কল্পনার রাজ্য

কল্পনার রাজ্য 📜 প্রতিটা গল্পের শেষে লুকিয়ে থাকে একটা না বলা অনুভূতি।

 #অভিশপ্ত_কল্পনা  #লেখিকা__উর্মিলা  #পর্বঃ১০https://www.facebook.com/share/p/1DcHwSzW9J/[❌কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ❌] #পর্ব...
27/05/2026

#অভিশপ্ত_কল্পনা
#লেখিকা__উর্মিলা
#পর্বঃ১০
https://www.facebook.com/share/p/1DcHwSzW9J/

[❌কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ❌]

#পর্বঃ১১

ঘরটা অস্বাভাবিক নীরব।

কেউ কথা বলছে না,শুধু মাহির দ্রুত শ্বাসের শব্দ।
তার হাত কাঁপছে।চোখদুটো শক্ত করে বন্ধ।মনে হচ্ছে—
সে ভেতরে ভেতরে কোনো যুদ্ধ করছে।আবির রহমান সামনে বসে শান্ত গলায় বলল—

“মাহি…”

“আমার কথা শুনতে পাচ্ছো?”

কয়েক সেকেন্ড।তারপর—ধীরে মাথা নাড়ল মাহি।

“হুম…”

“তুমি এখন নিরাপদ।কেউ তোমার ক্ষতি করবে না।তুমি শুধু যা দেখছো…ওটাই বলো।”

মাহির নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠলো।

“আমি…”

“আমি হাসপাতালের করিডোরে…অনেক ঠান্ডা…খুব ঠান্ডা....মেহেরিন আমার হাত ধরে আছে…”

ঘরের ভেতর নিস্তব্ধতা।নীলা নিজের অজান্তেই হাত শক্ত করে ধরলো।নাদিয়া আপুও স্থির।

“তারপর?”

আবির রহমান শান্ত গলায় বলল।

“ও কাঁদছিল বারবার বলছিল…চলো…চলো…ওরা আসার আগে আমাদের চলে যেতে হবে…”

“ওরা কারা?”

কোনো উত্তর নেই।শুধু মাহির কপালে ঘাম জমছে।
কয়েক সেকেন্ড পর খুব আস্তে—

“জানি না…”

“কিন্তু…”

“ও খুব ভয় পেয়েছিল…”

“তারপর…”

“আমরা করিডোরের শেষ দিকে গেলাম চার নাম্বার। "

দরজার সামনে ঘরের বাতাসটা যেন ভারী হয়ে উঠলো।

“দরজাটা খোলা ছিল?”

আবির রহমান জিজ্ঞেস করল।মাহি এবার কেঁপে উঠলো।

“না…”

“কিন্তু…ভেতর থেকে শব্দ আসছিল।"

"কেমন শব্দ?”

“কেউ তর্ক করছিল কারো চিৎকার কাঁচ ভাঙার শব্দ…”

নীলা অবাক হয়ে তাকালো।আবির রহমান এবার নোট লিখতে লিখতে বলল—

“তারপর?”

“মেহেরিন বলেছিল দরজা খুলতে না,কিন্তু আমি.. আমি খুলেছিলাম…”

ঘরের ভেতর নিস্তব্ধতা।

“তারপর?”

মাহির চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে।

“ভেতরে…অনেক মানুষ কেউ একজন মাটিতে পড়ে ছিল সবাই খুব ভয় পেয়েছিল…”

“তারপর…”

“কেউ আমাদের দেখে ফেলেছিল…”

আবির রহমান এবার একটু সামনে ঝুঁকল।

“কে?”

মাহির হাত কাঁপছে।

“মনে নেই…”

“শুধু…”

“শুধু মনে আছে আমাদের বলা হয়েছিল…এই ঘটনা ভুলে যাও…”

ঘরের ভেতর বাতাস যেন জমে গেল।আবির রহমান চুপ,নীলা চুপ।নাদিয়া আপুও কিছু বলছে না।কয়েক সেকেন্ড পর—মাহি ধীরে চোখ খুলল।পুরো শরীর ঘামে ভিজে গেছে।

“আমি…”

“আমি কি কিছু মনে করতে পেরেছি?”

কেউ সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিল না।আবির রহমান অনেকক্ষণ চুপ করে বসে রইল।তারপর ধীরে ফাইলটা বন্ধ করল।

“হ্যাঁ।তুমি একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ জিনিস মনে করতে পেরেছো।”

“কি?”

আবির রহমান এবার শান্ত গলায় বলল—

“চার নাম্বার রুমে…কিছু ঘটেছিল।”আর…কেউ চেয়েছিল…ঘটনাটা চাপা পড়ে যাক।”

ঘরটা নিস্তব্ধ।ঠিক তখন আবির রহমানের ফোন কেঁপে উঠলো।অজানা নাম্বার।তিনি কিছুক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলেন।তারপর ফোনটা ধরলেন।ওপাশে কেউ খুব শান্ত গলায় বলল—

“পুরোনো ফাইল নিয়ে বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করবেন না ডাক্তার সব সত্য জানলে

“সবাই ভালো থাকে না…”

লাইন কেটে গেল।ঘরের বাতাসটা হঠাৎ অন্যরকম ঠান্ডা লাগতে শুরু করলো।আর অনেকদিন পর
প্রথমবার আবির রহমানের চোখে অস্বস্তি দেখা গেল।
★★★

বিকেলের আলো ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসছিল।
আজকের দিনটা যেন মাহির মাথার ভেতর অনেক কিছু এলোমেলো করে দিয়েছে,পুরোনো ফাইল,
মেহেরিন।চার নাম্বার রুম।আর ছোটবেলার সেই ভুলে যাওয়া স্মৃতি।সবকিছু মাথার ভেতর ঘুরছিল।নীলা চলে গেছে।নাদিয়া আপুও বাসায় ফিরেছে।আবির রহমান শুধু একটা কথাই বলেছিল—

“আজ বেশি চিন্তা করো না।মাথাকে একটু বিশ্রাম দাও।”

কিন্তু—বিশ্রাম কি এত সহজ?মাহি বাসায় ফিরে চুপচাপ নিজের রুমে ঢুকল।মা কয়েকবার ডাকলেন।খাবারও দিলেন।কিন্তু আজ তার খেতে ইচ্ছে করছিল না।মাথাটা ভারী লাগছে।মনে হচ্ছে—কিছু একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ জিনিস—সে ভুলে গেছে।যেটা তার মনে পড়া দরকার।
খুব দরকার।রাত বাড়তে লাগল।জানালার বাইরে বাতাস।দূরে কোথাও কুকুর ডাকছে।ঘড়িতে রাত ১:১৭।মাহি বিছানায় শুয়ে ছিল।শুয়ে শুয়ে বই পড়ছিল,এবার বই বন্ধ করে মাহি ঘুমানোর চেষ্টা করল।চোখ বন্ধ,কিন্তু ঘুম আসছে না।হঠাৎ—তার মনে হলো কেউ যেন খুব আস্তে বলল—

“মাহি…”

সে চোখ খুলল,রুম অন্ধকার,কেউ নেই,কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকল।তারপর—আবার।

“মাহি…”

এইবার একটু স্পষ্ট।মাহির বুকের ভেতর ধক করে উঠল।

“কে?”

কোনো উত্তর নেই।কিন্তু—তার রুমের দরজাটা খুব ধীরে নিজে নিজে খুলে গেল।

কিঁইইইচ…

মাহির নিঃশ্বাস আটকে গেল।দরজার ওপাশ—
অন্ধকার।স্বাভাবিক করিডোর না।তার বাসার বাইরেও না।বরং—একটা লম্বা হাসপাতালের করিডোর।সাদা দেয়াল,ম্লান আলো,খুব ঠান্ডা,অস্বাভাবিক ঠান্ডা।মাহির বুক কেঁপে উঠল।না।এটা বাস্তব না।বাস্তব হতে পারে না।তার মাথায় হঠাৎ আবির রহমানের কথা ভেসে উঠল—

“ভয় আর স্মৃতি মাঝে মাঝে একসাথে কাজ করে…”

মাহি ধীরে সামনে এগোল।তার পায়ের শব্দ—
ঠক…
ঠক…
ঠক…
পুরো করিডোরে প্রতিধ্বনি হচ্ছে।হঠাৎ—সে থেমে গেল।
দূরে একটা ছোট মেয়ে দাঁড়িয়ে।পিঠ দেখা যাচ্ছে।
মাথা নিচু।হাত দুটো শরীরের পাশে।মাহির গলা শুকিয়ে গেল।

“কে…”

মেয়েটা ধীরে ঘুরল।মাহির বুকের ভেতরটা জমে গেল।মেহেরিন।কিন্তু—আগের মতো না।আজ তার চোখে ভয়।অনেক ভয়।মাহি এতদিন যাকে দেখেছিল সে আসলে মেহেরিন।

“মাহি…”

“তুই এত দেরি করলি কেন…?"

মাহির নিঃশ্বাস কেঁপে উঠল।

“মেহেরিন…”

“আমি…আমার মনে পড়ছে না…”

মেহেরিন কিছু বলল না।শুধু ধীরে হাত তুলল
করিডোরের শেষ প্রান্তের দিকে।মাহি তাকাল।আর তার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।দূরে একটা দরজা।
দরজার উপরে লেখা—৪।ঠিক তখন করিডোরের সব আলো একসাথে নিভে গেল।অন্ধকার।পুরো অন্ধকার।আর সেই অন্ধকারের ভেতর কেউ খুব আস্তে বলল—

“সত্যিটা যেখানে চাপা পড়ে…ভয় সেখানেই জন্ম নেয়…”

মাহি হঠাৎ ধড়ফড় করে উঠে বসল।জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে।ঘামে পুরো শরীর ভিজে গেছে।রুম অন্ধকার।
ঘড়ির দিকে তাকাল।অনেকদিন পর আবারো মাহি ওই করিডোর নিয়ে স্বপ্ন দেখল।রাত—৩:০৩ তারপর খুব ধীরে—তার চোখ গেল টেবিলের উপর রাখা ডায়েরির দিকে।ডায়েরিটা খোলা।আর শেষ পাতায় লেখা—

“মনে করার সময় হয়ে গেছে।”
★★★

মাহির হাত কাঁপছে।ঘরের বাতাস অস্বাভাবিক ঠান্ডা লাগছে।ঘড়িতে এখন—রাত ৩:০৭,টেবিলের উপর রাখা ডায়েরিটার দিকে স্থির চোখে তাকিয়ে আছে সে।খোলা পাতা।কালো কালি।আর মাত্র একটা লাইন—

“মনে করার সময় হয়ে গেছে।”

মাহির বুকের ভেতর ধকধক করছে।ধীরে ধীরে বিছানা থেকে নামল।রুমের লাইট জ্বালাল, ডায়েরিটা হাতে তুলে নিল।পাতাগুলো উল্টাতে লাগল।প্রথম পৃষ্ঠ ফাঁকা
দ্বিতীয়,ফাঁকা,তৃতীয়,ফাঁকা।কিন্তু—শেষ পাতায় আবারও সেই লেখা।

৩:০৩

“মনে করার সময় হয়ে গেছে।”

মাহির মাথা ঝিমঝিম করছে।না।এটা স্বাভাবিক না।
সে তো এটা লিখেনি।নাকি আবার সে স্বপ্ন দেখছে এটাও কি তাহলে স্বপ্ন।তা না হলে,এটা এলো কোথা থেকে?ঠিক তখন ফোনটা কেঁপে উঠল।মাহি চমকে উঠল।স্ক্রিনে—আবির রহমান কলিং…এত রাতে আবির রহমান বিষয়টা খুবই অস্বাভাবিক, মাহি আসলেই স্বপ্ন দেখছে।

“হ্যালো…”

“মাহি।”

ওপাশের কণ্ঠটা শান্ত।কিন্তু কেমন যেন চিন্তিত।

“তুমি ঠিক আছো?”

“হ্যাঁ…”

“তুমি ঘুমাওনি?”

মাহি চুপ।

কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।তারপর—

“আবির ভাই আমার মনে হচ্ছে…আমি কিছু মনে করতে যাচ্ছি…”

ওপাশে কয়েক সেকেন্ড চুপ।তারপর—

“আজ রাতে যদি আবার কিছু দেখো পালানোর চেষ্টা করবে না।শুধু খেয়াল করবে।সবকিছু।ছোট জিনিসও।”

লাইন কেটে গেল। মাহির বুকের ভেতর অদ্ভুত অস্বস্তি।
সে আবার ডায়েরিটার দিকে তাকাল।আর এইবার—
তার চোখ থেমে গেল।শেষ পাতার নিচে—আরেকটা লেখা।যেটা আগে ছিল না।মুহূর্তে—তার মাথার ভেতর যেন কিছু একটা ঝলসে উঠল।হাসপাতালের করিডোর।সাদা আলো।দৌড়ানোর শব্দ।কেউ কাঁদছে।
কেউ বলছে—

“মাহি…”

“লুকিয়ে পড়…তাড়াতাড়ি…”

ধপ!

হঠাৎ—রুমের বাইরে কিছু একটা পড়ার শব্দ।মাহি চমকে দরজার দিকে তাকাল।চুপচাপ।কেউ নেই।তবুও—মনে হচ্ছে বাইরে কেউ দাঁড়িয়ে আছে।খুব চুপচাপ।
খুব স্থির।তার বুক কাঁপতে লাগল।ধীরে দরজার কাছে গেল।হাত বাড়াল।দরজা খুলল, ফাঁকা।পুরো করিডোর ফাঁকা।কিন্তু মেঝেতে একটা জিনিস পড়ে আছে।
পুরোনো।হলদেটে।মাহি নিচু হয়ে সেটা তুলল।একটা ছবি পুরোনো হাসপাতালের ছবি।আর—ছবির কোণায়—দুইটা ছোট মেয়ে।একটা মেহেরিন।আর অন্যটা…
মাহি।তার নিচে কালো কালিতে লেখা—

“রুম ৪”

আর ছবিটার পেছনে খুব ছোট অক্ষরে একটা লাইন—

“যেদিন সত্য মনে পড়বে সেদিন সব বদলে যাবে।”

ঠিক তখন—মাহির ফোনে একটা মেসেজ আসলো।
অজানা নাম্বার।মেসেজটা মাত্র দুই লাইনের—

“অতীতকে খুঁজিস না।কিছু সত্য চাপা থাকাই ভালো।”

সময় যেন একদম স্থির ভাবে দাঁড়িয়ে গেছে। সময় আর নড়ছে না, মাহি কি তাহলে সময় থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে? মাহির হাত ঠান্ডা হয়ে গেল।কারণ—মেসেজ পাঠানোর সময় রাত—
৩:০৩
★★★

(চলবে…)

 #অভিশপ্ত_কল্পনা  #লেখিকা__উর্মিলা  #পর্বঃ১০ #পর্ব_৯ https://www.facebook.com/share/p/18ZAf9dG6p/[⛔কপি করা নিষেধ⛔]নীলা আ...
26/05/2026

#অভিশপ্ত_কল্পনা
#লেখিকা__উর্মিলা
#পর্বঃ১০

#পর্ব_৯
https://www.facebook.com/share/p/18ZAf9dG6p/

[⛔কপি করা নিষেধ⛔]

নীলা আর নাদিয়া আপুও চুপচাপ বসে আছে।
ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে যাচ্ছে।
টিক…
টিক…
টিক…
কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।তারপর—মাহির ঠোঁট নড়ল।

“হাসপাতাল…অনেক মানুষ,আমি কাঁদছি…ভয় লাগছে…”

আবির রহমান নোট লিখতে লিখতে বললেন—

“তারপর?”

“সাদা করিডোরঅনেক ঠান্ডা…একটা দরজা চার নাম্বার…”

নাদিয়া আপুর আঙুল শক্ত হয়ে গেল।নীলা নিঃশব্দে মাহির দিকে তাকিয়ে আছে।

“আর কী দেখছো?”

কয়েক সেকেন্ড।নীরবতা।তারপর—মাহির কণ্ঠটা বদলে গেল অদ্ভুত,কেমন যেন ভারী।

“সে কাঁদছে…সে একা…ওকে রেখে চলে যেও না…”

নাদিয়া আপু ধীরে উঠে বসল।

“আবির ভাই…ও কার কথা বলছে?”

আবির রহমান হাত তুলে চুপ থাকতে বললেন।

“মাহি…ও কে?”

কয়েক মুহূর্ত।তারপর—খুব ধীরে—

“মে…হে…রিন…”

ঘরের ভেতর যেন হঠাৎ ঠান্ডা বাতাস বয়ে গেল।নীলা অবাক হয়ে তাকালো।

“আলিশা কে?”

মাহির কপালে ঘাম জমেছে।তার হাত কাঁপছে।

“ও ভয় পেয়েছিল…”

“খুব ভয়…ও বলছিল…ওরা আসবে…ওরা দরজা খুলবে…ওকে লুকিয়ে রাখো…”

হঠাৎ—ঘরের আলো একবার কেঁপে উঠল।টুপ—আবির রহমানের কলম মেঝেতে পড়ে গেল কয়েক সেকেন্ড।
কেউ কথা বলল না।শুধু—মাহির দ্রুত নিঃশ্বাসের শব্দ।

“তারপর কী হয়েছিল?”

আবির রহমান এবার একটু সামনে এগিয়ে এলেন।

“মাহি…”

“আমার কথা শুনতে পাচ্ছো?তারপর কী হয়েছিল?”

মাহির চোখের কোণা বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে।

“দরজা খুলেছিল অনেক অন্ধকার, ও চিৎকার করছিল
আমি আমি ওকে বাঁচাতে পারিনি…”

হঠাৎ—মাহি ধড়ফড় করে উঠে বসল।জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিচ্ছে।মুখ ফ্যাকাশে।চোখ ভয়ে বড় হয়ে গেছে।

“না…”

“না…ওটা সত্যি না সত্যি না…”

নীলা দ্রুত তার হাত ধরলো।

“শান্ত হ…”

আবির রহমান কয়েক সেকেন্ড চুপ করে বসে রইলেন।
তারপর ধীরে ধীরে উঠে বুকশেলফের পাশে রাখা পুরোনো ফাইলের আলমারির কাছে গেলেন।কেন যেন—তার মাথার ভেতর একটা জিনিস ঘুরছে।মেহেরিন
নামটা।তিনি আগে শুনেছেন।কোথায়?কখন?দ্রুত ফাইল খুঁজতে লাগলেন।পুরোনো রিপোর্ট।পুরোনো কেস।হাসপাতালের নথি।হঠাৎ—তার হাত থেমে গেল।
হলদেটে পুরোনো একটা ফাইল।এই ফাইলগুলো আবির রহমানের বাবার,আবির রহমানের আগে চেম্বার তার পাবার দায়িত্বে ছিল ল, ফাইলের উপরে কালো অক্ষরে লেখা—

“বিশেষ ঘটনা প্রতিবেদন”

আবির রহমানরা যখন ছোট ছিল তখন তার বাবা এই ফাইলটা নিয়ে তাদের অনেক রহস্যজনক গল্প বলেছিল, কিন্তু আবির রহমান আজ পর্যন্ত কখনো এই ফাইলগুলো খুলে দেখেন। ফাইলটা খুলতেই—একটা পুরোনো ছবি।হাসপাতালের করিডোর।সাদা দেয়াল।দূরে—একটা ছোট মেয়ে দাঁড়িয়ে।ছবির নিচে লেখা—

“মেহেরিন (৮)”

আর ঠিক ছবির কোণায়—আরেকটা ছোট ছায়া।
মুখ বোঝা যাচ্ছে না।
ঘরের বাতাস হঠাৎ ভারী হয়ে উঠলো।
★★★

টেবিলের উপর খোলা ফাইলটা এখনো পড়ে আছে।
পাতাগুলো যেন নিজেরাই শ্বাস নিচ্ছে।আবির রহমান ধীরে শেষ পৃষ্ঠাটা উল্টাল।সবাই চুপ।নীলা একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।নাদিয়া আপুর মুখ ফ্যাকাশে।আর মাহি—সে এখনো ছবিটার দিকে তাকিয়ে।যেন কিছু একটা মনে করার চেষ্টা করছে…কিন্তু পারছে না।ফাইলের শেষ পাতায় লেখা—

“ঘটনার তারিখ: ১০ বছর আগের”

আবির রহমান আস্তে পড়তে শুরু করল—

“হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে একটি অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটে।একজন শিশু রোগী—মেহেরিন—বারবার দাবি করছিল সে নাকি একটি রুম দেখতে পায় যার নম্বর ৪…”

রুমটা নিস্তব্ধ হয়ে গেল।

“প্রথমে এটাকে মানসিক বিভ্রান্তি বলা হয়।এই কেসটা পার্সোনালি আমার বাবার ছিল। মেয়েটা যখন ছোট ছিল, তখন থেকেই অদ্ভুত কিছু দেখতো এই মেহেরিন নামের মেয়েটি।

“কিন্তু…সেই সময় একই হাসপাতালে আরেকটি শিশু ছিল…আবির থেমে গেল।মাহির দিকে তাকাল।

“নাম…

নীলা ফিসফিস করে বলল—

“কে?”

আবির রহমান ধীরে বলল—

“মাহি।”

মুহূর্তে যেন সময় থেমে গেল।মাহির শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।

"না…”

সে আস্তে বলল-

"আমি… আমি তো তখন ছোট ছিলাম…”

আবির রহমান শান্ত গলায় বলল—

“ঠিক তাই।তুমি ছোট ছিলে,আর সেই কারণেই তোমার স্মৃতি পুরোটা মুছে গেছে।”

নাদিয়া আপু কাঁপা গলায় বলল—

“মানে…ওরা দুইজন একসাথে…”

আবির মাথা নাড়ল।

“হ্যাঁ,মেহেরিন আর মাহি একই ঘটনায় জড়িত ছিল।”

ফাইলের পাতাটা একটু কাঁপল।আবির আবার পড়ল—

“ঘটনার দিন হাসপাতালের একটি সিকিউরিটি রিপোর্টে দেখা যায়…রাত ৩:০৩ মিনিটে শিশু ওয়ার্ডের করিডোরে দুইটি শিশু একসাথে দৌড়াচ্ছে…”

নীলা ধীরে মাহির দিকে তাকাল।মাহির চোখ ফাঁকা।

“আমি…আমি কি… সত্যিই সেখানে ছিলাম?”

আবির রহমান ধীরে বলল—

"তুমি শুধু ছিলে না…তুমি কিছু দেখেছিলে।”

রুমটা আবার নিস্তব্ধ।আবির ফাইলের শেষ লাইনটা পড়ল—

“ঘটনার পর মেহেরিন নিখোঁজ হয়।আর মাহির স্মৃতি নিরাপত্তার কারণে চিকিৎসাগতভাবে ব্লক করা হয়।”

কলমটা আবার মেঝেতে পড়ে গেল।টিক…এই শব্দটা এবার যেন অনেক ভারী।মাহির মাথার ভেতর হঠাৎ ঝাঁকুনি লাগল।চোখের সামনে ভেসে উঠতে লাগল—
একটা করিডোর…একটা দরজা…নম্বর ৪…আর একটা মেয়ের কান্না—

“মাহি…

দরজা খুলিস না…”মাহি হঠাৎ মাথা চেপে ধরল।

“না… না… আমি মনে করতে চাই না…”

আবির দ্রুত বলল—

“থেমো না।মনে করার চেষ্টা করো।এটাই সত্য।”

মাহির চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে।হঠাৎ—তার কণ্ঠ বদলে গেল।খুব আস্তে বলল—

“আমি...আমি ওকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলাম…”

রুমটা জমে গেল,নীলা উঠে দাঁড়াল।

“মানে কী বলছিস?”

মাহি কাঁপা গলায় বলল—

“দরজাখুলে গিয়েছিল…আমি ভয় পেয়ে পালিয়ে গিয়েছিলাম…মেহেরিন তখন…তখন…”

সে থেমে গেল,চোখ বন্ধ করল।আর ঠিক তখন—
শেষ স্মৃতি ভেসে উঠল—অন্ধকার করিডোর…একটা খোলা দরজা…আর ভিতর থেকে আসা আলো…কেউ ডাকছে—

“মাহি…আমাকে একা রেখে যাস না…”

মাহির শরীর কেঁপে উঠল।আবির রহমান খুব নিচু গলায় বলল—

“এটাই ছিল তোমার ব্লক করা স্মৃতি।”

রুমটা একদম নিস্তব্ধ।কেউ কথা বলছে না।শুধু—
একটা সত্য এখন ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছে।আর সেটার সাথে—মাহির শ্বাস দ্রুত হয়ে যাচ্ছে।
★★★

(চলবে…)

 #অভিশপ্ত_কল্পনা  #লেখিকা__উর্মিলা  #পর্ব_৯ #পর্ব_৮ https://www.facebook.com/share/p/18pSzVhVfG/[❌কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ...
25/05/2026

#অভিশপ্ত_কল্পনা
#লেখিকা__উর্মিলা
#পর্ব_৯

#পর্ব_৮
https://www.facebook.com/share/p/18pSzVhVfG/

[❌কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ❌]

বের হওয়ার সময় আবির রহমান হঠাৎ বললেন—

“আর একটা কথা।”

মাহি ফিরে তাকালো।

“যদি তোমার দেখা জিনিসগুলো সত্যি হয়…তাহলে আমরাও সত্যিটা খুঁজে বের করবো।”

সেদিন বাড়ি ফেরার পথে অনেকদিন পর মাহির মনে হলো,হয়তো—সবকিছুর একটা উত্তর আছে।কিন্তু সে জানতো না—তার জীবনের সবচেয়ে বড় রহস্যটা—
এখনো শুরুই হয়নি।
★★★

(পর্বের নতুন মোড়)

দুই সপ্তাহ পর—

একটা খবর পুরো সবকিছু বদলে দিল।নাদিয়া আপু—
কোমা থেকে বের হয়েছে।

হাসপাতালের কেবিন,সাদা আলো।মনিটরের শব্দ।কিন্তু আজ পরিবেশটা আগের মতো ভারী না।কারণ—
দীর্ঘ অনেকদিন পর—নাদিয়া আপু চোখ খুলেছে দুর্বল,ক্লান্ত।কিন্তু—জেগে আছে।মাহি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলতার হাত কাঁপছিল।চোখ ভিজে উঠছিল।

“আপু…”

নাদিয়া আপু দুর্বল হেসে বললো—

“কিরে…এত শুকিয়ে গেছিস কেন?”

"আমার চিন্তায় চিন্তায় তো দেখছি তোদের সবার নাজেহাল অবস্থা...আহ্ নিজেকে যে কি ভাগ্যবতী লাগছে না।"

মুহূর্তের মধ্যে মাহির চোখ ভিজে গেল,এতদিনের ভয়।অসহায়ত্ব,অপরাধবোধ।সব যেন একসাথে বের হয়ে এলো।কিছুদিন পর—মাহি সাহস করে সব বললো সব,স্বপ্ন,চার নাম্বার দরজা,অন্ধকার,করিডোর।কালো চোখের মেয়েটা।সব।সব শুনে নাদিয়া আপু অনেকক্ষণ চুপ।তারপর খুব ধীরে বললো—

“আমি তোকে বিশ্বাস করি।”

মাহি থেমে গেল।

“কি?কারণ…”

“আমারও কিছু মনে পড়ছে।”

ঘরের বাতাস যেন ভারী হয়ে গেল।

“সেদিন রাতে…”

“আমি একা ছিলাম না…কারো পায়ের শব্দ …”

“তারপর…পিছন ফিরতেই..."

“সব অন্ধকার…”

এভাবেই চলছিল বেশ কিছুদিন।।নাদিয়া আপু ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠতে লাগলো।অন্যদিকে মাহির চিকিৎসাও চলছিল।মাহি কিছুটা উপকার পেলেও পুরোপুরি সব মিলিয়ে যায়নি।মাহি এখন আগের স্বপ্নগুলো তেমন একটা দেখেনা।তবে অদ্ভুত এক ব্যাপার প্রতি রাতে সে দেখে-এবার কল্পনার জগতে মাহি বা নাদিয়া আপু কোন ছায়া মূর্তিকে দেখে না, দেখে শুধু ছোট একটা মেয়েকে,যে মেয়েটাকে সে আগে কোথাও দেখেছে আবার দেখেনি এমনটাই মনে হতো মাহির।

নাদিয়া আপু তখনো জানতো না, মাহি তার এই অদ্ভুত ব্যাপারের জন্য সে বেশ কিছুদিন ধরে সাইকোলজিস্ট এর কাছে যাচ্ছে।মাহি নাদিয়া আপুকে কিছুই জানায়নি
মাহির মায়ের থেকে শুনতে পায় এই ঘটনা।এই ঘটনা ধরে মাহির সাথে নাদিয়া আপু ২-৩ দিন রাগ করে থাকে
মাহি নাদিয়া আপুকে দেখতে গেলে নাদিয়া আপু কোন কথা বলত না মুখ ফিরিয়ে রাখত,এবার মাহি ব্যাপারটা বুঝতে পেরে নাদি আপুকে জিজ্ঞাসা করল-

"কিরে আপু কি হয়েছে তোমার"

নাদিয়া আপু তাও কঠিন গলায় উত্তর দিল-

"কই কি হয়েছে কিছুই না"

এবার মাহি নাদি আপুকে জড়িয়ে ধরল, আর খুব মিষ্টি বলল-
"কি ব্যাপার আপু তুমি বলি আমার সাথে রাগ করেছ"

"বাহ্ রে আমি রাগ করার কে বলতো পর মানুষটা কি আর রাগ করতে পারে"

"নাদিয়া আপু তুমি আমার সাথে এমন করো না প্লিজ"

"হয়েছে আর নাদিয়া আপু নাদিয়া আপু করতে হবে না,এতই যদি আপু বড় হতো তাহলে এই আপুর কাছে কিছু লুকাতি না"

"কি বলছো? আমি আবার তোমার কাছে কি লুকালাম"

"কেন তুই যে বেশ কিছুদিন ধরে সাইকোলজিস্ট এর কাছে যাচ্ছিস আমাকে বলেছিলি একবারও?"

"কেন আমাকে বললে কি আমি তোকে যেতে নিষেধ করতাম তোকে কি বলতাম তুই ওখানে যাস না ওখানে পাগলরা যায়"

কথাটা শুনে মাহি একটু থমকে যায়, ঐদিন কল্পনায় নাদিয়া আপু ঠিক এই কথাগুলোই বলেছিল।কিছুক্ষণ পর সবকিছু সামলে নাদিয়া আপুকে বলল-

"নারে আপু, তুমি তো অসুস্থ এখনো পুরোপুরি ঠিক হয়নি তাই তোমাকে জানায়নি,তবে আর কিছুদিন পর জানাতাম কিন্তু তার আগেই তো তুমি জেনে গেলে।"

"হুম ঠিক আছে ভালো"

"কি এখনো রাগ কমেনি বুঝি"

নাদিয়া আপু কিছু বলল না মুখ ঘুরিয়ে বসে রইলো।

"আচ্ছা কি করলে রাগ কমবে বলতো,এই মহারানীর জন্য কি করতে পারি শুনি"

"রাগ কমতে পারে একটা শর্তে"

"হুম বলুন মহারানী"

"আমিও তোদের সাথে যাবো"

"কোথায় যাবে হ্যাঁ?এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়েছো নাকি"

"তোদের সাথে সাইকোলজিস্ট এর এখানে"

"আপু আগে সুস্থ হয়ে নাও, ওখানে গেলে যদি তোমার অস্বস্তি হয়। তুমি তো এখনো পুরোপুরি ঠিক হওনি"

"কে বলেছে আমি ঠিক হয়নি, তুই কি চোখে দেখতে পাচ্ছিস না, তোরা কি সবাই আমাকে বাসায় বন্দি করেই আরো অসুস্থ বানিয়ে রাখতে চাস, অনেকদিন তো হল আমি এখন ঠিক আছি"

"আর আমি তোদের গার্জিয়ান হয়ে যাবো"

মাহি কিছুক্ষণ চুপ কি যেন ভাবছো, তারপর বলল-

"আচ্ছা ঠিক আছে আপু, এখন থেকে যাওয়ার সময় যেও আমাদের সাথে"

এবার নাদিয়াপুর মুখে হাসি ফুটল।

দুইদিন পর..

নাদিয়া আপুও মাহি আর নীলাদের সাথে আবির রহমানের চেম্বারে গেল।নাদিয়া আপু প্রথম জায়গাটা গিয়ে মাহিদেরকে বলল-

"এই অদ্ভুত জায়গায় চিকিৎসা করতে আসিস"

কেমন জানি অদ্ভুত লাগছে

"দেখেছো আপু বলেছিলাম না তোমার অস্বস্তি লাগবে কেন যে এলে তুমি"

এই শোন আমি এখন তোদের গার্জিয়ান কথা বলবি না একদম

সবাই কথাটা শুনে চুপ মেরে গেল।তারা তিনজন আবির রহমানের চেম্বারে উপস্থিত হল,আবির রহমান তাদেরকে ভেতরে বসতে বলে নিজে একটু বাহিরে গেলো।তারপর ফিরে এসে একটু আশেপাশে তাকিয়ে, বলল

"ইনি তাহলে তোমাদের নাদিয়া আপু"

সবাই অবাক হলো,আর নাদিয়া আপুও অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।

"আমাকে কিভাবে চেনে "

মাহির দিকে তাকিয়ে বলল নাদিয়া আপু।এবার মাহি একটু অবাক হয়ে আবির রহমানকে জিজ্ঞাসা করল-

"আপনি কিভাবে জানেন ভাইয়া ইনি যে নাদিয়া আপু।"

"জানতাম না আন্দাজ করলাম,কিছুদিন আগে নীলা আমাকে বলেছিল তোমাদের নাদিয়া আপু নাকি কোমা থেকে সুস্থ হয়ে ফিরেছে।তাই আজ তোমাদের সাথে নতুন কেউ এসেছে,তাই ভাবলাম ইনি হয়তো নাদিয়া।"

সেদিন থেকেই—
নাদিয়া আপুও যেতে শুরু করলো আবির রহমানের চেম্বার।ধীরে ধীরে চারজনের মধ্যে তৈরি হলো এক অদ্ভুত বন্ধন।

আবির রহমান একটা জিনিস লক্ষ্য করছিলেন।মাহি যত পুরোনো স্মৃতি মনে করার চেষ্টা করে—ততই যেন কিছু একটা তাকে আটকায়।

অবশেষে একদিন

তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন—আরও গভীরে যাওয়ার।ঘরটা অল্প অন্ধকার।মাহিকে আরাম করে শুইয়ে দেওয়া হলো।তার চোখের সামনে নরম আলো।

“গভীর শ্বাস নাও…”

আবির রহমান শান্ত গলায় বললেন।

“আরও শান্ত হও…”

“ছোটবেলায় ফিরে যাও…তুমি কী দেখছো?”

মাহির ধীরে ধীরে চোখ নিভিয়ে এলো, নিঃশ্বাস বদলে যেতে লাগলো।

“হাসপাতাল…অনেক মানুষ…আমি কাঁদছি…”

"কেউ…কেউ আমার হাত ধরে আছে…”

“কে?”

কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।হঠাৎ—মাহির শরীর কেঁপে উঠলো।

“না…”

“অসম্ভব…”

“ওই রুম…”

“চার নাম্বার রুম…ওখানে…একটা মেয়ে ছিল…সে…সে মারা যায়নি…”

ঘরটা এক মুহূর্তে নিস্তব্ধ হয়ে গেল।আবির রহমান ধীরে সামনে ঝুঁকলেন।

“মাহি…”

“মেয়েটা কে?”

মাহির বন্ধ চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছিল।তার ঠোঁট কাঁপছিল।তারপর—সে একটা নাম বললো।একটা নাম যেটা শুনে—আবির রহমানের হাত থেকে কলম মেঝেতে পড়ে গেল।
★★★

চলবে......

 #অভিশপ্ত_কল্পনা  #লেখিকা__উর্মিলা  #পর্ব_৮ #পর্ব_৭ https://www.facebook.com/share/p/18onZM6rSH/[⛔কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ...
24/05/2026

#অভিশপ্ত_কল্পনা
#লেখিকা__উর্মিলা
#পর্ব_৮

#পর্ব_৭
https://www.facebook.com/share/p/18onZM6rSH/

[⛔কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ⛔]

দুই দিন পর,বিকেল।

মাহির মা প্রথমে একটু দ্বিধায় ছিলেন।কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাজি হলেন।

“যাও,কথা বলে দেখো।হয়তো ভালো লাগবে।হয়তো কোন সমাধান হতেও পারে।ছোট থেকে এই পর্যন্ত কত যে চেষ্টা করলাম কোন তো লাভ পেলাম না।যাও তবে।কিছু দরকার হলে আমাকে বলো।বিকেলের দিকে নীলা আর মাহি বের হলো।তারা একটা রিকশা নিলো,রাস্তার আলো এখনি একে একে জ্বলে উঠছে।মাহির বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা অস্থিরতা।রিকশাটা ধীরে ধীরে শহরের ব্যস্ত রাস্তা পেরিয়ে একটা শান্ত এলাকায় ঢুকলো।
একটা তিনতলা বিল্ডিং।সামনে সাইনবোর্ড।

"মনোরোগ ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।"

মাহির হাত ঠান্ডা হয়ে গেল।

"তুই কি আমাকে পাগলগারায় নিয়ে এসেছিস জায়গাটা কেমন অদ্ভুত লাগছে আমার"

“আমি পারব না…”

সে আস্তে বলল।নীলা তার দিকে তাকালো।

“পারবি।”

“আমি আছি।”

দুজন ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকে গেল।অপেক্ষার রুম।
কিছু মানুষ বসে আছে।দেয়ালে ঘড়ি।
টিক…
টিক…
টিক…

ঠিক তখন—মাহির চোখ হঠাৎ থেমে গেল।দেয়ালের এক কোণায়।কারও বসে থাকার কথা না।কিন্তু—
সেখানে—একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।চুপচাপ।মাথা নিচু।
আর ধীরে ধীরে—সে মুখ তুলল।মাহির শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।কারণ—মেয়েটার চোখ দুটো সম্পূর্ণ কালো।মাহির বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।সম্পূর্ণ কালো চোখ।
একদম আগের মতো।স্বপ্নে দেখা সেই মেয়েটা।অসম্ভব।
এখানে সে কীভাবে আসবে?মাহির হাত ঠান্ডা হয়ে গেল।মাহি বিরবির করতে লাগলো-

"আমিতো এখন স্বপ্ন দেখছি না, আমিতো এখন পুরোপুরি স্বাভাবিক জগতেই আছি, তাহলে...... তাহলে আমি এসব কেন দেখছি।"

মাহির শ্বাস দ্রুত হয়ে উঠল।

“নী… নীলা…”

কাঁপা গলায় ডাকল সে।

“হুম?”

“ওইদিকে তাকা…”

নীলা তাকালো।কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।তারপর অবাক হয়ে বলল—

“কোথায়?”

মাহির বুকটা যেন আরও ভারী হয়ে গেল।

“ওখানে…”

“দেয়ালের পাশে…”

“একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে…”

নীলা আবার তাকালো।কেউ নেই,একদম ফাঁকা।

“মাহি…” নীলা এবার শান্ত গলায় বলল।

“ওখানে কেউ নেই।”

মাহির মাথা ঝিমঝিম করতে লাগল।অসম্ভব।সে স্পষ্ট দেখছে।মেয়েটা এবার ধীরে ধীরে হাসল।তারপর—খুব আস্তে—হাত তুলে পাশের করিডোরের দিকে ইশারা করল।আর ফিসফিস করে বলল—

"সত্যিটা ভুলে গেছো…”

মাহি হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ল।

“মাহি!”

নীলা অবাক হয়ে উঠল।কিন্তু মাহি শুনল না।সে ধীরে ধীরে করিডোরের দিকে হাঁটতে শুরু করল,এক পা,দুই পা,তিন পা।মেয়েটা যেন আরও দূরে চলে যাচ্ছে।

“মাহি!”

নীলা এবার দ্রুত উঠে তার পেছনে গেল।করিডোরটা অপেক্ষার রুমের তুলনায় অনেক শান্ত।শেষ মাথায় একটা জানালা।আর—সেখানে দাঁড়িয়ে আছে সেই মেয়েটা।এবার আরও পরিষ্কার।কালো চুল,ফ্যাকাশে মুখ,সম্পূর্ণ কালো চোখ,মাহির বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।

"তুমি কে?”

সরাসরি জিজ্ঞেস করল মাহি।

"একই প্রশ্ন আর কতবার করবে?"

মেয়েটা আরকিছু বলল না।শুধু ধীরে হাত তুলল।নিজের বুকের দিকে আঙুল রাখল।তারপর—মাহির দিকে।

“মানে কী?” মাহি ফিসফিস করল।

ঠিক তখন—

“মাহি?”

একটা কণ্ঠ।পেছন থেকে,সে ঘুরে তাকালো।

"নাদিয়া আপ?"

হ্যাঁ, এটা তো নাদি আপুই,

"নাদিয়া আপু,তুমি ঠিক হয়ে গেছো, এখানেই বা কি করছো তুমি।"

সামনে নাদিয়া আপুর ছায়া মূর্তিটা, মুখে শান্ত ভাব।একদম স্বাভাবিক, দেখতে হুবহু নাদিয়া আপুর মতই,কিন্তু এবার আর নাদিয়া আপুকে সেই স্বপ্নের মত লাগছে না, লাগছে না কোন অস্বাভাবিক নাদিয়া আপু,নেই ফ্যাকাশে মুখ,নেই সেই কালো চোখ।একদম স্বাভাবিক ভাবেই তাকিয়ে আছে মাহির দিকে।

"তুই এখানে কি করছিস, কেন এসেছিস এখানে?"

"নাদিয়া আপু এটা তুমি?সত্যি কি তুমি?"

"তোকে কি বলছি শুনতে পাচ্ছিস না"কথাটা অদ্ভুত ভাবেই চেঁচিয়ে বললো নাদিয়া আপু।

"চলে যা, চলে যায় এখান থেকে, আর এক মুহূর্ত এখানে থাকিস না,চলে যা বলছি,ওরা তোকে পাগল বানিয়ে দিবে"

"পালা, পালা,পালা, বারবার উচ্চারণ করতে থাকত নাদিয়া আপু।"

"মাহি"

মাহি পাশে তাকালো,নীলা ডাকছে

"নীলা, দেখ নাদিয়া আপু!

নীলা অবাক হল চারপাশে তাকালো কেউ নেই।মাহি দ্রুত আবার সামনে তাকালো,নাদিয়া আপু নেই মেয়েটাও নেই।করিডোর ফাঁকা।কেউ নেই।নীলা এবার ধীরে বলল—

“চল…”

“ভেতরে যাই…”
★★★
ডক্টর সামিহার রুমটা খুব সাধারণ।বুকশেলফ।টেবিল।
দুইটা সোফা।জানালার পাশে একটা ছোট গাছ।
কোন হাসপাতালের মতো লাগছে না—অদ্ভুত শান্ত।

“রিল্যাক্স।” ডক্টর সামিহা হালকা হেসে বললেন।

“এখানে কাউকে বিচার করা হয় না।”

মাহি চুপচাপ বসে রইল।প্রথম দশ মিনিট সে কিছুই বলল না।শুধু হাতের আঙুল চেপে বসে থাকল।তারপর—ধীরে ধীরে বলতে শুরু করল।স্বপ্ন অন্ধকার।করিডোর।চার নাম্বার দরজা,কালো চোখের মেয়ে।
নাদিয়া আপুকে নিয়ে ভয়,বারবার একই দৃশ্য।সব।
সব শুনে ডক্টর সামিহা কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।
তারপর নরম গলায় বললেন—

“মাহি…”

“তুমি ছোটবেলা থেকেও কি এমন কিছু দেখো?”

মাহি চুপ।কয়েক সেকেন্ড পর ধীরে মাথা নাড়ল।

“হুম…”

“সবসময় না…কিন্তু মাঝে মাঝে…অনেক সময় মনে হয়…কিছু একটা ঘটার আগে…আমি অনুভব করি…”

রুমটা কয়েক সেকেন্ড চুপ হয়ে গেল।ডক্টর সামিহা এবার একটা নোট লিখলেন।
তারপর হঠাৎ বললেন—

"নাদিয়া আপুর এই অবস্থা তো তোমার জন্যই হয়েছে"

মাহি অবাক হয়ে তাকালো-

"না,বলছেন এসব-

হ্যাঁ তুমি একটা পাগল,সবাইকে বিরক্ত কর তুমি, তুমি সবকিছুর জন্য দায়ী, তোমার জন্যই সব হয়েছে।

তারপর হঠাৎই -ডাক্তার সামিহার চোখ গুলো কালো আর শূন্য হয়ে যেতে লাগলো।মাহির চারপাশে সবকিছু আস্তে আস্তে কালো হয়ে যেতে লাগলো......

"মাহি"

"মাহি,চোখ খোল, কি হয়েছে তোর?"

মাহি ধীরে ধীরে, চোখ খুলল,মাহি দেখছে-সে নীলার কোলে মাথা দেওয়া,আর নীলা কান্না করছে।এবার মাহি সোজা হয়ে বসলো-

"কি হয়েছিল আমার আমি এখানে কি করে এলাম?"

"তুই সামনের করিডর তার দিকে আসছিলি,এসে দেখি তুই মাথা ঘুরিয়ে পড়ে গেছিস।

"সব আমার দোষ, আমার জন্যই হয়েছে, তোকে যদি আমি এখানে নামতাম ভালোই হতো।আমাকে মাফ করে দে মাহি।"

মাহি এবার স্বাভাবিক হলো তারপর বলল-

"নীলা দেখ আমি এখন একদম ঠিক আছি। "প্লিজ তুই আর চিন্তা করিস না, চল আমরা যে কাজে এসেছি শেষ করে নিই।"
★★★

বিশেষজ্ঞের রুমটা অদ্ভুত শান্ত।দেয়ালের পাশে বইয়ের তাক। টেবিলের উপর ফাইল। হালকা নীল আলো।
মাহির বুক এখনো ধুকপুক করছে।কিছুক্ষণ আগে যে স্মৃতিটা মাথায় এসেছিল—ওটা এখনো তাকে অস্বস্তি দিচ্ছে ঠিক তখন দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলেন একজন।
বয়স খুব বেশি না।ছাব্বিশ কিংবা সাতাশ।পরিপাটি পোশাক। চোখে শান্ত ভাব।মুখে হালকা হাসি।

“হ্যালো।”

“আমি আবির রহমান।”

“তোমাদের সাথে আজ থেকে আমি কাজ করবো।”

নীলা একটু অবাক হলো,এত কম বয়স?মাহিও কিছুটা অবাক।মনে হচ্ছিল আরো বয়স্ক কেউ হবে।ডাক্তার চেয়ারে বসে ফাইল খুললেন।সাইকোলজি বিশেষজ্ঞরা বোধহয় এমন অদ্ভুত হয়।

মাহি ভেবেছিল, কল্পনার মত যে ডাক্তার তাকে দেখেছিল তাকেই দেখতে পাবে, কল্পনার ডাক্তার ছিল একজন মেয়ে, আর যে এখন সামনে বসে আছেন ইনি একজন ছেলে। তারমানে তার কল্পনা পুরোপুরি সবটা সত্য না।

মাহিকে আবির রহমানের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে তিনি মাহির উদ্দেশ্যে বলল -

"কি আমাকে আগেও দেখেছিলে নাকি, বাস্তবে স্বপ্নে বা তোমার কোন কল্পনায়"

মাহি এবার ভাবনা ভেঙে সোজা হয়ে বসলো তারপর বলল

"না"

একটু মশকরা ভঙ্গিতে আবির রহমান বলল-

"তবে এখন থেকে আমাকে সব সময় দেখবে, বাস্তবে, হয়তোবা কখনো কখনো কল্পনায়।"

এবার আবির রহমান নীলার উদ্দেশ্যে বলল~

"তুমি তো নাইমের ছোট বোন তাই না।"

-জি ভাইয়া

"সেই ছোট থাকতে দেখেছিলাম তোমাকে,তখন আমি আর তোমার ভাই ক্লাস এইটে পড়ছি সবেমাত্র।"

"তোমার ভাই আমার একমাত্র ভালো বন্ধু, সম্পর্কটা অনেক গভীর, তবে যে যার মত ক্যারিয়ার গড়ার ফলে আগের মত কথা হয় না, সবাই ব্যস্ত থাকি।"

"এত বছর পর তোমাকে দেখে সত্যিই খুব খুশি হলাম"

"তোমার ভাই, দুদিন আগে জানালো তোমাদের ব্যাপারে। যাক তোমাদের উসিলায় অন্তত আমার বন্ধুটার সাথে একটু কথা বলতে পারলাম।"

কথাগুলা বলেই হো হো করে হাসতে লাগলেন আবির রহমান।দেখতে কম বয়সী মনে হলেও, কথাবার্তা যেন একদম বয়স্কদের মতই।

তারপর মাহির দিকে তাকিয়ে আবির রহমান বলতে শুরু করলেন-

“প্রথমে একটা জিনিস পরিষ্কার করি।এখানে কেউ কাউকে পাগল ভাববে না।যা দেখেছো…যা অনুভব করেছো…সব বলবে।আমি শুনবো।

মাহি ধীরে ধীরে আবার সব বলা শুরু করল।স্বপ্ন।
চার নাম্বার দরজা,কালো চোখের মেয়ে,অন্ধকার করিডোর,নাদিয়া আপুর ঘটনা,সব,সব শুনেও আবির রহমান একটুও অবাক হলেন না।বরং শান্তভাবে কিছু লিখলেন।তারপর বললেন—

“একটা প্রশ্ন।এই ঘটনাগুলো কখন থেকে বাড়তে শুরু করেছে?”

মাহি কিছুক্ষণ ভেবে বলল—

“নাদিয়া আপুর জন্মদিনের আগ থেকে…আরও বেশি।”
আবির রহমান মাথা নাড়লেন।

"সত্যিই তোমার স্বপ্নে নাদিয়া আপুর কিছু হয়েছে দেখেছিলে, আর কিছুদিন পর সেটা সত্যি হয়ে গিয়েছিল!"আবির রহমান একটু রহস্যজনকভাবে কথাটা বলল।

"জি ঠিক বলেছেন"

"তুমি একটু আগেও নাদিয়া আপুকে দেখেছিলে তাই না,তোমার মুখ এখনো শুকনো,তারমানে বেশিক্ষণ হয়নি তুমি আবারও ঐরকম কল্পনা দেখেছিলে,তবে আজ স্বপ্নে না সরাসরি বাস্তবেই দেখতে পেরেছিলে।তাই না!"

মাহি অবাক হল, মনে মনে ভাবলো সে কি তাহলে আবারও কল্পনার জগতে ডুবে গিয়েছে, ডাক্তার কিভাবে জানলো এসব, সে তো এখনো এই কথাটা বলে নি, মাহি চারপাশে তাকালো, অস্বাভাবিক কিছু চোখে পড়ছে না এবার,নীলা ও পাশে বসে আছে।

"এত ভাবতে হবে না, তুমি হয়তো ভাবছো এই ঘটনাটা আমি কিভাবে জানলাম,আমি তো সাইকোলজিস্ট এমনি এমনি হয়নি, অভিজ্ঞতাও আছে। তুমি এখন কল্পনায় না বাস্তবেই আছো"

মাহি একটু স্বাভাবিক হলো, মনে একটু ভষা পেতে লাগলো, হয়তো এই মানুষটা সাহায্য করতে পারে।

"বেশ, ব্যাপারটা খুব ইন্টারেস্টিক মনে হচ্ছে।আর আমার রহস্যজন ব্যাপারগুলো সল্ভ করতে খুব ভালোই লাগে।"

“ঠিক আছে।আমরা ধীরে ধীরে এগোবো।তাড়াহুড়া করবো না।”

তারপর তিনি একটা ছোট ডায়েরি বের করলেন।

“এটা রাখো।আজ থেকে সব লিখবে।কী দেখলে।কখন দেখলে,স্বপ্নে কী দেখলে।একটাও বাদ দেবে না।”

নীলা পাশে বসে সব শুনছিল।হঠাৎ আবির রহমান বললেন—

“আর একটা কথা।”

“যদি তুমি সত্যিই কিছু দেখে থাকো…আমরা সেটাও খুঁজে বের করবো।”

"তোমার ব্যাপারটা আমাকে একটু ভাবাচ্ছে, তবে আমি বিশ্বাস করি তুমি যা বলছ সবই সত্য,তোমার চোখে আমি দেখতে পাচ্ছি।"

মাহি অবাক হয়ে তাকালো।

“আপনি বিশ্বাস করেন?”

আবির রহমান রহস্যজনক একটা হাসি দিয়ে খুবই নরম সুরে বলল-

“আমি সত্য খুঁজি।”
“সত্য যেদিকেই যাক।”
★★★

চলবে.....

[এরপর থেকে পর্বের নতুন মোড় শুরু]

 #অভিশপ্ত_কল্পনা  #লেখিকা__উর্মিলা  #পর্ব_৭ [❌কপি করা নিষেধ❌](পরের অংশ)দরজার ওপাশ সম্পূর্ণ অন্ধকার।কেউ নেই।কিন্তু মেঝেতে...
22/05/2026

#অভিশপ্ত_কল্পনা
#লেখিকা__উর্মিলা
#পর্ব_৭

[❌কপি করা নিষেধ❌]

(পরের অংশ)

দরজার ওপাশ সম্পূর্ণ অন্ধকার।কেউ নেই।কিন্তু মেঝেতে রক্ত দিয়ে লেখা-৪,আর তার নিচে কাঁপা হাতে লেখা—

“ও এখনো ওখানে আটকে আছে…”

মাহির বুকের ভেতরটা ধড়ফড় করতে লাগল।নীলার ফোনের ফ্ল্যাশলাইট কাঁপছিল। তার হাতও কাঁপছে।

“মাহি…” নীলা ফিসফিস করে বলল, “এগুলো… এগুলো
কে করেছে?”

মাহি উত্তর দিতে পারল না।তার মাথার ভেতর যেন একটা শব্দ বারবার ঘুরছে—

“ও এখনো ওখানে আটকে আছে…”

কার কথা বলা হচ্ছে?নাদিয়া আপু?নাকি—আর কেউ?
হঠাৎ—
টুপ…
টুপ…
টুপ…
কিছু একটা পড়ার শব্দ।দুজন একসাথে তাকালো।
ঘরের এক কোণায়।অন্ধকারের ভেতর থেকে লালচে কিছু একটা মেঝেতে পড়ছে।নীলা ধীরে ধীরে
ফ্ল্যাশলাইট তুলে ধরল।তারপর—দুজনের নিঃশ্বাস এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল।দেয়ালে—ভেজা হাতের ছাপ।একটা না।দুইটা না।অনেকগুলো।যেন কেউ রক্তমাখা হাত দিয়ে দেয়াল বেয়ে ওপরে উঠেছে।

“না…নীলা কাঁপা গলায় বলল।এটা কেউ মজা করছে…”

চারপাশ অন্ধকার।ঠান্ডা।দমবন্ধ করা নীরবতা।
মাহির হাত কাঁপছে। মাহি চোখের সামনে আবার ভেসে উঠলো সামনে সেই করিডোর। সেই সাদা আলো। দূরে দাঁড়িয়ে আছে নাদিয়া আপু।

“আপু…”

মাহি এক পা সামনে এগোল।ঠিক তখনই—চারপাশের আলো হঠাৎ কাঁপতে শুরু করল।দেয়ালগুলো যেন ভেঙে যাচ্ছে।শব্দগুলো অস্পষ্ট হয়ে আসছে।কেউ যেন অনেক দূর থেকে ডাকছে—

“মাহি…”

“মাহি…”

“ওই মাহি!”

তারপর মাহি আবার আগের জায়গায় ফিরে এলো, কখনো ডাক গুলো শুনতে পাচ্ছিল।মাহি নীলাকে ডেকে বলল-

"নীলা..শুনতে পাচ্ছিস?"

"কী?"

"কেউ আমাকে ডাকছে'

"কই আমি তো কিছু শুনতে পাচ্ছি না"

"আমি তো স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি"

ঠিক তখন—ঘরের বাতিটা হঠাৎ জ্বলে উঠল।সবকিছু স্বাভাবিক।দেয়ালে কিছু নেই।মেঝেতে রক্ত নেই।
দরজার সামনে “৪” নেই।যেন কিছুই হয়নি।নীলা দ্রুত দরজার বাইরে বের হলো।করিডোর খালি।মাহির মা নিজের ঘরে ঘুমাচ্ছেন।বাড়ির সবকিছু স্বাভাবিক।কিন্তু—মাহি স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।কারণ একটা জিনিস এখনো আছে।দরজার নিচে।একটা ছোট্ট কাগজ।আগে এটা ছিল না।নীলা ধীরে সেটা তুলে নিল।কাগজটা পুরোনো।অনেক পুরোনো।ভাঁজ খুলতেই দেখা গেল—
একটা ছবি।হাসপাতালের।কালো-সাদা।ছবির নিচে লেখা—

“সিটি মেডিকেল হাসপাতাল – পুরোনো ভবন”

আর ছবির একপাশে গোল করে দাগ দেওয়া—রুম – ৪
মাহির হাত ঠান্ডা হয়ে গেল।কারণ—সে এই জায়গাটা চেনে।খুব ভালো করেই চেনে।এটা সেই করিডোর।
স্বপ্নের করিডোর।যেখানে সে বারবার যায়।

“এটা… অসম্ভব…” মাহি আস্তে বলল।

নীলা ছবিটার পেছনটা উল্টালো।পেছনে কারও হাতের লেখা—

“সত্য জানতে চাইলে… দরজা খুলতে হবে।”

ঠিক তখন—হঠাৎ—মাহির ফোনটা কেঁপে উঠল।রাত ৩:০৩।অজানা নাম্বার।কাঁপা হাতে কল রিসিভ করল মাহি।কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।তারপর—খুব ধীরে—
খুব দূর থেকে—একটা মেয়ের কণ্ঠ—

“মাহি…আমি এখনো বের হতে পারিনি…”

লাইনটা কেটে গেল।ঘরের ভেতর হঠাৎ ঠান্ডা বাতাস বয়ে গেল।আর ফোনের স্ক্রিনে নিজে নিজে একটা ছবি খুলে গেল।হাসপাতালের করিডোর।দূরে দাঁড়িয়ে একটা মেয়ে।সাদা পোশাক।মুখ দেখা যাচ্ছে না।কিন্তু—ছবিটার একদম কোণায়—কালো অন্ধকারের ভেতর—আরও একজন দাঁড়িয়ে ছিল।কেউ।যাকে মাহি আগে কখনো দেখেনি।কিন্তু—সে মাহিকে দেখছিল।

এবার হঠাৎ মাহি দেখল-নীলা যেখানে দাঁড়িয়ে আছে, আর ঠিক পেছনেই নাদিয়া আপুর কালো ছায়াটা দাঁড়িয়ে আছে, মাহি পিছনে আঙ্গুল দিয়ে দেখাতেই, নীলা কিছু বুঝতে না পেরে পেছনে ফিরে,ঠিক তখনই কালো ছায়াটা নীলার গলা চেপে ধরে উপরে তুলে ফেলল।

"না....ওকে ছেড়ে দাও।ও তো কিছু করেনি সব দোষ আমার। ওকে ছেড়ে দাও"

মাহি কাঁপা কাঁপা গলায় বলল।এইদিকে নীলা যন্ত্রণায় ছটফট করতে লাগলো।মাহি যেন এগোতে পারছে না, মাহি আবারও সেই কাঁচের ঘরে বন্দী হয়ে গিয়েছে।তার চোখের সামনে নীলা ছটফট করছে কিন্তু মাহি কিছুই করতে পারছে না। মাহি চিৎকার করতে লাগলো।

হঠাৎ—
মাহি ধড়ফড় করে উঠে বসল।তার নিঃশ্বাস দ্রুত চলছে।শরীর ঘামে ভিজে গেছে।কয়েক সেকেন্ড সে কিছুই বুঝতে পারল না।তারপর ধীরে ধীরে চোখ সয়ে এলো।নিজের ঘর।নিজের বিছানা।পড়ার টেবিল।খোলা বই।জানালা দিয়ে সকালের আলো ঢুকছে।সামনে দাঁড়িয়ে আছে নীলা।

“কিরে? কতক্ষণ ধরে ডাকছি তোকে!”

মাহি হাঁপাতে হাঁপাতে চারদিকে তাকালো।

“নী… নীলা…”

“কি হয়েছে তোর?” নীলা এবার চিন্তিত গলায় বলল।
তোর শরীর খারাপ লাগছে?”

মাহি কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইল।তার বুকটা এখনো দ্রুত উঠানামা করছে।মাহি নীলাকে বলল

"তুই ঠিক আছিস "

"হ্যাঁ আমি তো ঠিকই আছি, আমার আবার কি হবে"

তাহলে—এসব…সব স্বপ্ন ছিল?হাসপাতাল।চার নাম্বার দরজা।রক্ত,রুম–৪।অজানা কল।সব?মাথাটা হঠাৎ ঝিমঝিম করতে লাগল।নীলা এবার পাশে এসে বসলো।

“মাহি… কিছু হয়েছে?”

অনেকক্ষণ চুপ থাকার পর মাহি ধীরে বলল—

“আমি তোকে একটা কথা বলবো…”
"আবারো দেখেছি"

নীলা ভ্রু কুঁচকে তাকালো,খুলে বল।মাহি নিচের দিকে তাকিয়ে আস্তে আস্তে সব বলতে শুরু করল।প্রথম স্বপ্নটা।চার নাম্বার দরজা।অন্ধকার করিডোর।কালো চোখের মেয়ে।নাদিয়া আপুকে নিয়ে ভয়।বারবার একই স্বপ্ন দেখা।ঘুমের মধ্যে বাস্তব আর স্বপ্ন আলাদা করতে না পারা।সব,সব বলল।তারপর আরো বললো, আজকের স্বপ্নটা অনেকটা অদ্ভুত, আজকে আমার স্বপ্নে তুইও ছিলি নীলা,তোর সাথে খুব খারাপ হয়েছিল, নারী আপু তোর ক্ষতি করতে চেয়েছিল,

"না.. ওটা নাদি আপু না, নাদিয়া আপুর মত দেখতেই একটা ছায়া মূর্তি।"

সব শুনে নীলা অনেকক্ষণ চুপ করে বসে রইল।ঘরের ভেতর অদ্ভুত নীরবতা নেমে এলো।মাহির বুক ধুকপুক করছে।সে মনে মনে ভাবছিল—হয়তো নীলাও এবার তাকে অস্বাভাবিক ভাববে।হয়তো বলবে—

“তুই পাগল হয়ে যাচ্ছিস।”

কিন্তু নীলা শান্ত গলায় বলল—

“আমাদের আন্টিকে এসব জানানো উচিত।”

মাহি ধীরে মাথা নিচু করল।

“জানিয়েছিলাম…”

নীলা অবাক হলো।
“মানে?”

“মাকে সব বলেছিলাম…তারপর মা ডাক্তারও দেখিয়েছিল…কোন লাভ হয়নি…”

মাহির কণ্ঠটা একটু ভারী হয়ে গেল।

“সবাই বলে অতিরিক্ত চিন্তা।বেশি ভাবি বলে এসব হয়।কিন্তু আমি জানি…এসব শুধু স্বপ্ন না…”

ঘরের বাতাসটা যেন হঠাৎ ভারী হয়ে উঠল।নীলা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।তারপর ধীরে বলল—

“মাহি…একটা কথা বলি?”

“হুম…”

“আমার বড় ভাইয়া একজন ভালো সাইকোলজিস্টকে চেনে।”

মাহি মুখ তুলল।নীলা বলল—

“আমাদের একবার যাওয়া উচিত।হয়তো উনি কিছু বুঝতে পারবেন।হয়তো সাহায্য করতে পারবেন।”

কথাটা শুনে মাহির মুখটা হঠাৎ বদলে গেল।চোখে কষ্ট ফুটে উঠল।

“তুইও…”

“কি?”

"তুইও কি আমাকে মানসিক রোগী ভাবছিস?”

কথাটা বলেই মাথা নিচু করে ফেলল মাহি।নীলা এক মুহূর্ত চুপ করে রইল।তারপর খুব শান্ত গলায় বলল—

“না রে।একদম না।ভুল বুঝিস না।”

“মানুষ কষ্ট পেলে যেমন ডাক্তার দেখায়…মনের ভেতর কিছু নিয়ে কষ্ট হলে সেটাও দেখানো যায়।এতে কেউ পাগল হয়ে যায় না।একবার গিয়েই দেখ।পরামর্শ করতে ক্ষতি কি?”

মাহি চুপ করে রইল।তার ভেতরে যেন অনেকগুলো অনুভূতি একসাথে ঘুরপাক খাচ্ছে ভয়,দ্বিধা,রাগ,অসহায়ত্ব।কিন্তু—কোথাও একটা ছোট্ট আশাও।হয়তো—সত্যিই কেউ তাকে বুঝতে পারবে।
★★★

(চলবে)

Address

Chittagong

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when কল্পনার রাজ্য posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share