আলোকগল্প - AlokGolpo

আলোকগল্প - AlokGolpo মূহুর্ত মানেই গল্প। সেই গল্প ফ্রেম বন্দী করে গল্পের ঝুলি নিয়ে আলোকযাত্রা সূচনা করে আলোকগল্প।

◼️চিত্রকর : Tahsins Akibuki ◼️আলোকগল্প 📖"আয়িশা নাওয়ার নাবিহা" - আমার একমাত্র বড় ভাই-ভাবীর একমাত্র ফন্ডিত কইন্যা তিনি। তা...
16/08/2023

◼️চিত্রকর : Tahsins Akibuki
◼️আলোকগল্প 📖

"আয়িশা নাওয়ার নাবিহা" - আমার একমাত্র বড় ভাই-ভাবীর একমাত্র ফন্ডিত কইন্যা তিনি। তার সাথে এই পেইন্টিং এর গল্পের পূর্বে কিঞ্চিত তার বর্ণনাটা দিয়ে যাই।

তিনি আমাকে "তাতাই" বলে ডাকেন এখন। তাতাই শব্দের উদ্ভব ও বিকাশ : চাচা > তাতা > তাতাই।

তবে একটা সময় সে আমাকে তাতাই থেকে "বাবা" বলে ডাকতো বেশি। এর পেছনে যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত কারণ ও গল্প আছে। যেহেতু ওর বাবা মা দু'জনেই ব্যাংকার। সেহেতু ওর ৬ মাস বয়সের পর থেকে ভাবীকে জবে যেতে হত। তখন ছিল করোনা কালীন সময়। আমার আব্বা আম্মা ছিলেন চট্টগ্রামে বাড়িতে। আর করোনার কারণে আমার ও করা লাগতো হোম অফিস। আমার চোখের সামনে থাকতো ডেক্সটপ, কি-বোর্ড আর কোলে থাকতেন ৬ মাসের নাবিহা। তখন অফিসের কাজ করতে করতেই, ওকে দেখাশোনার জন্য যাবতীয় কাজ আমাকেই করা লাগতো, যেমন : জনৈকার খাওয়াদাওয়া থেকে শুরু করে হাগা-মুতা পরিষ্কার করা, গোসল করানো, সাজুগুজু সব। পরবর্তীতে আরো সময় পর ওকে দেখার জন্য আরেকজন পিচ্চি মেয়ের আগমন ঘটে। কিন্তু সে নিজেও ছোট মানুষ কম বুঝতো বলে আমাকেই আগেপরে থাকা লাগতো এসব নিয়ে।

এবং মজার বিষয় হলো, যখন সে কথা বলা শুরু করলো হালকা হালকা এবং আরো একটু বড় ও হল তখন দেখলাম এই কচি বুড়ি সারাদিন "বাবা" ডাকে আমাকে, আর যখন তার বাপ বাসায় আসতো তেনার ভোল পাল্টে যেত পুরা ৩৬০° তে। আমি আবার "তাতাই" ডাকের আসনে, এবং তার বাপ "বাবা" আসনে।

আরেকটা ছোট গল্প বলে রাখি, নাবিহা হওয়ার আগে আমি কখনোই এত কম বয়সের ছোট বাচ্চা কোলে নিতাম না/ নিতে পারতাম না। কারণ আমার মনে হতো আমি ওদের ধরলেই আমার হাতের চাপে হাড্ডিগুড্ডি ভেঙ্গে যাবে। আর নাবিহার স্বাস্থ্য ও অই বয়সের তুলনায় অনেকটা কম ছিল। তো মূলত এই বুড়ির কারণে আমার এই ছোট বাচ্চা কোলে নেওয়ার ভীতি কেটে যায়। আর প্রাণীদের বিষয়টা কাটে "জোজো" নামের এক আদর কুকুর ছানার জন্য, যেটি আমি আমার আরেকটা আলোকগল্পে বলেছিলাম বিস্তারিত।

এবার আসি এই পেইন্টিং রহস্যে। আমাকে যেহেতু নাবিহা একদম ছোট থেকেই রঙ, তুলি, ক্যানভাস এসব নিয়েই থাকতে দেখতো প্রায় সময়ই, তাই ওর নিজের ও এর প্রতি অনেক আগ্রহ ছিল। ওকে আমি আঁকার জন্য ওর বয়স অনুযায়ী খাতা রঙ পেন্সিল তা দিয়ে দিতাম। ও ওর যা মন চাইতো সেভাবেই দাগাতে থাকতো। কিন্তু তখনো ওকে আমি কখনো শিখানোর চেষ্টা করিনি। সেটা ওর একটা বয়সের জন্য অপেক্ষা করতাম আমি। আমার মাথায় সব সময় থাকতো তখন, আমার আঁকার দুনিয়ার যত সম্পত্তি আছে সব হবে ওর।

এখন আমার রুমের একটা সাইড হচ্ছে আমার কম্পিউটার সেটাপ। এবং এর বিপরীতে হচ্ছে আমার আঁকিবুকির রাজ্য। যেখানে আমি আঁকতে বসলে তখন অনেকটা সময় কাটাই।
আর নাবিহার আমার রুমের প্রতি ছোটবেলা থেকেই প্রবল আকর্ষণ এসবের কারণে। কারণ এই একটা রুম বাকি সব গুলো থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই আমি আমার কাজের মাঝে বা কাজ শেষে দরজা খুললেই সে সেকেন্ডের মধ্যে ঢুকে পড়তো আর আমার ফ্লোরিং বেডে শুয়ে পায়ের উপর পা তুলে চারপাশ দেখতো এবং বলতো যে, "তাতাই চল পেইন্টিং করি তোমার অই কালার গুলো দিয়ে?"

ওর আজকে বয়স ৩ বছর ৬ মাস ১১ দিন। ওকে এতদিন অন্য কালার এবং স্কেচবুক দিলেও ও আজকে আমার আঁকার রাজ্যের রঙ তুলি ক্যানভাসে ঢোকার স্বাধীনতা পাইছে। এবং আজকেই আমি ওকে প্রথম হাত ধরে ওয়াটার কালার কিভাবে করতে হয় সেটার প্রথম ক্লাস নিলাম। এর আগে কিছু শিখালে সেটা অন্য মিডিয়াতে, বা সম্পূর্ণ কোনো পেইন্টিং কমপ্লিট নিয়ে না। এবং মাশাআল্লাহ ও খুব তাড়াতাড়ি আমার বলা কথা গুলো ধরতে পারলো।

যেই পেইন্টিং টা উপরে দিয়ে এতক্ষণ এত পকরপকর করলাম, আমি জানি অনেকে ইতিমধ্যে ম্যাক্সিমাম অনেক আগেই পড়া বন্ধ করে পলায়ন করেছেন এবং কিঞ্চিত বর্ণনার নামে থিসিস কেও হার মানাইলাম, সেটাতে ওর কোলাবোরেশান হচ্ছে :

আমরা প্রথমে ভাবলাম একটা বেলুন আঁকবো। বেলুন টা আঁকার পর ওকে অল্প শেখালাম সেটা কিভাবে ওয়াটারকালার ইউজ করে ফিলাপ করতে হয়। এবং সে পুরোটা সুন্দর মত লাল বেলুন বানাইলো। এরপরই আমার মাথায় আসলো যে আজকে একটা কম্পলিট পেইন্টিং করবো ও সহ। ওকে এর পর কিছুক্ষণ আকাশ মানে Sky, নীল মানে Blue, রঙ মানে Colour এসব নিয়ে বকরবকর করে বুঝাইলাম যে আকাশের রঙ নীল। এবং আজকে আমরা এরকম একটা পেইন্টিং করবো। লাল বেলুনের মত করে চারপাশে তোমাকে এখন নীল রঙ দিয়ে আকাশ বানাতে হবে। সে সেটা শেষ করলো। এবং এতদিন পেইন্টিং করবো করবো করে করে ঘ্যানর ঘ্যানর কর ফন্ডিত শেষে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো, "তাতাই আজকে আর করবো না ঠিকাসে? পরে আবার করবো ঠিকাসে"। আমিও তাতে সায় দিয়ে বললাল, " হ্যাঁ তাতাই, ওয়াটার কালার করার পর রঙ টা শুকাতে হবে। এর মধ্যে তুমি ভাত খেয়ে নাও এবং ঘুমিয়ে পড়"।

এবং ওর করে দেওয়া ফাউন্ডেশন পেইন্টিং এর উপর আমি ফাইনাল টাচ দিয়ে সেটাকে এই অবস্থায় আনলাম। মহারাণী ঘুম থেকে উঠে বলে, "তাতাই তাড়াতাড়ি দরজা খুলো"
আমি দরজা খুললাম এবং তাকে আমাদের পেইন্টিং দেখিয়ে বললাম, "এটা আমাদের দুজনের করা পেইন্টিং তাতাই"
ভাত খেয়ে এবং ঘুমায়ে হালকা শক্তি হওয়াতে সে আবার রেডিও বাজানো শুরু করলো "চল আবার পেইন্টিং করি তাতাই?"

১৬ অগাস্ট, ২০২৩ এর আলোকগল্পের এখানেই সমাপ্তি ঘোষণা করা হলো। এখন তাতাই মানে আমি আর নাবিহা ছবির এই লাল-হলুদ গাড়ি করে পুরো বাসার রুমে রুমে ঘুরে বেড়াবো।

◼️আলোকচিত্রী : তাহসীন উদ্দীন আহমেদ

▪️চিত্রকর : Tahsins Akibuki ▪️আলোকচিত্রী : তাহসীন উদ্দীন আহমেদ 📖 ষোলশহর স্টেশন টু বহদ্দারহাট, চট্টগ্রাম || ২৮ জুন, ২০২৩ ...
24/07/2023

▪️চিত্রকর : Tahsins Akibuki
▪️আলোকচিত্রী : তাহসীন উদ্দীন আহমেদ

📖 ষোলশহর স্টেশন টু বহদ্দারহাট, চট্টগ্রাম
|| ২৮ জুন, ২০২৩ || রাত ১০ টা বেজে ১০ মিনিট

©️ আলোকগল্প - AlokGolpo

◼️আলোকগল্প 📖বিয়ের লাল শাড়ি পরিহিতা কনে ঘোমটার আড়ালে ঠিক কি অনুভূতি নিয়ে বরের দিকে তাকিয়ে বর ভোলানো এবং ভুবন ভোলানো উভয় হ...
08/07/2023

◼️আলোকগল্প 📖

বিয়ের লাল শাড়ি পরিহিতা কনে ঘোমটার আড়ালে ঠিক কি অনুভূতি নিয়ে বরের দিকে তাকিয়ে বর ভোলানো এবং ভুবন ভোলানো উভয় হাসিই দিচ্ছে সেই গল্পটা তাদের একান্তই ব্যক্তিগত। যে যতই বুজুর্গ হোক না কেন, এই গল্পের অনুভূতির গভীরে সে কখনোই পৌঁছাতে পারবে না। সর্বোচ্চ নিজের দৃষ্টিকোণ থেকে একটা কাল্পনিক অনুভূতি কাজ করতে পারে। আমার দৃষ্টিকোণ থেকেও এই ছবির গল্প ওরকমই কাল্পনিক।

আমার কাছে শুধু এটাই মনে হচ্ছিল, এটা মনে হয় তামাম দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ অনুভূতির মধ্যে অন্যতম একটা, যেখানে অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে নেই কোনো কথোপকথন। আছে শুধু মিষ্টি লাজুক চাহুনি আর দিল মোচড় মাড়া হাসি।

২৩ জুন, ২০২৩ এর আলোকগল্প - AlokGolpo এখানেই সমাপ্তি ঘোষণা করা হল।

আলোকচিত্রী : তাহসীন(জনাব আহমেদ - Jonab Ahmed)

◼️আলোকগল্প 📖|| ষোলশহর স্টেশন, চট্টগ্রাম |||| সন্ধ্যা ৬ টা ১৭ মিনিট > ৩০ই মে ২০২৩ ||ষোলশহর স্টেশনের কোনো এক চায়ের দোকানের...
05/07/2023

◼️আলোকগল্প 📖
|| ষোলশহর স্টেশন, চট্টগ্রাম ||
|| সন্ধ্যা ৬ টা ১৭ মিনিট > ৩০ই মে ২০২৩ ||

ষোলশহর স্টেশনের কোনো এক চায়ের দোকানের বেঞ্চিতে বসা আমি। গরম চায়ের চুমুকের টর্নেডোটা যেই মগজ ঠান্ডায় ব্যস্ত ছিল, তখনই তার সেই রাজকীয় আগমন৷
তার সুরের মূর্ছনা কখনো কখনো কানে বিষক্রিয়ার সূচনা করে। প্রকান্ড আওয়াজের গতিতে আমি বেঞ্চি থেকে উঠে পড়লাম।

রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ-র "খুব কাছে এসো না কোনোদিন" কবিতার একটা লাইন ছিল, "যতটা কাছে এলে কাছে আসাআসি বলে, ঠিক ততটা কাছে এসো না কোনোদিন"।
আমি অর্ধ বাধ্য ছাত্রের মত খুব কাছাকাছি না গিয়ে, কাছ থেকেই এই ছবিটা তুললাম৷ এবং ট্রেনর আওয়াজ থেকে শুরু করে ছবিটা তোলা পর্যন্তই আমার অবচেতন মন বার বার চিক্কুর পেড়ে উঠছিল এই বলে যে, " আজকের এই ট্রেনই হবে আমার সামনের কোনো এক পেইন্টিং এর রেফারেন্স। এবং ঠিকঠাক ক্লিক আসার পরে প্রশান্তি নিয়ে আবার বেঞ্চিতে আমি।

আরেক দফা গরম চায়ের টর্নেডো শুরু...

তাই ৩০ মে, ২০২৩ এর আলোকগল্প - AlokGolpo এখানেই সমাপ্তি ঘোষণা করা হল।

আলোকচিত্রী : তাহসীন ( জনাব আহমেদ - Jonab Ahmed )

চিত্রকর : Tahsins Akibuki

30/06/2023

◼️আলোকগল্প : জোজো & তাহসীন 📖

জোজোর সাথে আমার প্রথম দেখা ২৪ মে, ২০২২। বন্ধু তামান্নার বাসায় গিয়েছিলাম আমি আর আসিফ। জোজো মূলত তামান্নার ফ্যামিলি মেম্বার। এখন জোজোর সম্পূর্ণ অবিভাবকের দায়িত্ব পালন করে ছোট বোন তাইফা। যাই হোক, সেই দিনই জোজোর সাথে আমার সখ্যতা। এবং প্রথম সাক্ষাতেই। এক্ষেত্রে জোজো এবং বাসার বাকি মেম্বারদের অবদানই বেশি। কারণটা জানতে এখন চলে যাব পরের প্যারায়।

অনেকটুকু ফ্ল্যাশব্যাকে যেতে হবে এখন। কারণ একদম ছোট থেকে যেকোনো রকম প্রাণীদের স্পর্শ, আদর করা এসব থেকে আমি বরাবরই দূরে থাকতাম। এই দূরত্বে মূল কারণ কখনোই প্রাণীদের ভয় পাওয়া ছিল না। সেটা শুধু প্রাণীদের ক্ষেত্রে না, একদম সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুর ক্ষেত্রেএ সেটা প্রযোজ্য ছিল। এমনকি আমি মুরগী জবাইয়ের জন্য কখনো মুরগীর গলা ও ধরতে পারতাম না। কারণ আমার মনে হত আমি ধরলেই তাদের নরম হাড়গোড় আমি বিনাশ করে তাদের ক্ষতির কারণ হব। একবার মুরগি জবাইয়ের জন্য ধরতে গিয়ে মনে হচ্ছিল যে এই ব্যাচারার মেবি ছুড়ি লাগবে না, আমার ধরার প্রেশারেই সে মারা যাবে। ঠিক যেমন বাচ্চাদের ক্ষেত্রে মনে হত, ওদের এখন আদর করতে গেলে আমি হাড্ডিগুড্ডি সব ভেঙ্গে ফেলবো। সেই থেকে যেকোনোরকম প্রানী, সেটা গরু/ছাগল/বিড়াল/মানুষের বাচ্চা যাই হোক না কেন, তাদের সাথে আমার একটা বিশাল দূরত্ব সৃষ্টি হয়।

কিন্তু ২৪ মে, ২০২২ তারিখে এই দূরত্বের অবসান ঘটায় " দ্যা জোজো"। যার একটা স্মৃওইদিনের অনুভূতি প্রকাশ করতে গেলে এই গল্প শেষ হবে না। সেসময়ের করা একটা ভিডিও ক্লিপ আছে যেটা এই পোস্টেই এড করে দেওয়া আছে। যেখানে কোনো প্রাণী বা নির্দিষ্ট করে কোনো কুকুরকে প্রথমবার এভাবে এত কাছে এসে আদর করার খুশিটা আমার চোখে মুখে হাতে পায়ে ভাসছিল।
আজ ২৯ জুন, ২০২৩ আবার অনেকদিন পর জোজোর সাথে দেখা। এবং এরপর ঘটে যাওয়া বাকি গল্পের অনুভূতি আমাদের দুজনের ব্যক্তিগত।

তাই ২৯ জুন, ২০২৩ এর আলোকগল্পের এখানেই সমাপ্তি ঘোষণা করা হল।

◼️আলোকচিত্রী : তাহসীন || তামান্না
◼️সম্পাদনা : জনাব আহমেদ - Jonab Ahmed || তাহসীন উদ্দীন আহমেদ

" ঈদ মোবারক "◼️আলোকচিত্রী: তাহসীন উদ্দীন আহমেদ (জনাব আহমেদ)◼️আলোকগল্প 📖 :এবারের ঈদ মেজ খালার সাথে করা হচ্ছে। তো গতকাল গর...
29/06/2023

" ঈদ মোবারক "

◼️আলোকচিত্রী: তাহসীন উদ্দীন আহমেদ (জনাব আহমেদ)
◼️আলোকগল্প 📖 :

এবারের ঈদ মেজ খালার সাথে করা হচ্ছে। তো গতকাল গরু দেখা আর হালকা হন্টনের সহিত আড্ডার জন্য বাসার নিচে নামলাম। হেঁটে এসে বাসার গেটের দিকে যাব, ঠিক ওই সময় কাজিন বলে উঠলো "ভাইয়া আসেন একটা সেল্ফি তুলি"। সকলে পোজ দিয়ে পুরোদস্তর প্রস্তুত। আমিও ফোন হাতে নিয়ে ক্যামেরা বাটন প্রেস করার একটা পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছি।
এবার একটু ফ্ল্যাশব্যাক এ যাই। ছবি তুলতে আসার আগেই বাসার গলিতে গরু সমেত একখানা মিনি ট্রাকের আগমন। গরু নামানো তখন প্রক্রিয়াধীন। আমরাও সকলে সারিবদ্ধ হয়ে চিপা কোণা পার করে গেটের সামনে আসলাম। যেই ছবিটা তুলতে যাব, গরুটা ঠিক আমার পেছনে ( যতটা কাছে এলে কাছে আসাআসি বলে লোকে, তার থেকে কিঞ্চিত দূরে)। কিন্তু পেছনে গরু নামার বিষয়টা আমার মাথার সামনে পেছনে ভেতরে কোথাও কাজ করে নাই তখনো। গরুটা যেই কাঠের তক্তা পার করে পিকাপ থেকে রাস্তায় নামলো, তখন দিল এক হুংকার। ততক্ষণে আমার মহিলা গ্যাং এর আতংকিত হুংকার আমার কানে হিট করলো। এবং তখন আমিও গরু আর তার শিং এর সাথে কাছে আসাআসি ফিল করা শুরু করলাম। এবং সেই ভন্ডুল পরিস্থিতিতে ছবিটা তখন আর ক্লিক করা হয় নি। এবার ফোকাস করবো এই গল্পের মূল নায়কের দিকে। সেজন্য যেতে হবে পরের প্যারায়।
যার জন্য এই আলোকগল্পের সূচনা তার একখানা পোট্রের্ট তো আবশ্যক। তো গেইটে তার পদার্পণের সাথে সাথে তুলে ফেলা হল এই ছবিখানা।

২৮ই জুন ২০২৩ এর আলোকগল্পের এখানেই সমাপ্তি হল।

|| ২৮ ই জুন, ২০২৩ || বহদ্দারহাট, চট্টগ্রাম ||

ছোট্টোবেলার বন্ধু কিশোআরা ও বন্ধুবর আসিফ ভাই-এর নতুন পথচলা দিয়ে আলোকযাত্রা সূচনা করলো আলোকগল্প - AlokGolpo  আলোকচিত্রী |...
27/06/2023

ছোট্টোবেলার বন্ধু কিশোআরা ও বন্ধুবর আসিফ ভাই-এর নতুন পথচলা দিয়ে আলোকযাত্রা সূচনা করলো আলোকগল্প - AlokGolpo

আলোকচিত্রী || তাহসীন উদ্দীন আহমেদ
২৩ জুন,২০২৩ || শায়লা স্কোয়ার, চট্টগ্রাম

▪️আলোকগল্প 📖

১৩ই জুন, ২০২৩ ঠিক রাত একটা বেজে ১৫ মিনিটে আমার ম্যাসেঞ্জারে ম্যাসেজ আসলো কিশুর। ম্যাসেজে চোখ না দিয়ে চোখটা বারবার যাচ্ছিল ওর ছবি সমেত নামের দিকে। কারণ অংকুর সোসাইটি স্কুলে নার্সারি থেকে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত যত বাচ্চামির, বন্ধু শব্দটা বোধদয় শুরু কিশু আর হাতে গোনা কিছু বন্ধুর সাথে ছিল, তাদের অনেকের সাথেই যোগাযোগের মাত্রা অতীব কম। কিন্তু যে যার জায়গা ছোট্টবন্ধুর স্থানটা আমরা কেউই মুছতে পারি না। তাই ওর থেকে ম্যাসেজ আসার কিছুক্ষণ ফুল স্টপ গেল। এরপর পরের প্যারায় যাব আমরা।

কিশুর টেক্সট ওপেন করে দেখি বিয়ের দাওয়াত! কার বিয়ে? কিশুর!! এবারের অবাকের অনুভুতি আরো ভরপুর। কারণ ওই দিন রাতের প্রায় ১০/১১ টার দিকে আমি আর আসিফ গাড়িতে কথা বলতে বলতে এক পর্যায়ে অংকুর স্কুলের বন্ধুদের কথা টানলাম। এবং কিশু সহ যেসব কাছের বন্ধুদের সাথে এখন জীবনের নানাবিধ কারণে যোগাযোগ শূন্যের কোঠায় চলে যাচ্ছে, তাদেরকে নিয়ে খুব শীগ্রই একটা আড্ডার ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ মাসখানেকের মধ্যেই কিছু বন্ধু আবার দেশের বাইরে যাবে বেশ অনেকটা সময়ের জন্য। তাই বাচ্চা গুলা বুড়া হওয়ার পরের আড্ডাটা খুব করে মন চাইছিল।

ঠিক এই কারণেই কিশুর বিয়ের খবরটা শুনে আরো বেশি খুশি হইছিলাম যে এরকম একটা সুন্দর দিনে আমাদের আবার সবার দেখা হবে। তারপর যথারীতি সেটা হল ২৩ জুন, ২০২৩ শায়লা স্কোয়ার, চট্টগ্রামে। কোনো এক কারণে আসিফের ফোন টা হাতে নিয়েছিলাম এমনেই ক্যামেরা কেমন বা এই ছবিটা তুললে কেমন আসবে এরকম এটা চিন্তভাবনা নিয়ে যেই কিশুর কয়েকটা ছবি তোলা শুরু করলাম, আমার ছবি তোলার শখের প্রখরতা অনুভব করলাম। তারপর আর থামাথামি নাই। মজা পাই গেছি ভাই। আসছি এক উদ্দেশ্যে, মাগার হাসিল করে যাব দুই উদ্দেশ্য। তারপর অফিশিয়াল ওয়েডিং ফটোগ্রাফার দের ফাঁকফোকর, বামে-ডানে, কোণায় চিপায় যেমনে পারছি ওভাবেই এই মূহুর্ত গুলোকে ফ্রেমে বন্দী করা। এতদিন নানান ছবি তুললেও কালের স্রোতে বা স্রোতের কালে বিলুপ্ত প্রায়। এবং সেসব আলোকগল্প নিয়ে সবার সামনে হাজির হব এই চিন্তা বারবার মাথায় ঘুরপাক করার পর ও কখনো করা হয়নি। হাজার লক্ষ নিযুত কোটি ধন্যবাদ কিশুর বিয়ে ও আসিফের ফোনকে। কারণ ব্যাচারা রে ফোনটা ওইদিন আর ইমার্জেন্সি ছাড়া হাতেই নিতে দিই নাই।

২৩ জুন, ২০২৩ এর আলোকগল্প এখানেই সমাপ্তি হল।

Address

Chittagong

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আলোকগল্প - AlokGolpo posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to আলোকগল্প - AlokGolpo:

Share