07/05/2026
Bell’s Palsy (বেলস পালসি) কী?
Bell’s Palsy হলো মুখের এক পাশের হঠাৎ দুর্বলতা বা অবশ হয়ে যাওয়া, যা সাধারণত Facial Nerve (৭ম ক্রেনিয়াল নার্ভ) আক্রান্ত হওয়ার কারণে হয়।
এতে মুখ বেঁকে যেতে পারে, চোখ পুরোপুরি বন্ধ না হতে পারে, হাসলে একপাশ নড়তে না পারে।
এটি সাধারণত হঠাৎ শুরু হয় এবং বেশিরভাগ রোগী কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসের মধ্যে অনেকটাই ভালো হয়ে যান।
⸻
কেন হয়?
সঠিক কারণ সবসময় নিশ্চিত নয়, তবে ধারণা করা হয় ভাইরাসজনিত প্রদাহের কারণে Facial Nerve ফুলে যায়।
সম্ভাব্য সম্পর্কিত ভাইরাস:
* Herpes simplex virus
* Varicella zoster virus
* Influenza
* Epstein-Barr virus
⸻
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
* ডায়াবেটিস রোগী
* গর্ভবতী নারী
* ভাইরাল ইনফেকশনের পর
* উচ্চ রক্তচাপ থাকলে
* দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকলে
⸻
লক্ষণগুলো কী?
সাধারণত কয়েক ঘণ্টা বা ১–২ দিনের মধ্যে হঠাৎ দেখা দেয়।
প্রধান লক্ষণ
* মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া
* হাসতে সমস্যা
* চোখ বন্ধ করতে না পারা
* কপালে ভাঁজ ফেলতে না পারা
* পানি বা খাবার মুখের এক পাশ দিয়ে পড়ে যাওয়া
* কথা একটু জড়ানো লাগা
অন্যান্য লক্ষণ
* কানের পেছনে ব্যথা
* চোখ শুকিয়ে যাওয়া
* অতিরিক্ত চোখ দিয়ে পানি পড়া
* স্বাদের অনুভূতি কমে যাওয়া
* শব্দ বেশি জোরে লাগা
⸻
Bell’s Palsy আর Stroke কি এক?
না।
অনেকেই ভয় পেয়ে এটাকে Stroke ভাবেন, কিন্তু দুটো এক নয়।
Bell’s Palsy তে:
* পুরো মুখের এক পাশ আক্রান্ত হয়
* কপালও নড়তে পারে না
* সাধারণত হাত-পায়ে দুর্বলতা থাকে না
Stroke এ:
* কপাল অনেক সময় স্বাভাবিক থাকে
* হাত-পায়ে দুর্বলতা থাকতে পারে
* কথা জড়িয়ে যেতে পারে
* জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন
তাই হঠাৎ মুখ বেঁকে গেলে দ্রুত ডাক্তার দেখানো জরুরি।
⸻
কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়?
সাধারণত রোগীর ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষা করেই নির্ণয় করা যায়।
কখনো কখনো প্রয়োজন হতে পারে:
* Blood sugar পরীক্ষা
* MRI / CT scan
* Nerve conduction study
বিশেষ করে যদি:
* ধীরে ধীরে বাড়ে
* বারবার হয়
* দুই পাশ আক্রান্ত হয়
* অন্য নিউরোলজিক সমস্যা থাকে
⸻
চিকিৎসা
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা — বিশেষ করে প্রথম ৭২ ঘণ্টার মধ্যে।
১. Steroid
সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা।
সাধারণত:
* Prednisolone ব্যবহার করা হয়
এটি নার্ভের ফোলা কমাতে সাহায্য করে।
⸻
২. Antiviral
কিছু ক্ষেত্রে দেওয়া হতে পারে:
* Acyclovir
* Valacyclovir
⸻
৩. চোখের যত্ন খুব গুরুত্বপূর্ণ
চোখ বন্ধ না হলে কর্নিয়া শুকিয়ে ক্ষতি হতে পারে।
তাই:
* Artificial tears
* Lubricating eye ointment
* Eye patch ব্যবহার করা হতে পারে
⸻
৪. Physiotherapy
মুখের ব্যায়াম অনেক সময় উপকারী হতে পারে।
যেমন:
* হাসির অনুশীলন
* ঠোঁট গোল করা
* চোখ বন্ধের অনুশীলন
⸻
রোগী কি পুরোপুরি ভালো হয়?
বেশিরভাগ রোগী ৩–৬ মাসের মধ্যে অনেকটাই বা পুরোপুরি ভালো হয়ে যান।
তবে কিছু রোগীর থাকতে পারে:
* সামান্য মুখ বেঁকে থাকা
* চোখের সমস্যা
* মুখে টান লাগা
⸻
কখন দ্রুত হাসপাতালে যাবেন?
যদি থাকে:
* হাত-পায়ে দুর্বলতা
* কথা বলতে সমস্যা
* ডাবল দেখা
* অজ্ঞান হওয়া
* তীব্র মাথাব্যথা
* ধীরে ধীরে বাড়তে থাকা মুখের দুর্বলতা
তাহলে Stroke বা অন্য নিউরোলজিক সমস্যা হতে পারে।
ডা. রিয়াজুল জান্নাত (সুমন)
এমবিবিএস, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ।
বিসিএস (স্বাস্থ্য)
সিএমইউ,ডিএমইউ (সিমুড)
মেডিকেল অফিসার,
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আলফাডাঙ্গা, ফরিদপুর।
চেম্বারের ঠিকানা:
মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার,
হাসপাতাল রোড, বোয়ালমারী, ফরিদপুর।