26/05/2025
তোমার সাথে সাধাসিধে একটা সংসার জমে উঠলে মন্দ হতো না, বলো? যেখানে থাকবে চারআনা অভিমান, দুইআনা অভিযোগ, একআনা ঝগড়া, তিনআনা শাসন আর ছয়আনা ভালোবাসা। ষোলআনা ভালোবাসার অঙ্গিকার আমি যে দিতে পারবো না তোমায়। শুধু যে ভালোবেসে গিয়ে মনের রাগ ঝগড়ার বাতিক ভুলে যাবো, আমি ওমন ওই মোটেই। চায়ের কাপ পাশাপাশি রাখলে তো টুংটাং শব্দ হয়ই, বলো?
ধরো, তোমার বাসায় দেরি করে ফেরা, বাজার লিস্টের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসটা ভুলে যাওয়া, আমার কথার ঝুলি খালি হওয়ার আগেই তোমার ঘুমিয়ে যাওয়া, সকালে হাজারবার ডেকেও তোমার উঠতে দেরি হওয়া। এসবে যদি রাগ দেখিয়ে গাল ফুলিয়ে অভিমান না করি। যদি অভিযোগের সুরে মুখ ঘুরিয়ে না-ই বলি, “তুমি এতো ভুলো মনের কেন?” তবে সংসারটা যে নুন ছাড়া পান্তার মতো হয়ে যাবে। সংসারে ভালোবাসার উপচে পড়া আঁচটা সমানুপাতিক রাখার জন্য বালিশ ছোড়াছুড়ি, থালাবাটির ঝনঝনের তো দরকার আছে, বলো?আবার ধরো, আমার এই অগোছালো জীবন, যাবতীয় বদঅভ্যেস, বোকাসোকা মনটা যদি তোমার হাতে তুলি দেই। তবে তুমি কী পারবে না শাসনে তা ঠিক করে দিতে? অগোছালো জীবনটা একটুখানি গুছিয়ে নিতে? বোকাসোকা মনটাকে ভালো খারাপের পার্থক্য চেনাতে? কিংবা হাত ধরে রাস্তা পাড় হওয়া শেখাতে? জানো তো, আমি শাসনের মাঝে বেড়ে ওঠা মানুষ। তাই খোঁচা ছাড়া চলে না আমার। সুতরাং, আমায় চালিয়ে নেওয়ার দায়িত্বটা তোমাকেই নিতে হবে।
রাগ অভিমান শাসন সবই না হয় হলো, কিন্তু ভালোবাসা? নাহ্, ভালোবাসার হিসেবেটা আর কষতে হবে না এখানে। এই যে আমি রাগ দেখালাম, অভিমানে গাল ফুলালাম, অভিযোগে মুখ ঘোরালাম আর তুমিও সুযোগে খানিকটা শাসন করে নিলে। তারপর সামলে নিতে বুক পেতে দিলে। এসবেই তো ভালোবাসা মিলে বোকা। পাওয়া যায় শান্তি। হয় ষোলআনা প্রেম পুরোপুরি!