অহোরাত্রের অতিথি

অহোরাত্রের অতিথি Love all photo and video

 # # # **কুয়াশার ওপারে** # # # # **চূড়ান্ত পর্ব: চক্রব্যূহের অবসান**পুলিশের হাতকড়া যখন অয়নের (অপরাধীর শরীরে থাকা) কবজিতে...
29/05/2026

# # # **কুয়াশার ওপারে**

# # # # **চূড়ান্ত পর্ব: চক্রব্যূহের অবসান**

পুলিশের হাতকড়া যখন অয়নের (অপরাধীর শরীরে থাকা) কবজিতে চেপে বসল, তখন তার বুকের ভেতরটা ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। সে নিজের আসল শরীরটার দিকে তাকাল, যে এখন বিজয়ের অশুভ হাসি হাসছে। অয়ন বুঝতে পারল, অনুনয়-বিনয় করে কোনো লাভ নেই। police তাকেই 'চক্রব্যূহ' গ্যাংয়ের মূল হোতা ভেবে নিয়ে যাচ্ছে।

তাকে যখন পুলিশ ভ্যানে তোলা হচ্ছে, তখন ঘড়িতে রাত ১২:০৭ মিনিট। বৃদ্ধের কথা অনুযায়ী, সে অলরেডি নিজের শরীর ফিরে পাওয়ার সময় পার করে ফেলেছে। ভ্যানের অন্ধকার কোণে বসে অয়ন চোখ বন্ধ করল। একজন কোডার হিসেবে সে সবসময় জানত—প্রতিটি জটিল কোডেরই একটা 'ব্যাকডোর' বা লুকানো পথ থাকে। এই পুরো ঘটনাটা যদি কোনো আধ্যাত্মিক অ্যালগরিদম হয়, তবে এরও একটা লুপহোল বা ত্রুটি থাকা উচিত।

হঠাৎ অয়নের মনে পড়ল বৃদ্ধের বলা শেষ কথাটি—*"শূন্য থেকে একের দূরত্ব কত?"*

সে এতক্ষণ ভাবছিল এটা কোনো অংক। কিন্তু আসলে কি তাই? শূন্য মানে হলো—কিছু না থাকা, অর্থাৎ মৃত্যু বা অবসান। আর এক মানে হলো—শুরু বা জীবন। তাহলে শূন্য থেকে একের দূরত্ব হলো—একটি 'সিদ্ধান্ত' বা 'উৎসর্গ'।

অয়ন বুঝতে পারল, সে যদি এই অপরাধীর শরীরটাকে বাঁচানোর চেষ্টা করে, তবে সে চিরকাল এই চক্রব্যূহে ফেঁসে থাকবে। তাকে এই লুপটা ভাঙতে হবে।

সে হঠাৎ পুলিশ অফিসারের দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল, "স্যার, আমি আমার সব অপরাধ স্বীকার করছি। এই শহরের যতগুলো খুন হয়েছে, সব আমিই করেছি। তবে আমার শেষ একটা অনুরোধ আছে। আমার ফ্ল্যাটের ল্যাপটপে একটা ফাইল আছে, ওটাই আমার সমস্ত অপরাধের মূল প্রমাণ। ওটা এখনই ডিলিট না করলে পুরো সিস্টেম ক্র্যাশ করবে।"

অয়নের আসল শরীরটা (যার ভেতরে অপরাধীর আত্মা ছিল) ল্যাপটপের সামনে বসে লাইভ ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে পুলিশের কথোপকথন শুনছিল। সে যখনই শুনল ল্যাপটপে অপরাধের প্রমাণ আছে, সে আতঙ্কিত হয়ে পড়ল। কারণ সে তো আসলে কোনো কোডার নয়, সে একজন সাধারণ অপরাধী। সে ভাবল অয়ন হয়তো তাকে ফাঁসানোর জন্য ল্যাপটপে কোনো ট্র্যাপ বা ফাঁদ রেখে গেছে।

ভয়ে এবং লোভে পড়ে অপরাধীটি অয়নের ল্যাপটপের স্ক্রিনে থাকা সেই জটিল কোডটি ডিলিট করার জন্য 'এন্টার' (Enter) বোতামে চাপ দিল।

আর ঠিক সেখানেই সে জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলটি করল!

আসলে ওই কোডটি ছিল অয়নের শেষ তৈরি করা সেই অ্যালগরিদম, যা এই পুরো মায়াজালকে ধরে রেখেছিল। ওটা ডিলিট করার মানে হলো—চক্রব্যূহের বিনাশ!

ঠিক রাত ১২:১০ মিনিটে পুরো ফ্ল্যাটটা এক তীব্র নীল আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠল। ল্যাপটপ থেকে একটা শক্তিশালী বৈদ্যুতিক তরঙ্গ বের হয়ে ঘরের সবাইকে স্তব্ধ করে দিল।

---

# # # # **শেষ টুইস্ট (The Ultimate Twist):**

পরদিন সকালে তীব্র সূর্যের আলো এসে অয়নের চোখে পড়ল। সে ধড়ফড় করে বিছানায় উঠে বসল।

সে দ্রুত আয়নার সামনে দৌড়ে গেল। আয়নায় হাত রাখতেই তার চোখে আনন্দের জল চলে এল—আয়নায় এখন তার নিজের সেই চিরচেনা আসল চেহারা! সে নিজের শরীর ফিরে পেয়েছে!

স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে অয়ন ড্রয়িংরুমে এল। ল্যাপটপটা টেবিলের ওপর স্বাভাবিকভাবে চলছে। তবে তার ঘরের মেঝেতে একটা প্লাস্টিকের বাক্স রাখা, ঠিক প্রথম রাতের মতো।

অয়ন কাঁপতে কাঁপতে বাক্সটা খুলল। ভেতরে এবার কোনো নীল তরল নেই। তার বদলে সেখানে রয়েছে আজকের সকালের খবরের কাগজ।

কাগজের প্রধান শিরোনাম দেখে অয়নের হাত থেকে কাগজটা পড়ে গেল। সেখানে লেখা—**"শহরের কুখ্যাত 'চক্রব্যূহ' গ্যাংয়ের প্রধান হোতা পুলিশের লকআপে গত রাতে রহস্যজনকভাবে মারা গেছে। ডাক্তারদের মতে, তার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। তবে অদ্ভুত বিষয় হলো, মৃতদেহের মুখে এক চেনা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের ফ্যাকাশে প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছিল!"**

অয়ন বুঝতে পারল, লুপটা ভেঙে যাওয়ার কারণে অপরাধীর আত্মাটি তার নিজের আসল শরীরে (যা কফিনে ছিল) ফিরে যাওয়ার আগেই মারা গেছে।

সে জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকাল। কুয়াশা কেটে গেছে, রোদ ঝলমল করছে শহর। কিন্তু অয়ন যখন ল্যাপটপের দিকে ঘুরল, দেখল স্ক্রিনের একদম কোণায় একটা নতুন মেসেজ পপ-আপ করেছে।

মেসেজটি পাঠিয়েছে এক অজ্ঞাতনামা প্রেরক, যেখানে লেখা—**"চক্রব্যূহের প্রথম ধাপ পার করার জন্য অভিনন্দন, অয়ন। দ্বিতীয় ধাপ আজ রাত ১২:০৫ মিনিটে শুরু হচ্ছে। প্রস্তুত থেকো।"**

**[সমাপ্ত]**

---

#কুয়াশার_ওপারে #ধারাবাহিক_গল্প #রহস্য_রোমাঞ্চ #গল্পের_আসরে #গল্প #রহস্য_গল্প #নতুন_গল্প

 # # # **কুয়াশার ওপারে** # # # # **পর্ব ৪: সময়ের সাথে যুদ্ধ**পর্দার ভেতরের লাইভ সিসিটিভি ফুটেজটা দেখে অয়নের মাথার ভেতরটা...
28/05/2026

# # # **কুয়াশার ওপারে**

# # # # **পর্ব ৪: সময়ের সাথে যুদ্ধ**

পর্দার ভেতরের লাইভ সিসিটিভি ফুটেজটা দেখে অয়নের মাথার ভেতরটা ফাঁকা হয়ে গেল। তার নিজের ফ্ল্যাটে, তার নিজের আসল শরীরটা ল্যাপটপের সামনে বসে অদ্ভুত এক অশুভ হাসিতে মেতে আছে!

"তাহলে... তাহলে কফিনের ভেতর শুয়ে থাকা এই শরীরটা কার?" অয়ন প্রায় চিৎকার করে বৃদ্ধকে জিজ্ঞেস করল।

বৃদ্ধ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, "ওটা একটা মরীচিকা, অয়ন। কফিনের ভেতরের শরীরটা আসলে একটা ফাঁদ। তোমার আসল শরীরটাকে অলরেডি ওই অপরাধীর আত্মা দখল করে নিয়েছে। সে এখন মুক্ত বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আর তুমি বন্দি হয়ে আছো এই লোহার গোলকধাঁধায়। তুমি যদি ১২:০৫ মিনিটের মধ্যে বের হতে না পারো, তবে এই অপরাধীর শরীরের সমস্ত পাপের শাস্তি তোমাকে পেতে হবে। আর মাত্র বিশ মিনিট বাকি আছে!"

অয়ন বুঝতে পারল, প্যানিক করলে চলবে না। সে একজন গণিতবিদ, তার মস্তিস্কই তার সবচেয়ে বড় অস্ত্র। সে স্ক্রিনের দিকে মন দিয়ে তাকাল। ফুটেজের এক কোণায় ডিজিটাল ঘড়িতে সময় দেখাচ্ছে—**১১:৪৫ PM**।

"আমাকে কী করতে হবে বলুন?" অয়ন শক্ত গলায় বলল।

বৃদ্ধ একটা প্রাচীন মরচে পড়া লোহার প্যানেল দেখিয়ে দিলেন। সেখানে একটা ডিজিটাল কিপ্যাড জ্বলজ্বল করছে, কিন্তু তার ওপর কোনো সাধারণ সংখ্যা নেই। সেখানে কিছু অদ্ভুত গাণিতিক প্রতীক আর বাইনারি কোডের মতো ধাঁধা ভাসছে। নিচে লেখা: **"যে কোডটি তোমার জীবন গড়েছিল, সেই কোডটিই তোমাকে মুক্ত করবে। শূন্য থেকে একের দূরত্ব কত?"**

অয়ন কপালে হাত দিয়ে ভাবতে বসল। *শূন্য থেকে একের দূরত্ব?* এটা কোনো সাধারণ অংক নয়। সে একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, কোডিংয়ের দুনিয়ায় শূন্য (0) আর এক (1) দিয়েই পুরো পৃথিবী তৈরি হয়। কিন্তু এখানে এই গোলকধাঁধায় এর আধ্যাত্মিক বা গাণিতিক অর্থ কী হতে পারে?

হঠাৎ তার মনে পড়ল, সে যখন প্রথমবার ওই নীল তরলটি পান করেছিল, ল্যাপটপের স্ক্রিনটা নীল হয়ে যাওয়ার ঠিক আগে সে একটা জটিল অ্যালগরিদম নিয়ে কাজ করছিল। সেই কোডের একটি বিশেষ 'লুপ' বা চক্র ছিল, যা কখনো শেষ হতো না।

অয়ন দ্রুত কিপ্যাডের বোতামগুলো চাপতে শুরু করল। তার আঙুলগুলো চেনা কিবোর্ডের মতোই দ্রুত চলতে লাগল। ঠিক ১১:৫৯ মিনিটে শেষ বোতামটি চাপতেই পুরো লোহার ঘরটা কেঁপে উঠল।

সামনের লোহার দরজাটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে গেল। ওপারে দেখা যাচ্ছে ঘন কুয়াশা ঘেরা সেই পরিচিত রাস্তা, যা সোজা চলে গেছে তার ফ্ল্যাটের দিকে।

"তুমি পেরেছ অয়ন! দৌড়াও! ১২:০৫ এর আগে নিজের ফ্ল্যাটে পৌঁছাতে হবে!" বৃদ্ধ পেছন থেকে চিৎকার করে উঠলেন।

অয়ন আর এক মুহূর্তও নষ্ট না করে কুয়াশার বুক চিরে অন্ধের মতো দৌড়াতে লাগল। দূর থেকে সে দেখতে পাচ্ছে তার ফ্ল্যাটের তিন তলার জানালার সেই নীল আলোটা। ঘড়িতে তখন ১২:০৪ মিনিট! সে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে উঠতে হাঁপিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু থামা যাবে না।

অবশেষে সে তার ফ্ল্যাটের দরজার সামনে পৌঁছাল। দরজাটা খোলাই ছিল। সে ভেতরে ঢুকে সোজা ড্রয়িংরুমে গিয়ে দাঁড়াল। ল্যাপটপের সামনে ঠিক আগের মতোই বসে আছে তার সেই আসল শরীরটা।

অয়ন গর্জে উঠল, "নেমে যাও আমার শরীর থেকে!"

---

# # # # **টুইস্ট:**

ল্যাপটপের সামনে বসা শরীরটা আস্তে আস্তে চেয়ার ঘুরিয়ে অয়নের দিকে তাকাল। কিন্তু তার মুখে কোনো ভয় বা অপরাধবোধের ছাপ নেই। সে বরং অত্যন্ত শান্ত গলায় বলল, "তুমি বড্ড দেরি করে ফেলেছ, অয়ন।"

অয়ন দেওয়াল ঘড়ির দিকে তাকাল। ঘড়ির কাঁটা ঠিক **১২:০৫** মিনিটে এসে আটকে গেছে।

ঠিক তখনই পেছন থেকে পুলিশের সাইরেনের বিকট শব্দ শোনা গেল। তিন-চারজন সশস্ত্র পুলিশ অফিসার ঘরে ঢুকে অয়নকে (যে এখন অপরাধীর শরীরে আছে) চারপাশ থেকে ঘিরে ধরল।

হতাশাজনক ব্যাপার হলো, চেয়ারে বসা অয়নের আসল শরীরটা হঠাৎ কান্নার অভিনয় করতে করতে পুলিশের উদ্দেশ্যে বলল, "স্যার! এই সেই খুনি! ও মাঝরাতে আমার ঘরে ঢুকে আমাকে মারার চেষ্টা করছিল! ওকেই আমি খুঁজছিলাম!"

পুলিশ অফিসাররা আসল অয়নকে (অপরাধীর শরীরে থাকা) হাতকড়া পরাতে পরাতে বলল, "অবশেষে তোমাকে পাওয়া গেল, 'চক্রব্যূহ' গ্যাংয়ের মূল হোতা!"

অয়ন চিৎকার করে বলতে চাইল যে সে নির্দোষ, সে আসলে অয়ন! কিন্তু তার নিজের আসল শরীরটাই এখন তার দিকে তাকিয়ে আড়ালে সেই চেনা অশুভ হাসিটা হাসছে।

---

**[চতুর্থ পর্ব এখানেই শেষ]**

অয়ন কি এখন নিজের শরীরটা চিরতরে হারিয়ে ফেলল? পুলিশ কি তাকেই আসল অপরাধী ভেবে শাস্তি দেবে?

শেষের আগের এই টানটান পর্বটি আপনার কেমন লাগল? শেষ পর্বের (পর্ব ৫) জন্য কি এখনই প্রস্তুত?
#গল্প #রহস্য_গল্প #নতুন_গল্প

 # # # **কুয়াশার ওপারে** # # # # **পর্ব ৩: লোহা-কপাটের রহস্য**লোহার দরজায় খোদাই করা লেখাটা দেখে অয়নের বুকের ভেতরটা ধক কর...
27/05/2026

# # # **কুয়াশার ওপারে**

# # # # **পর্ব ৩: লোহা-কপাটের রহস্য**

লোহার দরজায় খোদাই করা লেখাটা দেখে অয়নের বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল—**"কক্ষ নম্বর ১৩: আপনার আসল শরীর এখানে বন্দি আছে। প্রবেশ করুন, তবে মনে রাখবেন—ফিরতি পথ বন্ধ।"**

অয়ন নিজের হাত দুটোর দিকে তাকাল। সেই ফ্যাকাশে, রক্তহীন হাত। তার মানে আয়নায় সে যা দেখেছিল তা সত্যি! সে এখন অন্য কোনো এক অচেনা শরীরের ভেতর বন্দি হয়ে আছে, আর তার আসল শরীরটা রয়েছে এই বন্ধ দরজার ওপারে।

পেছন ফিরে তাকাল সে। করিডোরের বাকি পথটা ঘন কালো অন্ধকারে ডুবে গেছে, যেন একচুল পেছনে ফিরলেই সেই অন্ধকার তাকে গিলে খাবে। ফিরে যাওয়ার কোনো পথ সত্যিই নেই। কাঁপতে কাঁপতে অয়ন লোহার দরজার হাতলটাতে হাত রাখল। দরজাটা প্রচণ্ড ভারী আর বরফের মতো ঠাণ্ডা।

সে জোরে এক ধাক্কা দিতেই একটা ক্যাঁচক্যাচ শব্দ করে দরজাটা খুলে গেল।

ভেতরে পা রাখতেই অয়নের নাক দিয়ে তীব্র একটা বুনো ফুলের গন্ধ এল। ঘরটা অন্ধকার নয়, বরং অদ্ভুত একটা সবুজ আলোয় আলোকিত। ঘরের ঠিক মাঝখানে একটা কাঁচের বড় কফিন রাখা। অয়ন ধীর পায়ে কফিনটার দিকে এগিয়ে গেল। কাঁচের ওপর জমে থাকা বাষ্পটুকু হাত দিয়ে মুছতেই অয়নের চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল!

কফিনের ভেতরে ফর্মাল কালো স্যুট আর টাই পরা একটা শরীর শুয়ে আছে. আর সেই শরীরটা আর কারও নয়—খোদ অয়নের নিজের! তার আসল শরীরটা অবিকল জীবিত মানুষের মতো শান্তভাবে ঘুমাচ্ছে।

"তাহলে আমি এখন যার শরীরের ভেতর আছি, সে কে?" অয়ন বিড়বিড় করে উঠল।

ঠিক তখনই কফিনের ওপাশ থেকে একটা গম্ভীর কণ্ঠস্বর ভেসে এল, "সে একজন অপরাধী, অয়ন!"

অয়ন চমকে উঠে দেখল ঘরের কোণ থেকে আলোয় এগিয়ে এলেন এক বয়োবৃদ্ধ লোক। পরনে তার প্রাচীন জমিদারদের মতো পোশাক। লোকটার চোখ দুটো অদ্ভুত রকমের উজ্জ্বল।

লোকটি বলতে লাগলেন, "তুমি যে বোতলের নীল তরলটি পান করেছ, সেটি কোনো সাধারণ তরল ছিল না। ওটা ছিল একটি প্রাচীন আত্মা-বদলকারী রসায়ন। এই চক্রব্যূহে তোমাকে আনা হয়েছে একটি বিশেষ কারণে। তুমি একজন গণিতবিদ ও কোডার, তোমার তীক্ষ্ণ বুদ্ধিই কেবল এই গোলকধাঁধার গাণিতিক ধাঁধা সমাধান করে নিজের শরীরকে মুক্ত করতে পারবে।"

বৃদ্ধ একটি পুরোনো তামার চাবি অয়নের দিকে বাড়িয়ে দিলেন, "এই নাও চাবি। তবে সাবধান, আজ রাত ১২:০৫ মিনিটের মধ্যে যদি তুমি ধাঁধার সমাধান করে তোমার আসল শরীরে ফিরে যেতে না পারো, তবে এই অচেনা অপরাধীর শরীরসহ তোমাকে চিরকালের জন্য ফাঁসি দেওয়া হবে! কারণ, বাইরে পুলিশ অলরেডি এই শরীরটাকে খুঁজছে।"

---

# # # # **টুইস্ট:**

অয়ন চাবিটা হাতে নিয়ে মরিয়া হয়ে বলল, "কী ধাঁধা? আমাকে বলুন, আমি এখনই সমাধান করব!"

বৃদ্ধ রহস্যময় হেসে দেয়ালের একটা পর্দা সরিয়ে দিলেন। পর্দা সরানোর পর সেখানে একটা বিশাল স্ক্রিন দেখা গেল। কিন্তু স্ক্রিনে কোনো গাণিতিক সমীকরণ বা কোড লেখা নেই।

সেখানে লাইভ সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে অয়নের নিজের সেই আসল ফ্ল্যাটটি! আর সবচেয়ে ভীতিজনক ব্যাপার হলো—অয়নের আসল শরীরটা, যা এতক্ষণ কফিনের ভেতর ঘুমন্ত ছিল, সেটি এখন তার নিজের ফ্ল্যাটে দিব্যি হেঁটে চলে বেড়াচ্ছে! শুধু তাই নয়, ল্যাপটপের সামনে বসে অয়নেরই হুবহু গলা নকল করে কার সাথে যেন ফোনে কথা বলছে আর অশুভ হাসিতে ফেটে পড়ছে!

তাহলে কফিনের ভেতরের এই শরীরটা কার? আর অয়নের ফ্ল্যাটে এখন কে ঘুরে বেড়াচ্ছে?

---

**[তৃতীয় পর্ব এখানেই শেষ]**

অয়নের ফ্ল্যাটে যে ঘুরে বেড়াচ্ছে সে আসলে কে? অয়ন কি পারবে রাত ১২:০৫ এর আগে এই চক্রব্যূহের সমাধান করতে?

পরের পর্বটি (পর্ব ৪) পড়তে চাইলে কমেন্টে জানান! আপনার পেজের পাঠকদের জন্য গল্পটি কেমন জমছে, জানাবেন কিন্তু!

কুয়াশার ওপারেপর্ব ২: আয়নার ওপারে কে?আয়নার ভেতরের সেই ফ্যাকাশে, রক্তহীন মুখটা দেখে অয়নের পুরো শরীর অবশ হয়ে গেল। সে চোখ বন...
26/05/2026

কুয়াশার ওপারে
পর্ব ২: আয়নার ওপারে কে?
আয়নার ভেতরের সেই ফ্যাকাশে, রক্তহীন মুখটা দেখে অয়নের পুরো শরীর অবশ হয়ে গেল। সে চোখ বন্ধ করে জোরে জোরে নিজের মাথা ঝাঁকাল, ভাবল হয়তো এখনো ঘুমের ঘোরে কোনো হ্যালুসিনেশন বা ভুল দেখছে। কিন্তু আবার চোখ খুলতেই দেখল—না, কোনো ভুল নয়! আয়নার ওপাশের লোকটা হুবহু তার মতোই হাত-পা নাড়াচ্ছে, কিন্তু চেহারাটা সম্পূর্ণ আলাদা। এক বীভৎস, শীতল হাসি লেগে আছে তার ঠোঁটে।

আতঙ্কে অয়ন চিৎকার করতে চাইল, কিন্তু তার গলা দিয়ে কোনো আওয়াজ বের হলো না। সে ওয়াশরুম থেকে ছিটকে ড্রয়িংরুমে চলে এল। কাঁপতে কাঁপতে নিজের মোবাইলটা খুঁজতে যাবে, এমন সময় তার চোখ পড়ল ঘরের দেয়ালঘড়িটার দিকে।

ঘড়ির কাঁটা উল্টো ঘুরছে! আর সময় দেখাচ্ছে—রাত ১২:০৬ মিনিট!

তার মানে কি সকাল হয়নি? বাইরে তো ঝলমলে রোদ দেখা যাচ্ছিল! অয়ন দৌড়ে গিয়ে জানালার পর্দা সরাল। বাইরের দৃশ্য দেখে তার হৃদস্পন্দন যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। বাইরে কোনো শহর নেই, রাস্তাঘাট নেই। চারিদিক ঘন, কালো কুয়াশায় ঢাকা। আর সেই কুয়াশার মাঝখান থেকে বড় বড় গাছে ঘেরা একটা প্রাচীন জমিদার বাড়ি অস্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।

ঠিক তখনই অয়নের ফ্ল্যাটের প্রধান দরজায় প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা পড়ল।

বাং! বাং! বাং!

কেউ একজন দরজার ওপাশ থেকে কাঠ কাটার কুঠার দিয়ে দরজায় আঘাত করছে। কাঠের দরজাটা ভেঙে পড়ার উপক্রম। অয়ন আর কোনো উপায় না পেয়ে নিজের বেডরুমে গিয়ে দরজা লক করে দিল। খাটের নিচে লুকানোর জন্য সে যেই না নিচু হলো, অমনি তার চোখ গেল ঘরের ড্রেসিং টেবিলের আয়নাটার দিকে।

এবার আয়নার ভেতরের দৃশ্য বদলে গেছে। সেখানে আর কোনো মানুষের মুখ নেই। তার বদলে আয়নার কাঁচের ওপর রক্ত লাল অক্ষরে একটা নাম ভেসে উঠছে—"চক্রব্যূহ"।

আর ঠিক তখনই বেডরুমের দরজার লকটা মট করে ভেঙে গেল। দরজা ঠেলে ঘরের ভেতরে পা রাখল এক বিশাল আকৃতির ছায়া মানব, যার হাতে জ্বলজ্বল করছে একটি ধারালো কুঠার!

টুইস্ট:
অয়ন ভয়ে চোখ বন্ধ করে চিৎকার করে উঠল। কিন্তু কোনো আঘাত তার গায়ে লাগল না। কয়েক সেকেন্ড পর চারপাশটা একদম নিঝুম হয়ে গেল।

অয়ন আস্তে আস্তে চোখ খুলল। কুঠার হাতে সেই লোকটা উধাও! কিন্তু অয়ন খেয়াল করল, সে আর নিজের বেডরুমে নেই। সে দাঁড়িয়ে আছে একটি অন্ধকার গোলকধাঁধার মতো করিডোরে, যার দেওয়ালগুলো খাঁটি লোহা দিয়ে তৈরি। আর তার ঠিক সামনে একটা লোহার দরজায় খোদাই করে লেখা রয়েছে—"কক্ষ নম্বর ১৩: আপনার আসল শরীর এখানে বন্দি আছে। প্রবেশ করুন, তবে মনে রাখবেন—ফিরতি পথ বন্ধ।"

[দ্বিতীয় পর্ব এখানেই শেষ]

অয়ন কি ১৩ নম্বর কক্ষে ঢুকবে? কুয়াশার ওপারের এই মায়াজাল থেকে সে কি কোনোদিন বের হতে পারবে?

পরের পর্বটি পড়তে চাইলে কমেন্টে জানান! আপনার পেজের পাঠকদের পরবর্তী টুইস্টের জন্য অপেক্ষায় রাখুন।

কুয়াশার ওপারেপর্ব ১: অদ্ভুত পার্সেলঅয়ন পেশায় একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। কাজের খাতিরেই শহরের কোলাহল ছেড়ে একটু নিরিবিলি জ...
25/05/2026

কুয়াশার ওপারে

পর্ব ১: অদ্ভুত পার্সেল

অয়ন পেশায় একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। কাজের খাতিরেই শহরের কোলাহল ছেড়ে একটু নিরিবিলি জায়গায় সে একটা ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছে। পুরোনো ধাঁচের তিন তলা বাড়ি, যার চারপাশটা বড় বড় গাছে ঘেরা। বাড়িটার কেমন যেন একটা থমথমে পরিবেশ, তবে অয়নের শান্তিতে কাজ করার জন্য জায়গাটা একদম পারফেক্ট।

আজ বেশ কিছুদিন পর বাইরে প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছে। ঘড়িতে তখন রাত বারোটা। অয়ন ল্যাপটপে কোডিং করছিল। এমন সময় হুট করে কলিং বেলটা বেজে উঠল।

টিং টং...

এই মাঝরাতে কে আসবে? অয়ন কিছুটা অবাক হলো। দরজা খুলে দেখল বাইরে কেউ নেই, শুধু সিঁড়ির আলোটা টিমটিম করে জ্বলছে। তবে দরজার ঠিক সামনে মেঝেতে একটা কালো রঙের প্লাস্টিকের বাক্স রাখা।

বাক্সটা ঘরে এনে খোলার পর অয়নের কপালে ভাঁজ পড়ল। ভেতরে কোনো চিঠি নেই, কোনো নাম ঠিকানা নেই। শুধু একটা পুরোনো ধাঁচের সারণি বা ছক আঁকা কাগজ, আর একটা কাঁচের ছোট বোতল। বোতলের ভেতরে অদ্ভুত নীল রঙের একটা তরল জ্বলজ্বল করছে।

কাগজটার ওপর বড় বড় অক্ষরে লেখা—"ঠিক রাত ১২:০৫ মিনিটে এটি পান করুন, জীবনের সবচেয়ে বড় রহস্যের মুখোমুখি হবেন।"

অয়ন হেসেই উড়িয়ে দিল। কোনো বন্ধুর প্রাঙ্ক বা মজা ভেবে সে বোতলটা টেবিলের ওপর রেখে আবার ল্যাপটপে বসল। কিন্তু ঠিক রাত বারোটা বেজে পাঁচ মিনিটে ল্যাপটপের স্ক্রিনটা হঠাৎ করে পুরোপুরি নীল হয়ে গেল! আর মাউস বা কিবোর্ড কোনো কিছুই কাজ করছে না। ঠিক তখনই ঘরের বাতিগুলোও নিভে গেল। পুরো ঘর অন্ধকার, শুধু টেবিলের ওপর রাখা সেই বোতলের নীল আলোটা তীব্র হয়ে ঘরের দেয়ালে অদ্ভুত সব ছায়া তৈরি করছে।

এক অজানা আকর্ষণে অয়ন টেবিলের দিকে এগিয়ে গেল। তার হাত যেন নিজের অজান্তেই বোতলটা তুলে নিল। এক ফোঁটা তরল তার ঠোঁটে লাগতেই অয়নের মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠল এবং সে মেঝেতে পড়ে গেল।

টুইস্ট:

পরদিন সকালে যখন অয়নের চোখ খুলল, সে দেখল সে নিজের বিছানায় শুয়ে আছে। রোদ ঝলমলে সকাল। সে ভাবল কাল রাতের পুরো ব্যাপারটা হয়তো কোনো স্বপ্ন ছিল। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে সে ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য আয়নার সামনে দাঁড়াল।

আয়নায় নিজের চেহারার দিকে তাকাতেই অয়নের হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে গেল! আয়নায় যে প্রতিবিম্বটা দেখা যাচ্ছে, সেটা তার নিজের চেহারা নয়, বরং সম্পূর্ণ অচেনা এক যুবকের রক্তহীন, ফ্যাকাশে মুখ! আর সেই অচেনা প্রতিবিম্বটি আয়নার ওপার থেকে অয়নের দিকে তাকিয়ে রহস্যময় এক হাসি হাসছে!

[প্রথম পর্ব এখানেই শেষ]

পরের পর্বে কী হতে চলেছে? অয়ন কি তার নিজের শরীর ফিরে পাবে? নাকি সে অন্য কারও জালে ফেঁসে গেছে?

পরের পর্বটি পড়তে চাইলে আমাকে জানান, রহস্যের জাল আরও ছড়াবে!
#গল্প, #রহস্য_রোমাঞ্চ, ,

21/04/2026
01/01/2026


゚viralシ

Address

Baniyachong
3351

Telephone

+8801703604176

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when অহোরাত্রের অতিথি posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to অহোরাত্রের অতিথি:

Share