আশার আলোছায়া "Ashar Alochhaya"

আশার আলোছায়া "Ashar Alochhaya" একজন মানুষ তখনই তার মনুষ্যত্ব হারায় যখন সে অন্যের দুঃখে নিজে খুশি হয়।

15/03/2026
24/02/2026

শাইখুল হাদিস হযরত ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রঃ কে প্রশ্নঃ করা হয়েছিলো আমরা সঠিক ইসলাম চিনবো কি করে?

জবাবেঃ-- আল্লামা ইবনে তাইমিয়্যাহ রঃ বলেছিলেন তোমরা লক্ষ্য করবে! রাষ্ট্র শক্তি, প্রশাসন, তাগুতি শক্তি, ধর্মের আলখেল্লায় ধর্ম ব্যবসায়ী ও ইসলামের বিপরীত ধর্মের লোকজন মিলে কোনো একটি দলকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আঘাত হানছে। ওখানেই সঠিক ধর্মের তালাশ করো। আমরা একটু গভীর মনোযোগ দিয়ে চিন্তা করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে এবং সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হবে।

17/02/2026

হারাম ও কবিরা গুনাহ হারাম ও কবীরা গুনাহ্ পরিচিতি মোস্তাফিজুর রহমান বিন আব্দুল আজিজ আল-মাদানী

২৭. যুলুম, অত্যাচার ও কারোর উপর অন্যায় মূলক আক্রমণ
কারোর জন্য অন্যের উপর যে কোনভাবে যুলুম, অত্যাচার অথবা অন্যায় মূলক আক্রমণ হারাম ও কবীরা গুনাহ্। কাউকে মারা, হত্যা করা, আহত করা, গালি দেয়া, অভিসম্পাত করা, ব্যভিচারের অপবাদ দেয়া, দুর্বলের উপর হাত উঠানো চাই সে হোক নিজের কাজের ছেলে কিংবা নিজের কাজের মেয়ে অথবা নিজ স্ত্রী-সন্তান; তেমনিভাবে জোর করে কারোর কোন অধিকার হরণ ইত্যাদি ইত্যাদি যুলুমেরই অন্তর্গত।

যুলুম পারস্পরিক বন্ধুত্ব বিনষ্ট করে। আত্মীয়-স্বজনের মাঝে বৈরিতা সৃষ্টি করে। মানুষের মাঝে হিংসা ও বিদ্বেষের জন্ম দেয় এবং এরই কারণে ধনী ও গরীবের মাঝে ধীরে ধীরে ঘৃণা ও শত্রুতা জেগে উঠে। তখন উভয় পক্ষই দুনিয়ার বুকে অশান্তি নিয়েই জীবন যাপন করতে বাধ্য হয়।

আল্লাহ্ তা‘আলা যালিমদের জন্য জাহান্নামে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছেন। যা তাকে গ্রহণ করতেই হবে।

আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন:

«إِنَّا أَعْتَدْنَا لِلظَّالِمِيْنَ نَارًا، أَحَاطَ بِهِمْ سُرَادِقُهَا، وَإِنْ يَّسْتَغِيْثُوْا يُغَاثُوْا بِمَاءٍ كَالْـمُهْلِ يَشْوِيْ الْوُجُوْهَ، بِئْسَ الشَّرَابُ، وَسَاءَتْ مُرْتَفَقًا»

‘‘আমি যালিমদের জন্য জাহান্নাম প্রস্ত্তত রেখেছি। যার বেষ্টনী তাদেরকে পরিবেষ্টন করে থাকবে। তারা পানি চাইলে তাদেরকে দেয়া হবে গলিত ধাতুর ন্যায় পানি। যা তাদের মুখমণ্ডল পুড়িয়ে দিবে। এটা কতই না নিকৃষ্ট পানীয় এবং সে জাহান্নাম কতই না নিকৃষ্ট আশ্রয়’’। (কাহ্ফ : ২৯)

আল্লাহ্ তা‘আলা আরো বলেন:

«وَسَيَعْلَمُ الَّذِيْنَ ظَلَمُوْا أَيَّ مُنْقَلَبٍ يَّنْقَلِبُوْنَ»

’’অত্যাচারীরা শীঘ্রই জানবে কোথায় তাদের গন্তব্যস্থল!’’ (শু‘আরা’ : ২২৭)

আবূ যর গিফারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন:

يَا عِبَادِيْ! إِنِّيْ حَرَّمْتُ الظُّلْمَ عَلَى نَفْسِيْ وَجَعَلْتُهُ بَيْنَكُمْ مُحَرَّمًا فَلَا تَظَالَـمُوْا.

‘‘হে আমার বান্দাহ্রা! নিশ্চয়ই আমি আমার উপর যুলুম হারাম করে দিয়েছি অতএব তোমাদের উপরও তা হারাম। সুতরাং তোমরা পরস্পর যুলুম করো না’’। (মুসলিম ২৫৭৭)

কেউ কেউ কোন যালিমকে অনায়াসে মানুষের উপর যুলুম করতে দেখলে এ কথা ভাবে যে, হয়তো বা সে ছাড় পেয়ে গেলো। তাকে আর কোন শাস্তিই দেয়া হবে না। না, ব্যাপারটা কখনোই এমন হতে পারে না। বরং আল্লাহ্ তা‘আলা তাদেরকে কিয়ামতের দিনের কঠিন শাস্তির অপেক্ষায় রেখেছেন।

আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন:

«وَلَا تَحْسَبَنَّ اللهَ غَافِلًا عَمَّا يَعْمَلُ الظَّالِمُوْنَ، إِنَّمَا يُؤَخِّرُهُمْ لِيَوْمٍ تَشْخَـصُ فِيْهِ الْأَبْصَارُ، مُهْطِعِيْنَ مُقْنِعِيْ رُؤُوْسِهِمْ، لَا يَرْتَدُّ إِلَيْهِمْ طَرْفُهُمْ، وَأَفْئِدَتُهُمْ هَوَاءٌ»

‘‘তুমি কখনো মনে করো না যে, যালিমরা যা করে যাচ্ছে আল্লাহ্ তা‘আলা সে ব্যাপারে গাফিল। বরং তিনি তাদেরকে সুযোগ দিচ্ছেন কিয়ামতের দিন পর্যন্ত। যে দিন সবার চক্ষু হবে স্থির বিস্ফারিত। সে দিন তারা ভীত-বিহবল হয়ে আকাশের দিকে চেয়ে ছুটোছুটি করবে। তাদের চক্ষু এতটুকুর জন্যও নিজের দিকে ফিরবে না এবং তাদের অন্তর হবে একেবারেই আশা শূন্য’’। (ইব্রাহীম : ৪২-৪৩)

কারোর মধ্যে বিনয় ও নম্রতা না থাকলেই সে কারোর উপর উদ্যত ও আক্রমণাত্মক হতে পারে। এ কারণেই আল্লাহ্ তা‘আলা সকলকে বিনয়ী ও নম্র হতে আদেশ করেন।

’ইয়ায বিন্ ’হিমার মুজাশি’য়ী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা খুৎবা দিতে গিয়ে বলেন:

وَإِنَّ اللهَ أَوْحَى إِلَيَّ أَنْ تَوَاضَعُوْا حَتَّى لَا يَفْخَرَ أَحَدٌ عَلَى أَحَدٍ، وَلَا يَبْغِيَ أَحَدٌ عَلَى أَحَدٍ.

‘‘আল্লাহ্ তা‘আলা এ মর্মে আমার নিকট ওহী পাঠিয়েছেন যে, তোমরা নম্র ও বিনয়ী হও; যাতে করে একের অন্যের উপর গর্ব করার পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় এবং একের অন্যের উপর অত্যাচার বা আক্রমণাত্মক আচরণ করার সুযোগ না আসে’’। (মুসলিম ২৮৬৫)

আবূ মাস্’ঊদ্ আন্সারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:

كُنْتُ أَضْرِبُ غُلَامًا لِيْ، فَسَمِعْتُ مِنْ خَلْفِيْ صَوتًا : اعْلَمْ، أَبَا مَسْعُوْدٍ ! لَلَّهُ أَقْدَرُ عَلَيْكَ مِنْكَ عَلَيْهِ، فَالْتَفَتُّ فَإِذَا هُوَ رَسُوْلُ اللهِ ، فَقُلْتُ: يَا رَسُوْلَ اللهِ! هُوَ حُرٌّ لِوَجْهِ اللهِ، فَقَالَ: أَمَا لَوْ لَمْ تَفْعَلْ لَلَفَحَتْكَ النَّارُ أَوْ لَمَسَّتْكَ النَّارُ.

’’আমি আমার একটি গোলামকে মারছিলাম এমতাবস্থায় পেছন থেকে শুনতে পেলাম, কে যেন আমাকে বড় আওয়াজে বলছে: শুনো, হে আবূ মাস্’ঊদ্! তুমি এর উপর যতটুকু ক্ষমতাশীল তার চাইতেও অনেক বেশি ক্ষমতাশীল আল্লাহ্ তা‘আলা তোমার উপর। অতঃপর আমি (পেছনে) তাকিয়ে দেখি, তিনি হচ্ছেন স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। অতএব আমি বললাম: হে আল্লাহ্’র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! একে আল্লাহ্ তা‘আলার সন্তুষ্টির জন্য স্বাধীন করে দিলাম। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তুমি যদি এমন না করতে তা হলে তোমাকে জাহান্নামের অগ্নি স্পর্শ করতো অথবা পুড়িয়ে দিতো’’।

(মুসলিম ১৬৫৯)

হিশাম বিন্ ’হাকীম (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

إِنَّ اللهَ يُعَذِّبُ الَّذِيْنَ يُعَذِّبُوْنَ النَّاسَ فِيْ الدُّنْيَا.

‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা‘আলা ওদেরকে শাস্তি দিবেন যারা দুনিয়াতে মানুষকে (অন্যায়ভাবে) শাস্তি দেয়’’। (মুসলিম ২৬১৩)

আল্লাহ্ তা‘আলা অত্যাচারী ও কারোর উপর অন্যায় মূলক আক্রমণকারীর শাস্তি দুনিয়াতেই দিয়ে থাকেন। উপরন্তু আখিরাতের শাস্তি তো তার জন্য প্রস্ত্তত আছেই।

আবূ বাক্রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

مَا مِنْ ذَنْبٍ أَجْدَرُ أَنْ يُّعَجِّلَ اللهُ لِصَاحِبِهِ الْعُقُوْبَةَ فِيْ الدُّنْيَا مَعَ مَا يَدَّخِرُ لَهُ فِيْ الْآخِرَةِ مِنَ الْبَغْيِ وَقَطِيْعَةِ الرَّحِمِ.

‘‘দু’টি গুনাহ্ ছাড়া এমন কোন গুনাহ্ নেই যে গুনাহ্গারের শাস্তি আল্লাহ্ তা‘আলা দুনিয়াতেই দিবেন এবং তা দেওয়াই উচিৎ; উপরন্তু তার জন্য আখিরাতের শাস্তি তো আছেই। গুনাহ্ দু’টি হচ্ছে, অত্যাচার তথা কারোর উপর অন্যায় মূলক আক্রমণ এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী’’।

(আবূ দাউদ ৪৯০২; তিরমিযী ২৫১১; ইব্নু মাজাহ্ ৪২৮৬; ইব্নু হিববান ৪৫৫, ৪৫৬ বায্যার, হাদীস ৩৬৯৩; আহমাদ ২০৩৯০, ২০৩৯৬, ২০৪১৪)

কপিরাইট
2013-2026 Hadithbd, All rights reserved.
Developer: Rokon UL Haque
Privacy policy
Bangla text convrter

16/02/2026

মহিলা প্রয়োজনে পর পুরুষের সাথে কথা বলতে পারে। তবে সে কথা যেন স্বাভাবিক হয়; না রুক্ষ না কর্কশ হয়, আর না মধুময় আকর্ষণীয় হয়। মহান আল্লাহ বলেছেন, “হে নবী পত্নীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও; যদি তোমরা আল্লাহ্‌কে ভয় কর তবে পরপুরুষের সাথে কোমল কণ্ঠে এমনভাবে কথা বলো না, যাতে অন্তরে যার ব্যাধি আছে সে প্রলুব্ধ হয়। আর তোমরা সদালাপ কর।(স্বাভাবিকভাবে কথা বল।)” (আহযাবঃ ৩২)

প্রয়োজনে কিংবা অপ্রয়োজনে বেগানা (গায়রে-মাহরাম) নারীর সাথে কথা বলা:

যদি অপ্রয়োজনে হয় এবং নারীর কণ্ঠস্বর শুনে স্বাদ অনুভব হয় কিংবা নারী কোমল কণ্ঠে কথা বলে— তাহলে সেটা হারাম। এটি জিহ্বা ও কানের ব্যভিচারের অন্তর্ভুক্ত। যেটার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আদম সন্তানের উপর ব্যভিচারের যতটুকু অংশ লিপিবদ্ধ করা রয়েছে ততটুকু সে অবশ্যই পাবে; এর থেকে নিস্তার নেই। নিঃসন্দেহে দুই চোখের ব্যভিচার হল তাকানো, দুই কানের ব্যভিচার হল শোনা, জিহ্বার ব্যভিচার হল কথোপকথন, হাতের ব্যভিচার হল ধরা, পায়ের ব্যভিচার হল হেঁটে যাওয়া, হৃদয়ের ব্যভিচার হল কামনা-বাসনা করা। আর লজ্জাস্থান তা সত্যায়িত করে বা মিথ্যা সাব্যস্ত করে।”[মুসলিম হাদীসটিকে উক্ত শব্দে বর্ণনা করেছেন: ২৬৫৭]

অন্যদিকে যদি নারীর সাথে কথা বলার প্রয়োজন থাকে তাহলে মৌলিকভাবে সেটা বৈধ। কিন্তু নিম্নোক্ত শিষ্টাচারগুলো রক্ষা করা বাঞ্চনীয়:

১- প্রয়োজনীয় কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা; যে কথা উদ্দিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। বিষয়গুলোর শাখা-প্রশাখায় লম্বা আলাপ জুড়ে দেওয়া যাবে না। সম্মানিত ভাই, এক্ষেত্রে আপনি সাহাবীদের শিষ্টাচার ভেবে দেখুন। যাতে করে আমাদের বর্তমান অবস্থাগুলোর সাথে সেটাকে তুলনা করতে পারেন। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে মুনাফিকরা যে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছিল তিনিই সেই ঘটনা বর্ণনা করেছেন। সে ঘটনার মধ্যে তিনি বলেছেন:

“সাফওয়ান ইবনুল মুয়াত্তাল, যিনি প্রথমে আস-সুলামী এবং পরে আয-যাকওয়ানী (গোত্রীয় উপনাম) সৈন্য বাহিনীর পেছনে ছিলেন। তিনি সকালের দিকে আমার অবস্থান স্থলের কাছাকাছি এসে পৌঁছলেন এবং একজন ঘুমন্ত মানুষকে আবছা দেখতে পেয়ে আমার দিকে এগিয়ে এলেন। দেখেই আমাকে চিনতে পারলেন। কারণ পর্দার বিধান নাযিলের আগেই তিনি আমাকে দেখেছিলেন। তার ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া-ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ পড়ার শব্দে আমি জেগে উঠলাম এবং আমি আমার জিলবাব দিয়ে মুখ ঢেকে ফেললাম। আল্লাহর কসম! আমরা কোনো কথা বলিনি এবং তার মুখ থেকে ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া-ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ ছাড়া তার কাছ থেকে কোনো শব্দ শুনিনি। তিনি নেমে উটটিকে হাঁটু গেড়ে বসালেন এবং উটের সামনের পা চেপে ধরলেন। তখন আমি উটের কাছে গিয়ে উটের পিঠে আরোহন করলাম। তিনি আমাকেসহ সওয়ারীটি সামনে থেকে টেনে নিয়ে চললেন। অবশেষে আমরা সেনাদলের কাছে পৌঁছলাম।”[বুখারী (৪১৪১) ও মুসলিম (২৭৭০)]

ইরাকী (রহঃ) বলেন:

“তার কাছ থেকে কোনো শব্দ শুনিনি” এই কথা পুনরাবৃত্তি নয় (তথা পূর্বের কথা: ‘আল্লাহর কসম! আমরা কোনো কথা বলিনি’ এর পুনরাবৃত্তি নয়)। হতে পারত তিনি (সাফওয়ান) তার সাথে কথা বলেন না; কিন্তু নিজের সাথে কথা বলেন। কিংবা কুরআন তেলাওয়াত বা যিকির তিনি (আয়েশা) শুনার মত উচ্চস্বরে পড়তে পারতেন। কিন্তু তিনি (সাফওয়ান) সেটাও করেননি। বরং শিষ্টাচার ও মর্যাদা রক্ষা এবং পরিস্থিতির ভয়াবহতায় তিনি নীরবতা বজায় রাখেন।

এই হাদীস থেকে প্রাপ্ত অন্যতম শিক্ষা হলো: বেগানা নারীর সাথে উত্তম শিষ্টাচার বজায় রাখা। বিশেষতঃ জরুরী পরিস্থিতিতে মরুভূমিতে কিংবা অন্য কোথাও তাদের সাথে নির্জন বাস ঘটলে। যেমনটি সাফওয়ান (রাঃ) করেছিলেন। তিনি কোনো কথা না বলে বা প্রশ্ন না করে উটকে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে দিয়েছিলেন।”[সংক্ষেপে সমাপ্ত][ত্বারহুত তাসরীব (৮/৫৩)]

২- হাসি-ঠাট্টা এড়িয়ে চলা। কেননা এটা শিষ্টাচার বা ব্যক্তিত্বের মধ্যে পড়ে না।

৩- স্থির নজরে দেখা থেকে বিরত থাকা। সাধ্যমত দৃষ্টি নীচু রাখতে সচেষ্ট থাকা। তবে কথা বলতে গিয়ে যদি অল্প নজর পড়ে যায় তাহলে গুনাহ হবে না; ইনশা আল্লাহ।

৪- উভয়পক্ষ থেকে কোমল স্বরে কথাবার্তা না হওয়া। যেমন: কৃত্রিমভাবে স্বরকে নরম করা, কথাকে কোমল করা। উভয়পক্ষ স্বাভাবিক কণ্ঠস্বরে কথা বলা। আল্লাহ তায়ালা উম্মাহাতুল মুমিনীনকে বলেন, “তোমরা পর-পুরুষের সাথে কোমল কন্ঠে এমনভাবে কথা বলো না যাতে অন্তরে যার ব্যাধি রয়েছে সে প্রলুব্ধ হয়। তোমরা সঙ্গত কথা বলবে।”[সূরা আহযাব, আয়াত: ৩২]

৫- প্রেম-ভালোবাসার কিঞ্চিৎ ভাব বা ইঙ্গিতবহ শব্দগুলো এড়িয়ে চলবে। অথবা এমন সব শব্দ পরিহার করবে যেগুলো নারী বা পুরুষের লিঙ্গের সাথে বিশিষ্ট।

৬- শ্রোতার ওপর প্রভাব সৃষ্টি করার শৈলীগুলোতে বাড়াবাড়ি ত্যাগ করা। কিছু মানুষ অন্যদের সাথে কথার সময় তার সর্বোচ্চ যোগ্যতা প্রয়োগ করে; সেটি কথা বলতে গিয়ে হাত-মুখ নাড়ানো কিংবা কবিতা, প্রবাদ-বাক্য বা আবেগী বাক্য ব্যবহার করার মাধ্যমে। যেহেতু এটি দুই লিঙ্গের মাঝে হারাম সম্পর্ক তৈরিতে শয়তানের দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়।

ইবনুল কাইয়িম রাহিমাহুল্লাহ বলেন:

“কবিগণ বেগানা নারীর সাথে কথাবার্তা বলা এবং তাদের দিকে তাকানোকে কোনো সমস্যা মনে করে না। অথচ এটা শরীয়ত এবং আকলের বরখেলাফ। এতে করে প্রত্যেকের স্বভাবে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি যে আকর্ষণ আছে সেটাকে জাগ্রত করে তোলা হয়। এর কারণে কত মানুষ যে দ্বীনি ও দুনিয়াবী ফিতনায় পড়েছে!”[রাওদাতুল মুহিব্বীন (পৃ-৮৮)]

06/02/2026

মোনাফেকদের কিছু প্রধান লক্ষণ:
1. *কথা ও কাজে মিল না থাকা*: তারা মুখে এক কথা বলে, কাজে আরেক কাজ করে।
2. *ওয়াদা ভঙ্গ করা*: তারা কথা দিয়ে কথা রাখে না।
3. *আমানতের খিয়ানত করা*: তাদের কাছে আমানত রাখলে তা ফেরত দেয় না।
4. *ঝগড়ায় গালিগালাজ করা*: তারা ঝগড়া করলে অশালীন ভাষা ব্যবহার করে।
5. *নামাজে অলসতা করা*: তারা নামাজে দেরি করে বা অবহেলা করে।
6. *দান-সদকায় কৃপণতা করা*: তারা দান-সদকা করতে পছন্দ করে না।

আল্লাহ তাআলা সুরা মুনাফিকুনে মোনাফেকদের বৈশিষ্ট্য বলেছেন।

03/02/2026

১। তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে দিও না। [সূরা বাকারা ২:৪২]
২। সৎকার্য নিজে সম্পাদন করার পর অন্যদের করতে বলো। [সূরা বাকারা ২:৪৪]
৩। পৃথিবীতে বিবাদ-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করো না। [সূরা বাকারা ২:৬০]
৪। কারো মসজিদ যাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করো না। [সূরা বাকারা ২:১১৪]
৫। এ অন্ধানুসরণ করো না। [সূরা বাকারা ২:১৭০]
৬। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করো না। [সূরা বাকারা ২:১৭৭]
৭। ঘুসে লিপ্ত হয়ো না। [সূরা বাকারা ২:১৮৮]
৮। যারা তোমাদের সঙ্গে লড়াই করবে, শুধু তাদের সঙ্গে তোমরা লড়াই করো। [সূরা বাকারা ২:১৯০]
৯। লড়াইয়ের বিধি মেনে চলো। [সূরা বাকারা ২:১৯১]
১০। অনাথদের রক্ষণাবেক্ষণ করো। [সূরা বাকারা ২:২২০]
১১। রজঃস্রাব কালে যৌনসঙ্গম করো না। [সূরা বাকারা ২:২২২]
১২। শিশুকে পূর্ণ দুই বছর দুগ্ধপান করাও। [সূরা বাকারা ২:২৩৩]
১৩। সৎগুণ দেখে শাসক নির্বাচন করো। [সূরা বাকারা ২:২৪৭]
১৪। দ্বিনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই। [সূরা বাকারা ২:২৫৬]
১৫। প্রতিদান কামনা করে দাতব্য বিনষ্ট করো না। [সূরা বাকারা ২:২৬৪]

*কোমলতার শক্তি*অনেক পুরুষই ভেতরে ভেতরে গলে যায়, যখন কোনো নারী শান্ত, কোমল ও নরম সুরে কথা বলে—কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, অনেক...
31/01/2026

*কোমলতার শক্তি*

অনেক পুরুষই ভেতরে ভেতরে গলে যায়, যখন কোনো নারী শান্ত, কোমল ও নরম সুরে কথা বলে—কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, অনেক নারীই এই শক্তিটা মিস করে যান।

অনেকে মনে করেন, নরম হওয়া মানে দুর্বল হওয়া।
কিন্তু বাস্তবে এটি একটি বড় ভুল ধারণা।

একজন নারীর সবচেয়ে গভীর ও প্রাকৃতিক শক্তি সবসময়ই ছিল তার কোমলতা।
কারণ সে পুরুষের মতো তেজ বা “আলফা এনার্জি” দেখানোর জন্য তৈরি নয়।
যদি সেটাই দরকার হতো, তবে একজন পুরুষ আরেকজন পুরুষকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিত।

তাই যখন আপনি মনে করেন—
“সে আমার কথা একদমই শোনে না,”
তখন একবার থেমে নিজেকে প্রশ্ন করুন—

আপনি তার সঙ্গে কীভাবে কথা বলছেন?

আপনি কি তাকে চ্যালেঞ্জ করছেন, নিজের অজান্তেই অন্য একজন পুরুষের মতো আচরণ করছেন?

একবার নিজের নারীসুলভ, শান্ত ও কোমল সুরে কথা বলুন।
কথা কমান, অনুভূতি বাড়ান।

তারপর লক্ষ্য করুন—
সে কতটা মনোযোগ দিয়ে শোনে,
আর কত ভিন্নভাবে সাড়া দেয়।

কখনো কখনো শক্তি জোরে বলায় নয়—
শক্তি থাকে কোমলতার মধ্যেই।

ভালোবাসা জিনিসটা সত্যিই অদ্ভুত। এটা শুধু রূপ বা বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখেই আসে না। ভালোবাসা জন্ম নেয় উত্তম আচরণে, যত্নে, এব...
28/01/2026

ভালোবাসা জিনিসটা সত্যিই অদ্ভুত। এটা শুধু রূপ বা বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখেই আসে না। ভালোবাসা জন্ম নেয় উত্তম আচরণে, যত্নে, এবং ভালোবাসা প্রকাশের মধ্য দিয়ে। আপনি যদি কাউকে ভালোবাসা দেন, সম্মান দেন, অনুভূতি জানান—তাহলেই ভালোবাসা ফিরে আসে। কিন্তু যদি মনে করেন, কেবল ব্যক্তিত্ব কিংবা সৌন্দর্যের জোরেই কেউ আপনাকে আজীবন ভালোবাসবে—এই ধারণা অলিক।

পৃথিবীতে অসংখ্য সৎ, ব্যক্তিত্বশীল পুরুষ আছেন, যারা স্ত্রীর ভালোবাসা পান নি। আবার অনেক রূপবতী নারীও আছেন, যারা স্বামীর ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত থেকেছেন। প্রশ্ন হলো—কেন? অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, তারা প্রত্যাশা করেছেন ভালোবাসা, কিন্তু ভালোবাসা দিতেই ভুলে গেছেন। কেউ ভেবেছেন চরিত্রই যথেষ্ট, কেউ ভেবেছেন রূপই সব। অথচ ভালোবাসা পাওয়ার জন্য ভালোবাসা দিতে হয়। ভালোবাসাকে সম্মান জানাতে হয়। অনুভূতিকে প্রকাশ করতে হয়।

আপনার স্বামী যদি আপনাকে বলে—'আমি তোমাকে ভালোবাসি', অথবা কথায়, চোখে, আচরণে ভালোবাসা প্রকাশ করে—তখন আপনার দায়িত্ব শুধু শুনে নেওয়া না; মুখে ও আচরণে তার জবাব দেওয়া। যদি সে একাই বারবার ভালোবাসা প্রকাশ করে যায় আর আপনি এমন ভঙ্গি নেন—যেন আপনার মনে কোন অনুভূতিই জাগ্রত হচ্ছে না—তাহলে ধীরে ধীরে তার মন ভেঙে যেতে পারে। ভালোবাসা কমে যেতে পারে। এটা একটা মারাত্মক ভুল।

স্বামীর সঙ্গে এমন ভাষায় কথা বলুন, এমন আচরণ করুন—যেন সে বুঝতে পারে, আপনি তাকে গভীরভাবে ভালোবাসেন। বিশ্বাস আর আস্থার সঙ্গে তার মনে এই অনুভূতিটুকু জাগিয়ে দিন—সে আপনার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। এই অনুভূতিই তাকে আপনার প্রতি আরও বেশি আকৃষ্ট করবে।

মোটকথা, সে যখন ভালোবাসা প্রকাশ করে, তখন তার জবাবে এমন শব্দ ব্যবহার করুন, এমন অনুভূতি দিন—যেন তার মন আনন্দে ভরে যায়। যেন সে অনুভব করে—আমার স্ত্রী আমাকেই চায়।

রাসুলুল্লাহ ﷺ–এর স্ত্রীগণ—উম্মুল মুমিনিনগণ—ভালোবাসা প্রকাশে কখনো কুণ্ঠিত ছিলেন না। তারা প্রকাশ্যেই ভালোবাসা জানিয়েছেন। কথা ও ইশারায় তাদের ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। এর অসংখ্য প্রমাণ হাদিসের কিতাবে ছড়িয়ে আছে। হজরত আয়েশা (রাঃ) একবার বলেছিলেন—'আমি যখনই আপনার কথা স্মরণ করি, আমার মুখ তাজা হয়ে যায়।'

এটা সরাসরি ভালোবাসার ভাষা। এভাবে ভালোবাসার কথা প্রকাশ করতে হয়।

আরেকবার হাফসা (রাঃ) বলেছিলেন—হে আল্লাহর রাসুল, আমরা কি করে আপনার প্রতি হিংসা করব? আপনি তো আমাদের হৃদয়ের কেন্দ্রবিন্দু।

এটাও ভালোবাসার অকপট প্রকাশ।

একদিন নবি ﷺ আয়েশা (রাঃ)-কে বললেন—আমি তোমার রাগের অবস্থাতেও বুঝে ফেলি, তুমি আমাকে ভালোবাসো। আয়েশা (রাঃ) বললেন—হ্যাঁ, রাগ হলে শুধু আপনার নামটা বদলে ডাকি, ভালোবাসা কিন্তু একই থাকে।

হজরত আয়েশা (রাঃ) রাসুলুল্লাহ ﷺ–এর জন্য কবিতাও লিখেছেন। রাতে তিনি ঘরে ফিরলে, আয়েশা (রাঃ) সেই কবিতা আবৃত্তি করতেন। শব্দে শব্দে তিনি বোঝাতেন—এই মানুষটাই তার জীবনের সূর্য। ভাবুন তো, কোনো স্ত্রী যদি স্বামীকে এমন শব্দে, এমন ভালোবাসায় অভ্যর্থনা জানায়—তার হৃদয়ে কী পরিমাণ প্রশান্তি নেমে আসতে পারে?

অথচ আজ অনেক নারী মনে করেন—ভালোবাসা প্রকাশ করা শুধু স্বামীর দায়িত্ব। নিজের ভালোবাসা লুকিয়ে রাখলেই নাকি দাম বাড়ে। এটা বড় ভুল ধারণা। তালি দুই হাতেই বাজে, বাজাতে হয়। (অনেক স্বামীরাও এটা মনে করে, ভালোবাসার দায়িত্ব শুধু স্ত্রীদের)

ভালোবাসা পেতে হলে ভালোবাসা প্রকাশ করতে হয়—কথায়, কাজে, আচরণে। বিশেষ করে স্বামী যখন ভালোবাসা প্রকাশ করে, তখন স্ত্রীর পক্ষ থেকেও তা ফিরিয়ে দেওয়া জরুরি। এমনভাবে কথা বলুন, যেন স্বামীর হৃদয় ভরে যায় এই বিশ্বাসে—আমার স্ত্রী শুধু আমাকেই চায়।

মনে রাখতে হবে, স্বামীর মনে যদি কখনো এই সন্দেহ ঢুকে যায়—আমার স্ত্রী কি আমাকে সত্যিই চায়?—তাহলে তা তার অন্তর ভেঙে দেয়। তাই স্ত্রীর জীবনযাপন, কথা ও আচরণ এমন হওয়া দরকার—যেন স্বামীর মনে গভীরভাবে এই বিশ্বাস গেঁথে যায়—'আমার স্ত্রী আমাকে ভালোবাসে। একান্তভাবেই আমাকে।' এই বিশ্বাসই দাম্পত্য জীবনের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।

25/01/2026

#পরকীয়া_নিয়ে_আল্লাহর_সতর্কবার্তা

পরকীয়া একটি সমাজ বিধ্বংসী বিকৃত মানসিকতা। ইসলামে পরকীয়া ও অবৈধ সম্পর্ক থেকে নারী-পুরুষকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

সূরা নূরের ৩০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা পুরুষদের দৃষ্টি সংযত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর ৩১ নম্বর আয়াতে নারীদের দৃষ্টি সংযত রাখার পাশাপাশি পরপুরুষের সামনে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ করতে নিষেধ করেছেন।

স্ত্রীর সৌন্দর্য স্বামীকে তার প্রতি আনুরাগী করলে সংসারের শান্তিই বাড়বে। পক্ষান্তরে নারীর সৌন্দর্য তার স্বামী ছাড়া অন্যকে আকর্ষণ করলে তা কেবল অশান্তিই বাড়াবে।

সূরা আহজাবের ৩২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা নারীদের পরপুরুষের সঙ্গে কোমল ও আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে কথা বলতে নিষেধ করেছেন। যাতে নারীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কোনো পুরুষ আকর্ষণবোধ না করেন।

সূরা বনি ইসরাইলে আল্লাহ পুরুষ-নারী সবাইকে চরিত্র সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না। এটা অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট আচরণ। ' (সূরা বনি ইসরাইল: ৩২)

সূরা নূরে ব্যভিচারের শাস্তি উল্লেখ করতে গিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণী উভয়কে একশ ঘা করে বেত্রাঘাত কর। ’ (সূরা নূর: ২)

❤️‍🔥দুটো নোটেরই বয়স ৭ বছরএকটি খোলা দুনিয়ায় ঘুরেছে আরেকটি খুব যত্নে কোন এক সিন্দুকে কারো সম্পদ হয়ে আবদ্ধ ছিলো। 🌿পর্দাওয়...
25/01/2026

❤️‍🔥দুটো নোটেরই বয়স ৭ বছর

একটি খোলা দুনিয়ায় ঘুরেছে আরেকটি খুব যত্নে কোন এক সিন্দুকে কারো সম্পদ হয়ে আবদ্ধ ছিলো।
🌿পর্দাওয়ালী এবং বেপর্দা মেয়ের উৎকৃষ্ট উদাহরণ এটি।

পর্দা হচ্ছে নারীর নিরাপত্তা, সম্মান ও সৌন্দর্যের ঢাল।
পর্দা নারীকে ছোট করে না, পর্দা নারীকে সুরক্ষিত, মর্যাদাবান ও সুন্দর করে।

🛡️ পর্দা নারীকে সেফ রাখে যেভাবে—
★ পর্দা নারীর প্রতি অশালীন দৃষ্টি কমায়
★ হয়রানি ও কু-নিয়তের সম্ভাবনা হ্রাস করে
★ নারীকে “ভোগের বস্তু” নয়, “সম্মানের মানুষ” হিসেবে উপস্থাপন করে
★ আল্লাহ নারীকে দুর্বল নয়, মূল্যবান বানিয়েছেন—
আর মূল্যবান জিনিস ঢেকে রাখা হয়।

🌺 পর্দা নারীকে সুন্দর রাখে যেভাবে—
★ বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে চরিত্রের সৌন্দর্য প্রকাশ পায়
★ লজ্জাশীলতা নারীর সবচেয়ে বড় অলংকার হয়
★ বয়স বাড়লেও সম্মান কমে না
★ আত্মমর্যাদা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়
📌 প্রকৃত সৌন্দর্য শরীর দেখানোতে নয়,
নিজেকে সংরক্ষণ করার মধ্যে।

📖 কুরআনের নির্দেশ
🟢 সূরা আন-নূর: ৩১
“মুমিন নারীদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে, লজ্জাস্থান হেফাজত করে এবং তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে…”

🟢 সূরা আল-আহযাব: ৫৯
“হে নবী! তোমার স্ত্রীদের, কন্যাদের ও মুমিন নারীদের বলো—তারা যেন তাদের চাদর নিজেদের ওপর টেনে নেয়। এতে তারা পরিচিত হবে এবং কষ্ট দেওয়া হবে না।”

👉 পর্দার উদ্দেশ্য স্পষ্ট:
পরিচয় + নিরাপত্তা + সম্মান

🌷 হাদিসের বাণীঃ-
🟢 রাসূল ﷺ বলেছেন—
“লজ্জাশীলতা ইমানের অংশ।”
— সহিহ বুখারি, মুসলিম

🟢 আরেক হাদিসে এসেছে—
“নারী হলো পর্দাযোগ্য (আওরাহ)। যখন সে বের হয়, শয়তান তাকে লক্ষ্য বানায়।”
— তিরমিজি

🟢 রাসূল ﷺ আরও বলেন—
“আল্লাহ লজ্জাশীল ও পর্দাশীল মানুষকে ভালোবাসেন।”
— আবু দাউদ

🌼 শেষ কথা
পর্দা কোনো শাস্তি নয়,
পর্দা আল্লাহর পক্ষ থেকে সম্মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
যে নারী পর্দা করে—সে নিজেকে ঢাকে না,
সে নিজেকে উচ্চতায় তোলে।
🤍 পর্দা মানে অন্ধকার নয়—
পর্দা মানে আল্লাহর নূরে নিজেকে রক্ষা করা।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের বুঝার তৌফিক দেন। আমিন 🤲
কপি

Address

Chittagong
4320

Telephone

+8801518477360

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আশার আলোছায়া "Ashar Alochhaya" posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to আশার আলোছায়া "Ashar Alochhaya":

Share