প্রবাসের গল্প

প্রবাসের গল্প আপনার প্রবাস জীবনের সুখ-দুঃখের যেকোনো গল্প ইনবক্সে শেয়ার করতে পারেন।
🇧🇩🇸🇦🇰🇼🇦🇪🇱🇧🇿🇦🇯🇵🇰🇷🇫🇴

Permanently closed.
25/01/2026

লম্বা সময় জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের বক্তব্য এবং এ্যক্টিভিটি লক্ষ করে, তাদের ব্যাপারে ১০টি বিষয় বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়েছি৷

এক,
আমি বিশ্বাস করি: জামায়াত 'ইসলাম' প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করে না৷ তারা ইসলামের নাম ব্যবহার করে ক্ষমতার রাজনীতি করে৷ (যেটা তাদের কয়েকজন প্রার্থীর বক্তব্য থেকেও ইতি মধ্যেই স্পষ্ট প্রামাণিত হয়েছে)

দুই,
তাদের নেতাগণ হাজারো অন্যায় এবং শরীয়ত বিরোধী বয়ান দিলেও কর্মীরা সেটার ন্যূণতম ভাষায় প্রতিবাদ কিংবা সমালোচনা করবে না৷
অন্য কেউ ইনসাফের সাথে সমালোচনা করলেও তাকে ইবাদত ও দায়িত্ব মনে করে গালী গালাজ করবে৷
তাদের এই চরিত্রটা এই জন্য জঘন্য, তারা চাপে পড়লে বলতে বাধ্য হয় যে "কেউ তো ভুলের উর্ধ্বে না" কিন্তু নিজেরা প্রতিবাদ করবে না৷ তাদের আচরণ দ্বারা প্রমাণ হয়: তাদের মুখ থেকে সাহাবীদের সমালোচনা বের হবে, কিন্তু তাদের ফাসেক নেতাদের সমালোচনা বা প্রতিবাদ বের হবে না৷

তিন,
আমার কাছে ডা. শফিক সাহেবকে যতটুকু ভদ্র আর উদার মনে হয়, নায়েবে আমীর ডা. আবু তাহের ততটুকুই কুটকৌশলী এবং মুনাফিক মনে হয়৷ ভবিষ্যতে জামায়াত যদি অপূরণীয় কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হয় তাহলে এই নায়েবে আমীরের হাত ধরেই সেটা হবে৷

চার,
আল্লাহর নামের কসম খেয়ে বলতে পারি, এবং আমি বিশ্বাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে একথা লালন করি যে,
"জামায়াত কোনো ইসলামী দল না, কখনোই না"
যেই দলের আমীর একজন ডাক্তার, নায়েবে আমীর একজন ডাক্তার, অধিকাংশ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উকিল ও ব্যরিষ্টার, তাদের দ্বারা হাসপাতাল আর কোর্ট-কাচারি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, তবে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে না৷

পাঁচ,
সারা দেশে জামাতের মহিলা নেতৃরা কোরআন শরিফ সাথে নিয়ে গ্রামের সহজ সরল মহিলাদেরকে কোরআনে হাত রেখে শপথ পড়ায় "বলুন যে, আমি মুসলমান হিসেবে কোরআনের পক্ষে, ইসলামের পক্ষে ভোট দিবো" শপথ শেষে বলে যে, কোরআন শরিফে হাত রেখে বলার পরও যদি দাড়িপাল্লায় ভোট না দেন তাহলে আল্লাহর আদালতে আপনাকে দাঁড়াতে হবে৷

বাস্তবতা হলো: বাংলাদেশে জামায়াত ক্ষমতার জন্য যে পরিমাণ ইসলামকে ব্যবহার করেছে আমি আপনি তা কল্পনাও করতে পারবো না৷

ছয়,
জামায়াত যতটুকু আল্লাহর কাছে সাহায্য চায় তার চেয়ে বেশি এমেরিকার কাছে সাহায্য চায়৷
অতএব, যে দলের ভরসা এমেরিকার উপর তাদের দ্বারা এমেরিকান ইসলাম প্রতিষ্ঠা হবে, মদিনার ইসলাম প্রতিষ্ঠা হবে না৷

সাত,
জামায়াতের প্রত্যেক নেতা মুখে যে পরিমাণ মধু রাখে তাদের অন্তরে এরচেয়ে হাজার গুণ বেশি বিষ তারা চাষাবাদ করে৷
মিডিয়া ও টকশোতে তাদের চরিত্র একরকম, বাস্তবতায় তাদের চরিত্র সম্পন্ন ভিন্ন রকম৷ সম্ভবত এজন্যই তাদেরকে সবাই মুনাফিক দল আখ্যায়িত করে৷

আট,
কথাটা শুনে কষ্ট দায়ক মনে হলেও এটা সত্য যে,'জামায়াত' ক্ষমতায় গেলে দেশের ইসলামী কালচার নষ্ট হবে৷ সমকামিতাসহ সমস্ত অশ্লীলতাকে মানবাধিকারের নামে নীরবে সমর্থন দিয়ে যাবে৷ নিজেরা আন্দোলন করিয়ে সব অপকর্মের বৈধতা দিয়ে বিদেশী সমর্থন আদায় করে নিজেদের ক্ষমতার মসনদকে শক্তিশালি করবে৷

নয়,
আমি একথা দৃঢ়তার সাথে বিশ্বাস করি: যেই দলের নেতা কর্মীরা তাদের তিন হাত বোডিতে ইসলাম কায়েম করতে পারেনি, তারাই আবার সারা দেশে ইসলাম কায়েম করবে? এই কথা শয়তানও বিশ্বাস করবে না৷

দশ,
যদি কেউ প্রশ্ন করে: সমস্ত ইসলামী রাজনৈতিক দল আর জামায়াতের মধ্যে পার্থক্য কী?
জবাব হলো: সমস্ত ইসলামী দল ইসলামের জন্য ক্ষমতাকে বিসর্জন দিতে পরোয়া করবে না৷
কিন্তু জামায়াত ক্ষমতার জন্য পুরো ইসলামকে বিসর্জন দিতে পরোয়া করবে না৷

ক্ষমতাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য উদ্দেশ্য৷ 'ইসলাম' এটা তো কেবল সাইনবোর্ড মাত্র…………

২০২৪ এ দেশের কথা চিন্তা করে রেমিট্যান্স শাটডাউন করলাম।২০২৫ এ না হয় নিজের কথা চিন্তা করে রেমিট্যান্স শাটডাউন করলাম। ইমার্...
05/12/2025

২০২৪ এ দেশের কথা চিন্তা করে রেমিট্যান্স শাটডাউন করলাম।
২০২৫ এ না হয় নিজের কথা চিন্তা করে রেমিট্যান্স শাটডাউন করলাম।

ইমার্জেন্সি হলে বিকাশে পাঠান ,তবুও দাবি না মানা পর্যন্ত ব্যাংকে ভয়কট করুন।

যে দেশ' আমার জন্য কিছু করবে না' তার কথা চিন্তা না করাই ভালো।

#রেমিটেন্স #প্রবাসী

এই ছেলেটির নাম কাজল। বাড়ি নোয়াখালির হাতিয়া উপজেলায়।কয়েক দিন আগে এক বাঙ্গালি ভাইয়ের সবজির মাজরাতে  কাজের লোক দরকার বলে ফে...
23/10/2025

এই ছেলেটির নাম কাজল। বাড়ি নোয়াখালির হাতিয়া উপজেলায়।
কয়েক দিন আগে এক বাঙ্গালি ভাইয়ের সবজির মাজরাতে কাজের লোক দরকার বলে ফেসবুকে একটা পোস্ট দিয়েছিলো। সেই পোস্ট দেখে কাজল নামক ছেলেটি যোগাযোগ করে এবং সেলারী সহ যাবতীয় কিছু ফাইনাল করে সেই মাজরাতে কাজে যায়। প্রায় ১৫ দিন ধরে সে সেখানে কাজ করছিল।

সেই মাজরাতে মোট ১২ জন লোক কাজ করে। তাদের একজন আমিনুল ইসলাম (বাড়ি রংপুর)। আমিনুল দেশে গিয়ে বিয়ে করবে বলে আগে থেকেই ৪ ভরি গহনা কিনে রেখেছিল এবং কিছু টাকা জমিয়ে রেখেছিল।সামনে মাসে তার দেশে যাওয়ার কথা ছিলো।

আজ সকালে সবাই কাজে চলে গেলে কাজল বলে, সে অসুস্থ — তাই আজ কাজে যাবেনা। কিন্তু সবাই চলে যাওয়ার পর, রুমে কেউ না থাকায়, সে হাতুড়ি দিয়ে আমিনুলের আলমারির তালা ভেঙে ৪ ভরি গহনা ও ২,৯০০ সৌদি রিয়াল নিয়ে পালিয়ে যায়।

এখন আমিনুলের অবস্থা খুব খারাপ। সে প্রায় ৫ বছর ধরে এই মাজরাতে কাজ করছে। কষ্ট করে টাকাগুলো জমিয়েছিল।বিয়ের জন্য গহনা কিনেছিল। এখন সব শেষ। তার মা দেশে থেকে ফোন করে ভীষণ কান্নাকাটি করতেছেন।

লোক মারফত জানা গেলো, কাজল পালিয়ে সম্ভবত জেদ্দার সানাইয়া নামক এলাকায় তার এক আত্মীয়ের কাছে গেছে।

👉 সবার কাছে অনুরোধ: কেউ যদি এই কাজলকে চিনে থাকেন বা তার পরিবারের ঠিকানা জানেন, দয়া করে আমাদের জানান।

👉 কাজল, তোমার উদ্দেশে বলছি:
যদি এই পোস্ট দেখো, দয়া করে আমিনুলের জিনিসপত্র ফিরিয়ে দাও। নিজে থেকে ফেরত দিলে কেউ তোমাকে কিছু বলবে না । কিন্তু না দিলে, তুমি যে অন্যায় করছো তার দশগুণ বেশি শাস্তি পাবা। — পালিয়ে থাকা সম্ভব হবে না। আমাদের বাংলাদেশি কিছু কিছু মানুষ কী পরিমাণ খারাপ, সেটা তুমি প্রমাণ করছো।

copypost

মান সিক ভারসম্য হীন এই প্রবাসীকে দেখলে জানাতে পারেন, সোহেল মোহাম্মদ পিতা ওয়াহেদ আলী আজমানে গত চার মাস আগে সাইকেল দু র্ঘ...
29/07/2025

মান সিক ভারসম্য হীন এই প্রবাসীকে দেখলে জানাতে পারেন,

সোহেল মোহাম্মদ
পিতা ওয়াহেদ আলী
আজমানে গত চার মাস আগে সাইকেল দু র্ঘ টনা অবস্থায় পুলিশ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় চিকিৎসা শেষে দেখা যায় তার স্মরণশক্তি নাই সে কিছুই বলতে পারে না। পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়ায় সে পূর্বে ঠিকানা আসতে পারে নাই, কেউ এ লোকের খোঁজ যদি কেউ পান তাহলে এই নাম্বারে যোগাযোগ করবেন +97154 79 66376

ময়নার বাবা বিদেশ থাকায় মা পরকীয়ায় জড়িত ছিলো।ময়নার চাচার সাথে গত ৩ দিন আগে যেদিন ময়না নিখোঁজ খবর প্রকাশ পেলো ঐদিন দুপুর ব...
10/07/2025

ময়নার বাবা বিদেশ থাকায় মা পরকীয়ায় জড়িত ছিলো।ময়নার চাচার সাথে গত ৩ দিন আগে যেদিন ময়না নিখোঁজ খবর প্রকাশ পেলো ঐদিন দুপুর বেলা মা ও ময়নার চাচা উলঙ্গ অবস্থায় আকামের মধ্যে দেখতে পান ময়না।

ময়না তাদের আকাম প্রকাশ করে দিবে বলেই এই ঘটনাকে দামাচাপা দেওয়ার জন্য ময়নাকে তার মা প্রথমে একটি কান কাটেন তারপর দেওয়ালের সাথে তাকে ধাক্কা দিয়ে আঘাত করতে থাকেন। দেখা গেলো ময়না মরে না!তাই চাচা ময়নার লজ্জাস্হানের ভিতরে রট ঢুকিয়ে দেন তখন ময়না মুহূর্তে মৃত্যু বরণ করেন😭

তারপর তার চাচা মসজিদের হুজুরকে পাশানোর জন্য মসজিদে ময়নার লাশ রেখে আসেন।মসজিদের ছাঁদে লাশ পাওয়া যাওয়ায় প্রশাসন গ্রেফতার করেন মসজিদের ইমাম - মুয়াজ্জিন কে।ডিএনএ টেস্ট করে দেখা গেলো ইমাম - মুয়াজ্জিন দু'জনই নির্দোষ। কিন্তু আদালত স্বসম্মানে মুক্তি না দিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে দু'দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।দাঁড়ি আর টুপি থাকায় আজ সমাজ আর রাস্ট্র অবজ্ঞার নজরে দেখেছে তাদের কে।

এদিকে ময়নার বাবা বিদেশ থেকে চলে আসে ময়নার আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে। বাবা সংবাদিকদের প্রশ্নোত্তরে বলেন,আমার মেয়ে কোন একটা বিষয় জেনে গেছে,যারফলে মেয়ে আমাকে ফোনে কথা বললেই দ্রুত বাড়িতে আসার জন্য বলতো।এবং বাবা নিজেও চাচা সহ বেশ কয়েকজন মেয়ের hoত্যার সাথে জড়িত আছে বলে ধারণা করেছেন।

শাহবাজপুরের এক প্রতিনিধি থেকে বিষয়গুলো জানতে পারলাম। এই নিষ্ঠুর মা কারো যেন না হয় !!
এইটা হচ্ছে আমাদের সমাজের গটনা😥😥😥😥😥😤😤😤😤

✅ বীন বাজালে সিনেমায় সাপ নাচে। বাস্তবে নাচে না। সাপের কান নাই। শোনার জন্য ঘনঘন জিহ্বা বের করতে হয়।সাপ আপনাকে আক্রমণ করবে...
30/06/2025

✅ বীন বাজালে সিনেমায় সাপ নাচে। বাস্তবে নাচে না। সাপের কান নাই। শোনার জন্য ঘনঘন জিহ্বা বের করতে হয়।
সাপ আপনাকে আক্রমণ করবে না। আপনি যদি শব্দ করে হাঁটেন, সে বুঝতে পারে। সাপের বুকের তলায় খোলসের রঙ আলাদা। সেখানে বিশেষ স্নায়ুতন্তু থাকে। মাটির কম্পন বুঝতে পারে। আপনি কতদূরে আছেন, আপনি সাইজে কতবড়, সে বুঝতে পারে। পালিয়ে যায়।

বেলি, হাস্নাহেনার গন্ধে কখনো সাপ আসে না। কেউকেউ জীবদ্দশায় বেলি, হাস্নাহেনা গন্ধরাজের তলায় সাপ দেখেছেন হয়তো। মনে রাখবেন, সাপের ঘ্রাণশক্তি খুবই দূর্বল। সে গন্ধ পায় না। সুগন্ধি ফুলে পোকামাকড় আকৃষ্ট হয় বেশি। পোকা খেতে ব্যাঙ আসে। ব্যাঙ খেতে মাঝেমাঝে সাপ আসতে পারে। খাবার পর মানুষের মত সাপও ক্লান্ত হয়। মানুষ খাবারের পর যেমন আয়েশ করে ঘুমায় তেমনই সাপও বেলি-হাস্নাহেনার তলায় ঘুমুতে পারে। তবে এসব গাছ যদি বাড়ির ভেতর থাকে তবে সাপ কম আসে। কারণ মানুষের উপস্থিতি তারা ভয় পায়। তবে বাড়ির সাইডে, ঝোপঝাড়ে এমন গাছ থাকলে সাপ আসা স্বাভাবিক।

একটা সাপকে মারলে তার জোড়া সঙ্গী কখনোই আপনাকে খুঁজে দংশন করতে আসবে না। সাপের স্মৃতিশক্তি খুবই দূর্বল। সাপ বাংলা সিনেমার স্বর্পরাজ শাকিব খান কিংবা নাগিন মুনমুন নয় যে সঙ্গীহারার প্রতিশোধ নিতে ছুটে আসবে। সাপ নিম্নজাতের প্রাণি। এদের মধ্যে রিভেঞ্জ বলে কিছু নাই। কিন্তু একটা সাপ মারার পর আরেকটা সাপ প্রায়ই একই স্থানে দেখা যায়, কারণ কী?

সিম্পল। মেটিং এর সময় তাদের পার্টনার আশেপাশে থাকতেই পারে কিংবা আশেপাশে গর্ত থাকলে তার বাচ্চাকাচ্চা কিংবা আরো সাপ উঠে আসতেই পারে। সে প্রতিশোধ নিতে আসেনি বরং ভুল করে গর্ত থেকে চলে এসেছে।

ছোট সাপের বিষ নাই কথাটা ভুল। সাপের বাচ্চাও সাপ। কেঁচোর সমান একটা কেউটের কামড়ে আমার চোখের সামনে এক রোগীকে টানা ২৪ ঘণ্টা জীবনের সাথে ফাইট করতে হয়েছে। আইসিইউতে আমরা তিন ডাক্তার তার পাশে ২৪ ঘন্টা লড়েছিলাম।

আর্টিফিশিয়াল ভেন্টিলেশন থেকে শুরু করে একাধিকবার অ্যান্টি-ভেনম দিয়েছি। সে সুস্থ হয়ে বাড়িতে গেছে। যাবার আগে আমাদের গালিগালাজ করে গেছে। আমরা নাকি তাকে অনেক দামী ঔষুধ দিয়েছি। সে জানে না, একডোজ অ্যান্টিভেনমের দাম ১০ হাজার টাকা। লজিক্যালি লোকটার দোষ নেই। সে ছিল জেলে। দিনে হয়তো এক দেড়শ টাকা তার ইনকাম। রাতে যারা বাজার থেকে অন্ধকারে ঘরে ফেরে তাদের এবং জেলেদের সাপ বেশি কাটে। জেলেরা বর্ষায় রাতে আইল বরশি ফেলে, জাল ফেলে মাছ ধরে। নদী বা নালায় মাঝ ধরে। সাপ শুকনো ভেবে সেখানে থাকে। কামড় দেয়।

সিনেমা বলে, সাপ দুধ খায়। গরুর দুধ খেতে গোলাঘরে হানা দেয়। ভুল কথা। এসব সাপ ক্ষেতের ব্যাঙ-পোকামাকড় খায়। কালো রঙ্গের দাড়াশ সাপ দেখি, এরা আমাদের উপকার করে। ফসল বাঁচায়। এদের না মারা উত্তম।

সাপে কাটলে ব্লেড দিয়ে কেটে দিলে বিষ বের হয়ে যায় কথাটা ভুল। ভুলেও এই কাজ করবেন না। ব্লেড দিয়ে কাটলেন তো বিষকে রক্তের সাথে নিজহাতে মিশিয়ে দিলেন।

দংশন করা সাপকে উল্টোকামড় দিলে বিষ ফেরত চলে যায় সাপের ভেতরে কথাটা ভুল। পায়ে কাটলে বিষ সেখানে। আপনার মুখের দাঁতে তো বিষ নাই। কীভাবে ফেরত দিবেন? সাপের বিষ তার দাঁতে থাকে না। সে যখন কামড় দেয় তার মুখের পেশিগুলো টানটান হয়ে যায়।

দাঁতের কাছেই থাকে বিষধর। সেখান থেকে বিষ দাঁত বেয়ে আপনার শরীরে প্রবেশ করে।

শক্ত করে বাঁধলে বিষ ছড়াতে পারে না এমন ধারনা ভুলে যান। আপনি নিজেও নিশ্চিত না সাপটা বিষধর ছিল কি না, তাহলে শক্ত করে বাঁধবেন কেন? অনেক ডাক্তার সাপে কাটার পর বাঁধতে নিষেধও করেন। কারণ এতে হিতে বিপরীত হয়।
ফুটবলের অ্যাংলেট পায়ে দিলে যেমন আটসাট হয়ে থাকে এমন ভাবে গামছা বা শার্ট বা শাড়ি দিয়ে দংশনের কিছু উপরে পেঁচিয়ে নিতে পারেন। বাঁধন অবশ্যই ঢিলা রাখবেন। দুট আঙ্গুল ঢোকে এমনভাবে ঢিলা করবেন। আবার খুব ঢিলাও না। ২০ মিনিট পরপর খুলে আবার লাগাতে পারেন। ভুলেও লোহার তার, সুতলি, কারেন্টের তার বা অন্য সরু জিনিস দিয়ে বাঁধবেন না। বাঁধলে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে হাতে-পায়ে পঁচন শুরু হবে। চিরতরে হাত বা পা খোয়ানোর সম্ভাবনা প্রবল। হয়তো আপনাকে বিষধর সাপ কাটেই নি অথচ আপনি ভয়ে গিট্টু দিয়ে হাত পা পঁচিয়ে পঙ্গু হয়ে গেলেন। কেমন হবে?

সাপ কাটলে কিন্তু আংটি, চুড়ি, ব্রেসলেট খুলে ফেলবেন। কিছু সাপের বিষে আপনার আঙ্গুল, হাত বা পা ফুলে যেতে পারে। আংটি বা চুড়ি থাকলে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে পঁচন ঘটতে পারে।

সাপ কখন দংশন করে?
১। যদি ভুলে আপনার মুখোমুখি হয় সে পালাতে চেষ্টা করে। কিন্তু সে নিজে ভয় পেলে হিংস্র হয়। সব প্রাণিই এমন। মুরগীও মাঝেমাঝে মানুষকে ঠোকর দেয়। সামনে সাপ পড়লে তাকে চলে যেতে দিন।
২। বর্ষাকাল মানেই হাসপাতালে সাপে কাটা রোগী। বর্ষায় গর্তে পানি উঠে যায়। ফলে সাপ ডাঙ্গায়, শুকনো জায়গায় উঠে আসে। সেটা ক্ষেতের আইল, রাস্তা কিংবা আপনার ঘরের তোশকের তলা, বালিশের তলা, আলনার ভেতর, কাঠের স্তুপ যেকোন জায়গাতেই আসতে পারে।
৩। অন্ধকারে সাপের শরীরে পা পড়লে। জঙ্গলায় ভুলে তার শরীরে পা পড়লে কামড় দেয়।
৪। ইদুরের গর্তে সাপ থাকলে সেখানে পা রাখলে বা বসে থাকলে কামড় দিতে পারে। বাচ্চা ছেলেরা মাঝেমাঝে বসে গর্তের মুখে প্রস্রাব করে। সন্তানকে শিক্ষা দিন। এই কাজ যেন না করে।

সব সাপ বিষাক্ত? বাংলাদেশে ৮০ ধরণের সাপ আছে। মাত্র ২৭ টা বিষাক্ত। অধিকাংশই সামুদ্রিক। মাত্র ৫/৬ প্রজাতি স্থলে আছে যারা বিষধর। আপনার চোখের সামনে নিয়মিত যাদের ঘোরাফেরা দেখেন, তারা বিষাক্ত নয়। পানির সাপ অধিকাংশই বিষাক্ত নয়। তবে সামুদ্রিক সাপ সবাই বিষাক্ত। যদি চেনেন তবে বলি গোখরা, কালকেউটে, শঙ্খচূড়, চন্দ্রবোড়া বিষাক্ত।
সাপে কাটলে বুঝবেন কীভাবে? দংশন করেছে এমন মনে হবার পর যদি সরাসরি সাপ দেখেন, তাহলে ভাবতে পারেন সে আপনাকে দংশন করেছে।

একবার এক ছেলে হাসপাতালে আসল। মাটির ঘরে অন্ধকারে হেলান দিয়ে ছিল। পীঠে সাপ কেটেছে। সারাদিন হাসপাতালে আমাদের অবজারভেশনে ছিল। রাতে রিলিজের আগে খবর আসল, যেখানে হেলান দিয়ে ছিল, সেখানে কে যেন তারকাটা পুতে রেখেছিল। পীঠে লেগে তারকাটা দেয়ালে ঢুকে যায়। খোচা লাগাকে সাপে কাটা ভেবে সে হাসপাতালে আসে। ২৪ ঘণ্টা ভয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে ঘরে ফেরে সুস্থ অবস্থায়।

বিষাক্ত সাপে কাটলে বোঝা বেশ সহজ।
১। শিকারি পশুর মত সাপের দুটো দাঁত বড় থাকে। বাঁকানো। দংশন করলে গভীর ক্ষত হয়। দুঁটো দাঁতের অস্তিত্ব থাকলে ধরে নিতে পারেন, আপনাকে বিষাক্ত সাপ দংশন করেছে।

২। যদি অনেকগুলো দাঁত থাকে, সেখানে মাংস তুলে নিলেও ভেবে নিতে পারেন এটা ছাগলের মত। অনেক দাঁত কিন্তু বিষদাঁত নাই। আপনার কিছু হবে না।

৩। সাপের বিষ কয়েক ধরণের। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটে নিউরোটক্সিন রিলিজ করা সাপের কামড়ে। এক্ষেত্রে ঝিমঝিম লাগবে। চোখে ঝাঁপসা দেখবে। চোখের উপরের পাতা নেমে চোখ অংশিক বন্ধ হয়ে যাবে। মাথা ঝুলে যাবে। জিহ্বা ও শ্বাসনালী ফুলে যাবে। শ্বাস নিতে পারবে না। মুখে লালা ঝরবে। দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে না। বমি করতে পারে।

আরো নানাবিধ লক্ষণ আছে।
চন্দ্রবোড়া কামড় দিলে লোহিত রক্তকনিকা ভেঙ্গে যায়। ফলে রক্তবমি, রক্তপায়খানা হতে পারে। কামরের জায়গায় রক্ত ঝরতে পারে। ফুলে যেতে পারে, লাল হতে পারে। ফোস্কা পড়তে পারে। কালোও হতে পারে। কিছু সাপের কামড়ে হার্ট অ্যাটাক হয়ে মারাও যেতে পারে।

মাঝেমাঝে নির্বিষ সাপ কামড়েও মানুষ মারা যায়।কেন জানেন?
ভয় পেয়ে হার্ট অ্যাটাক করে।

সাপের কামড়ে সিনেমায় গড়াগড়ি দেখেন, বিষের কারণে চেঁচামেচি দেখেন। এগুলো অভিনয়। সাপের বিষ নিয়ে একটা প্রবাদ আছে, কেমন ব্যাথা বুঝিবে সে কীসে, কভু আশীবিষে দংশেনি যারে... এইসব ভুলে যান। সাপে কাটা মানুষ খুব স্বাভাবিক থাকে শুরুতে। কোন ব্যাথা নাও থাকতে পারে। এমনকী মৃত্যু ঘটার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত কোন ব্যাথা নাও বুঝতে পারে।
চিকিৎসা?
একদম ঘাবড়াবেন না। বেশি ঘাবড়ালেই বিষ বেশি ছড়াবে।
সাপেকাটা জায়গা ধুয়ে ফেলুন সাবান দিয়ে। কাটবেন না ব্লেডে।

চুষে রক্ত বের করবেন, এমন চিন্তা ভুলে যান। যেখানে কামড়াবে সেখানকার নাড়াচাড়া বন্ধ। হাতে কামড়ালে হাত নাড়ালে বিষ দ্রুত ছড়িয়ে যায়। হাত একদম নাড়াবেন না। পায়ে কামড়ালে হাঁটবেন না। সাপেকাটা স্থানে ভুলেও অ্যাসিড ঢালবেন না। মরিচের গুড়ো দিবেন না। কার্বলিক অ্যাসিডে ঝলসাবেন না। কোন ফলের বীজ, সর্পরাজ তেল, গুটি, আটি, বড়ি, তাবিজ কিছুই লাগাবেন না।
সাপটাকে পারলে চিনে রাখুন। ডাক্তারকে বললে চিকিৎসা পেতে সুবিধা হবে। তবে ধররতে যাবেন না। মেরেও ফেলার দরকার নাই।

মৃত সাপকে ধরতে যাওয়াও নিরাপদ নয়। এরা মৃত্যুর ভান করে শুয়ে থাকতে পারে।
জীবিত ধরে ওঝার কাছে যাবেন, এমন চিন্তা থাকলেও ঝেড়ে ফেলুন। ওঝা সাপের বিষ নামাতে পারে না। ওঝারা অনেক রোগী ভালো করে। যেগুলো আসলেই বিষাক্ত সাপের কামড় ছিল না। বিষাক্ত হলে একটা সময় বুঝতে পারে তখন নানা অজুহাত নাগ-নাগিনির কথা বলে এরা হাসপাতালে রোগী রেফার করে। আমরা হাসপাতালে অনেক পাই যারা একেবারে শেষ মুহুর্তে আসে। ওঝার কাছে গিয়ে জীবন খুইয়ে ফেলার পরিস্থিতি তৈরি করে আসে।
বিষাক্ত সাপে কাটলে আপনি বাঁচতে পারেন একটামাত্র পথ অনুসরণ করলে। সেটা হল - দুনিয়ার কারো মতামত নিবেন না। সরাসরি হাসপাতাল যাবেন।

সাপে কাটলে এক সেকেন্ড সময় নষ্ট না করে সরকারি বড় হাসপাতালে যান। রাসেল ভাইপার বাদে সব সাপেরই বিষের অ্যান্টিভেনম আছে। ২৪ ঘন্টার মধ্যেই চিকিৎসা শেষে ফিরে আসবেন। [রাসেল ভাইপার বাংলাদেশে বিলুপ্ত সাপ। তবে রাজশাহীতে কয়েকবার নতুন করে পাওয়া গেছে। ফরিদপুরে পাওয়া গেছে কিছুদিন আগে। বন্যার জল-স্রোতে এরা আবার ছড়িয়ে পড়তে পারে দেশময়]

যদি বুঝে ফেলেন, সাপটা বিষধর নয়, তাহলে কী করবেন?
তবুও হাসপাতালে যাবেন। ভর্তি হয়ে প্রয়োজনে বিছানায় ২৪ ঘন্টা বসে থাকবেন। তবুও হাসপাতালে যাবেন।
[নোটঃ অধিকাংশ সাপই নির্বিষ। সাপ মারবেন না। সাপ বাস্তুতন্ত্রের অংশ। ঘরে সাপ পাওয়া গেলে স্নেক রেস্কিউয়ারকে জানাতে পারেন। ওঝাদের জানিয়ে পরিবেশ থেকে এসব সাপ বিলুপ্ত করবেন না। ওঝারা সাপ মেরে পুড়িয়ে তেল বানায়। সেই তেল বাত-ব্যাথা-সাপের বিষ নামানো-হারানো যৌবন পুনরুত্থান নামক নানাকিসিমের মিথ্যা চিকিৎসায় ব্যবহার করে। তাদের এই কাজ করতে দিবেন না। কারণ দিনশেষে সেই সাপের তেল হয়তো আপনার আত্মীয়ই কিনে নিয়ে ব্যবহার করছে]

কার্বলিক অ্যাসিডে সাপ পালায়? সাপের ঘ্রাণ শক্তিই এত দূর্বল যে ফুলের গন্ধেও আসে না, তাহলে কার্বলিকে সাপ পালাবে কে বলল আপনাকে? এসব সেইফটি এককালে প্রচলিত ছিল। এখন ব্যর্থ টোটকা।

বাড়িতে খড়ের গাদা, লাকড়ির স্তুপ থাকলে আপনার মা বা স্ত্রীকে সতর্ক করে দিন। খড় বা লাকড়ি নেবার আগে সেখানে লাঠি দিয়ে কিছুক্ষণ শব্দ করুন। সাপ থাকলে চলে যাবে। রাতে বিছানা এমনকী বালিশের তলাও চেক করবেন। আলনার ভেতরে থাকতে পারে। শব্দ করে কাপড় নিতে যাবেন। বাড়ির আশেপাশে ঝোপঝাড় থাকলে কেটে ফেলুন। ঈদুরের গর্ত থাকলে ভরাট করে ফেলুন।

বর্ষাকাল এসেছে। এখন সাপ আপনার বাড়িতে-ঘরে আশ্রয় নিতে আসতেই পারে। সাবধান থাকুন। অন্যদের সতর্ক করে রাখুন। গ্রামের আপন মানুষদের (বাবা-মা, বউ-বাচ্চা-বন্ধু) সাপের ব্যাপারে বিস্তারিত জানিয়ে রাখুন। সতর্ক থাকবেন-ভয় পাবেন না-অবহেলা করবেন না।

30/06/2025
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে ‘হি*টস্ট্রোকে’ আ*ক্রা*ন্ত হয়ে এক বাংলাদেশি নির্মাণ শ্রমিকের মৃ*ত্যু হয়েছে।৪৩ বছর ...
30/06/2025

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে ‘হি*টস্ট্রোকে’ আ*ক্রা*ন্ত হয়ে এক বাংলাদেশি নির্মাণ শ্রমিকের মৃ*ত্যু হয়েছে।
৪৩ বছর বয়সী মোহাম্মদ সোলায়মান নামে ওই প্রবাসী বাংলাদেশির বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার রোসাংগিরি ইউনিয়নে। তিনি প্রয়াত মনির আহমদের বড় ছেলে।
রবিবার সকালে আবুধাবির আল মারিয়া আইল্যান্ডে বাংলাদেশি মালিকানাধীন একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সময় এ দু*র্ঘ*ট*না ঘটে।

নি**হতে*র চাচাতো ভাই আরেক প্রবাসী আবদুল করিম এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, “অতিরিক্ত গরমে সোলায়মান হি*টস্ট্রোকে আ*ক্রা*ন্ত হলে সাথে সাথে তাকে ক্লিভল্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে তিনি ফের মস্তিষ্কে র**ক্তক্ষরণে মা**রা যান।”
দুই বছর আগে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় আবুধাবি পাড়ি জমান সোলায়মান। পেশায় নির্মাণ শ্রমিক সোলায়মানের দেশে ফেরার কথা ছিল আগামী ২ মাস পর। কিন্তু প্রবাস জীবনের সেই স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল তার।

বাংলাদেশে তার স্ত্রী, ১৪ ও ১১ বছর বয়সী দুই মেয়ে এবং সাত বছর বয়সী এক ছেলেসন্তান রয়েছেন।
সোলায়মানের লা*শ আবুধাবির কেন্দ্রীয় শ*বাগারে সংরক্ষিত রয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ বিভাগের সহায়তায় প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে লা**শ দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য ১৫ জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি ‘মধ্যাহ্ন বিরতি আইন’ কার্যকর রয়েছে। আইন অনুযায়ী, দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে কাজ করা নিষিদ্ধ।

29/06/2025

কেক-আচার বানিয়ে মাসে লাখ টাকা আয় বৌ-শাশুড়ির

29/06/2025

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে নিয়োগ, যেভাবে করবেন আবেদন

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when প্রবাসের গল্প posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category