30/06/2026
বাচ্চা পালা এমনিতেই খুব কঠিন কাজ, তারউপর যদি যুক্ত হয় অন্য কারো বাচ্চা তাহলে তো কথাই নাই, নিজের বাচ্চাকে নিজের মতো করে বুঝিয়ে নেয়া যায়, কিন্তু অন্য কারো বাচ্চাকে কিভাবে বোঝাবো? তার মতিগতি কিছুই আমি জানিনা, বুঝিনা, তাকে সামলানো আমারটাকে সামলানোর চেয়ে অনেক কঠিন।
আমার বাচ্চা জেদ করলে হাত পা ছুড়ে কান্না( যদিও সেটা বয়সের কারনে), কিন্তু ওকে আমি কয়েক মিনিটের মধ্যে বা মাঝে মাঝে একটু সময় নিয়ে শান্ত করে ফেলতে পারি। কিন্তু ছবিটা থাকা বাচ্চাটা(আরিশা) জেদ করলে রীতিমত চিৎকার করে, সামনে যা থাকে ছুড়ে ফেলে দেয়, ভেঙে ফেলতে চায়। আমিই রীতিমত ভয় পেয়ে যাই।
আমার মেয়ে সেটা ফলো করে, প্রথম দিন ওর এমন উগ্র রিকায়কশ দেখে আমার মেয় যদিও ভয় পেয়েছিলো, কিন্তু পরেরদিন দেখলাম আমার মেয়েও তেমন আচরণ করার চেষ্টা করছে। অন্যের বাচ্চা সামলাতে গিয়ে নিজের বাচ্চাকে মারতে হয়। আমার বাচ্চা নিজের করা ভুলের চেয়ে অন্যের করা কাজের জন্য মাইর খায় বেশি।
দুইজন একসাথে থাকলে আমি টেনশনে অন্যরুমে যেতে পারিনা, মনে হয় কিছু একটা ঘটে যাবে, দুনিয়াতে কত রকমের যে মানসিক চিন্তা আছে, মা হওয়ার পর এখন হারেহারে টের পাচ্ছি। অন্যের বাচ্চা পালতে পারলেও মারার অধিকার নাই। সেই জায়গায় আমার বাচ্চা পালা তো দূরে থাক, ১০ মিনিটের জন্যেও যারা কোলে রাখেনাই তারা এসে যখন বলে এটা করাও ওটা শিখাও, তখন বলতে ইচ্ছা করে আপনার থেকে আমার বাচ্চার পারিবারিক, মানসিক শিক্ষা অনেক ভালো।
এখন এটা মানিয়ে মেনে চলতে হচ্ছে, আমি মাঝে মাঝে নিজেকেই সামলাতে পারিনা, আর এদেরকে কিভাবে সামলাবো?
কিছু মানুষ দেখি বাচ্চাকে একদমই শাসন করেনা, বাচ্চা জেদ করলে বলে ও এমনি। অন্যের খেলনা নিয়ে যায়, বড়ছোট সবাইকে মারে, অযথা চিৎকার করে, অন্য বাচ্চাদের ধাক্কা মারে তবুও বাচ্চার মা একদমই শান্ত, উল্টা বাচ্চাকে কাছে টেনে নিয়ে আদর করে। কিভাবে ভাই, কেমনে পারে তারা এমন!?
আপনার বাচ্চা আপনার কলিজার টুকরা, তেমনি আমার বাচ্চা আমার কলিজার টুকরা, আপনার বাচ্চা আমার বাচ্চাকে আঘাত করছে আপনি দেখছেন, তাহলে তাকে আটকান, শাসন করেন, কোথায় কি ব্যবহার করতে হয় সেটা শেখান। ও এমনি বলে অন্যায়কে ঢেকে রাখেন কেনো? বাচ্চা মানুষ একটু তো দুষ্টামি করবে, এটা বলে বাচ্চাকে আরো প্রশ্রয় দেয়া হয়, দুষ্টামি এক বিষয় আর আক্রমণাত্মক আরেকটা বিষয়, সব এক করে ফেললে হয়না।
আমার বাচ্চা তো আপনার বাচ্চাকে আক্রমণ করছে না, এটা বললে বলবে তোমার মেয়ে তো মাশাল্লাহ্ অনেক ভালো। তাহলে আপনার সন্তানকেও ভালো করেন, যাতে ওর আক্রমণাত্মক ভাবটা একটু কমে। আল্লাহ আমাকে মা বানিয়েছেন, কিন্তু আমি ঐ মায়েদের মতো হতে পারিনি যারা বাচ্চার অন্যায় চোখে দেখেনা, একদমই বাচ্চাকে মারেনা।
©নাফিউ