29/05/2026
# # # **কুয়াশার ওপারে**
# # # # **চূড়ান্ত পর্ব: চক্রব্যূহের অবসান**
পুলিশের হাতকড়া যখন অয়নের (অপরাধীর শরীরে থাকা) কবজিতে চেপে বসল, তখন তার বুকের ভেতরটা ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। সে নিজের আসল শরীরটার দিকে তাকাল, যে এখন বিজয়ের অশুভ হাসি হাসছে। অয়ন বুঝতে পারল, অনুনয়-বিনয় করে কোনো লাভ নেই। police তাকেই 'চক্রব্যূহ' গ্যাংয়ের মূল হোতা ভেবে নিয়ে যাচ্ছে।
তাকে যখন পুলিশ ভ্যানে তোলা হচ্ছে, তখন ঘড়িতে রাত ১২:০৭ মিনিট। বৃদ্ধের কথা অনুযায়ী, সে অলরেডি নিজের শরীর ফিরে পাওয়ার সময় পার করে ফেলেছে। ভ্যানের অন্ধকার কোণে বসে অয়ন চোখ বন্ধ করল। একজন কোডার হিসেবে সে সবসময় জানত—প্রতিটি জটিল কোডেরই একটা 'ব্যাকডোর' বা লুকানো পথ থাকে। এই পুরো ঘটনাটা যদি কোনো আধ্যাত্মিক অ্যালগরিদম হয়, তবে এরও একটা লুপহোল বা ত্রুটি থাকা উচিত।
হঠাৎ অয়নের মনে পড়ল বৃদ্ধের বলা শেষ কথাটি—*"শূন্য থেকে একের দূরত্ব কত?"*
সে এতক্ষণ ভাবছিল এটা কোনো অংক। কিন্তু আসলে কি তাই? শূন্য মানে হলো—কিছু না থাকা, অর্থাৎ মৃত্যু বা অবসান। আর এক মানে হলো—শুরু বা জীবন। তাহলে শূন্য থেকে একের দূরত্ব হলো—একটি 'সিদ্ধান্ত' বা 'উৎসর্গ'।
অয়ন বুঝতে পারল, সে যদি এই অপরাধীর শরীরটাকে বাঁচানোর চেষ্টা করে, তবে সে চিরকাল এই চক্রব্যূহে ফেঁসে থাকবে। তাকে এই লুপটা ভাঙতে হবে।
সে হঠাৎ পুলিশ অফিসারের দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল, "স্যার, আমি আমার সব অপরাধ স্বীকার করছি। এই শহরের যতগুলো খুন হয়েছে, সব আমিই করেছি। তবে আমার শেষ একটা অনুরোধ আছে। আমার ফ্ল্যাটের ল্যাপটপে একটা ফাইল আছে, ওটাই আমার সমস্ত অপরাধের মূল প্রমাণ। ওটা এখনই ডিলিট না করলে পুরো সিস্টেম ক্র্যাশ করবে।"
অয়নের আসল শরীরটা (যার ভেতরে অপরাধীর আত্মা ছিল) ল্যাপটপের সামনে বসে লাইভ ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে পুলিশের কথোপকথন শুনছিল। সে যখনই শুনল ল্যাপটপে অপরাধের প্রমাণ আছে, সে আতঙ্কিত হয়ে পড়ল। কারণ সে তো আসলে কোনো কোডার নয়, সে একজন সাধারণ অপরাধী। সে ভাবল অয়ন হয়তো তাকে ফাঁসানোর জন্য ল্যাপটপে কোনো ট্র্যাপ বা ফাঁদ রেখে গেছে।
ভয়ে এবং লোভে পড়ে অপরাধীটি অয়নের ল্যাপটপের স্ক্রিনে থাকা সেই জটিল কোডটি ডিলিট করার জন্য 'এন্টার' (Enter) বোতামে চাপ দিল।
আর ঠিক সেখানেই সে জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলটি করল!
আসলে ওই কোডটি ছিল অয়নের শেষ তৈরি করা সেই অ্যালগরিদম, যা এই পুরো মায়াজালকে ধরে রেখেছিল। ওটা ডিলিট করার মানে হলো—চক্রব্যূহের বিনাশ!
ঠিক রাত ১২:১০ মিনিটে পুরো ফ্ল্যাটটা এক তীব্র নীল আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠল। ল্যাপটপ থেকে একটা শক্তিশালী বৈদ্যুতিক তরঙ্গ বের হয়ে ঘরের সবাইকে স্তব্ধ করে দিল।
---
# # # # **শেষ টুইস্ট (The Ultimate Twist):**
পরদিন সকালে তীব্র সূর্যের আলো এসে অয়নের চোখে পড়ল। সে ধড়ফড় করে বিছানায় উঠে বসল।
সে দ্রুত আয়নার সামনে দৌড়ে গেল। আয়নায় হাত রাখতেই তার চোখে আনন্দের জল চলে এল—আয়নায় এখন তার নিজের সেই চিরচেনা আসল চেহারা! সে নিজের শরীর ফিরে পেয়েছে!
স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে অয়ন ড্রয়িংরুমে এল। ল্যাপটপটা টেবিলের ওপর স্বাভাবিকভাবে চলছে। তবে তার ঘরের মেঝেতে একটা প্লাস্টিকের বাক্স রাখা, ঠিক প্রথম রাতের মতো।
অয়ন কাঁপতে কাঁপতে বাক্সটা খুলল। ভেতরে এবার কোনো নীল তরল নেই। তার বদলে সেখানে রয়েছে আজকের সকালের খবরের কাগজ।
কাগজের প্রধান শিরোনাম দেখে অয়নের হাত থেকে কাগজটা পড়ে গেল। সেখানে লেখা—**"শহরের কুখ্যাত 'চক্রব্যূহ' গ্যাংয়ের প্রধান হোতা পুলিশের লকআপে গত রাতে রহস্যজনকভাবে মারা গেছে। ডাক্তারদের মতে, তার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। তবে অদ্ভুত বিষয় হলো, মৃতদেহের মুখে এক চেনা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের ফ্যাকাশে প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছিল!"**
অয়ন বুঝতে পারল, লুপটা ভেঙে যাওয়ার কারণে অপরাধীর আত্মাটি তার নিজের আসল শরীরে (যা কফিনে ছিল) ফিরে যাওয়ার আগেই মারা গেছে।
সে জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকাল। কুয়াশা কেটে গেছে, রোদ ঝলমল করছে শহর। কিন্তু অয়ন যখন ল্যাপটপের দিকে ঘুরল, দেখল স্ক্রিনের একদম কোণায় একটা নতুন মেসেজ পপ-আপ করেছে।
মেসেজটি পাঠিয়েছে এক অজ্ঞাতনামা প্রেরক, যেখানে লেখা—**"চক্রব্যূহের প্রথম ধাপ পার করার জন্য অভিনন্দন, অয়ন। দ্বিতীয় ধাপ আজ রাত ১২:০৫ মিনিটে শুরু হচ্ছে। প্রস্তুত থেকো।"**
**[সমাপ্ত]**
---
#কুয়াশার_ওপারে #ধারাবাহিক_গল্প #রহস্য_রোমাঞ্চ #গল্পের_আসরে #গল্প #রহস্য_গল্প #নতুন_গল্প