11/07/2025
ছেলে থাকে অস্ট্রেলিয়ায়। প্রতিমাসে বাবার একাউন্টে টাকা পাঠায়। বাবা সেখান থেকে কিছু টাকা তুলে সংসার চালান, বাকি টাকা জমা থাকে একাউন্টে। গত দুই বছর এভাবেই চলছে তাদের সংসার। এরই মধ্যে ছেলের পাঠানো টাকা জমা হতে হতে দশ লাখে পরিণত হয়েছে।
এবার ছেলে সে টাকা তার মায়ের নামে ফিক্সড ডিপোজিট করে রাখতে চায়। বাবাও তাতে খুশি।
আজ বাবা-মা জনতা ব্যাংক, দাউদকান্দি শাখায় আসেন। তারা যখন আমার সামনে বসা, এ সময় ছেলে আমাকে ফোন দিয়ে অনুরোধ করে- আমি যেনো পুরো দশ লাখ টাকা তার মায়ের হাতে কিছুক্ষণের জন্য তুলে দেই। মা তার ছেলের কামাইয়ের টাকা নিজ হাতে ছুঁয়ে দেখবেন।
তার কথা শুনে আমি কিছুক্ষণ চুপ হয়ে গেলাম!
মায়ের সেই ছোট্ট খোকাটি আজ অনেক বড় হয়ে গেছে। সে কেবল তার কামাইয়ের টাকা পরিমাণ বা সংখ্যা দিয়ে মাকে বুঝাতে চায় না, মায়ের চোখে দৃশ্যমান করাতে চায়।
দেখো মা- এই টাকা তোমার খোকা তোমার জন্য জোগাড় করেছে!
ছেলের কথাগুলো শুনছিলাম, আর মনে মনে ভাবছিলাম ছোট্ট বেলার “বীরপুরুষ” কবিতাটির কথা-
মনে করো, যেন বিদেশ ঘুরে
মাকে নিয়ে যাচ্ছি অনেক দূরে।
তুমি যাচ্ছ পালকিতে মা, চড়ে
দরজা দু'টো একটুকু ফাঁক করে,
আমি যাচ্ছি রাঙ্গা ঘোড়ার ‘পরে
টগবগিয়ে তোমার পাশে পাশে।
আজকাল তো অনেক মায়েরা জানতেই পারে না তার ছেলের রোজগারের খবর ! প্রতিটি মায়ের এমন একটি করে “বীরপুরুষ”থাকুক।
-- মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন
ব্যবস্থাপক, জনতা ব্যাংক,
দাউদকান্দি শাখা, কুমিল্লা।
পোষ্টটি পড়ে ভালো লাগলো তাই বন্ধুদের পড়ার সুযোগ করে দিতে পোষ্ট করলাম। আসলে বাবা মায়ের ঋন কখনো টাকা দিয়ে শোধ করা যায় না। তবে বাবা মায়ের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য সন্তানের একটু সদিচ্ছাই যথেষ্ট। এই বীরপুরুষ সন্তানটির আজকের এই আচরনে মায়ের মনে যে প্রশান্তি বয়ে গেছে তার কোন তুলনা হতে পারে না। প্রতিটি ঘরে ঘরে এমন সন্তান জন্ম নিক যাদের ব্যবহারে মা বাবার মন শান্ত হয়ে যায়। আমিন।
কি সুন্দর তাইনা??
collected