ShebikAmit

Call Website Contact the business

ShebikAmit Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from ShebikAmit, Dhaka.

🥰 একটি সুন্দর, মেধাবী ও মানবিক জেনারেশন তৈরি হোক এটাই আমার স্বপ্ন ও লক্ষ্য।👨‍👩‍👧প্যারেন্টিং টিপস, মা ও শিশু বিষয়ক সকল তথ্য পেয়ে যাবেন এখানে। ভালোবাসা ও সচেতনতার মাধ্যমে একটি সুন্দর আগামী গড়ে তুলতেই আমাদের এই পথচলা।
ধন্যবাদ ও ভালোবাসা ❤️

প্রাপ্তবয়স্কদের ADHD নির্ণয় কেন অনেক সময় দেরিতে হয়?প্রাপ্তবয়স্কদের ADHD শনাক্ত করা অনেক সময় কঠিন হয়। কারণ অধিকাংশ...
18/09/2026

প্রাপ্তবয়স্কদের ADHD নির্ণয় কেন অনেক সময় দেরিতে হয়?

প্রাপ্তবয়স্কদের ADHD শনাক্ত করা অনেক সময় কঠিন হয়। কারণ অধিকাংশ মানুষ ছোটবেলায় কখনোই সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পারেননি।

সাধারণত দুটি পরিস্থিতিতে এটি ধরা পড়ে,

১. সন্তানের মাধ্যমে নিজের ADHD সম্পর্কে জানা

অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানের ADHD মূল্যায়নের সময় বুঝতে পারেন যে সন্তানের যেসব লক্ষণ রয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলোই তাদের নিজের জীবনেও ছিল বা এখনও রয়েছে।

তখন তারা উপলব্ধি করতে শুরু করেন,“আমিও ছোটবেলায় এমন ছিলাম।”, “আমারও সব সময় জিনিসপত্র হারিয়ে যেত।”, “আমারও মনোযোগ ধরে রাখতে খুব কষ্ট হতো।”
এভাবেই অনেক প্রাপ্তবয়স্ক প্রথমবার নিজের ADHD সম্পর্কে সচেতন হন।

২. অন্য সমস্যার চিকিৎসা নিতে গিয়ে ADHD ধরা পড়া

অনেক প্রাপ্তবয়স্ক প্রথমে উদ্বেগ (Anxiety), বিষণ্নতা (Depression), অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা কাজের সমস্যার জন্য চিকিৎসকের কাছে যান। মূল্যায়নের সময় চিকিৎসক বুঝতে পারেন যে এসব সমস্যার পাশাপাশি বা এর পেছনে ADHD-ও আছে।

উদ্বেগ বা বিষণ্নতা থাকলেই ADHD আছে-এমন নয়। আবার ADHD থাকা ব্যক্তির উদ্বেগ বা বিষণ্নতাও হতে পারে। তাই সঠিক মূল্যায়ন খুব গুরুত্বপূর্ণ।

প্রাপ্তবয়স্কদের ADHD-এর সাধারণ লক্ষণ

প্রাপ্তবয়স্কদের ADHD সব সময় শিশুদের মতো প্রকাশ পায় না। অনেক সময় বাইরের অতিরিক্ত চঞ্চলতা কমে গেলেও মনোযোগ, সংগঠিত হওয়া, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং দৈনন্দিন দায়িত্ব সামলানোর ক্ষেত্রে সমস্যা থেকে যেতে পারে।

নিচে প্রাপ্তবয়স্কদের ADHD-এর কিছু সাধারণ লক্ষণ দেওয়া হলো।

প্রাপ্তবয়স্কদের ADHD-এর লক্ষণসমূহ💁‍♀️

১।প্রায়ই দেরি করে পৌঁছান। সময়মতো বের হওয়া বা সময় ব্যবস্থাপনা করতে কষ্ট হয়।

২।প্রায়ই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভুলে যান। যেমন অ্যাপয়েন্টমেন্ট, মিটিং, বিল পরিশোধ বা প্রয়োজনীয় জিনিস সঙ্গে নিতে ভুলে যাওয়া।

৩।উদ্বেগ (Anxiety) অনুভব করতে পারেন। দীর্ঘদিনের চাপ বা কাজ সামলানোর অসুবিধার কারণে উদ্বেগ বাড়তে পারে।

৪।কাজ পরিকল্পনা করা, অগ্রাধিকার ঠিক করা বা জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা কঠিন হতে পারে।

৫।আত্মসম্মান বা আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে। বারবার ভুল, সমালোচনা বা ব্যর্থতার অভিজ্ঞতার কারণে নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে।

৬।চাকরি বা নিয়মিত কাজ ধরে রাখতে অসুবিধা হতে পারে। সময়সীমা মেনে চলা, কাজ সম্পূর্ণ করা বা দায়িত্ব সংগঠিত করা চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

৭।রাগ দ্রুত প্রকাশ পেতে পারে। ছোট বিষয়ে বিরক্ত হওয়া বা আবেগ নিয়ন্ত্রণে কষ্ট হতে পারে।

৮।কাজ শুরু করলেও শেষ করতে কষ্ট হয়। একাধিক কাজ একসঙ্গে শুরু করা হলেও অনেক সময় কোনোটি সম্পূর্ণ হয় না।

৯।আচরণ বা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে। না ভেবে কথা বলা বা হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।

১০।ভেতরে ভেতরে অস্থিরতা অনুভব করতে পারেন। সব সময় দৌড়ঝাঁপ না করলেও মনে হতে পারে যেন স্থির হয়ে বসে থাকা কঠিন।

প্রাপ্তবয়স্কদের ADHD নির্ণয় কীভাবে করা হয়?

প্রাপ্তবয়স্কদের ADHD-এর লক্ষণ থাকা মানেই ADHD আছে-এমন নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই লক্ষণগুলো ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবনে বাস্তব সমস্যা তৈরি করছে কি না।

লক্ষণগুলো জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলে?

ADHD-এর লক্ষণগুলো এমন হতে হবে, যাতে সেগুলো ব্যক্তির জীবনের এক বা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যেমন:

সামাজিক জীবন: বন্ধুত্ব বা পারিবারিক সম্পর্ক বজায় রাখতে সমস্যা।

কর্মজীবন: সময়মতো কাজ শেষ করতে না পারা, দায়িত্ব সংগঠিত করতে কষ্ট হওয়া বা চাকরিতে সমস্যার মুখোমুখি হওয়া।

শিক্ষাজীবন: পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা, অ্যাসাইনমেন্ট শেষ করা বা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে অসুবিধা হওয়া।

শুধু মাঝে মাঝে ভুলে যাওয়া বা অস্থির লাগা ADHD নির্ণয়ের জন্য যথেষ্ট নয়।

প্রাপ্তবয়স্কদের ADHD নির্ণয় কেন একটু জটিল?

প্রাপ্তবয়স্কদের ADHD নির্ণয় সাধারণত একটি বিস্তারিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া। চিকিৎসক বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন, যাতে পুরো চিত্রটি বোঝা যায়।

মূল্যায়নের সময় যেসব বিষয় দেখা হয়
১. শৈশবের ইতিহাস

চিকিৎসক জানতে চান, ছোটবেলায় মনোযোগ, অস্থিরতা বা আচরণগত সমস্যা ছিল কি না। স্কুলে বা বাড়িতে একই ধরনের লক্ষণ দেখা যেত কি না।
এই লক্ষণগুলো কতদিন ধরে ছিল। অনেক সময় প্রাপ্তবয়স্ককে নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতা মনে করার চেষ্টা করতে হয়।

২. পরিবারের সদস্য বা জীবনসঙ্গীর তথ্য

প্রয়োজন হলে চিকিৎসক পরিবারের সদস্য বা জীবনসঙ্গীর কাছ থেকেও বর্তমান আচরণ সম্পর্কে তথ্য নিতে পারেন। এতে দৈনন্দিন জীবনে লক্ষণগুলো কীভাবে প্রকাশ পায়, তা বোঝা সহজ হয়।

৩. মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন
একজন মনোবিজ্ঞানী বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন করেন-ADHD-এর পাশাপাশি অন্য কোনো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা আছে কি না। উদ্বেগ, বিষণ্নতা বা অন্য কোনো অবস্থা লক্ষণগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত কি না।

৪. প্রয়োজনীয় চিকিৎসা মূল্যায়ন

কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসক স্নায়বিক (Neurological) বা অন্যান্য চিকিৎসাগত মূল্যায়নের প্রয়োজন আছে কি না তা বিবেচনা করতে পারেন, যাতে একই ধরনের লক্ষণ সৃষ্টি করতে পারে এমন অন্য শারীরিক বা স্নায়বিক কারণগুলোও মূল্যায়ন করা যায়।

প্রাপ্তবয়স্কদের ADHD সবার ক্ষেত্রে একরকম নয়

ADHD-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-এটি প্রত্যেক মানুষের ক্ষেত্রে ভিন্নভাবে প্রকাশ পেতে পারে। একই রোগ নির্ণয় হলেও দুইজন প্রাপ্তবয়স্কের দৈনন্দিন চ্যালেঞ্জ একেবারেই আলাদা হতে পারে।

উদাহরণ:

একজন ব্যক্তি কর্মক্ষেত্রে ভালোভাবে মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন, কিন্তু বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে কথোপকথনে মনোযোগ ধরে রাখা বা মাঝখানে কথা বলে ফেলার সমস্যা হতে পারে।

আবার অন্য একজনের ক্ষেত্রে ঠিক উল্টো হতে পারে। তিনি সামাজিক পরিবেশে স্বাভাবিকভাবে মিশতে পারেন, কিন্তু অফিসের কাজ, পরিকল্পনা বা সময়মতো কাজ শেষ করতে বেশি অসুবিধা হয়।

দুজনের অভিজ্ঞতা আলাদা হলেও দুজনেরই ADHD থাকতে পারে।

মনে রাখবেন: ADHD-এর লক্ষণ ব্যক্তির পরিবেশ, দায়িত্ব, ব্যক্তিত্ব এবং সহায়তার ওপরও নির্ভর করে ভিন্নভাবে প্রকাশ পেতে পারে।

বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ADHD-এর লক্ষণ কীভাবে বদলে যায়?💁‍♀️

গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ADHD-এর কিছু লক্ষণ পরিবর্তিত হতে পারে।

শৈশব 👉 প্রাপ্তবয়স্ক জীবন

শৈশবে বেশি দেখা যায়👉প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে বেশি দেখা যেতে পারে

১।অতিরিক্ত দৌড়ঝাঁপ ও চঞ্চলতা। 👉ভেতরে ভেতরে অস্থিরতা বা স্থির থাকতে অসুবিধা।
২।ক্লাসে উঠে দাঁড়ানো বা এদিক-ওদিক দৌড়ানো।👉 মনে অস্থিরতা, এক কাজ থেকে আরেক কাজে চলে যাওয়া।
৩।বাইরের আচরণ বেশি চোখে পড়ে। 👉সময় ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনা ও মনোযোগের সমস্যা বেশি প্রভাব ফেলে।

অনেক মানুষের ক্ষেত্রে হাইপারঅ্যাক্টিভিটি (Hyperactivity) কমে যায়। এটি ইতিবাচক পরিবর্তন।

বিদ্র: লক্ষনসমুহ থাকলেই হবেনা, লক্ষন সমুহের জন্য তার ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব পড়তে হবে তবেই এসেসমেন্ট করানো উচিত।

ADHDঅভিভাবক বা প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে আপনার ভূমিকাযদি আপনি ADHD-যুক্ত কোনো কিশোর-কিশোরীর অভিভাবক, শিক্ষক বা যত্নশীল প্রাপ্...
18/09/2026

ADHDঅভিভাবক বা প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে আপনার ভূমিকা

যদি আপনি ADHD-যুক্ত কোনো কিশোর-কিশোরীর অভিভাবক, শিক্ষক বা যত্নশীল প্রাপ্তবয়স্ক হন, তাহলে আপনার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৈশোরে শিশুর আচরণ সব সময় ইচ্ছাকৃত নয়; অনেক সময় এটি ADHD-এর কারণে আবেগ, মনোযোগ এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জের প্রকাশ।

আপনার দৈনন্দিন আচরণ, যোগাযোগের ধরন এবং ঘরের পরিবেশ শিশুর উন্নতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

ADHD-যুক্ত কিশোরকে সহায়তা করার ১২টি কার্যকর উপায়
১. স্পষ্ট নির্দেশনা ও প্রত্যাশা দিন

একসঙ্গে অনেক নির্দেশ না দিয়ে ছোট, সহজ এবং পরিষ্কার নির্দেশনা দিন। শিশুকে আগে থেকেই জানান, তার কাছ থেকে কী আশা করা হচ্ছে।

উদাহরণ: “রুম পরিষ্কার করো” বলার পরিবর্তে বলুন, “প্রথমে বইগুলো শেলফে রাখো, তারপর কাপড়গুলো ঝুড়িতে রাখো।”

২. একটি নিয়মিত রুটিন তৈরি করুন

প্রতিদিনের ঘুম, পড়াশোনা, খাওয়া, খেলাধুলা এবং বিশ্রামের জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচি রাখুন। রুটিন ADHD-যুক্ত শিশুকে নিরাপত্তা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা দেয়।

৩. অপ্রয়োজনীয় নিয়ম কম রাখুন

খুব বেশি নিয়ম বা নিষেধাজ্ঞা শিশুকে বিভ্রান্ত করতে পারে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম বেছে নিন এবং সেগুলো ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করুন।

৪. এমন কাজে যুক্ত করুন যেখানে সে সফল হতে পারে

শিশুর আগ্রহ ও শক্তিকে গুরুত্ব দিন। খেলাধুলা, ছবি আঁকা, গান, নাচ, বিজ্ঞান, কম্পিউটার বা অন্য কোনো দক্ষতায় সফল হওয়ার সুযোগ দিন।

৫. ইতিবাচক আচরণের প্রশংসা করুন

ভালো আচরণ দেখলে সঙ্গে সঙ্গে প্রশংসা করুন। শুধুমাত্র ভুল ধরার বদলে ভালো কাজগুলোও লক্ষ্য করুন।

উদাহরণ: “আজ তুমি নিজের ব্যাগটা ঠিক জায়গায় রেখেছ। খুব ভালো কাজ।”

৬. আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে সাহায্য করুন

ADHD-যুক্ত অনেক কিশোর বারবার সমালোচনা শুনতে শুনতে নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে। তাই তার প্রচেষ্টা ও অগ্রগতির প্রশংসা করুন, শুধু ফলাফলের নয়।

৭. ইতিবাচক পুরস্কার ব্যবহার করুন

ভালো আচরণ বা লক্ষ্য পূরণ করলে ছোট পুরস্কার বা বিশেষ সুযোগ দিন। যদি কোনো সুবিধা প্রত্যাহার করতে হয়, তা যেন আগে থেকে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী এবং শান্তভাবে করা হয়।

নিউরোপ্যারেন্টিং টিপস: শাস্তির চেয়ে ইতিবাচক উৎসাহ (Positive Reinforcement) সাধারণত বেশি কার্যকর।

৮. সংগঠিত হতে সাহায্য করুন

ক্যালেন্ডার, চেকলিস্ট, রঙভিত্তিক ফোল্ডার বা ব্যাগ গোছানোর অভ্যাস শেখান। বড় কাজকে ছোট ধাপে ভাগ করে দিন।

৯. গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের জন্য রিমাইন্ডার ব্যবহার করুন

অ্যালার্ম, স্টিকি নোট, ফোন রিমাইন্ডার বা ভিজ্যুয়াল চার্ট ব্যবহার করুন, যাতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ বা সময় ভুলে না যায়।

১০. কঠিন পরিস্থিতিতেও শান্ত থাকুন

শিশু উত্তেজিত হলে অভিভাবকের শান্ত থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনার শান্ত আচরণ শিশুর আবেগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

১১. পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন

ঘুমের অভাব ADHD-এর লক্ষণ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই নিয়মিত ঘুমের সময়, স্ক্রিন ব্যবহারের সীমা এবং ঘুমের আগে শান্ত পরিবেশ তৈরি করুন।

১২. শিশুর ব্যক্তিগত ট্রিগারগুলো চিনুন

প্রতিটি শিশুর ট্রিগার আলাদা হতে পারে। যেমন: অতিরিক্ত শব্দ।দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা। ক্ষুধা বা ক্লান্তি।অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম। হঠাৎ রুটিন পরিবর্তন।
ট্রিগারগুলো চিনে শিশুকে আগে থেকেই মোকাবিলার কৌশল শেখান।

ধন্যবাদ
ShebikAmit

এডিনয়েড আছে, এমন বাচ্চার সারাদিনের রুটিন💁‍♀️যা একমাস সঠিকভাবে ফলো করলে বেশ উন্নতি পাবেন।এখানে আমি একটা আনুমানিক সময় ধরে ...
18/09/2026

এডিনয়েড আছে, এমন বাচ্চার সারাদিনের রুটিন💁‍♀️
যা একমাস সঠিকভাবে ফলো করলে বেশ উন্নতি পাবেন।

এখানে আমি একটা আনুমানিক সময় ধরে দিচ্ছি এবং সানায়ার জন্য দেয়া ওষুধ গুলো দিয়েই লিখে দিলাম, আপনার ডাক্তার যা দেবে সেই অনুযায়ী গুছিয়ে নেবেন।

সকাল (ঘুম থেকে ওঠার পর): 7:00 – ঘুম থেকে ওঠা

প্রথমে নাক পরিষ্কার করবেন, Nasal saline / Solo / Nazomist, ২ চাপ করে দুই নাকে তারপর ৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। আগে saline দিলে mucus নরম হয়, পরে spray ভালো কাজ করে।

7:15 – নাক দিয়ে শ্বাস অনুশীলন করুন ২ মিনিট, খেলার মতো করে: "ফুলের গন্ধ নাও", "নাক দিয়ে বাতাস ঢোকাও"। Nose breathing habit তৈরি হয়
এবং Adenoid pressure কমে।

7:30 – সকাল খাবার, ডিম, সবজি, ফল। যদি দুধ দিতে হয় তবে দুধ খাওয়ানোর পর সাথে সাথে শোয়াবেন না।

8:00 – ওষুধ: Fexo ১ চামচ এটার ফলে, Allergy কমে, Adenoid swelling কমে।

সকাল মাঝামাঝি 10:30, পানি ও ফল( যেকোনো ফল)

দুপুর 1:00 – দুপুরের খাবার: ভাত, মাছ, সবজি ও কুসুম গরম পানি।

1:30 – নাক স্প্রে ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী Solo / Nazomist, ২ চাপ দুই নাকে।

2:00 – ঘুম, মাথা একটু উঁচু, ঘর ধুলামুক্ত( বালিশের কাভার ও বিছানার চাদর সপ্তাহে ২ দিন ওয়াস করে দেবেন।)

বিকাল 5:00: বাইরে হাঁটা ২০ মিনিট এতে, Lung expansion, Nose breathing improve করে।

5:30 Solo / Nazomist ২ চাপ ২ নাকে।

রাত 8:00 – রাতের খাবার: হালকা খাবার, ঠান্ডা খাবার না।

8:30 – ওষুধ: Fexo ১ চামচ এবং Xyflo 4 mg ১টা।
কারন Night inflammation কমায়।

9:00 – নাক স্প্রে: Solo / Nazomist ২ চাপ ২ নাকে।

9:15 – Steam (সপ্তাহে ৩ দিন): ৩–৫ মিনিট, হালকা ভাপ। এতে congestion কমে।

9:30 – Momelo spray: Momelo ১বার। Spray দেওয়ার সময়: মাথা সামান্য সামনে। না হলে: গলায় নেমে যায়।

9:40 – ঘুম: মাথা একটু উঁচু, ঘর ঠান্ডা না। AC হলে 26–27° এ রাখুন।

প্রতিদিন যেগুলো অবশ্যই করবেন

১️। ধুলা নিয়ন্ত্রণ: বিছানা পরিষ্কার। বালিশ ধোয়া সপ্তাহে ২ বার।

২️। Nose breathing remind: দিনে ৫–৬ বার বলবেন:
"মুখ বন্ধ" খেলার মতো।

৩️। পানি: দিনে: ৬–৮ বার

বাচ্চা অতিরিক্ত ঘামে করনিয় কি?

এডিনয়েড থাকা বাচ্চারা অনেক সময় একটু বেশি ঘামে, আর ঘাম শুকিয়ে গেলে সহজেই ঠান্ডা লেগে নাক বন্ধ হয়ে যায়। তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঘাম হওয়ার সাথে সাথে শরীর শুকনো রাখা। বাচ্চার পিঠ বা ঘাড় ভিজে গেলে যত দ্রুত সম্ভব নরম কাপড় দিয়ে মুছে দিতে হবে এবং প্রয়োজন হলে জামা বদলে দিতে হবে। বিশেষ করে ঘুমের সময় পিঠ ভিজে থাকলে ঠান্ডা লাগার সম্ভাবনা বেশি থাকে, তাই পাতলা কটন কাপড় বা তোয়ালে পিঠে দিয়ে রাখা যেতে পারে-ঘাম হলে শুধু তোয়ালেটা বদলালেই শরীর শুকনো থাকবে।

ঘাম হওয়ার পর বাচ্চাকে সরাসরি ফ্যান বা এসির বাতাসে বসানো উচিত না, কারণ ভেজা শরীরে ঠান্ডা বাতাস লাগলে শরীর দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যায় এবং নাক বন্ধ হয়ে এডিনয়েডের সমস্যা বাড়তে পারে। বরং হালকা বাতাসে রাখবেন এবং কয়েক চুমুক কুসুম গরম পানি খাওয়ালে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হতে সাহায্য করে।

এডিনয়েড বাচ্চাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গরম কাপড়ও সমস্যা বাড়ায়, কারণ বেশি কাপড় পরলে বেশি ঘাম হয়। তাই নরম কটন কাপড় এবং মাঝারি তাপমাত্রার ঘর (প্রায় ২৬–২৭ ডিগ্রি) সবচেয়ে ভালো। মূল লক্ষ্য হবে - বাচ্চা যেন খুব বেশি গরমেও না থাকে, আবার ঘেমে গিয়ে ঠান্ডাও না লাগে। নিয়মিত এই যত্ন নিলে ঘাম থেকে ঠান্ডা লাগার প্রবণতা অনেকটাই কমে যায় এবং এডিনয়েডের প্রদাহও কম হতে পারে।

কিছু ভুল যা আমরা বেশি করি, এবং বাচ্চা সুস্থ হয়না🤦‍♀️

গ্রেড–৪ এডিনয়েডে অনেক সময় দেখা যায়, ভালো ওষুধ ও যত্ন নেওয়ার পরও উন্নতি ধীরে হয়। এর বড় কারণ হলো কিছু ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ভুল, যেগুলো ঠিক করলে ১ মাসের মধ্যেই পরিবর্তন বোঝা যেতে পারে। সবচেয়ে সাধারণ ভুল হলো নাকের স্প্রে ঠিকভাবে না দেওয়া। স্প্রে দেওয়ার সময় মাথা সামান্য সামনে রেখে নাকের বাইরের দিকে স্প্রে দিতে হয়, নইলে ওষুধ গলায় নেমে যায় এবং এডিনয়েডে ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। স্প্রের আগে স্যালাইন না দিলে নাকের ভেতরের মিউকাস পরিষ্কার হয় না, ফলে ওষুধের কার্যকারিতা কমে যায়।

অনেক সময় ঘর অতিরিক্ত ঠান্ডা রাখা বা ধুলাবালি পরিষ্কার না রাখাও এডিনয়েডের ফোলা বাড়িয়ে দেয়, তাই মাঝারি তাপমাত্রা ও পরিষ্কার পরিবেশ খুব গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস চলতে থাকলে এডিনয়েড বড় অবস্থায় থেকে যায়, তাই দিনে কয়েকবার খেলাচ্ছলে নাক দিয়ে শ্বাস নিতে উৎসাহ দেওয়া দরকার। অতিরিক্ত দুধ, কম পানি খাওয়া এবং দেরিতে ঘুমানোও নাক বন্ধ ও মিউকাস বাড়াতে পারে, তাই এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা ভালো।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো উন্নতি হচ্ছে কি না তা নিয়মিত লক্ষ্য করা এবং খুব দ্রুত ফল আশা না করা। সাধারণত স্টেরয়েড স্প্রে কাজ শুরু করতে ২ সপ্তাহ এবং ভালো ফল পেতে ৪–৬ সপ্তাহ সময় লাগে। তাই নিয়মিত স্প্রে ও স্যালাইন ব্যবহার, মুখ দিয়ে শ্বাস কমানো, পরিষ্কার পরিবেশ রাখা এবং ভালো ঘুম নিশ্চিত করা—এই কয়েকটি নিয়ম ঠিকভাবে মানলে অনেক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়।

এই বাচ্চাদের খাবার খুব গুরুত্বপূর্ণ 💁‍♀️

গ্রেড–৪ এডিনয়েডে আধা-তরল, কুসুম গরম খাবার সবচেয়ে উপকারী, কারণ এতে গলা ও নাকের পেছনের অংশে জ্বালা কমে এবং mucus জমাট কম হয়। বিশেষ করে ১ মাসের কেয়ার পিরিয়ডে খাবার খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সবচেয়ে ভালো খাবার হলো পাতলা খিচুড়ি, ওটস, আয়রন সুজি, ডিম,নিউট্রিমিক্স ডাল-সুপ, কলা, পাকা পেঁপে ও বাদাম গুঁড়ো, যা সহজে গিলে যায়, tissue repair ও immunity বাড়ায়। আমি কম ঘন করে রান্না করে খাওয়াই। Anti-inflammatory উপাদান যেমন সামান্য হলুদ, আদা বা রসুনও সাহায্য করে।

এছাড়া, খাবার খুব ঠান্ডা বা খুব শুকনা, বেশি মিষ্টি বা প্যাকেটজাত খাবার এ সময় কমানো উচিত, কারণ এগুলো mucus বা inflammation বাড়ায়। দুধ খারাপ নয়, তবে কুসুম গরম দিতে হবে এবং রাতে বেশি না। সবসময় খাবার কুসুম গরম রাখলে irritation কম থাকে। পাতলা, কুসুম গরম, বাদাম ও মধু সহ -এডিনয়েড বাচ্চার জন্য খুব উপকারি। এই সময় আইসক্রিম, চকলেট, চিপস, জুস, অতিরিক্ত বিস্কুট এসব এড়িয়ে চলুন।

এই রুটিনটা একমাস ফলো করে রেজাল্ট জানাবেন দয়া করে💁‍♀️
ধন্যবাদ 🙏
বিদ্র: প্রথম ভিজিটে ডাক্তার সেফ-৩ এন্টিবায়োটিক দেবেন ৭ দিন খাওয়াতে, বা যেটাই দেবেন। সেটা খাওয়াবেন। লাগবেনা ভেবে নিজে সিদ্ধান্ত নেবেন না। কিছু বিষয়ে আপনার ডাক্তার সেরা সিদ্ধান্ত দাতা। আর ওষুধের বিষয়ে আরো নিশ্চিত হতে অবশ্যই একজন ভালো ENT -এর ডাক্তার দেখাতে পারেন। আমার মেয়েকে আমি ডা: রাজু বড়ুয়া স্যারকে দেখাই। বেশ আন্তরিক ও শিশুদের জন্য খুব ভালো।
উনি খিলক্ষেত লেকসিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও labaid gulsan এ বসেন। আমি বলেছি বলে ওনাকেই দেখাতে হবে এমন নয়। তবে আমার দেখা এই বিষয়ে সেরা ডাক্তার উনি তাই, জানিয়ে রাখলাম।
ShebikAmit

নবজাতকের প্রথম ২৮ দিন: খুঁটিনাটি যত্ন কীভাবে করবেন?একটি শিশুর জন্মের পর প্রথম ২৮ দিনকে বলা হয় নবজাতককাল। এই সময়টা খুবই গ...
18/09/2026

নবজাতকের প্রথম ২৮ দিন: খুঁটিনাটি যত্ন কীভাবে করবেন?

একটি শিশুর জন্মের পর প্রথম ২৮ দিনকে বলা হয় নবজাতককাল। এই সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জন্মের পর শিশুর শরীরকে মায়ের গর্ভের পরিবেশ থেকে বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়। শ্বাস-প্রশ্বাস, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, দুধ খাওয়া, ঘুম, সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা-সবকিছুই তখন নতুন করে সামঞ্জস্য হচ্ছে। তাই এই সময় শিশুর যত্নে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, উষ্ণতা, পর্যাপ্ত দুধ, নিরাপদ ঘুম এবং শিশুর আচরণ ও শারীরিক পরিবর্তন ভালোভাবে লক্ষ্য করা।

🤱 জন্মের পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা

সম্ভব হলে জন্মের পরপরই শিশুকে মায়ের বুকের ওপর ত্বকের সঙ্গে ত্বক লাগিয়ে রাখা খুব উপকারী। এতে শিশুকে উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে এবং বুকের দুধ শুরু করতেও সহায়তা করে। শিশুর অবস্থা স্থিতিশীল থাকলে জন্মের প্রথম ঘণ্টার মধ্যেই বুকের দুধ শুরু করার চেষ্টা করা উচিত।

শিশুকে অপ্রয়োজনে মায়ের কাছ থেকে আলাদা না করে মা ও শিশুকে কাছাকাছি রাখা এবং শিশুর ক্ষুধার সংকেত বুঝে দুধ খাওয়ানো গুরুত্বপূর্ণ।

🍼 প্রথম ২৮ দিনে শিশুর খাবার

সুস্থ পূর্ণমেয়াদি নবজাতকের জন্য মায়ের বুকের দুধই প্রধান খাবার। প্রথম ছয় মাস সাধারণভাবে শুধু বুকের দুধ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়; চিকিৎসাগত প্রয়োজন না থাকলে পানি, মধু, চিনির পানি, জুস বা অন্য কোনো তরল দেওয়া যাবেনা।

শিশু যখন ক্ষুধার সংকেত দেয়-যেমন মুখ খোঁজা, ঠোঁট নড়ানো, হাত মুখে নেওয়া, স্তনের দিকে মাথা ঘোরানো-তখন দুধ দিন। শুধু কান্না শুরু হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই।

শিশু ঠিকমতো দুধ পাচ্ছে কি না, তা বোঝার জন্য শুধু কত মিনিট স্তনে ছিল সেটি দেখবেন না। শিশুর গিলতে থাকা(ঢকঢক করে শব্দ হবে), খাওয়ার পর শান্ত হওয়া, প্রস্রাব-পায়খানার ধরণ এবং ওজন বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ।

শিশু খুব ঘুমিয়ে থাকে, বারবার দুধ ছেড়ে দেয়, ঠিকমতো চুষতে পারে না বা খাওয়ানো নিয়ে সমস্যা হলে অপেক্ষা না করে চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত স্তন্যপান বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন।

শিশুকে উষ্ণ রাখুন, কিন্তু অতিরিক্ত গরম নয়

নবজাতক নিজের শরীরের তাপমাত্রা বড়দের মতো ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তাই শিশুকে ঠান্ডা বাতাস থেকে রক্ষা করুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরামদায়ক পোশাক পরান।

তবে অতিরিক্ত কাপড়, ভারী কম্বল বা অতিরিক্ত গরম করে রাখা ঠিক নয়। শিশুর ঘাম হচ্ছে কি না, শরীর অস্বাভাবিক গরম লাগছে কি না-খেয়াল করুন। WHO নবজাতকের জন্য উষ্ণতা বজায় রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ত্বক-ত্বক সংস্পর্শের ওপর গুরুত্ব দেয়।

ঘুমের সময় নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

নবজাতক অনেক সময় ঘুমিয়ে থাকবে-এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ঘুমের জায়গাটা নিরাপদ হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

শিশুকে প্রতিবার ঘুম পাড়ানোর সময় চিত করে, অর্থাৎ পিঠের ওপর শোয়ান। শক্ত ও সমতল ঘুমের জায়গা ব্যবহার করুন। শিশুর ঘুমের জায়গায় বালিশ, কাঁথা, নরম খেলনা, কুশন, বাম্পার বা ঢিলেঢালা কাপড় রাখবেন না।

শিশুকে একই বিছানায় রাখুন , তবে একটি কাথা বা একটা বেড ব্যাবহার করে ওর ঘুমের জায়গাটা আলাদা রাখা নিরাপদ। কারন অনেকসময় নতুন বাবা -মায়ের ঘুমের ব্যালেন্স থাকে না, তাই এক বিছানায় হলেও একটা আলাদা বিছানা রেডি করে তারপর ঘুমান। আর শিশুর ঘুমানোর জন্য সোফা, বড়দের বিছানা, দোলনা বা ঢালু জায়গাকে নিয়মিত ঘুমের স্থান হিসেবে ব্যবহার করবেন না।

নাভির যত্ন কীভাবে করবেন?

নাভির নাড়ির অবশিষ্ট অংশটি সাধারণত শুকিয়ে নিজে থেকেই পড়ে যায়। এটিকে টেনে খুলবেন না।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নাভি পরিষ্কার ও শুকনো রাখা। চিকিৎসক বিশেষভাবে কোনো ওষুধ বা অ্যান্টিসেপটিক না বললে নিজের ইচ্ছায় তেল, পাউডার, ছাই, হলুদ, মাটি, মলম বা অন্য কোনো ঘরোয়া উপাদান লাগাবেন না। কারো কথায় কান দেবেন না একদমি। WHO-ও নবজাতকের নাভির ক্ষেত্রে পরিষ্কার ও শুকনো রাখার ওপর গুরুত্ব দেয়; তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে স্থানীয় চিকিৎসা-নীতির ভিত্তিতে ক্লোরহেক্সিডিন ব্যবহারের পরামর্শ থাকতে পারে। নাভির চারপাশ লাল হয়ে যাওয়া, ফুলে যাওয়া, দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ বা রক্তপাত দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

গোসল ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা

জন্মের পরপরই শিশুকে গোসল করানোর প্রয়োজন নেই। WHO অন্তত ২৪ ঘণ্টা প্রথম গোসল বিলম্বিত করার পরামর্শ দেয়, যদি বিশেষ কোনো চিকিৎসাগত কারণ না থাকে। এরপরও প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে গোসল করানো প্রয়োজন নেই। মুখ, ঘাড়ের ভাঁজ, বগল ও ডায়াপার এলাকা পরিষ্কার ও শুকনো রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ডায়াপার বা কাপড় ভিজে গেলে দ্রুত পরিবর্তন করুন এবং পরিষ্কার করার পর জায়গাটি ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। ডায়পার এড়িয়ায় সুডোক্রিম বা Aveenp diapar cream ব্যাবহার করুন। বা অন্তত বাবুর ব্যাবহার করা কোনো ময়স্চারাইজার বা মায়ের বুকের দুধ লাগান।

জন্ডিসের দিকে নজর রাখুন

নবজাতকের মধ্যে জন্ডিস বা শরীর-চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া বেশ সাধারণ হতে পারে। কিন্তু সব জন্ডিস স্বাভাবিক নয়। জন্মের প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হলুদভাব দেখা দিলে, হলুদভাব দ্রুত বাড়লে, শিশুর হাত-পায়ের তালু পর্যন্ত হলুদ হলে, অথবা শিশু অস্বাভাবিক ঘুমঘুম হয়ে দুধ খেতে না চাইলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন। শুধু জানালার পাশে বসিয়ে রোদ দেখানো বা ঘরোয়া চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের মাধ্যমে বিলিরুবিন পরীক্ষা করানো উচিত। এবং ব্রেস্টফিডিং জেড়ালো করুন। দরকার হলে ফোটোথেরাপির পরামর্শ নিতে হসে পারে।

প্রস্রাব ও পায়খানা লক্ষ্য করুন

প্রথম কয়েক দিনে শিশুর প্রস্রাব ও পায়খানার ধরণ পরিবর্তিত হয়। জন্মের পর প্রথম পায়খানা সাধারণত কালচে ও আঠালো হয়, পরে ধীরে ধীরে রং ও ঘনত্ব পরিবর্তিত হয়।

শিশু পর্যাপ্ত দুধ পাচ্ছে কি না বোঝার ক্ষেত্রেও প্রস্রাবের পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিদিন ডায়াপার বা কাপড় ভেজার বিষয়টি লক্ষ্য করুন।

শিশু একেবারেই প্রস্রাব করছে না, বারবার বমি করছে, খেতে পারছে না বা পায়খানার ধরনে অস্বাভাবিকতা নিয়ে সন্দেহ হলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।

শিশুর কান্নাকে ভয় পাবেন না

প্রথম কয়েক সপ্তাহে কান্না শিশুর যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। ক্ষুধা, ভেজা ডায়াপার, গরম-ঠান্ডা, অস্বস্তি, কোলে থাকার প্রয়োজন-অনেক কারণেই নবজাতক কাঁদতে পারে।

কোলে নেওয়া, বুকের কাছে রাখা, খাওয়ানো, নরম গলায় কথা বলা বা গান গাওয়া শিশুকে শান্ত করতে সাহায্য করতে পারে।

তবে যতই কান্না করুক, কখনো শিশুকে ঝাঁকাবেন না। আপনি খুব ক্লান্ত বা বিরক্ত হয়ে গেলে শিশুকে নিরাপদ ঘুমের জায়গায় চিত করে রেখে কয়েক মিনিট নিজেকে শান্ত করুন এবং প্রয়োজনে পরিবারের কারও সাহায্য নিন। বা শিশুকে নিরাপদ রেখে ২মিনিট কোথাও গিয়ে গভীর শ্বাস নিন।

শিশুকে ধরার আগে হাত ধোয়া

নবজাতকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এখনও পরিপূর্ণভাবে পরিণত হয়নি। তাই শিশুকে ধরার আগে সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়া অভ্যাস করুন। অসুস্থ ব্যক্তি যেন শিশুকে চুমু না দেন বা খুব কাছাকাছি না আসেন-এটিও গুরুত্বপূর্ণ। বা হেক্সিসল ব্যাবহার করুন, তারপর ভালো করে হাত শুকিয়ে বাচ্চাকে ধরুন বা ধরতে দিন।

নবজাতককে দেখার জন্য অনেক মানুষকে একসঙ্গে বাড়িতে ডাকার প্রয়োজন নেই। কম মানুষ, পরিষ্কার হাত এবং নিরাপদ পরিবেশ-এই তিনটি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কোন লক্ষণ দেখলে অপেক্ষা করবেন না?

নবজাতকের ক্ষেত্রে নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে,

১। দুধ খেতে না চাওয়া বা খুব কম খাওয়া
২। শিশুকে অস্বাভাবিক নিস্তেজ বা জাগানো কঠিন মনে হওয়া
৩। শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা খুব দ্রুত শ্বাস নেওয়া
৪। বুক ভেতরের দিকে দেবে যাওয়া, গোঁ গোঁ শব্দ বা শ্বাসের অস্বাভাবিকতা
৫। খিঁচুনি
৬। জ্বর বা শরীর অস্বাভাবিক ঠান্ডা হয়ে যাওয়া
৭। জন্মের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় জন্ডিস
৮। জন্ডিস দ্রুত বাড়া বা হাত-পায়ের তালু হলুদ হওয়া
৯। বারবার বমি
১০। নাভির চারপাশ লাল, ফুলে যাওয়া বা পুঁজ হওয়া
১১। শিশুর আচরণ বা খাওয়ার ধরনে হঠাৎ বড় পরিবর্তন

WHO নবজাতকের খেতে না পারা, নিস্তেজতা, শ্বাসকষ্ট, জ্বর/অস্বাভাবিক ঠান্ডা, খিঁচুনি এবং নির্দিষ্ট ধরনের জন্ডিসকে গুরুত্বপূর্ণ বিপদসংকেত হিসেবে উল্লেখ করে। তাই অপেক্ষা না করে একজন শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

প্রথম ২৮ দিনে শুধু জন্মের দিনটিই গুরুত্বপূর্ণ নয়

শিশু জন্মের পর একবার চিকিৎসক দেখিয়ে তারপর ২৮ দিন আর কোনো পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন নেই-এমন নয়।

WHO-এর পোস্টনেটাল গাইডলাইনে প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে, ৩ দিনের মধ্যে এবং ৭–১৪ দিনের মধ্যে নবজাতকের স্বাস্থ্য, দুধ খাওয়া, ওজন, জন্ডিস ও নাভিসহ বিভিন্ন বিষয় মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শিশু যদি প্রিম্যাচিউর, কম ওজনের, জন্মের সময় কোনো সমস্যা হয়ে থাকে বা কোনো অসুস্থতা থাকে, তাহলে আরও ঘন ঘন চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন হতে পারে।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা-মাকেও যত্ন করতে হবে

নবজাতকের যত্ন করতে গিয়ে অনেক মা নিজের খাওয়া, ঘুম ও বিশ্রাম একেবারে ভুলে যান। কিন্তু সুস্থ মা শিশুর যত্ন নেওয়ার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

তাই পরিবারের অন্য সদস্যদের শুধু “বাচ্চাকে একটু কোলে নেওয়া” নয়-মায়ের খাবার তৈরি করা, পানি এগিয়ে দেওয়া, ঘরের কাজ ভাগ করে নেওয়া, রাতে শিশুর প্রয়োজনীয় জিনিস এগিয়ে দেওয়া এবং মাকে কিছুটা বিশ্রামের সুযোগ করে দেওয়াও দায়িত্বের অংশ। এখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা বাবার।

প্রথম ২৮ দিন নিখুঁত মা হওয়ার পরীক্ষা নয়।
এটা মা ও শিশুর একে অপরকে চিনে নেওয়ার সময়।

শিশুকে উষ্ণতা দিন, বুকের দুধ দিন, নিরাপদে ঘুমাতে দিন, পরিষ্কার রাখুন, তার ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করুন-আর কোনো কিছু অস্বাভাবিক মনে হলে ঘরোয়া চিকিৎসায় সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের সাহায্য নিন।

কারণ নবজাতকের ক্ষেত্রে অনেক সময় “দেখি একটু পরে ঠিক হয় কি না” নয়-সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বিদ্র: ছবিতে ১৬ দিনের সানায়া❤️

ধন্যবাদ
ShebikAmit

বাচ্চাকে স্ক্রিন-ফ্রি রাখতে যা যা দরকারবাচ্চাকে স্ক্রিন থেকে দূরে রাখা শুধু “ফোন দেব না”-এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় নয়। সত...
18/09/2026

বাচ্চাকে স্ক্রিন-ফ্রি রাখতে যা যা দরকার

বাচ্চাকে স্ক্রিন থেকে দূরে রাখা শুধু “ফোন দেব না”-এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় নয়। সত্যি বলতে, স্ক্রিনের সহজ বিকল্প তৈরি করতে বাবা-মাকেও একটু বেশি পরিশ্রম করতে হয়। আর সবার আগে দরকার দুটো জিনিস-হাই এনার্জি আর অনেক ধৈর্য। 😄

কারণ স্ক্রিন খুব সহজেই শিশুকে কয়েক মিনিটের জন্য ব্যস্ত করে রাখতে পারে। কিন্তু বাস্তব খেলায় শিশুকে যুক্ত করতে গেলে আপনাকে তার পাশে বসতে হবে, কথা বলতে হবে, খেলাটা শুরু করে দিতে হবে, কখনো তার খেলার সঙ্গী হতে হবে, আবার কখনো তাকে নিজের মতো করে খেলতে দিতে হবে।

তবে এর জন্য যে অনেক টাকা খরচ করে একের পর এক খেলনা কিনতে হবে, এমন কিন্তু নয়।

আপনার ঘরের অনেক সাধারণ জিনিসই শিশুর জন্য দারুণ খেলার উপকরণ হতে পারে। হাঁড়ি, পাতিল, চামচ, বিভিন্ন আকারের নিরাপদ বক্স, কাপড়, ঝুড়ি, প্লাস্টিকের পাত্র-এসব দিয়েই শিশু ঢোকানো-বের করা, সাজানো, এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়া, শব্দ তৈরি করা কিংবা কল্পনার খেলা করতে পারে।

বয়স উপযোগী বই ও কিছু বাজেট-ফ্রেন্ডলি খেলনা থাকলে তো আরও ভালো। তবে খেলনার সংখ্যা বেশি হওয়া জরুরি নয়। একই খেলনাকে নতুনভাবে ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়াটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আর শৈশবে খেলনা কেনাকে বিলাসিতা বানাবেন না, এটা ওদের প্রয়োজন। আর সব বয়সে সব জিনিস লাগেনা। পরে বড় হয়ে ওদের আফসোস হয়।

চাল, ডাল বা পানি দিয়েও শিশুর জন্য মজার খেলা তৈরি করা যায়। যেমন: চামচ দিয়ে এক পাত্র থেকে অন্য পাত্রে নেওয়া, বিভিন্ন পাত্রে ঢালা, পানি নিয়ে খেলা, জিনিস আলাদা করা বা সাজানো। এগুলো করতে গিয়ে শিশুর হাতের কাজ, মনোযোগ, সমস্যা সমাধান এবং কৌতূহল-অনেক কিছুই অনুশীলন হয়।

তবে ছোট দানা, পানি বা যেকোনো ছোট বস্তু ব্যবহারের সময় বয়স অনুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বড়দের সরাসরি নজরদারি থাকা জরুরি।

আরেকটা বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ-শিশুকে সারাক্ষণ নতুন কিছু দিয়ে ব্যস্ত করে রাখতে হবে না। একটু একঘেয়েমি আসুক। সে নিজে ভাবুক, কী করা যায়। কখনো বাক্স দিয়ে বাড়ি বানাক, কখনো চামচকে মাইক্রোফোন বানিয়ে গান করুক, কখনো একটা কাপড় দিয়ে পুতুলের জন্য বিছানা বানাক।

সারাদিন যে আপনার পাশেই লেগে থাকতে হবে এমন নয়। আপনি যখন রান্না করছেন বড় একটা পাতিলে একটা চামচ দিয়ে অল্প পানি আর মধ্যে কয়েক টুকরা সবজি দিয়ে দিন। দেখবেন সেই খুশি, মাঝে মাঝে জিজ্ঞেস করুন " বাবা, রান্নাটা হলো?" তাহলেই দেখবেন আপনার কাজো শেষ তার টাও। এভাবে একসাথে নানা কাজ করতে পারবেন। হা শেষে একটু পরিষ্কার করতে হবে।

শিশুর জন্য সবচেয়ে দামি খেলনা অনেক সময় খেলনা নয়-একজন আগ্রহী বাবা-মা। আপনি যখন তার সঙ্গে কথা বলেন, তার খেলা অনুসরণ করেন, প্রশ্ন করেন, গল্প বানান, বই পড়েন, গান করেন, বাইরে হাঁটতে নিয়ে যান কিংবা শুধু পাশে বসে তার আবিষ্কারগুলো দেখেন-তখন শিশুর বাস্তব জগতটাই ধীরে ধীরে আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

তাই স্ক্রিন-ফ্রি শৈশব মানে শিশুকে সারাদিন ব্যস্ত রাখা নয়। বরং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে স্ক্রিন ছাড়াও শিশুর সামনে থাকে-মানুষ, কথা, খেলা, বই, প্রকৃতি, কল্পনা আর বাস্তব জীবনের অসংখ্য ছোট ছোট আবিষ্কার।

মোবাইল বা অসময়ে টিভি বাচ্চাদের স্পিচ কেরে নিচ্ছে, ডেভলপমেন্টাল নানা ডিলে দেখা দিচ্ছে তাও কেন সচেতন হবেন না। যখন সচেতন হচ্ছেন তখন দেরি হয়ে যাচ্ছে। আসলে বাবা-মা সম্মিলিত সিদ্ধান্তটাই আসল। তাহলে শিশুর শৈশব এনজয়েবল করতে পারবেন। অন্তত প্রথম ২ বছর স্ক্রীন ফ্রী আর ৫ বছর সর্বোচ্চ কেয়ালিটি টাইম দিতে চেষ্টা করুন।

যারা জব হোল্ডার বাবা-মা তারা নিজ বাবা-মার সাহায্য বা বেশি ইনভেস্ট করে ভালো কেয়ার গিভারের সাহায্য নিন। আর নিজেরা কোয়ালিটি টাইমে ফোকাস করুন।

ধন্যবাদ
ShebikAmit

“পরে করব”-ADHD টিনএজার কেন কাজ ফেলে রাখে?টিনএজ ADHD সামলানো: বাবা-মায়ের জন্য বিহেভিয়ারাল থেরাপি সিরিজ | পর্ব–৬“ও সব কাজ ...
18/09/2026

“পরে করব”-ADHD টিনএজার কেন কাজ ফেলে রাখে?

টিনএজ ADHD সামলানো: বাবা-মায়ের জন্য বিহেভিয়ারাল থেরাপি সিরিজ | পর্ব–৬

“ও সব কাজ শেষ মুহূর্তে করে!” “এক সপ্তাহ আগে অ্যাসাইনমেন্ট দিয়েছে, কিন্তু জমা দেওয়ার আগের রাতে শুরু করে।” “প্রতিদিন বলে-পরে করব, পরে করব!”, “পরীক্ষার আগে হঠাৎ সারারাত পড়তে বসে!”, “কাজটা কঠিন না, তারপরও কেন শুরু করে না-আমি বুঝি না!” এমন পরিস্থিতিতে বাবা-মায়ের প্রথম মনে হয়-“এটা নিছক অলসতা।”

কিন্তু ADHD টিনএজারের ক্ষেত্রে বিষয়টি সবসময় এত সরল নয়। অনেক সময় সে কাজটি করতে চায়, কাজটি জরুরি জানে, এমনকি কাজটি না করলে কী হবে সেটাও বোঝে-তবুও শুরু করতে পারছে না।

এখানেই আমাদের বুঝতে হবে, জানা আর শুরু করতে পারা এক জিনিস নয়।

Procrastination আসলে কী?

সহজ ভাষায়-যে কাজটি এখন করা প্রয়োজন, সেটি জেনেও বারবার পরে করার জন্য সরিয়ে রাখা-এটাই কাজ ফেলে রাখার অভ্যাস।

টিনএজ ADHD-তে এর পেছনে থাকতে পারে,

১। কাজ শুরু করতে অসুবিধা
২। বড় বা জটিল কাজ দেখে overwhelmed হওয়া
৩। একঘেয়ে কাজে দ্রুত বিরক্ত হয়ে যাওয়া
৪। সময়ের হিসাব ঠিকভাবে না থাকা
৫। তাৎক্ষণিক আনন্দের কাজকে বেশি আকর্ষণীয় মনে হওয়া
৬। কাজের ফল অনেক পরে পাওয়া যাবে বলে আগ্রহ কমে যাওয়া
৭। ভুল করার ভয়
৮। “এত বড় কাজ, কোথা থেকে শুরু করব?”-এই দ্বিধা

তাই সন্তান যখন বলে, “পরে করব।” তার মানে সবসময়-“আমি করতে চাই না।” এমন নয়। অনেক সময় এর অর্থ হতে পারে-“আমি জানি কাজটা করতে হবে, কিন্তু কীভাবে শুরু করব বুঝতে পারছি না।”

প্রথম কাজ: “কেন ফেলে রাখছে?” সেটা খুঁজে বের করুন। সব Procrastination-এর কারণ এক নয়।
এক সপ্তাহ লক্ষ্য করুন।

আপনার সন্তান কোন ধরনের কাজ বেশি ফেলে রাখে?

যদি শুধু কঠিন কাজ ফেলে রাখে, সম্ভবত কাজটি তার কাছে খুব বড় বা কঠিন মনে হচ্ছে।

যদি একঘেয়ে কাজ ফেলে রাখে,সম্ভবত আগ্রহ ও মনোযোগ ধরে রাখার সমস্যা বেশি।

যদি দীর্ঘমেয়াদি কাজ ফেলে রাখে,সম্ভবত সময় পরিকল্পনা ও কাজ ভাগ করার দক্ষতায় সমস্যা হচ্ছে।

যদি ভুল করার ভয় থাকে,সম্ভবত কাজের প্রতি উদ্বেগ বা আত্মবিশ্বাসের সমস্যা থাকতে পারে।

যদি প্রায় সব কাজই ফেলে রাখে,তাহলে বিষয়টি আরও বিস্তৃতভাবে মূল্যায়ন করা দরকার।

কারণ না বুঝে শুধু “পরে করো না” বললে আচরণ বদলানো কঠিন।

Behavioural Therapy-এর প্রথম লক্ষ্য: কাজটাকে ছোট করা। ধরুন সন্তানকে বলা হলো- “আজ পুরো বিজ্ঞান অধ্যায়টা শেষ করো।”

তারপর সে বই খুলেই বসে রইল। এর পরিবর্তে বলুন, “প্রথমে শুধু ২ পৃষ্ঠা পড়ো।”শেষ হলে, “এবার ৫টি প্রশ্নের উত্তর দাও।”তারপর- “এখন ৫–১০ মিনিট বিরতি।”অর্থাৎ বড় কাজ → ছোট কাজ → আরও ছোট কাজ। যত সহজে কাজ শুরু করা যায়, শুরু করার বাধাও তত কম হতে পারে।

দ্বিতীয় কৌশল: “কখন করবে?” নয়, “ঠিক কখন শুরু করবে?”, “আজ পড়বে তো?”, “পরে অ্যাসাইনমেন্ট করো।”,“সময় করে কাজটা শেষ করো।” এসব কথা খুব অস্পষ্ট। এর বদলে “বিকেল ৬টায় আমরা অ্যাসাইনমেন্টের প্রথম প্রশ্নটা শুরু করব।” এখানে সময় এবং কাজ দুটোই নির্দিষ্ট।
প্রয়োজনে অ্যালার্ম দিন। অ্যালার্ম বাজবে → টেবিলে বসবে → শুধু প্রথম ছোট কাজটি শুরু করবে।

তৃতীয় কৌশল: “শুধু ৫ মিনিট শুরু করি”

অনেক সময় ADHD টিনএজারের সবচেয়ে বড় বাধা হলো শুরু করা। তাই বলতে পারেন-“পুরো কাজ শেষ করতে হবে না। শুধু ৫ মিনিট শুরু করি।”
৫ মিনিট পর সে চাইলে আরও কিছুক্ষণ চালিয়ে যেতে পারে। কিন্তু লক্ষ্য থাকবে-“আজ আমি কাজ শুরু করেছি।” শুরু করার আচরণটিই প্রথমে শক্তিশালী করতে হবে।

চতুর্থ কৌশল: মাথার ভেতরের কাজকে কাগজে আনুন

ADHD টিনএজারের মাথায় যদি থাকে-“আমাকে অ্যাসাইনমেন্ট করতে হবে।” এটি খুব বড় ও অস্পষ্ট।

তার বদলে লিখুন,

☐ প্রশ্নগুলো পড়ব
☐ প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজব
☐ প্রথম অংশ লিখব
☐ দ্বিতীয় অংশ লিখব
☐ বানান/ভুল দেখব
☐ জমা দেব

এখন “অ্যাসাইনমেন্ট করা” আর একটি বিশাল কাজ নয়। এটি কয়েকটি ছোট কাজ।

পঞ্চম কৌশল: তাৎক্ষণিক আকর্ষণকে বুঝুন

ধরুন, পড়াশোনা করলে ফল পাওয়া যাবে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস পরে। কিন্তু ফোন খুললেই আনন্দ এখনই। গেম খেললেই উত্তেজনা এখনই।
বন্ধুর মেসেজের উত্তর দিলে সামাজিক আনন্দ এখনই। তাই বাবা-মা যদি শুধু বলেন, “ভবিষ্যতের জন্য পড়ো।” তা সবসময় যথেষ্ট প্রেরণা নাও হতে পারে। এখানে পরিবেশ ও রুটিনকে এমনভাবে সাজানো দরকার যাতে কাজ শুরু করার পর দ্রুত ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। যেমন:প্রথমে নির্ধারিত পড়ার কাজ → তারপর নির্ধারিত অবসর।

ষষ্ঠ কৌশল: “শুরু করেছে”-এটাকেও পুরস্কৃত করুন
ধরুন আপনার সন্তান আগে রাত ১১টায় অ্যাসাইনমেন্ট শুরু করত। আজ সে ৮টায় বসেছে।
কাজটি পুরো শেষ হয়নি। তবুও বলুন, “আজ তুমি আগেই শুরু করেছ। এটা খুব ভালো পরিবর্তন।”
কারণ আমরা চাই, শেষ মুহূর্তের আচরণ নয়, সময়মতো শুরু করার আচরণটি শক্তিশালী হোক।

একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুল এড়িয়ে চলুন

সন্তান কাজ ফেলে রাখছে দেখে বাবা-মা অনেক সময় শেষ পর্যন্ত,নিজেই কাজটি করে দেন।
অথবা, “দাও, আমি বলে দিচ্ছি।” “তুমি পারবে না, আমি করে দিচ্ছি।” “কাল জমা দিতে হবে, এখন আমি বসছি তোমার সঙ্গে।” এতে সেই মুহূর্তের সমস্যা মিটে যায়। কিন্তু সন্তান হয়তো শিখে যায়
“আমি দেরি করলেও শেষ পর্যন্ত কেউ না কেউ আমাকে উদ্ধার করবে।” তাই সাহায্য করুন, কিন্তু কাজটি তার হয়ে করবেন না। এই আদর দেখানোর দরকার নেই।

সপ্তম কৌশল: “Rescue” নয়, “Support”

ধরুন রাত ১০টা। সন্তান বলছে, “কাল অ্যাসাইনমেন্ট জমা। আমি এখনো শুরু করিনি!”
রাগ করে- “বলেছিলাম না! এখন নিজেই সামলাও।” আবার সবকিছু নিজে করে দেওয়াও ঠিক নয়। বরং “ঠিক আছে। এখন দেখি কাজটাকে কীভাবে ছোট করা যায়। প্রথমে প্রশ্নগুলো পড়ো। আমি পাশে আছি।” এতে সন্তান সমস্যার মুখোমুখি হয়, কিন্তু একা পড়ে যায় না।

অষ্টম কৌশল: “কাজ শেষ” নয়, “পরবর্তী ধাপ” ভাবুন

Procrastination-এর সময় সন্তানকে জিজ্ঞেস করুন-“পুরো কাজটা কীভাবে শেষ করবে?”এর বদলে-“এখন তোমার পরবর্তী ছোট কাজটা কী?”
যেমন: “বইটা খুলব।” তারপর “প্রথম প্রশ্নটা পড়ব।”
তারপর “উত্তরের প্রথম লাইন লিখব।” এই ছোট ছোট পদক্ষেপই বড় কাজকে এগিয়ে নেয়।

এবার একটি বাস্তব Behaviour Plan দিচ্ছি,

সমস্যা: অ্যাসাইনমেন্ট শেষ মুহূর্তে করে।

আগে কী ঘটে?

১। কাজটি অনেক বড় মনে হয়
২। ফোন ব্যবহার শুরু করে
৩। “পরে করব” ভাবে

আচরণ: কাজ শুরু করে না

পরে কী ঘটে?

১। বাবা-মা বকেন
২। সময় চলে যায়
৩। শেষ রাতে বাবা-মা পাশে বসেন
৪। কোনোভাবে কাজ শেষ হয়

Intervention:

১. কাজ পাওয়ার দিনই পুরো কাজটাকে ছোট অংশে ভাগ করা।

২. নির্দিষ্ট শুরু করার সময় ঠিক করা।

৩. শুরু করার আগে ফোন দূরে রাখা।

৪. প্রথমে মাত্র ৫–১০ মিনিটের কাজ দেওয়া।

৫. কাজ শুরু করলেই নির্দিষ্ট প্রশংসা।

৬. ছোট অংশ শেষ হলে বিরতি।

৭. পরের দিন আবার পরবর্তী অংশ।

৮. শেষ মুহূর্তে বাবা-মা এসে পুরো কাজ উদ্ধার করবেন না।

এভাবে ধীরে ধীরে সন্তানকে শেষ মুহূর্তের চাপের ওপর নির্ভর না করে আগে থেকে কাজ শুরু করা শেখানো যায়।

৭ দিনের Procrastination Practice

দিন–১: কোন কোন কাজ সন্তান সবচেয়ে বেশি ফেলে রাখে-লিখুন।

দিন–২: একটি কাজ নির্বাচন করুন।

দিন–৩: কাজটিকে ৩–৫টি ছোট ধাপে ভাগ করুন।

দিন–৪: নির্দিষ্ট শুরু করার সময় ঠিক করুন।

দিন–৫: “শুধু ৫ মিনিট” কৌশল ব্যবহার করুন।

দিন–৬: কাজ শুরু করার আচরণকে প্রশংসা করুন।

দিন–৭: দেখুন-কোন ধাপে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে।

এরপর সেই নির্দিষ্ট জায়গাটিকে লক্ষ্য করে নতুন কৌশল যোগ করুন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা। আপনার সন্তান যদি বারবার বলে-“পরে করব” তাহলে প্রতিবার শুধু বলবেন না-“এখনই করো!” একবার থেমে ভাবুন-“কাজটা শুরু করার পথে তার বাধাটা কোথায়?” কাজটা কি খুব বড়? নির্দেশ কি অস্পষ্ট?
সময় কি নির্দিষ্ট নয়? ফোন বা অন্য আকর্ষণ কি সামনে? নাকি কাজটি নিয়ে ভয় বা হতাশা তৈরি হচ্ছে?কারণটা খুঁজে বের করতে পারলে Intervention অনেক বেশি নির্দিষ্ট করা যায়।

আর মনে রাখবেন,ADHD টিনএজারকে সময়মতো কাজ করতে শেখানো মানে তাকে সারাক্ষণ তাড়া করা নয়।আজ বাবা-মা তাকে সাহায্য করবেন।
আগামীকাল checklist ব্যবহার করতে শেখাবেন।
তারপর alarm ব্যবহার করতে শেখাবেন। এরপর নিজে পরিকল্পনা করতে উৎসাহ দেবেন।

শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য হবে, “মা-বাবা বললে কাজ করব” থেকে “আমার কাজ আছে-আমি নিজেই শুরু করব।” এই পরিবর্তনটাই আসল সাফল্য। ❤️ এবং আপনারা চেষ্টা করে যান অবশ্যই সফল হবেন।

পরের পর্বে থাকছে,“মোবাইল, গেম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম: ADHD টিনএজারের স্ক্রিন ব্যবহারে কীভাবে সীমা তৈরি করবেন?”

ShebikAmit

Address

Dhaka
1229

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ShebikAmit posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to ShebikAmit:

Shortcuts

Share