28/01/2026
ভালোবাসা জিনিসটা সত্যিই অদ্ভুত। এটা শুধু রূপ বা বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখেই আসে না। ভালোবাসা জন্ম নেয় উত্তম আচরণে, যত্নে, এবং ভালোবাসা প্রকাশের মধ্য দিয়ে। আপনি যদি কাউকে ভালোবাসা দেন, সম্মান দেন, অনুভূতি জানান—তাহলেই ভালোবাসা ফিরে আসে। কিন্তু যদি মনে করেন, কেবল ব্যক্তিত্ব কিংবা সৌন্দর্যের জোরেই কেউ আপনাকে আজীবন ভালোবাসবে—এই ধারণা অলিক।
পৃথিবীতে অসংখ্য সৎ, ব্যক্তিত্বশীল পুরুষ আছেন, যারা স্ত্রীর ভালোবাসা পান নি। আবার অনেক রূপবতী নারীও আছেন, যারা স্বামীর ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত থেকেছেন। প্রশ্ন হলো—কেন? অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, তারা প্রত্যাশা করেছেন ভালোবাসা, কিন্তু ভালোবাসা দিতেই ভুলে গেছেন। কেউ ভেবেছেন চরিত্রই যথেষ্ট, কেউ ভেবেছেন রূপই সব। অথচ ভালোবাসা পাওয়ার জন্য ভালোবাসা দিতে হয়। ভালোবাসাকে সম্মান জানাতে হয়। অনুভূতিকে প্রকাশ করতে হয়।
আপনার স্বামী যদি আপনাকে বলে—'আমি তোমাকে ভালোবাসি', অথবা কথায়, চোখে, আচরণে ভালোবাসা প্রকাশ করে—তখন আপনার দায়িত্ব শুধু শুনে নেওয়া না; মুখে ও আচরণে তার জবাব দেওয়া। যদি সে একাই বারবার ভালোবাসা প্রকাশ করে যায় আর আপনি এমন ভঙ্গি নেন—যেন আপনার মনে কোন অনুভূতিই জাগ্রত হচ্ছে না—তাহলে ধীরে ধীরে তার মন ভেঙে যেতে পারে। ভালোবাসা কমে যেতে পারে। এটা একটা মারাত্মক ভুল।
স্বামীর সঙ্গে এমন ভাষায় কথা বলুন, এমন আচরণ করুন—যেন সে বুঝতে পারে, আপনি তাকে গভীরভাবে ভালোবাসেন। বিশ্বাস আর আস্থার সঙ্গে তার মনে এই অনুভূতিটুকু জাগিয়ে দিন—সে আপনার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। এই অনুভূতিই তাকে আপনার প্রতি আরও বেশি আকৃষ্ট করবে।
মোটকথা, সে যখন ভালোবাসা প্রকাশ করে, তখন তার জবাবে এমন শব্দ ব্যবহার করুন, এমন অনুভূতি দিন—যেন তার মন আনন্দে ভরে যায়। যেন সে অনুভব করে—আমার স্ত্রী আমাকেই চায়।
রাসুলুল্লাহ ﷺ–এর স্ত্রীগণ—উম্মুল মুমিনিনগণ—ভালোবাসা প্রকাশে কখনো কুণ্ঠিত ছিলেন না। তারা প্রকাশ্যেই ভালোবাসা জানিয়েছেন। কথা ও ইশারায় তাদের ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। এর অসংখ্য প্রমাণ হাদিসের কিতাবে ছড়িয়ে আছে। হজরত আয়েশা (রাঃ) একবার বলেছিলেন—'আমি যখনই আপনার কথা স্মরণ করি, আমার মুখ তাজা হয়ে যায়।'
এটা সরাসরি ভালোবাসার ভাষা। এভাবে ভালোবাসার কথা প্রকাশ করতে হয়।
আরেকবার হাফসা (রাঃ) বলেছিলেন—হে আল্লাহর রাসুল, আমরা কি করে আপনার প্রতি হিংসা করব? আপনি তো আমাদের হৃদয়ের কেন্দ্রবিন্দু।
এটাও ভালোবাসার অকপট প্রকাশ।
একদিন নবি ﷺ আয়েশা (রাঃ)-কে বললেন—আমি তোমার রাগের অবস্থাতেও বুঝে ফেলি, তুমি আমাকে ভালোবাসো। আয়েশা (রাঃ) বললেন—হ্যাঁ, রাগ হলে শুধু আপনার নামটা বদলে ডাকি, ভালোবাসা কিন্তু একই থাকে।
হজরত আয়েশা (রাঃ) রাসুলুল্লাহ ﷺ–এর জন্য কবিতাও লিখেছেন। রাতে তিনি ঘরে ফিরলে, আয়েশা (রাঃ) সেই কবিতা আবৃত্তি করতেন। শব্দে শব্দে তিনি বোঝাতেন—এই মানুষটাই তার জীবনের সূর্য। ভাবুন তো, কোনো স্ত্রী যদি স্বামীকে এমন শব্দে, এমন ভালোবাসায় অভ্যর্থনা জানায়—তার হৃদয়ে কী পরিমাণ প্রশান্তি নেমে আসতে পারে?
অথচ আজ অনেক নারী মনে করেন—ভালোবাসা প্রকাশ করা শুধু স্বামীর দায়িত্ব। নিজের ভালোবাসা লুকিয়ে রাখলেই নাকি দাম বাড়ে। এটা বড় ভুল ধারণা। তালি দুই হাতেই বাজে, বাজাতে হয়। (অনেক স্বামীরাও এটা মনে করে, ভালোবাসার দায়িত্ব শুধু স্ত্রীদের)
ভালোবাসা পেতে হলে ভালোবাসা প্রকাশ করতে হয়—কথায়, কাজে, আচরণে। বিশেষ করে স্বামী যখন ভালোবাসা প্রকাশ করে, তখন স্ত্রীর পক্ষ থেকেও তা ফিরিয়ে দেওয়া জরুরি। এমনভাবে কথা বলুন, যেন স্বামীর হৃদয় ভরে যায় এই বিশ্বাসে—আমার স্ত্রী শুধু আমাকেই চায়।
মনে রাখতে হবে, স্বামীর মনে যদি কখনো এই সন্দেহ ঢুকে যায়—আমার স্ত্রী কি আমাকে সত্যিই চায়?—তাহলে তা তার অন্তর ভেঙে দেয়। তাই স্ত্রীর জীবনযাপন, কথা ও আচরণ এমন হওয়া দরকার—যেন স্বামীর মনে গভীরভাবে এই বিশ্বাস গেঁথে যায়—'আমার স্ত্রী আমাকে ভালোবাসে। একান্তভাবেই আমাকে।' এই বিশ্বাসই দাম্পত্য জীবনের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।