22/08/2024
গত ১৫ বছর ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কি পরিমাণ কষ্টে রেখেছে স্বৈ*রাচার হাসিনা সরকার, তার একটা নমুনা...
পাঠকের সুবিধার্থে হলের একজন শিক্ষার্থীর ফেসবুক স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হলো:
২০১৭ সাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ম বর্ষে ভর্তি হয়েছি। চোখেমুখে অনেক স্বপ্ন। দেশ সেরা বিদ্যাপীঠে পড়বো! ভাবসাব হবে অন্যরকম! ঢাকায় থাকবো, হলে উঠবো!
আমাকে নিশ্চয়ই একটা রুম দেবে, যেখানে আমার জন্য নির্ধারিত বিছানা থাকবে, একটা আলমারি থাকবে, পড়াশোনার জন্য থাকবে সুন্দর টেবিল-চেয়ার!
পড়ার সময় পড়বো, ঘুমানোর সময় ঘুমাবো! বাকি সময়টা নিজের মত জ্ঞান চর্চা আর সামাজিক- সাংস্কৃতিক কাজে ব্যয় করব।
কিন্তু বাস্তবতা হলো!
২০১৬ এর ৩০শে ডিসেম্বর এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে হলে উঠি, সন্ধ্যায় নিয়ে যাওয়া হয় বারান্দায় ( পি জোনে)। একটা সিঙ্গেল বেড দেখিয়ে বলা হয় এখানে শুয়ে যা, সাইড হয়ে শুয়ে থাকিস আরেকজন শুইবে। রাত ১১:৩০ নাগাদ কয়েকজন এসে চিল্লা-পাল্লা শুরু করে দিলো!
- "এই এখানে কে রে! শুয়ে আছে! জানিস না হল সেক্রেটারির জম্নদিন আজকে? দ্রুত নিচে নাম। "
নতুন হল কমিটি হয়েছে ১০/১৫ দিন হলো, সবাই গরম! হল পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বাঘা বাঘা পদ হাতিয়ে নিতে হবে ত!
সাথের আরেকজন:
- " আরে এরা ফাস্ট ইয়ার, আজকেই উঠছে "
ঘুম ঘুম চোখে হল গেটে গিয়ে লাইন ধরে তালি দিই আর গলা ফাটাই! ''শুভ শুভ শুভ দিন, ওমুক ভাইয়ের জন্মদিন! এস. এম. হলের পক্ষ থেকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা"
ধুমধাম করে কেক কাটা হয়, বক্সে গান বাজিয়ে নাচানাচি করা হয় আর ওদিকে আমার চোখ ঘুমে জ্বলে যায়। তারপর কখন কোথায় ঘুমিয়েছিলাম আর মনে নেই।
পরের দিন, ৩১শে ডিসেম্বর হল সভাপতির জন্মদিন। ঐ একই কাহিনি! আবার থার্টিফার্স্ট নাইট!
জানুয়ারির ১ তারিখ থেকেই ক্লাস শুরু হবে, সারা রাত না ঘুমিয়ে, ঘুম ঘুম চোখে সকাল ৮.০০ টার ক্লাস! প্রথম ২ দিনেই ভার্সিটিতে পড়ার স্বাদ মিটে যায় যায় অবস্থা!!
বারান্দার সিঙ্গেল বেড গুলোতে দু'জন! একটা বেড আরেকটা বেডের সাথে লাগানো ছিলো। আবার বারান্দায় কোনো পর্দা লাগানোর নিয়ম ছিলোনা, ছিলোনা কোনো বিদ্যুৎ লাইনের ব্যবস্থা। তারপর আমরা সবাই নিজেরা টাকা দিয়ে প্রথম পর্দা কিনে লাগাই। টিভি রুম থেকে মাল্টি দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন টেনে সিঙ্গেল ছোট ফ্যান চালাতাম। মশারি টানানোর জায়গা নাই! কেমনে থাকবে! রাতের অন্ধকারে কে কার বেডে কোনো হদিস নাই!
সেই প্রিয় মশা! ভালোবাসার ছারপোক