22/05/2026
আজ শুনবো মংহ্লাপ্রু আর ওয়াম্রাসং এর এক হওয়ার গল্প তাও জামাইয়ের পক্ষ থেকে।
প্রতিদিনের মতো সেদিনও রাত জেগে ফেইসবুক নিউজফিড স্ক্রল করছিলাম আমি। চারপাশে হাজারো মানুষের ভিড়, অথচ নিজের বলতে যেন কেউ নেই। মনটা কেমন যেন শূন্য হয়ে থাকত।
হঠাৎ করেই একটি ছবিতে আমার চোখ আটকে গেল।
ছবিটা ছিল খুবই সাধারণ, মিষ্টি একটা হাসি, চোখে একরাশ শান্তি। কিন্তু সেই সাধারণের মাঝেই ছিল এক অদ্ভুত মায়া, যা আমাকে কয়েক মুহূর্তের জন্য থামিয়ে দিয়েছিল।
অনেকক্ষণ ছবিটার দিকে তাকিয়ে থেকে বুঝতে পারলাম, হয়তো আগে থেকেই কোনোভাবে আমরা ফেইসবুক ফ্রেন্ড ছিলাম।
অনেক দ্বিধা আর সাহস জড়ো করে আমি ছোট্ট একটা ম্যাসেজ পাঠালাম,
“হ্যালো, কেমন আছেন?” ❤️
ম্যাসেজের রিপ্লাই আসতে বেশ সময় লেগেছিল।
কারণ সে সহজে অপরিচিত কাউকে বিশ্বাস করত না। তবুও ভদ্রতার খাতিরে সে উত্তর দিয়েছিল।
সেখান থেকেই শুরু আমাদের গল্প।
প্রথমে শুধু সাধারণ কিছু কথাবার্তা—
“খেয়েছেন?”
“এত রাত জেগে থাকেন কেন?”
“আজ দিনটা কেমন গেল?”
ধীরে ধীরে কথাগুলো অভ্যাস হয়ে গেল।
তার সকাল শুরু হতো আমার ম্যাসেজ দিয়ে, আর আমার রাত শেষ হতো তার কণ্ঠ শুনে।
একদিন হঠাৎ করেই আমাদের ম্যাসেঞ্জারে অডিও কলে কথা হয়।
সেই প্রথম আমি তার কণ্ঠ শুনেছিলাম।
নরম, শান্ত একটা কণ্ঠ…
যেন জীবনের সব ক্লান্তি এক মুহূর্তেই দূর হয়ে গেল।
তার হাসির শব্দ শুনলে আমার মনে হতো, পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি হয়তো এটাই।
আর সেও ধীরে ধীরে আমার অপেক্ষায় থাকতে শিখে গেল।
দূরত্ব তখন হাজার হাজার কিলোমিটার।
তবুও প্রতিদিনের ছোট ছোট অনুভূতি, অভিমান, যত্ন আর ভালোবাসা আমাদের দুজনকে আরও কাছে এনে দিল।
একসময় বুঝতে পারলাম—
আমি শুধু তার সাথে কথা বলতেই ভালোবাসি না, আমি তাকে ভালোবেসে ফেলেছি।
অবশেষে বহু অপেক্ষার পর আমাদের প্রথম দেখা হলো।
সে খুব সাধারণভাবেই এসেছিল।
হালকা রঙের পোশাক, চোখে লাজুক দৃষ্টি, ঠোঁটে ছোট্ট হাসি…
আর আমি শুধু তাকিয়েই ছিলাম।
কারণ এতদিন ফোনের স্ক্রিনে যাকে দেখেছি, আজ সে আমার সামনে বাস্তব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
প্রথম দেখার সেই মুহূর্তটা আজও আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি।
মনে হচ্ছিল, সময় যেন থেমে গেছে।
চারপাশে মানুষ ছিল, শব্দ ছিল, ব্যস্ততা ছিল,
কিন্তু আমার পৃথিবী তখন শুধু তাকে ঘিরেই।
তার হাতের স্পর্শে এক অদ্ভুত শান্তি ছিল।
আর তার চোখের দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছিল, এই মানুষটার মাঝেই হয়তো আমার পুরো পৃথিবী লুকিয়ে আছে।
তারপর ধীরে ধীরে আমাদের সম্পর্ক আরও গভীর হতে লাগল।
বন্ধুত্ব থেকে ভালো লাগা…
ভালো লাগা থেকে ভালোবাসা…
আর ভালোবাসা থেকে আজীবন একসাথে থাকার স্বপ্ন।
দীর্ঘ ৭ বছরের ভালোবাসা, অপেক্ষা, বিশ্বাস, হাজারো অভিমান, অসংখ্য রাতজাগা কথা আর একসাথে ভবিষ্যৎ দেখার গল্প পেরিয়ে অবশেষে দুই পরিবারের সম্মতিতে আমাদের সম্পর্ক পূর্ণতা পায়।
আজও মাঝে মাঝে আমরা হাসতে হাসতে বলি,
“একটা ছোট্ট ফেইসবুক ম্যাসেজই হয়তো বদলে দিয়েছিল আমাদের পুরো জীবন…” ❤️
মংহ্লাপ্রু আর ওয়াম্রাসং এর নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা।
Photo: Lelin Chakma / Khuyung WedStories
Post-Process: Malthas Chakma / Khuyung WedStories
বিয়ের ফটোগ্রাফি আর সিনেমাটোগ্রাফির জন্য যোগাযোগ করুন 01601-719735 নাম্বারে।