03/06/2026
বাংলার প্রাচীন জনপদসমূহ
(Ancient Towns of Bengal)
প্রাচীনকালে বর্তমান বাংলাদেশ ও এর আশেপাশের অঞ্চল কোনো অখণ্ড রাষ্ট্র বা একক নামে পরিচিত ছিল না, বরং অঞ্চলভেদে ছোট ছোট অংশে বিভক্ত ছিল, যা ‘জনপদ’ নামে পরিচিত ছিল।
⏳প্রাচীনকালে বাংলার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঞ্চলগুলাের নাম দেয়া হয়েছিল জনপদ। চতুর্থ শতক হতে গুপ্ত যুগ, গুপ্ত পরবর্তী পাল, সেন প্রভৃতি আমলের উৎকীর্ণ শিলালিপি (Carved Inscription) ও সাহিত্য গ্রন্থে প্রাচীন বাংলার গুরুত্বপূর্ণ ১১ টি জনপদের নাম পাওয়া যায়।
⏳ পুণ্ড্র: এটি বাংলার প্রাচীনতম এবং অন্যতম শক্তিশালী জনপদ। বর্তমান বগুড়া, রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল নিয়ে এটি গঠিত হয়েছিল। এদের রাজধানী ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর (বর্তমানে বগুড়ার মহাস্থানগড়)।
⏳ বঙ্গ: অতি প্রাচীন এবং অত্যন্ত শক্তিশালী একটি জনপদ ছিল বঙ্গ। ধারণা করা হয়, বর্তমান বাংলাদেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে (বিশেষ করে বৃহত্তর ঢাকা, ফরিদপুর, বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চল) এই জনপদটি গড়ে উঠেছিল। 'বঙ্গ' থেকেই পরবর্তীতে 'বাঙালি' জাতির উৎপত্তি ঘটে।
⏳ সমতট: বর্তমান বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলকে কেন্দ্র করে এই জনপদটি গড়ে উঠেছিল। ধারণা করা হয়, মেঘনা নদীর পূর্ব তীর থেকে শুরু করে ত্রিপুরা পর্যন্ত এই অঞ্চল বিস্তৃত ছিল।
⏳ গৌড়: মূলত উত্তর-পশ্চিম বাংলার একটি জনপদ।বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা এবং পশ্চিম বঙ্গের মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও বর্ধমান জেলার অংশবিশেষ নিয়ে তৎকালীন গৌড় জনপদ গঠিত হয়েছিল।
⏳ বরেন্দ্র বা বরেন্দ্রভূমি: এটি ছিল পুণ্ড্র জনপদের একটি বিশেষ অঞ্চল। বর্তমান নেপালের কুশি নদীর পুর্বাংশ, বিহারের গঙ্গা নদীর উত্তরাংশ হতে বাংলাদেশের যমুনা নদীর পশ্চিমাংশের মধ্যকার ভুমি (বাংলাদেশের বগুড়ার পশ্চিমাংশ, পাবনা, রাজশাহী বিভাগের উত্তর পশ্চিমাংশ, রংপুর ও দিনাজপুরের কিছু অংশ) নিয়ে বরেন্দ্র অঞ্চল গঠিত ছিল।
⏳ হরিকেল: বর্তমান চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে এই জনপদটি গঠিত ছিল। সিলেট অঞ্চলও অনেক সময় এর অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করা হয়।
⏳ চন্দ্রদ্বীপ: বর্তমান বরিশাল ও পটুয়াখালী (বাখেরগঞ্জ) অঞ্চল প্রাচীনকালে চন্দ্রদ্বীপ নামে পরিচিত ছিল।
⏳ রাঢ়: ঝাড়খন্ডের সুবর্ণরেখা উপত্যকা ও পশ্চিম বাংলার দক্ষিণ এবং পশ্চিমাঞ্চল নিয়ে গঠিত হয়েছিল।
⏳তাম্ৰলিপ্ত: বৃহত্তর মেদিনীপুর জেলা এর আওতাধীন ছিল।
⏳ রূহ্ম (আরাকান): মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চল অর্থাৎ ইরাবতী নদীর পশ্চিম তীর বৃহত্তর আরাকান, বৈশালী, ম্রহাং এর মধ্যে রূহ্ম জনপদের অবস্থান। কাশ্যপ নদী নামে বিখ্যাত নদী ছিলো।
⏳ সূহ্ম: গঙ্গা-ভাগীরথীর পশ্চিম তীরের দক্ষিণ ভূভাগ,আধুনিক মতে বর্ধমানের দক্ষিণাংশে, হুগলির বৃহদাংশ, হাওড়া এবং বীরভূম জেলা নিয়ে সূহ্ম দেশের অবস্থান ছিল।
⏳ উয়ারী-বটেশ্বর: প্রাচীন বাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, যা ঢাকা থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে নরসিংদীর জেলার বেলাব ও শিবপুর উপজেলায় অবস্থিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় ৪৫০ অব্দের (বা আরও প্রাচীন) একটি সমৃদ্ধ জনপদ ও বন্দর........@