03/06/2026
❤️❤️গরমের দুপুরে স্কুলের সেই ভালোবাসা❤️❤️
জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রচণ্ড গরম। দুপুরের রোদে স্কুলের মাঠ যেন আগুনের মতো ঝলসে উঠছে। ক্লাস শেষ হওয়ার ঘণ্টা বাজতেই ছাত্রছাত্রীরা আনন্দে বাড়ির পথে বেরিয়ে পড়ল। চারদিকে গরম হাওয়া, কিন্তু মনটা ছিল অদ্ভুতভাবে আনন্দে ভরা।
ঋত্বিক আর মেঘলা একই স্কুলে পড়ত। দু’জনেই একাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রী। বন্ধুত্বের শুরুটা অনেক আগেই হলেও, গত কয়েক মাসে তাদের সম্পর্কটা যেন একটু অন্যরকম হয়ে উঠেছিল।
সেদিন স্কুল ছুটির পর দু’জনে একসঙ্গে বাড়ি ফিরছিল। স্কুল ড্রেসে, কাঁধে ব্যাগ আর হাতে পানির বোতল। রাস্তার দু’পাশে আম আর কাঁঠাল গাছের সারি। গরমে সবাই দ্রুত বাড়ি ফিরছিল, কিন্তু তাদের যেন তাড়া ছিল না।
মেঘলা হাসতে হাসতে বলল,
“আজকের অঙ্ক পরীক্ষাটা কেমন হলো?”
ঋত্বিক মাথা নেড়ে বলল,
“অঙ্ক ঠিক ছিল, কিন্তু তোমাকে বারবার দেখছিলাম বলে কয়েকটা প্রশ্নে সময় নষ্ট হয়ে গেছে!”
মেঘলা হেসে ফেলল।
“তুমি না, একদম পাগল!”
কিছুদূর এগিয়ে তারা একটা বড় বটগাছের নিচে দাঁড়াল। গাছের ছায়ায় একটু স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছিল। কাছেই একজন কাকু ঠান্ডা লেবুর শরবত বিক্রি করছিলেন।
ঋত্বিক দু’গ্লাস শরবত কিনে একটা মেঘলার হাতে দিল।
“ধন্যবাদ,” মেঘলা বলল।
“ধন্যবাদ নয়, বন্ধুত্বের নিয়ম,” ঋত্বিক মুচকি হেসে উত্তর দিল।
গরম হাওয়ার মাঝেও তাদের কথাবার্তায় একটা মিষ্টি শীতলতা ছিল। স্কুলের গল্প, ভবিষ্যতের স্বপ্ন আর ছোট ছোট হাসির মুহূর্তে সময় কেটে যাচ্ছিল।
বাড়ির মোড় এসে গেলে মেঘলা থেমে গেল।
“আচ্ছা, কাল দেখা হবে।”
ঋত্বিক একটু চুপ করে থেকে বলল,
“হ্যাঁ... তবে কাল যেন তাড়াতাড়ি আসে।”
মেঘলা মৃদু হেসে চলে গেল। ঋত্বিক তাকিয়ে রইল, যতক্ষণ না সে চোখের আড়াল হয়ে যায়।
গরমের সেই সাধারণ স্কুল-ছুটির দুপুরটা তাদের কাছে অসাধারণ হয়ে রইল। কারণ সেই দিন দু’জনেই বুঝেছিল, বন্ধুত্বের আড়ালে একটা সুন্দর অনুভূতি ধীরে ধীরে জন্ম নিচ্ছে।
👉 Please like comment and Follow 🙏