপর একদিন দেখি ছেলেটা ঢিল দিয়ে ওয়ালের পাশে দারিয়ে আছে।

: তারপর।

: আমি ঢিলটা কুরিয়ে নিয়ে একদম ছেলেটার মাথায় সোজা ফেলে দিছি। কিন্তু ঢিলটা গিয়ে ছেলেটার কাধে লাগছে। আর ছেলে ওমাগো বলো, নেড়ি কুত্তা গুলো যেমন মাইর খাওযার পর দৌড়ায় আর পিছনে তাকায় সেই ভাবে পিছনে দেখছিলো আর দৌড়াচ্ছিলো।

: হাহাহা।

: এরপর আর কোন দিন ওই ছেলেরে আমাদের বাড়ির আশে পাশে দেখি নাই। এমনকি যদি বাইরে কোথায় দেখা হতো ছেলেটা মুখ লুকিয়ে পালাতো।

: আপনি তো আসলেই আমার কল্পনার বাহিরে কোন ক্যেরেক্টার। খুব মজাই লাগছে আপনার গল্পটা।

: ওই চুপ,,,,, আমি কি আপনাকে মজা নিতে বলছি।

: হাহাহা।

: এক ঘুষি দিয়ে সব দাত ফেলে দিবো আর একবার হাসলে।

: ওকে আর হাসবো না। তারপর কি হলো বলেন।

: পারার প্রায় সব ছেলেই আমায় প্রপোজ করছিলো। শুধু একটা ছেলে ছারা। ছেলেটা বেশ স্মার্ট আর খুব ভালো ছাত্রছিলো। আমি যখন ৮ম শ্রেনী এ পরতাম তখন ছেলেটা ১০ম শ্রেনীতে পরতো। ছেলেটা খুব ভদ্র ছিলো। কারো সাথেই মিসতো না। খুব কম কথা বলতো, আর ভাব নিয়ে থাকতো।

: আমার মত 😜

: এহহহ,,,, ফালতু কোথাকার,,,, চান্স পাইলেই নিজেকে নিয়ে লাফালাফি করে।

: কি বললেন।

: ওই চুপ। তো আমার আবার এটা নিয়ে খুব ইগোতে লাগতো, কেনো এই ছেলের এত ভাব। তাই আমি আর আমার ভাগনী মিলে ছেলেটাকে প্রতিদিন টিজ করা শুরু করি।

: কি সিরিয়াস মেয়েরে বাপ।

: আমার ভাগনি বলতো, আন্টি দেখো তোমার জানু যাচ্ছে। আর আমি একটা ফ্লাইক কিস দিয়ে বলতাম। আজকের ড্রেসটা অনেক সুন্দর হইছে..... হেব্বি লাগছে....ইত্যাদি।

: তারপর কি হলো......

: প্রথম প্রথম ছেলেটা পাত্তা দিতো না।

: তারপর

: এর কিছুদিন পর দেখি ছেলেটা মুচকি মুচকি হাসে আমায় দেখে।

: তারপর

: ছেলেটার ssc পরীক্ষার পর আমায় প্রপোজ করে।

: আমার সেইদিন খুব ভালো লাগছিলো। কারণ আমি ছেলেটার মুড ভাঙ্গাতে পেরেছিলাম।

: তাপর আপনি রাজি হয়ে গেলেন। আর আপনার প্রেম শুরু হলো। দেন অনেক রোমান্টিক সৃত্মি। দেন ব্রেকআপ।

: চুপ,,,,, এত বেশি বুঝেন কেন। নিজে চেকা খেয়েছেনতো। তাই সবাইকে একই ভাবেন।

: হুহ 😖😖

: আমি ছেলেটাকে রিজেক্ট করে দিলাম

: কি খারাপ

: কারণ আমার তো ছেলেদের ভালই লাগতো না। আমিতো মেয়েদের উপর ক্রাশ খাইতাম।

: কয় কিরে এই মেয়ে।

: আমার মেন্টালিটি ছিলো পুরো ছেলেদের মত। যদিও বা মেয়েদের মত বডি স্টাকচার ছিলো।

: হুহ 😲😲

: যাই হোক অনেক চরাই উতরাই পার করে SSC পাস করলাম। তারপর রাজশাহি মহিলা কলেজে ভর্তি হলাম। পরিবারের চাপে আমার ছেলেমানুষিকতার উপর কন্টোল আসতে শুরু করলো। টি-শার্ট ছেরে বোরখা পরতে হলে। বোরখা দিয়ে নিজের বাহিরের আবরনটা ভদ্র মেয়ের মত বানাতে পারলেও মনটা যেমন তেমনি রয়ে গেলো।

: কুকুরের লেজ হাজার ঘি মাখলেও সোজা হয় না।

: কি এত্ত বড় সাহস। আপনাকে আমি একদম গুলি করে মেরে ফেলবো।

: উচিৎ কথা বললে দোস্ত বেজার

: ওই ওই আপনাকে আমি কি উচিৎ কথা বলতে বলছি। একদম পানিতে চুবাবো।

: সাতার পারি।

: আপনার সাতারের আমি নিকুচি করি।

: আচ্ছা সরি,,, তারপর কি হলো বলেন।

: গান গাবার সখ ছোট থেকেই ছিলো। আর সেই সুযোগটা পেয়ে গেলাম কোচিংয়ের ফাংশনের কারনে। আর যুক্ত হয়ে গেলাম একটা বেন্ডের সাথে। পুরো বেন্ড দলে আমিই একমাত্র মেয়েছিলাম।

: তারপর

: বেন্ডের সবাই সিগারেট খাইতো প্রাক্টিসের সময়। আর আমি তাদের দেখা দেখি সিগারেট টানতে শুরু করি। একটা সময় আমি ফুল সিগারেটে আসক্ত হয়ে গেলাম। দিনে ৮-১০ টা সিগারেট লাগতো।

: মারডালা।

: আমার জীবনের মোরটা এভাবে বদলে যাবে তা কখনো ভাবিনি। কিন্তু এমন কিছুই ঘটলো আমার সাথে। ঝরের মত বিজয় আমার জীবনে আসলো আর সব কিছু লন্ড ভন্ড করে দিলো আমার জীবন।

: কি রকম।

: বিজয় এর সাথে আমার প্রথম দেখা রাজশাহি থেকে জামালপুর যেতে বাসে।

: তারপর প্রেম শুরু?

: আরে ধুর না।

: তাহলে

: প্রথম দিনতো বিজয় আমার আব্বুকে ভাই বলছিলো।

: মানে

: বিজয় আব্বুকে বলছিলো ভাই একটু সরেন ওটা আমার সিট। আমার আব্বু কে দেখলে মনেই হয়না ওনার ছোট মেয়েও কলেজে পরে। একদমি বয়ষ বোঝা যায় না।

: তারপর কি হলো.....

: ওকে প্রথম থেকেই বলছি। আমার আন্টির বাসা জামালপুরে।

: হুম

: কলেজে ২ বর্ষে উঠার পর, একদিন আব্বু আর আমি জামালপুর যাচ্ছিলাম আন্টির বাসায়।

: তারপর

: বাসে আমাদের সিটের পাশের সিটেই বসেছিলো একটা ছেলে, দেখতে বেস স্মার্ট। কানে এয়ারফোন লাগিয়ে গান শুনছিলো।

: তারপর

: তো ছেলেটার হেয়ার কাটটা আমার খুব ভাল লাগছিলো। তাই সেটা মনোযোগ দিয়ে দেখছিলাম। কিন্তু হঠাৎ ছেলেটা আমার দিকে তাকাতেই ধরা খেযে গেলাম।

: তারপর

: জীবনে প্রথম বারের মত বিব্রতকর পরিস্থিতির স্বীকার হলাম আমি,,,, কেমন যেনো লজ্জা লজ্জা লাগছিলো। যদিওবা আমার লজ্জা বলতে কিছু নাই। কারণ লজ্জা থাকে মেয়েদের,,,,,,

: তার মানে আপনি কি মেয়ে না।

: না আমি ছেলে।

: কি

: না মেয়ে,,,, আসলে আমি কনফিউস আমি কি। আমার দেহের গঠন মেয়েদের মত। কিন্তু মনমানুষিকতা একদম ছেলেদের মত।

: OMG এটা আবার কি রকম ব্যাপার।

: আমি জানি না।

: যাই হোক তারপর কি হলো বলেন।

: সেই দিন থেকেই আমার জীবনে একের পর এক কো-এক্সিডেন্ট ঘটা শুরু হলো।

: কি রকম?

: ব্যপার গুলো মেজিকের মত হতে লাগলো।

: বুঝলাম না।

: জামালপুরে আমরা যেই পাড়াতে গেছিলাম ছেলেটাও সেই পাড়াতেই গেছিলো। আমরা তিনদিন ছিলাম সেখানে এবং তিন দিনই ছেলেটার সাথে আমার দেখা হইছে।

: এটা হতেই পারে।

: আরে শুনুন না। তিনদিন পর আমরা যেই গাড়িতে করে বাসায় ফিরছিলাম,,,, সেই গাড়িতে আবার ছেলেটার সাথে দেখা হয়ে গেলো। কেনো জানি এই ছোট ছোট ব্যপার গুলা আমায় খুব ভাবাতে লাগলো। আর আমি অবাক হতে শুরু করলাম।

: আর এটা থেকে আপনি ছেলেটার প্রতি দূর্বল হয়ে পরলেন?

: আরে না। রাজশাহিতে আমাদের বাসাছিলো পদ্মা আবাসিকে। আর সেই পাড়াতেই ছিলো ছেলেটার বাসা। অথচ সেই বাস জার্নি আগে কোন দিন আমি ছেলেটাকে দেখি নাই।

: তারপর

: তো বাসায় আসার পরদিন থেকে,,, প্রতিদিন কমপক্ষে একবার হলেও ছেলেটার সাথে আমার দেখা হতে লাগলো। হয় কলেজে যেতে-আসতে না হয় কোচিং এ যেতে-আসতে। একদিন আমি বানিজ্য মেলায় যাবো বলে কলেজ কোচিং কোথাও যাই নাই।

: তারপর

: আমি ভেছিলাম আজ হযত দেখা হবে না। কিন্তু আজব ব্যপার আমি মেলায় ঢুকার সময় ছেলেটার সাথে দেখা হয়ে গেলো ছেলেটা মেলা থেকে বের হচ্ছিলো। আমি সেইদিন এতটাই শক খেয়েছিলাম যা বলে বোঝাতে পারবো না। আর এভাবে ছেলেটার সম্পর্কে জানার আগ্রহটা বেরে যায় আমার।এভাবে আরো কিছু দিন যাবার পর একদিন রাতে দেখি ছেলেটা আমায় ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট দিয়েছে ফেসবুকে। আর সেদিনি ওর নামটা জানা হলো। ছেলেটার নাম বিজয়।

: হুম বুঝছি তারপর প্রেম হয়ে গেলো তাই না।

: ধুর আপনি কথার মধ্যে এভাবে হেন্ডেল মারবেন না। এমন করলে কিন্তু আপনার হাত পা ভেঙ্গে পাউডার বানিয়ে দিবো।

: হুহ,,,, তারপর কি হলো বলুন।

: তারপর আবার কি কথা হতে শুরু হলো আমাদের। আমি তো ওর প্রতি আগে থেকে কৌতুহলী ছিলাম। তাই খুব বেশিদিন সময় লাগেনি ওর আমাকে কনভেন্স করতে। আমাদের রিলেশনটা শুরু হয়ে গেলো।

: তারপর

: প্রথম প্রথম নিজের কাছেই কেমন যেন লাগতে ছিলো। মনে হচ্ছিলো,,,, আমি কি মেয়ে হয়ে গেলাম নাকি। আর একটা ছেলের সাথে রিলেশন করছি আমি,, ব্যপারটা নিজের কাছেই অদ্ভুত লাগতে শুরু করলো।

: তারপর

: বিজয় ধীরে ধীরে কি ভাবে যেনো আমার সব কিছু বদলে দিতে লাগলো।

: কি রকম।

: প্রথমে ও আমার সিগারেট খাওয়া টা বন্ধ করে দিলো।

: তারপর

: তারপর ধীরে ধীরে আমার মাথায় মেয়ের ভুত চাপাতে শুরু করলো। আমি ধীরে ধীরে আম্মুকে রান্নার কাজে হেল্প করতে শুরু করলাম,,, এবং কিছুদিনেই মুটামুটি রান্না সহ মেয়েদের অনেক কাজই শিক্ষে গেলাম। আসতে আসতে নিজের ভেতরের সুপ্তনারী সত্বা জাগ্রত হতে লাগলো। জানেন এখনো না আমার এসব ভাবলেই অবাক লাগে। আগে কখনো ভাবিনি আমার দ্বারা সাংসারিক কাজ হবে। কিন্তু সেই সময় গুলোতে আমি সংসারের স্বপ্ন দেখতে শুরু করলাম।

: বাহ ভালোই করছে বিজয় ভাইয়া।

: ভালো না ছাই। আমাদের রিলেশনের কয়েক মাস পর আমি জানতে পারলাম বিজয় ছাত্র রাজনীতির সাথে জরিত। তাও আবার ছোট মোট কেউ না,,, বলা যায় পাড়ার ক্যাডার। অনেক মারামারি নাকি করেছে ও। সব সময় নাকি সাথে অস্ত্র নিয়ে ঘোরে।

: তারপর।

: প্রথম দিকে আমি এটা বিশ্বাস করতাম না। তাই একদিন সাহস করে ওকে জিজ্ঞেস করলাম,,,,

: তো কি বললো বিজয় ভাইয়া....

: বিজয়ের সততা দেখে আমি অবাক হলাম। আমার কাছে কিছু না লুকিয়েই সব কিছু শেয়ার করলো। ও হয়তো চাইলে আমার কাছে ব্যপারটা লুকাতে পারতো। কিন্তু তা করলো না ও।

: তারপর

: ও আমাকে এটাও বললো দেখো আমি যদি আজকে তোমাকে সত্য কথা গুলো না বলি তবে তুমি অন্য কারো কাছে কথা গুলো কখনো জানলে,,, আমাকে আর হয়ত বিশ্বাস করতে পারতা না।

: তো আপনি কিছু বললেন না।

: কি আর বলবো? আর বললেও বা কতটুকু মানতো ও।

: মানে কি?

: মানে কিছুই না। ও ওর মত আমি আমার মত।

: তার মানে ব্রেক আপ।

: ব্রেক আপ কেনো হবে। আপনার মাথায় কি ব্রেক আপ ছারা আর কিছু আসে না।

: হাহাহা

: ছেকা খোর কোথাকার। ঘুসি মেরে দাত ভেঙ্গে ফেলবো। নিজের ব্রেকআপ হইছে জন্য এখন সবারি ব্রেকআপ হবে এটা ভাবেন কেন। সবাইকে নিজের মত ভাবেন তাই না।

: আল্লাহ,,,,, এত বড় অপবাদ।

: আমি ওকে মারামারি করতে নিষেধ করলাম। তবে ওবললো ধীরে ধীরে ছেরে দিবে। সব থেকে অবাক করার মত বিষয় কি ছিলো জানেন?

: কি?

: বিজয় আমার থেকে এক ক্লাশ জুনিয়র ছিলেন।

: মারডালা।

: তো ওর খুব ইচ্ছা ছিলো ডিফেন্সের চাকুরী করবে। ওদের পরীবারের অনেকেই নৌবাহিনীতে চাকুরী করে। ওরো তাই করার ইচ্ছা।

: তারপর

: আমি HSC পাস করলাম । ততদিনে ওর বাবা মা সহ সবাই আমাদের রিলেশনের ব্যপারটা জেনে গেছিলো। তবে আমার পরিবারের কেউই জানতো না আমাদের রিলেশনের ব্যেপারটা।

: তারপর।

: ২০১৬ সালটা আমার জীবনের সব থেকে ভালো বছর ছিলো।

: কি রকম?

: সেই বছরেই বিজয়ের নৌবাহিনীতে চাকুরী হয়, মানে ওর স্বপ্ন পুরন হয়। আমারর HSC এর রেজাল্ট টাও ভালো হয়। আর আমি ভার্সিটিতেও চান্স পাই।

: ওহহহ আচ্ছা।

: সেই সাথে ২০১৬ সাল থেকে আমার কষ্টও শুরু হয়। কারণ বিজয়ের সাথে আমার যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

: মানে ব্রেকআপ?

: ধুর,,,,, বিজয় ট্রেনিং এ যায়। আর ট্রেইনিং এর সময় ফোন ব্যবহার করা যায় না। সাপ্তাহে একদিন কল করে তাও ৪-৫ মিনিটের বেশি কথাই বলা হয় না। আমার জীবনটা ওকে মিস কর আর কান্না করতে করতে শেষ হবার উপক্রম।

: আপনি কাদতেও পারেন?

: তো কান্না করা কি শুধু আপনার নামে লেখা আছে?

: তা নেই 😊

: সারাটা দিন নিজেকে বিভিন্ন কাজে, ক্লাশ, ক্যাম্পাস নিয়ে ব্যস্ত রাখি। তবে রাতে যখন রুমে একা থাকি তখন আর নিজেকে সামলাতে পারিনা। ওকে এতটাই মিস করি, যে কখনো কাউকে ভালোবাসেনি তাকে বলে বুঝাতে পারবো না।

: তো এখন কি অবস্থা।

: বিজয়ের ট্রেনিং আরো ৭ মাস হবে। জানি না এই ৭ মাস কি ভাবে যাবে। তবে ওকে মিস করতে করতে আমি শেষ হয়ে যাবো এটা শিওর।

: ব্যপারনা ধর্য্য ধরুন সব ঠিক হয়ে যাবে। দেখতে দেখতে এই ৭ মাসও চলে যাবে।

: কারো অপেক্ষায় কখনো পথ চেয়ে থাকেন নাই, তাই এটা এত সহজ ভাবে বলতে পারলেন।

: যাই হোক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি।

: পড়াশুনা শেষ করা। আর ততদিনে বিজয়ের বিয়ের অনুমতিও হবে। তারপর পারিবারিক ভাবে বিয়ে করা। আর বিয়ের পর আমি একটা চাকুরী নিবো,,,, বিজয়তো ওর চাকুরী নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। তাই টাইম পাসের জন্য হলেও আমি একটা চাকুরী করবো।

: বাহ সুন্দর পরিকল্পনা। বিয়ের সময় দাওয়াত দিয়েন।

: ওকে দিবো। আর আমার জন্য দুআ করিয়েন যেনো আল্লাহ আমাকে এই ৭ মাস ধর্য্য ধারন করার সুযোগ দেয়।

: আমার জন্যই বা কে দুআ করে। নিজের চরকায় তেলদিতে পারি না আবার আপনার।

: কি বললেন?

: না মানে বললাম আমার কাছে দুআ না চেয়ে কোন পীর বাবার কাছে দুআ চান,,,,, হয়ত আপনার ধর্য্য আল্লাহ বারিয়েও দিতে পারে।

: হুহ,,,,, মিনিট প্রায় শেষ না হলে আজ আপনাকে সোজা করে ছেরে দিতাম। যাই হোক ভালো থাকুন আর মাঝে মাঝে আপনাকে বিরক্ত করবো। কিন্তু যদি বিরক্ত হন বা বিরক্তি প্রকাশ করেন তবে ক্যাম্পাসে আপনাকে খুজে বের করে নাক ফাটিয়ে দিবো।

: হুহ,,,, যাই হোক আপনার নামটা যেন কি?

: আমি...... (টুট টুট টুট)

ধুর মনে হয় কলটা কেটে গেলো। তার মানে মেয়ে মিনিট শেষ। আমি কল বেক করতে ধরলাম নাম্বার টাতে, আর তখনি একজন ভদ্র মহিলা বেশ সুন্দর ভাবে বলে উঠলো ,,,, আপনার একাউন্টে যথেষ্ট পরিমাণ টাকা জমা নেই.........

15/04/2018

অনেকটা দৌড়ে দৌড়েই সিড়ি দিয়ে নামলাম।গেইটের তালা খুলতে গিয়ে দেখি আমার হাতে চাবি নেই।ধ্যাত্তেরি!তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে চাবি আনতেই ভুলে গেছি।আসলে যা যত দ্রুত করতে চাই তা করতেই বেশী দেরী হয়।এখন আবার চাবির জন্য চারতলায় উঠতে হবে।একবার সিড়ি দিয়ে উঠতেই আমার জান বের হয়ে যাওয়ার অবস্থা হয় এখন তো দুইবার যেতে হবে।বান্দরনী গুলা চাবির কথা একবার মনে করিয়ে দিলোনা পর্যন্ত।সারাক্ষণ বালক বন্ধু নিয়ে ব্যস্ত তারা।আমার ইচ্ছে করছে ওদের দুইজনের গালে চারটা চড় বসিয়ে দেই।

হারামী গুলা নিজের ফোনের ব্যালেন্স তো শেষ করেছে আবার আমি ঘুমিয়ে পড়ার পর আমার ফোনের ব্যালেন্স ও শেষ করেছে।এই মাত্র আম্মুর সাথে কথা বলার সময় হঠাৎ কল কেটে গেলো।আবার যখন কল দিলাম তখন ও পাশ থেকে জানান দিলো যে আমার ফোনের ব্যালেন্স শেষ,দয়া করে যেন রিচার্জ করি।আমিতো বড়সড় মাপের টাশকি খেলাম।বলে কি?কালকেই তো দেখলাম ছাপ্পান্ন টাকা আছে।অথচ এখন দেখি ব্যালেন্স শূন্য।কোমরে হাত দিয়ে চোখ গরম করে ওদের দিকে তাকালাম।ওদের মুখের দিকে তাকিয়ে আমার আর বুঝতে বাকি রইলোনা।কেউই স্বীকার করেনা।রান্নঘর থেকে এক বাটি শসা হাতে বের হয়ে আকলিমা বললো "আমি ভাই কাউকে ফোন দেই নাই।তোদের দুলাভাই নিজেই আমার ফোনে কল করে"।এবার লামিয়ার দিকে তাকালাম।লামিয়া বললো

-আমি শুধু দুই সেকেন্ড কথা বলছি।লাভ ইউ বলার আগেই বাবুর ফোনের ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলো।আর আমার ফোনেরও ব্যালেন্স ছিলোনা।তাই তোর ফোন থেকে কল করে লাভিউ বলেই কেটে দিয়েছি।তুইতো জানিসই কল কাটার আগে আমার মুখ থেকে লাভিউ না শুনলে বাবুর ঘুম আসেনা

-ন্যাকামী বন্ধ করবি লামিয়া?তোর ফোনে ব্যালেন্স থাকে কোনদিন?তোকে আজ পর্যন্ত কখনোই রিচার্জ করতে দেখিনি।আর দুই সেকেন্ডেই ছাপ্পান্ন টাকা শেষ হয়ে যায়?

- তুই অদিতিকে জিজ্ঞেস কর।দ্যাখ ও কথা বলছে কিনা

- হারামীটা তো নাচতে নাচতে তার গুন্ডা মার্কা বয়ফ্রেন্ড এর সাথে দেখা করতে চলে গেলো।দেখি তোর ফোন দে।আম্মুর সাথে আমার ইম্পর্টেন্ট কথা আছে

-বললাম তো আমার ফোনে ব্যালেন্স নাই।ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স ও নাই।তুই ইমার্জেন্সি নে না।

-নিতে পারলে কি আর বসে থাকতাম?তোরা দুইটা মিলে ইমার্জেন্সি টাও শেষ করছিস।


বাসার সামনের মোবাইল রিচার্জের দোকান টা বন্ধ।শুক্রবার দিন এই সময়টায় সব দোকান বন্ধ থাকাই স্বাভাবিক।সবাই দোকান বন্ধ করে জুমার নামাজ পড়তে যায় এই সময়।তবুও যদি কোন দোকান খোলা থাকে সেই উদ্দেশ্যে একটু সামনে এগুতে থাকলাম।সূর্যের আলোর কারণে আমি ঠিক মতো তাকাতে পারছিলাম না।তাকাতে হচ্ছে কপাল ভাঁজ করে চোখ কুচকে।রোদের উত্তাপ এতোই বেশী যে আমার মনে হচ্ছে এখুনি বুঝি শুকিয়ে শুটকি হয়ে যাবো।

মাঠের ডান পাশেই একটা রিচার্জের দোকান খোলা আছে।দোকানদার লোকটা দোকানের শার্টার বন্ধ করে তালা লাগিয়ে দিচ্ছিলো তখনই আমি দূর থেকে ডেকে বললাম দোকান যাতে বন্ধ না করে।লোকটা খানিকটা অবাক হয়েই আমার দিকে তাকালো।তাকে দেখে মনে হচ্ছে সে বেশ তাড়ায় আছে।মসজিদে গিয়ে নামাজ ধরতে হবে তাকে।সে আসলে দোকানদার লোকটা না,দোকানদার ছেলেটা।তার বয়স পঁচিশ ছাব্বিশ হবে।আমি হাঁপাতে হাঁপাতে বললাম

-আপনার কাছে পঞ্চাশ টাকার জিপি কার্ড আছে?

-জিপি কার্ড সম্ভবত শেষ।আর এখন তো আমাকে মসজিদে যেতে হবে।নইলে জামায়াত ধরতে পারবোনা।

-আমার আর্জেন্ট লাগবে।

-তাহলে নাম্বারে ফ্লেক্সি করে দেই?

আমি আজ পর্যন্ত কখনোই ফোন নাম্বার দিয়ে রিচার্জ করিনা।কারণ এখান থেকে খুব সহজেই নাম্বার চুরি হয়।এখন অবশ্য আশেপাশে কেউ নেই যে নাম্বার বলার সময় শুনে শুনে কিংবা খাতা দেখে চুরি করবে। কিন্তু দোকানদার ছেলেটাকেও বিশ্বাস কিসের?রাত বিরাতে সেওতো ফোন দিয়ে জ্বালাতে পারে।আমি বললাম

-না থাক,আমার কার্ডই লাগবে।

আজ বাসার পাশের সব দোকান খোলা থাকলেও কোথাও কার্ড পেলাম না।একসাথে সব দোকানেরই কার্ড শেষ হয়ে গেলো?এরা কি মেয়েদের ফোন নাম্বার পাওয়ার জন্য ইচ্ছে করেই কার্ড রাখেনা নাকি?খুঁজতে খুঁজতে মাঠের পাশের সেই দোকানটায় এসে অবশেষে পেলাম।কার্ড দেয়ার সময় ছেলেটা একটাবার আমার দিকে তাকালোনা পর্যন্ত।ব্যাপারটা আমার জন্য বেশ অপমানজনক।

বাসার সামনের দোকান গুলোতে কার্ড পাওয়া যায় সম্ভবত কিন্তু আমি পাঁচমিনিট হেঁটে এসে এই ছেলেটার কাছ থেকেই কার্ড নেই।সাধারণত রিচার্জের দোকানদার গুলোর চেহারা খুব একটা সুন্দর হয়না কিন্তু এই ছেলেটার চেহারায় কেমন জানি মায়া আছে।গায়ের রং শ্যামলা যাকে বলে মিষ্টি রং।ছেলেটা আমার দিকে একবারের বেশী তাকায় না কেন এটা আমার কাছে অনেক বড় একটা রহস্য!নাকি সে কোন মেয়ের দিকেই তাকায়না?বান্ধবীদেরকে দিয়ে পরীক্ষা করতে হবে একে।এখনকার দিনে এতো ভালো ছেলে আছে নাকি?আর রিচার্জের দোকানের ছেলেগুলোতো মেয়েদের দেখলেই তাকিয়ে থাকে।কিন্তু এই ছেলে ব্যাতিক্রম।

পরীক্ষার ফল পেলাম।এই ছেলে কোন মেয়ের দিকেই একবারের বেশী তাকায়না।হ্যাঁ হুঁ ছাড়া কথাও বলেনা।যদি জিজ্ঞেস করি "বিশ টাকার জিপি কার্ড আছে" সে আছে বা নাই বলবে।মাঝে মাঝে সেটাও বলেনা।থাকলে ড্রয়ার থেকে কার্ড বের করে দেয় আর না থাকলে মাথা নেড়ে জানায় যে কার্ড নেই।

আমি একটা জিনিস কিছুতেই বুঝলাম না।এই ছেলে আমার দিকে তাকায় না কেন? মাঠের সামনে দিয়ে যাওয়া আসার সময় অন্যান্য পোলাপাইন কত কথা বলে সেগুলো কানেই তুলিনা অথচ এই ছেলে কিছু বলেনা বা তাকায়না দেখে আমার কাছে কেমন জানি লাগছে।সে আমার দিকে তাকাতেই হবে এবং আমার সাথে কথা বলতেই হবে এইটা আমার কাছে কেন জানি বাধ্যতামূলক মনে হচ্ছে।আমার প্রতি তার কোন ইন্টারেস্ট নেই দেখে তার প্রতি আমার ইন্টারেস্ট বেড়ে গেলো।এইটা নারী চরিত্রের অন্যতম একটা বৈশিষ্ট্য।

ছেলেটাকে নিয়ে কেন জানি ভাবতে লাগলাম।কোন ছেলেকে নিয়ে কখনো মনের মধ্যে এরকম ভাবনা আসবে তা ভাবতেও পারিনি।কত সুন্দর,স্মার্ট,ধনী বাবার ছেলেইতো পিছু পিছু ঘুরছে, প্রপোজ করছে।তাদেরকে নিয়ে তো কখনো ভাবিনি।কি সুন্দর সাবলীল ভঙ্গিতে না বলে দিয়েছি তাদেরকে।

অথচ এই ছেলের প্রতি আমার আগ্রহের সীমা নেই।আমার প্রতি তার আগ্রহ নেই বলেই কি তার প্রতি আমার আগ্রহ বাড়ছে?প্রকৃতির এ কোন নিয়ম?তার নাম কি,কতদূর পড়াশোনা করেছে,বয়স কত,এসব জানার জন্য আমার প্রচুর আগ্রহ।আমি যে তার দোকানে প্রায়ই যাই আমার প্রতি কি তারও কোন আগ্রহ তৈরী হয়েছে?হয়তোবা হয়েছে কিন্তু প্রকাশ করতে পারছেনা।সেও নিশ্চয়ই আমার সম্পর্কে জানতে চাচ্ছে।আমার সম্পর্কে তাকে জানাতে হবে।কিন্তু নিজে থেকে গিয়েতো আর হুটহাট বলে ফেললে হয়না।কিভাবে জানাবো?হ্যাঁ!কিছুদিন আগেই তার দোকানে কম্পিউটার আর প্রিন্টার দেখলাম।সিভি বানানোর নাম দিয়ে তাকে আমার সম্পর্কে সব জানাতে হবে।

তাই করলাম।আমার নাম তাকে দুবার বলতে হয়েছে।একবার বলার পর সে বললো "কি নাম বললেন?" আমি বললাম "সায়ামী জান্নাত"।কাউকে আমার নাম দুবার বলা এইটা নতুন কিছুনা কারণ একবার বললে কেউ বুঝেনা।দ্বিতীয় বার বলার পরে বেশ অবাকই হয় কারণ আমার নামটা একেবারেই আনকমন নাম।আমি আমার নাম ছাড়া আর কোথাও শুনিনি এই নাম।সায়ামী নামের অর্থ কি তাও জানিনা আমি।অনেকদিন অর্থ দেখবো দেখবো করে আলসেমী করে আর দেখাই হলোনা।আমার বন্ধুরা আমাকে চেতানোর জন্য "সোয়ামী " বলে ডাকে আমাকে।আমার আরও অনেক কিছুই বলতে ইচ্ছে করছিলো যেমন আমার হাইট পাঁচ দশমিক তিন,আমরা দুই ভাই এক বোন,আমার বাবার বিশাল বড় চাল ডালের ব্যবসা ইত্যাদি।কিন্তু এইসব সিভিতে লাগবেনা বলে বাড়তি কিছুই বলতে পারিনি।

আমি ফেইসবুকে খুব একটা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট চেক করিনা।কিন্তু ওকে আমার নাম বলার পর থেকে ডেইলি চেক করি নতুন কেউ রিকোয়েস্ট দিয়েছে কিনা আর তার প্রোফাইলে ওর ছবি কিনা।কিন্তু বারবার হতাশ হই।

রাতে ওদের কথা বলা দেখলে আমারও ইচ্ছে জাগতো ওর সাথে কথা বলার।কোনভাবে এর কাছ থেকে তার ফোন নাম্বার টা নেয়া যেতো যদি?তার টা নেয়া সম্ভব না।আমার টাতো তাকে দিতে পারি।আমি ওর সামনে গিয়ে দাড়ালাম।আমি বলার আগেই ও ড্রয়ার খুলতে নিচ্ছিলো তখনই আমি বললাম "লোড নিবো,নাম্বার লিখুন আপনি"।যাক!নাম্বার টা দিয়ে আসলাম।আমার প্রতি যদি তার মায়া থাকে তাহলে সে নিশ্চয়ই ফোন করবে।এতোদিন ধরে তার দোকানে যাই নিশ্চয়ই আমার প্রতি তার একটু হলেও ভালোলাগা তৈরী হয়েছে ।আর তার প্রতি আমার ভালোলাগা দিনদিন সমানুপাতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।আচ্ছা আমার প্রতি তার ভালোলাগা তৈরী হোক এটা কেন চাচ্ছি আমি?আমি কি তার প্রেমে পড়েছি?এই বিষয়টাকেই কি প্রেমে পড়া বলে?

আমি প্রতিদিন তার দোকানে যাই আর দশটাকা করে রিচার্জ করি।সে কখনো বলেনা "ডেইলি দশ টাকা করে নেয়ার কি দরকার?একসাথে অনেকটাকা রিচার্জ করলেইতো পারেন।" তাকে এতোবার আমার নাম্বার বলেছি যে তার নিশ্চয়ই মুখস্থ হয়ে গিয়েছে এতোদিনে।আজকে নাম্বার বলার সময় প্রথম দুইটা ডিজিট বলতেই ও আমাকে থামিয়ে দিলো।বললো "লোড শেষ,আপনি কার্ড নিয়ে যান"।আমি বুঝলাম না ও হঠাৎ থামিয়ে দিলো কেন আমাকে?পাশে দাড়ানো ছেলেটাকি আমার নাম্বার নিচ্ছিলো আর এটা ও চায়নি বলেই কার্ড দিলো আমাকে?কিজানি।

আজকে দোকানে যাওয়ার পর আমি কি মনে করে যেন বলেই ফেললাম "আচ্ছা আপনি আপনার ফোন নাম্বার টা আমাকে দিন।আমার যদি কখনো রিচার্জ করার দরকার হয় তাহলে আমি আপনাকে ফোন করে জানাবো।ডেইলি ডেইলি আর আসতে পারবোনা আর তাছাড়া রাত বেশী হয়ে গেলেওতো আসা পসিবল না।আপনাকে কল দিলেই আপনি আমার নাম্বারে টাকা পাঠিয়ে দিবেন।"

বাসায় এসে ওর নাম্বার পাওয়ার আনন্দের সংবাদ টা ওদের তিনজনকে দেয়ার পর তিনজনই আমাকে গাধী বললো।বললো এতো ঘন ঘন যে রিচার্জ করি ও তো ভাববে যে আমার বয়ফ্রেন্ড আছে আর তার সাথে কথা বলার জন্যই আমি এতো বেশী রিচার্জ করি।কথাটা মন্দ বলেনি।

আমি সবসময় ওর ফোন বা মেসেজের অপেক্ষা করতাম।অথচ কখনোই ফোন আসতোনা।মাঝে মাঝে ফোন বেজে উঠলে কত আশা নিয়ে দৌড়ে যাই কিন্তু পরে দেখি গ্রামীণফোন থেকে আমাকে গান শোনানোর জন্যই ফোন দিয়েছে।আমার প্রতি জিপির এমন ভালোবাসা দেখে মাঝেমধ্যে ইচ্ছে হয় জিপির সাথেই প্রেম করি।না চাইতেই সারাদিন কত সুন্দর সুন্দর মেসেজ পাঠায়।

সেদিন দেখলাম নায়লা নাইমের সাথে দেখা করার সুবর্ণ সুযোগের মেসেজ পাঠিয়েছে।আমি মেয়ে মানুষ বলে এই সুবর্ণ সুযোগটা কাজে লাগাতে পারলাম না।রিংটোনের আওয়াজ শুনে ভাবি ও বুঝে ফোন করেছে কিন্তু শেষে নিরাশ হই।ওর নাম্বারের জন্য আলাদা রিংটোন সেট করলাম যাতে বুঝতে পারি এইবার সত্যি সত্যিই ও ফোন করেছে।কিন্তু ফোন করার নাম গন্ধও নেই।আমি মাঝে মাঝে রিচার্জের জন্য ফোন দিলে সে হ্যালো বলে কত টাকা দিতে হবে তা জানতে চায় এর বেশী কিছুই বলেনা।কিজানি,ওর মনে হয়তো সেরকম কিছুই নেই।

বৈশাখের এক তারিখ।বিকেল বেলা শাড়ি পড়ে আমরা চারজনই ঘুরতে বের হলাম।আমাদের মধ্যে নিয়ম আছে যে জন্ম দিবস ,মৃত্যু দিবস, ভালোবাসা দিবস,পহেলা বৈশাখ,শহীদ দিবস,স্বাধীনতা দিবস,এইডস দিবস ,শিশু দিবস ,হ্যান দিবস ত্যান দিবস যতো দিবস আছে এই দিবসগুলোতে কেউই কারও বয়ফ্রেন্ড এর সাথে দেখা বা ঘন্টার পর ঘন্টা ফোনালাপ করতে পারবেনা।দিবসগুলো আমরা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে উদযাপন করবো।নইলে দেখা যাবে দুইজন দুইদিকে চলে যাবে ,একজন সারাদিন কানের সাথে ফোন ধরে রাখবে আর আমি বলদের মতো বসে থাকবো।তা হয় নাকি?

সন্ধ্যার একটু পরে বাসায় ফেরার পথে দেখি মাঠে ছোট খাটো কনসার্টের মতো হচ্ছে।ওর দোকানে বসার জন্য চেয়ার বা বেঞ্চ কিছুই নেই।অনেক্ষণ দাড়িয়ে থাকতে দেখে পাশের দোকান থেকে চেয়ার এনে বসার ব্যবস্থা করে দিলো।ওদের তিনজনের দায়িত্ব হলো ও আমার দিকে কয়বার তাকায় আর কতক্ষণ তাকায় তা গুনে দেখা।আমি ঠিক করেছি ওর দিকে তাকাবোনা।কিন্তু কালো শার্টে ওকে এতো ভালো লাগছে যে না তাকিয়েও পারছিনা।মাঝে মাঝে মনে হয় যেন ও আমার দিকে তাকিয়ে আছে ,তখন ঘুরে ওর দিকে তাকালেই দেখি যে ও সামনের দিকে তাকিয়ে বাচ্চা মেয়েদের নাচ দেখছে।ওরা তিনজন ওকে শুনিয়ে এখন আমাকে নিয়ে কথা বলছে।কথায় কথায় ওকে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে আমি এখনো সিংগেল,বেশ ভালো রান্না করতে পারি,ভালো ছবিও আঁকতে পারি,বউ হিসেবে আমার মতো আর দ্বিতীয় মেয়ে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।এ সমস্ত কথা ওর কানে যাচ্ছে কিনা কে জানে?

রাত নয়টার দিকে বাসায় ফিরলাম।সারাদিন বাইরে ঘুরঘুর করে চরম মাত্রায় ক্লান্তি লাগছে।বাসায় ফিরেই বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম।অন্যান্য বিশেষ দিনে আমি সারারাত ওর ফোনের অপেক্ষা করতাম।ভালোবাসা দিবসের সময়তো ধরেই নিয়েছিলাম যে ও আমাকে ফোন করে উইশ করবে কিন্তু করেনি।ওর প্রতি আমার অনুভূতি গুলো ও কি বুঝতে পারেনা?এতোটাই অবুঝ ও!আজকে আর সেইরকম কোন আশাই রাখলাম না।সব আশা বাদ দিলাম আমি।ঘুম লেগে আসছে চোখে তখন মনে হলো ফোন বাজছে।এটা নতুন কিছুনা,ওর ফোনের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে সারাদিন আমার ফোনের রিংটোনটা আমার কানে বাজতে থাকে।এটাও হয়তো আমার বিভ্রম।তাই আর উঠে গেলাম না।চিন্তা করলাম ওকে নিয়ে আর ভাববোনা।যা হওয়ার নয় তা নিয়ে ভাবার কি দরকার টা কি?আমি ওকে নিয়ে এতো ভাবি,এতো কল্পনা করি অথচ তার কোন হেলদোল নেই।শুধু শুধুই এয়ারপোর্টে দাড়িয়ে জাহাজের অপেক্ষা করছি।সব জল্পনা কল্পনা মুছে ফেলতে হবে।

আমি ঘুমিয়ে পড়েছি ভেবে অদিতি ফোনটা রিসিভ করলো।রিসিভ করে কথা বলেই উত্তেজিত হয়ে চিৎকার করে আমার হাত ধরে হেচকা টান দিয়ে উঠে বসালো।আমি তো ভয় পেয়ে গেলাম।কে ফোন করেছে?বাড়ি থেকে নয়তো?কারও বিপদ হয়নিতো।অদিতি গিয়ে আকলিমা আর লামিয়াকেও ডাকলো।তারপর তিনজনকে বারান্দার দিকে যেতে দেখলাম।আমি তখনো ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে বসে আছি।বারান্দা থেকে তিনজনই হাসি মুখে ফিরে এসেছে ।আমাকে জিজ্ঞেস করলো

-তোর পার্স কই?

আসলেই তো!আমার পার্স কই?বাসায় আসার সময় হাতে কেবল মোবাইলটাই ছিলো।আমি বললাম

-পার্স কই ?আমি তো জানিনা।কোথায় ফেলে আসছি?ও শীট!আমার টাকা,আইডি কার্ড সব ওটার ভেতরে।এখন কোথায় পাবো?

আমার কথা শুনে ওরা একে অন্যের দিকে তাকিয়ে মুখ টিপে হাসছে।এরা আসলেই হারামী।আমার পার্স হারানোটা এদের কাছে এতো আনন্দের বিষয় হয়ে গেলো?তিনজন মিলে আমাকে টেনেটুনে বারান্দায় এসে দাড় করালো।তার মানে এতক্ষণ যা দেখছি সবই স্বপ্ন?নইলে ও আমার বাসার সামনে আমার পার্স হাতে দাড়িয়ে থাকবে এটাতো সম্ভব না।শয়তানটাকে মন থেকে মুছে ফেলতে চাইছি আর সে কিনা স্বপ্নে এসেও হানা দিচ্ছে।ধুরর,ঘুমুবোইনা আর।আকলিমা আমাকে ধাক্কা দিয়ে বললো "কিরে,নিচে গিয়ে পার্স টা নিয়ে আয়"।

ধাক্কা খেয়ে আমার হুঁশ এলো।তার মানে এটা স্বপ্ন নয়!আমি ওর দোকানেই পার্স ফেলে এসেছি আর সেইটা দিতেই আমার বাসার সামনে এসেছে।তারমানে ওইসময় ও সত্যি সত্যিই ফোন করেছে।তাড়াহুড়ো করে অদিতির গলায় ঝুলানো ওড়না টান দিয়ে কোনমতে গায়ে জড়িয়ে দৌড় দিলাম।লামিয়া পেছন পেছন চাবি নিয়ে নামছিলো।হাঁপাতে হাঁপাতে ওর সামনে গিয়ে দাড়ালাম।ও আমার হাতে পার্সটা দিয়ে বললো"ভালো করে দেখবেন সব ঠিক ঠাক মতো আছে কিনা?আমি এখন আসি"।ওকে এভাবে আসতে দেখে আমি এতোটাই অবাক হয়েছি যে ওকে ধন্যবাদ দিতেও ভুলে গেছি।আমার হয়ে লামিয়াই ওকে ধন্যবাদ দিলো।

বাসায় ফিরে আমি পার্স হাতে বসে রইলাম।আমার মাথায় কিছুতেই আসছিলোনা যে ও এতো রাতে কেন আসলো?কালকে সকালেওতো পার্সটা দিতে পারতো।ওরা আমাকে বললো পার্স খুলে সব আছে কিনা দেখার জন্য কিন্তু আমি কোন প্রয়োজন মনে করলাম না।পার্সটা বুকে জড়িয়ে শুয়ে পড়লাম।

এরপর থেকে ওর দোকানে যতোবার যেতাম ও আমার দিকে কেমন যেন উৎসুক দৃষ্টিতে তাকাতো।মনে হতো যেন ও আমার কাছ থেকে কিছু একটা জানতে চাচ্ছে।আমি ঠিক বিষয়টা বুঝে উঠতে পারলাম না।হঠাৎ করে তার এমন পরিবর্তন কেন?সে আমার কাছে কি জানতে চায়?যা জানার জিজ্ঞেস করলেইতো পারে।একদিন বলেও ফেলেছিলাম "কিছু বলবেন?" সে বললো "জিনা"।

আমার পার্সটা খুঁজে পাচ্ছিনা।পাশের রুম থেকে ওরা তিনজন দৌড়ে এসে আমার দিকে চোখ গরম করে তাকিয়ে আছে।আমি কিছুই বুঝলাম না।এরা আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছে কেন?এইদিকে আমি পার্স খুঁজে পাচ্ছি না । পার্সের টেনশনে আমি শেষ। আকলিমা বললো

-সায়ামীর বাচ্চা সোয়ামী,তুই এতো খারাপ এইটা ভাবতে পারিনাই

-মানে?কি বলিস এইসব?

অদিতি আমার দিকে তেড়ে এসে বললো

-আমাদেরকে জানালে কি হতো?আমরা কি তোর ফ্লেক্সিওয়ালার দোকান থেকে টাকা না দিয়েই রিচার্জ করতাম?

-আমার ফ্লেক্সিওয়ালা মানে?

-চিরকুট আদান প্রদান করে প্রেম করো। তলে তলে এতোদূর আর আমরা কিছুই জানিনা।

-কিসের প্রেম?কিসের চিরকুট?

এরা এসব কি বলছে?কার সাথে চিরকুট আদান প্রদান করছি?আমি আমার পার্সের টেনশনে বাঁচিনা আর এরা কিনা!লামিয়া বললো

-চিরকুট মানে বুঝোনা তুমি?এইটা কি?এইটা আমাদেরকে দেখালো কি হতো?

এতক্ষণ লামিয়ার হাতের দিকে আমার নজর পড়লো।ওর এক হাতে আমার পার্স আর এক হাতে নীল রঙের একটা ছোট্ট কাগজ।পার্সটা দেখে যতোটা শান্তি লাগছে চিরকুটটা দেখে ততোটাই অবাক হচ্ছি।

-এটা আমার পার্সে ছিলো?কি লেখা আছে এতে?

-ঢং করবিনা বলে দিচ্ছি

-আমি সত্যিই জানিনা।আমিতো এটা দেখিইনাই

-আসলেই দেখিস নাই?

-খোদার কসম।আমি দেখিনাই।

"শাড়িতে আপনাকে অনেক বেশী সুন্দর লাগে তা কি আপনি জানেন?চোখে চোখ পড়ার ভয়ে আমি আপনার দিকে ঠিক মতো তাকাতে পারিনা।আপনি কি এটা জানেন আপনিই সেই মেয়েটা যাকে আমি এতোদিন মনে মনে খুঁজছি?

সিফাত"

চিরকুটটাতে এইটুকুই লেখা ছিলো।সিফাত ছেলেটা কে?দোকানদার ছেলেটা নয়তো?আমি সিওর হতে পারছিনা কিছুতেই।ওরা তিনজন হান্ড্রেড পার্সেন্ট সিওর যে ওই ছেলেটাই সিফাত।একটা কাজ করা যায়।ছেলেটাকে একটা কল করে তার নাম জিজ্ঞেস করা যায়।এতো রাতে তাকে ফোন দিয়ে নাম জিজ্ঞেস করাটা কি ঠিক হবে?সে কি ভাববে?তার নাম যদি সিফাত না হয় তাহলে?অনেক ভেবেচিন্তে একটা বুদ্ধি বের করলাম সবাই।সরাসরি নাম জিজ্ঞেস করলে সে নাও বলতে পারে তাই একটু পেঁচিয়ে বলতে হবে।আমি কথা বললে ছেলেটা চিনে ফেলতে পারে তাই অদিতি ওর নাম্বার থেকে কল দিলো। ছেলেটা কি বলে সেটা সবাই শোনার জন্য লাউডস্পিকার অন করে আমরা সবাই আগ্রহ নিয়ে বসে আছি।শেষ মুহুর্তে ছেলেটা কল রিসিভ করলো।অদিতি বললো

-হ্যালো সিফাত বলছেন?

-জি বলছি।আপনি কে বলছেন?

-আমি আপনার শালী

এতটুকু বলেই অদিতি কল কেটে দিলো।আমাকে ঘিরেই তিনজন হৈচৈ করে নাচা শুরু করলো।খুশিতে আমার চোখ ভিজে এলো।আমি আরও কয়েকবার চিরকুটটা পড়ে দেখলাম।কেন জানি বিশ্বাস হচ্ছিলোনা।কখন দিলো এই চিঠিটা?সেদিন পার্সের ভেতর রেখে দিয়েছিলো মনে হয় ।এতোবার পার্স টা খুললাম অথচ একবারও দেখলাম না কেন?ওরা আমাকে বললো এবার আমার নাম্বার থেকে ফোন দিতে কিন্তু আমি কল দেইনি।চিরকুটের জবাব চিরকুটেই জানাবো।আকলিমা বললো "এবার আর ট্রিট মিস হবেনা।

বেশী কিছু করতে হবেনা খালি আমাদের সবার ফোনে একশো করে রিচার্জ করে দিতে বলবি"।ওর সাথে তাল মিলিয়ে অদিতি বললো "যাক বাবা,আমাদের আর চিন্তা কি?দুলাভাইয়ের দোকান থেকে ফ্রিতে রিচার্জ করবো"।আমি বললাম "আমি ওকে নিষেধ করবো ও যেন আর রিচার্জের দোকান না চালায়।নইলে তোরা দুইদিনেই তার ব্যবসার লাল বাত্তি জ্বালাবি।তোদের না হয় লজ্জা নেই কিন্তু তার তো আছে।বেচারা লজ্জায় পড়ে না ও করতে পারবেনা।" আমার কথা শুনে তিনজনই টাশকি খেয়ে তাকালো।লামিয়া চিৎকার করে বললো "চিন্তা কর অবস্থা টা।এখন থেকেই সে তার জামাইয়ের ব্যবসার উন্নতির কথা ভাবছে?জামাই পেয়েই আমাদেরকে পাত্তাও দিচ্ছেনা?জামাই বউ দুইজনেই কিপটা।তার রিচার্জের দোকান আছে সে চাইলে সারারাত সারাদিন ফোনে কথা বলতে পারে।সে চিরকুট পাঠালো?আর আমাদের সায়ামী আপাও বসে গেলেন চিঠি লিখতে।"

আমি চিরকুট লিখতে বসলাম।কলম কামড়ে বসে আছি। কি লিখবো ভেবেই পাচ্ছিলাম না।শেষে লিখলাম

"না জানালে জানবো কি করে?আমার তো আর অলৌকিক ক্ষমতা নেই।কিংবা আমি সাধু সন্ন্যাসী ও না যে চোখ বন্ধ করলেই সব দেখবো আর মনের কথা বুঝতে পারবো।

সায়ামী"

অদিতিকে দিয়ে চিরকুট টা পাঠালাম।বিনিময়ে ওকে দশটাকা দিতে হবে।এই ডিজিটাল যুগে দশটাকার বিনিময়ে ওরা তিনজনই পিয়নের দায়িত্ব পালন করতে রাজী হয়েছে।এক একদিন একেকজন যাবে আর তাকে আমি দশটাকা করে দিতে হবে।প্রথম কয়দিন দিবো এরপর বাদ।অদিতি আসার সময় আরেকটা চিরকুট নিয়ে আসলো।তাতে লেখা

"মনের কথা বুঝতে হলে অলৌকিক ক্ষমতা থাকা লাগেনা।বুঝে নিতে হয়।আপনি কি আমাকে বলেছেন আপনার মনের কথা?আমি তো ঠিকই বুঝে নিয়েছি।"

"হুম বুঝলাম আপনি অনেক কিছুই বুঝেন।তবে একটু দেরীতে বুঝলেন এই হলো সমস্যা।আর একটু দেরী করলেই তো ট্রেন মিস করতেন।"

"হাহাহা।আমি এতোটাও বোকা না।সময় বুঝেই সব কিছু করি।আমি এও জানি আপনি আমাকে মনে মনে গাধা গরু ভেবেছেন।এখন বুঝতে পারছেনতো কে গাধী?"

"আপনি আমাকে গাধী বললেন?আমি রাগ করেছি।আরও একটা কারণ আছে রাগ করার।আপনি আমাকে এখনো আপনি করে বলছেন।এরপরের বার আপনি করে বললে আমি কিন্তু আপনাকে ভাইয়া ডাকবো বলে দিলাম।"
এভাবেই আমাদের কথা হতো।ডেইলি একটা করে এইরকম ছোট ছোট চিরকুট দিতাম আমরা।এক চিরকুট যে কয়বার করে পড়েছি তার হিসেব নেই।কখন চিরকুট হাতে পাবো ,তাতে কি লেখা আছে এটা জানার জন্য অস্থির হয়ে থাকতাম সারাদিন।প্রতিদিন যদিও দেখা হতো তবুও কোন কথা বলতাম না সামনাসামনি।কেবল একে অপরের চোখের দিকে তাকিয়ে একটু করে হাসতাম।আজকে আমাদের দেখা করার দিন।আমি জানিনা সামনাসামনি আমি ওর সাথে কি কথা বলবো!বুকের ভেতরটা কেমন জানি ঢিপ ঢিপ করছে।ভয়ে নাকি চিন্তায় বুঝতে পারছিনা।আজিব!ওকে আমি ভয় পাবো কেন?আমি ওকে বিশ্বাস করি।ও আমার জন্য অপেক্ষা করছে।আমি আসছি।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ₱AKNA ₱∅LA posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category