24/08/2026
ঐদিকেpaypal এর ওভাবে ক্লায়েন্ট হারাই।
বর্তমান প্রস্তাবিত প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ৫১,০০০+ তরুণকে প্রশিক্ষণে Tk 683 কোটি ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে—অর্থাৎ মাথাপিছু আনুমানিক Tk 1.34 লাখ। সরকার ৬০–৭০% প্রশিক্ষণার্থীকে আয়মুখী করার লক্ষ্যও ধরেছে।
৫১ হাজার তরুণকে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দিতে ৬৮৩ কোটি টাকা—প্রশ্নটা তাই উঠবেই: প্রকল্পটির বাস্তব সাফল্য কতটা হবে?
আউটডেটেড মডিউল, শুধু মার্কেটপ্লেস একাউন্ট খোলা ও বেসিক ইন্টারফেসের ধারণা দেওয়া, AI-এর প্রভাব ও বর্তমান ইন্ডাস্ট্রি ট্রেন্ডকে যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত না করা, প্রপার ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্ট ও ট্রেইনারদের যথাযথভাবে ইনভলভ না করা—এর সঙ্গে যদি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, স্বজনপ্রীতি কিংবা দলীয় প্রভাবের সুযোগ থাকে, তাহলে ৬৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবে কতটা সফল হবে?
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও রিজার্ভ সংকটের সময়ে একজন প্রশিক্ষণার্থীর পেছনে ১ লাখ টাকারও বেশি সরকারি অর্থ খরচ করার আগে আরও বড় প্রশ্ন করা দরকার—এই টাকা খরচ করার আদৌ সবচেয়ে কার্যকর জায়গা কি এটা?
আজকে যার সত্যিই শেখার ইচ্ছা আছে, তার সামনে YouTube-এই বিশাল জ্ঞানভান্ডার পড়ে আছে। তার সঙ্গে AI যুক্ত হয়েছে। বিশ্বের সেরা freelancer, designer, developer, marketer এবং content creator-দের কাছ থেকে শেখার সুযোগ এখন হাতের মুঠোয়। বিনামূল্যে বা খুব সামান্য খরচেই অসংখ্য high-quality resource পাওয়া যায়।
আমরা যারা এই industry-তে এসেছি, তারা কি সবাই লাখ টাকা খরচ করে সরকারি কোর্স করে এসেছি? অনেকেই নিজের আগ্রহ, পরিশ্রম, YouTube, online resources এবং বাস্তব কাজ করতে করতেই শিখেছে। যারা আজ lead পর্যায়ে আছে, তারা তো কারও দেওয়া উপহার বা ভাতার আশায় skill develop করেনি।
তাহলে বর্তমান সময়ে সরকারের ভূমিকা কি প্রত্যেকের হাতে একটি করে course তুলে দেওয়া হওয়া উচিত, নাকি যারা কাজ করতে চায় তাদের কাজ করার পরিবেশটা সহজ করা উচিত?
একজন freelancer client পেয়েও ঠিকমতো payment নিতে পারে না। PayPal-এর মতো payment solution নিয়ে বছরের পর বছর সমস্যা রয়ে গেছে। International transaction সহজ নয়। কখনো payment gateway, কখনো banking limitation—একজন freelancer-এর মূল সমস্যাই যেখানে টাকা আনা, সেখানে কোটি কোটি টাকা খরচ করে training দেওয়ার আগে এই basic সমস্যাগুলো সমাধান করা কি বেশি জরুরি নয়?
তার ওপর বিদ্যুতের অবস্থা, internet connectivity, কাজের পরিবেশ—সব মিলিয়ে একজন freelancer বা content creator নিয়মিত কাজ করবে কীভাবে? Client deadline মেনে কাজ করতে গিয়ে electricity না থাকলে সেই freelancer-এর কাছে ১ লাখ টাকার training-এর মূল্য কতটুকু?
Content creator-দের ক্ষেত্রেও একই কথা। তারা দেশের জন্য বৈদেশিক আয় ও digital economy-তে অবদান রাখছে। অথচ তাদের কাজের পরিবেশ ও transaction system সহজ করার পরিবর্তে কোথায় কীভাবে আরও টাকা ব্যয় করা যায়—সেদিকে যদি বেশি মনোযোগ যায়, তাহলে সেটা সত্যিই হতাশাজনক।
এই সংকটময় সময়ে সরকারের উচিত—
Freelancer-দের international payment গ্রহণের ব্যবস্থা সহজ করা, PayPalসহ প্রয়োজনীয় global payment infrastructure নিয়ে কার্যকরভাবে কাজ করা, international transaction-এর জটিলতা কমানো, নিরবচ্ছিন্ন electricity ও internet নিশ্চিত করা এবং content creator/freelancer-দের ওপর অপ্রয়োজনীয় tax burden কমানোর মতো জায়গায় গুরুত্ব দেওয়া।
কারণ একজন motivated মানুষকে শেখার সুযোগ দেওয়ার জন্য YouTube, AI এবং অসংখ্য online resource ইতোমধ্যেই আছে।
কিন্তু একজন freelancer-এর জন্য client-এর payment দেশে আনার ব্যবস্থা আপনি YouTube থেকে শিখিয়ে দিতে পারবেন না।
একজন content creator-এর কাজের সময় বিদ্যুৎ আপনি AI দিয়ে চালু করতে পারবেন না।
আর একজন skilled freelancer-এর সবচেয়ে বড় সমস্যা যদি হয়—“আমি কাজ পেয়েছি, কিন্তু টাকা কীভাবে সহজে দেশে আনব?”—তাহলে তার পেছনে আবার ১ লাখ টাকার training budget ঢালার আগে সেই সমস্যাটাই সমাধান করা বেশি যৌক্তিক।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচনেও যেন রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি বা তদবিরের সুযোগ না থাকে। যারা সত্যিই skill develop করতে চায় এবং কাজ করার সক্ষমতা ও আগ্রহ রাখে, তাদেরই অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।
জনগণের টাকা খরচ করে শুধু প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে, যারা নিজেরা কাজ করতে চায় তাদের কাজ করার পথটা সহজ করা অনেক বেশি কার্যকর।
আগের প্রকল্পগুলোর outcome নিয়ে independent evaluation, industry stakeholders-দের নিয়ে minimal viability study এবং বর্তমান freelancing market-এর বাস্তব চাহিদা যাচাই—এসব না করেই এত বড় বাজেটের প্রকল্প নেওয়া কতটা যৌক্তিক, সেটাই প্রশ্ন।
দেশের যখন অর্থনৈতিক সংকট, তখন প্রতিটি টাকা কোথায় খরচ হচ্ছে সেটা নিয়ে প্রশ্ন করা অপরাধ না।
বরং জনগণের টাকা কোথায় খরচ করলে সবচেয়ে বেশি economic return আসবে—সেই প্রশ্ন করাটাই দায়িত্ব।
আমরা freelancing-এর বিরুদ্ধে না।
আমরা skill development-এর বিরুদ্ধেও না।
প্রশ্ন হলো—৬৮৩ কোটি টাকা খরচ করে সত্যিই কতজনের জীবন বদলাবে, আর একই টাকা যদি freelancer ও content creator-দের existing সমস্যা সমাধানে ব্যয় করা হতো, তাহলে দেশের জন্য ফলাফল কি আরও বেশি হতো না?
এই হিসাবটাই আগে দরকার।