17/10/2019
১৯৫৬ সাল। বরিশাল শহরে এক ছেলের জন্ম। মূল বাড়ি মিঠেখালী, মংলা। তার ভাষায় লিখলে 'মোংলা'। একটা শিশু জন্ম নিলো। আর দশজনের মত সে নয়। খানিক অন্যরকম। অন্যরকম সে ছেলে শৈশবে নানীর টাকা চুরি করলো। চুরি করা টাকা আর দশজনের মত লজেন্স খেয়ে ওড়ায়নি সে। বাচ্চাকালেই সে গড়ে তুললো নিজ এলাকার প্রথম লাইব্রেরি।
বাবা ধর্মপ্রাণ মানুষ। ছেলের নাম রাখলেন মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ। স্বেচ্ছাচারী ছেলেটার ওই নাম পছন্দ হলো না! এসএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশনে নামের আগে যুক্ত করলেন 'রুদ্র।' ছেলেটার নাম 'রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ' হলো কেবল খামখেয়ালি স্বভাবের জন্য।
বানানের স্বেচ্ছাচার, প্রেমের সম্পূর্ণ ভিন্নমাত্রার প্রকাশ, বিদ্রোহের সাথে নিত্য ওঠাবাসা ছাপিয়ে রুদ্র মানেই ভালবাসার জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ। সেই আশির দশকে প্রেমিকার জন্য প্রতিদিন ১২ টাকার ভাড়া গুণে তিনি দেখা করতে যেতেন ময়মনসিংহ শহরে। ভালবাসার এই গুণ কজনের মাঝে থাকতো সেই দিনে? বা আজকের এই।সমাজে?
ভয়াবহ ভাগ্যবান একজন এই রুদ্র। মৃত্যুশয্যায় কজনের ভাগ্যে জোটে বর্তমান আর প্রাক্তন প্রেমিকাকে পাশে পাবার ভাগ্য? রুদ্র মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর সেই সৌভাগ্য হয়েছিলো! তবে বিচ্ছেদ ঘটা স্ত্রীকে শেষ শয্যায়ও জানাতে ভোলেননি, "তুমি আমার জীবন্ত ক্রাচ।" সিগারেটের সাথে ছিল দারুণ সখ্যতা। ডাক্তারের নির্দেশ, হয় মাদক ছাড়ো নয়ত পা। রুদ্র সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি তার পা কেটে ফেলবেন কিন্তু নিজের 'সোনালী শিশির' নয়। মৃত্যুটাও তাই কড়া নেড়েছিলো খুব দ্রুত সময়ে। ...
বয়স ৩৫ হয়েছে কি হয়নি। ছেলেটা মারা গেলো। রেখে গেলো মাত্র ৭ টা কাব্যগ্রন্থ। কিন্তু ওসব শুধুই কি কাব্য? নাকি প্রেম আর বিদ্রোহের নতুন সংজ্ঞা? স্বাধীন বাংলাদেশে অত কম সময় বেঁচে থেকে কজন পেরেছে নিজেদের রুদ্রের সমান করে নিতে?
কেউই পারেনি। পারবে না। রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ একজনই আসে। ওরা একবারই জন্মায়।
শুভ জন্মদিন প্রিয় কবি।
ভাল থাকুন ওই আকাশের ঠিকানায়! 😊😊😊
#সংগ্রহীত