21/02/2025
এক ছিলো একটি ছোট্ট গ্রাম, যেখানে মানুষ খুব শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করতো। কিন্তু, গ্রামের এক কোণে একটি পুরনো, জরাজীর্ণ বাড়ি ছিল, যেখানে কেউ যেতে চাইতো না। গ্রামবাসীরা বলতো, বাড়িটি অভিশপ্ত। অনেকেই বলতো, বাড়ির ভেতর রহস্যময় কিছু আছে।
একদিন, এক সাহসী যুবক, যার নাম সোহেল, ঠিক করলো সে ওই বাড়িতে যাবে এবং সেই রহস্য উদ্ঘাটন করবে। গ্রামের বয়স্করা তাকে সতর্ক করেছিল, কিন্তু সে কিছু না শোনে এক সন্ধ্যায় বাড়ির দিকে রওনা দিল।
বাড়ির দরজা খুলে সে ঢুকতেই ঘরের মধ্যে অদ্ভুত এক ঠাণ্ডা বাতাস বইতে থাকে। ঘরটি অন্ধকার, এবং শুধু এক কোণে একটি পুরনো, ম্লান আলোর বাতি ঝুলছিল। সোহেল সামনে এগিয়ে গেল। ঘরের একেবারে শেষ প্রান্তে একটি ছোট্ট কাঠের বাক্স ছিল। তার মনে হলো, বাক্সটি খুলতে হবে।
বাক্সটি খুলতেই একটি প্রাচীন চিঠি বেরিয়ে আসে। চিঠিটি এক রহস্যময় ভাষায় লেখা ছিল, যা সোহেলের কাছে অজানা ছিল। চিঠির মধ্যে একটি বিশেষ রূপরেখা ছিল, এবং তাতে একটি স্থান নির্দেশিত ছিল—এটি ছিল গ্রামের একটি গাছের তলে।
সোহেল সিদ্ধান্ত নিল, সে চিঠির অনুসরণ করবে। পরদিন সকালে সে গাছের নিচে গিয়ে খোঁজ করতে থাকে। কিছুক্ষণ পরে, তার চোখে পড়ে একটি লাল রঙের পাথর, যেটি গাছের তলার মাটিতে লুকানো ছিল। পাথরটি তোলার সাথে সাথে মাটির নিচে একটি গোপন সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ খুঁজে পায়।
সোহেল সুড়ঙ্গে প্রবেশ করে দেখে, সেখানে একটি পুরনো ধ্বংসাবশেষ। সেখানকার দেওয়ালে একটি প্রাচীন ছবির মতো কিছু ছিল, যেখানে কয়েকজন মানুষ, তাদের চোখে অদ্ভুত এক আলো ছিল। সে ছবির দিকে আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে যায়। ছবির উপরের লেখা ছিল, “যারা এটি দেখে, তারা ফিরে যাবে না।”
সোহেল ভয় না পেয়ে এগিয়ে গেল। তার সামনে একটি দরজা খুলে গেল, যেখানে প্রবাহিত হচ্ছিলো অদ্ভুত এক সুরেলা শব্দ। তবে, শব্দটি যেন এক সময় দুঃখের এবং এক সময় আনন্দের ছিল। সে দরজার দিকে এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে, শব্দটি আরও জোরালো হতে থাকে।
বুঝতে পেরে, সোহেল দ্রুত দৌড়ে বেরিয়ে আসে। সে জানতো যে, সেই রহস্যময় স্থানটি এক অভিশপ্ত স্থান, যেখানে বহু পুরনো আত্মারা বাস করছে। তাদের শান্তি ছিল, কিন্তু সেই জায়গায় কারও প্রবেশ তাদের দুঃখ বাড়িয়ে দিতো।
এটি ছিল একটি প্রাচীন গ্রামবাসীর জন্য শাস্তি। যা কেউ জানতো না, আর সোহেলও কখনো আর সে রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করেনি।
কিন্তু, গ্রামবাসীরা কখনো ভুলতে পারে না সেই রহস্যময় ঘর আর সেই রহস্যের চোখে তাদের অদেখা অতীত।