19/10/2025
💔 এক অসমাপ্ত ভালোবাসার গল্প — আমার আর সুমাইয়ার ❤️
সবকিছুর শুরু একদিন, যখন আমার এক বন্ধু তার পরিবারকে আমার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। তার আম্মু আর বোন সেদিন প্রথম আমার সঙ্গে দেখা করে। বন্ধুর বোন সুমাইয়া—চুপচাপ, ভদ্র, চোখে লজ্জা আর মুখে হাসি। প্রথম দেখাতেই যেন একটা অচেনা টান অনুভব করেছিলাম। পরে জানতে পারি, ওরও আমার প্রতি তেমনই অনুভূতি জন্মেছিল, যদিও প্রথমে ও আমাকে “ভাইয়া” বলেই ডাকতো।
একদিন আমি আর আমার ছোট ভাই একটা মেলায় বেড়াতে যাই। কাকতালীয়ভাবে সেই একই মেলায় আমার বন্ধু ও তার পরিবারও আসে। মেলা শেষে সবাই একসাথে এক গাড়িতে বাড়ি ফিরি। সেই যাত্রার পর থেকেই সুমাইয়ার আম্মুও আমার সম্পর্কে জানলেন, এবং বুঝতে পারলেন আমি কেমন মানুষ।
কয়েকদিন পর একদিন হঠাৎ ফোনে আসে এক মেসেজ —
“আসসালামু আলাইকুম।”
আমি রিপ্লাই দিই, “ওয়ালাইকুম আসসালাম।”
জিজ্ঞেস করি, “আপনি কে?”
ও উত্তর দেয়, “আমি সুমাইয়া।”
আমি অবাক হয়ে বলি, “তুমি আমার নাম্বার কই পাইলা?”
হাসতে হাসতে বলে, “ভাইয়ার ফোন থেকে নিয়েছি।”
সেই ছোট্ট কথোপকথন থেকেই শুরু হয় আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ।
আস্তে আস্তে আমরা একে অপরের জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠি।
এক সময় আমরা রিলেশনশিপে যাই — এক বছর ধরে ওর সাথে চলেছে এক নিখাদ, সত্যিকারের সম্পর্ক।
সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপার ছিল, ওর আম্মুও আমাদের সম্পর্ক জানতেন, এবং আমাকেও ভালোবাসতেন। তাই কোনো বাধা আসেনি।
আমরা মাঝে মাঝে দেখা করতাম। মেলায়, কিংবা বাইরে কোনোদিন হঠাৎ।
করোনার সময় ও ভ্যাকসিন নিতে গেলে আমি নিজেই ওর আম্মুর সঙ্গে গিয়ে ওকে নিয়ে আসি।
সেদিন হাসপাতালে ও আমার হাত ধরে খুব শান্তভাবে বলেছিল —
“এই হাত আমি কোনোদিন ছেড়ে যাবো না।”
ওর আম্মু আমাদের দিকে তাকিয়ে শুধু মুচকি হেসেছিলেন।
সেদিন ওর আম্মু আর ও একসাথে শপিং করে, আমার জন্য কিছু নিতে চায়।
আমি না করলেও, ও জোর করে একজোড়া জুতা গিফট করে দেয়।
তারপর আমরা একসাথে একটা রেস্টুরেন্টে বসে দুপুরে লাঞ্চ করি।
সেদিনটায় মনে হচ্ছিল, সময়টা যেন থেমে গেছে আমাদের জন্য।
বাসায় ফিরে আম্মা জিজ্ঞেস করেন,
“তুই সারাদিন কই ছিলি? এই জুতাগুলো কে দিলো? সত্যি করে বল।”
আমি একটু চুপ করে ছিলাম, তারপর সব খুলে বললাম।
আম্মা সব শুনে হেসে বললেন,
“আচ্ছা, আমি ওদের আম্মুর সঙ্গে কথা বলবো।”
তারপর দুই পরিবারেই আমাদের সম্পর্কটা জানা হয়ে গেল।
সব কিছু যেন আরও সুন্দর হয়ে উঠলো।
সুমাইয়া আমার আম্মাকে “মা” বলে ডাকতো,
প্রায়ই ফোনে বলতো, “মা, কেমন আছেন?”
আম্মা ওকে নিজের মেয়ের মতো ভালোবাসতেন।
একদিন আমি মজা করে আম্মাকে বললাম,
“এই মেয়ে টাকেই আমি চাই, আম্মা।”
আম্মা হাসলেন আর বললেন,
“তুই বড় হ, প্রতিষ্ঠিত হ, তারপর আমি এই সুমাইয়াকেই তোকে এনে দেবো।”
তখন জানতাম না, সেই কথার পরে আর কোনো “আগামীকাল” থাকবে না আমাদের।
আজ যখন শুনি, সুমাইয়া আর আমার নেই —
ও এখন অন্য কারো হয়ে গেছে 💔
ওর বিয়ের খবরটা শুনে যেন এক মুহূর্তে পুরো পৃথিবী থেমে গেল।
আমার চোখে শুধু অন্ধকার।
সেদিন আব্বা-আম্মা আমাকে একা থাকতে দেননি, সারাক্ষণ পাশে ছিলেন।
কিন্তু ভেতরটা এতটাই ফাঁকা লাগছিল, মনে হচ্ছিল হৃদয়টা যেন থেমে গেছে কোথাও…
যে মেয়েটা একদিন আমার হাত ধরে বলেছিল,
“এই হাত আমি কখনো ছেড়ে যাবো না…”
আজ সেই হাতটাই অন্য কারোর হাতে… 💔
---
💔 ক্যাপশন:
“সব গল্পের শেষটা সুখের হয় না…
কিছু গল্প শুধু মনে থেকে যায়,
হৃদয়ের এক কোণে বেজে ওঠে এক মধুর ব্যথার সুর…” 💔