28/02/2026
ইরান ইতিমধ্যে ইসরাইল ব্যতীত ছয়টি গল্ফ কান্ট্রির ক্রিটিক্যাল মিলিটারি ইনফ্রাস্ট্রাকচারে হামলা করেছে। এরমধ্যে সবচেয়ে সিগনিফিকেন্ট বাহরাইনে ইউএস নেভীর ৫ম নেভাল ফ্লিটের হেডকোয়ার্টারে হামলা!
অন্য কোথাও না হোক, অন্তত বাহরাইনে অবস্থিত ইউএস নেভীর পঞ্চম ফ্লিটের হেডকোয়ার্টারে মিসাইল হামলা ইন্টারসেপ্ট করার কথা যুক্তরাষ্ট্রের, কিন্তু সেটা হয়নি। গত দেড় মাস যাবত এই দেশগুলিতে হেভী এয়ারলিফট ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফটে করে প্রচুর পরিমাণ ডিফেন্সিভ এসেট ডিপ্লয় করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এখন কাজের সময় সেগুলি ব্যবহার হচ্ছেনা এখনও অব্দি।অর্থাৎ বোঝা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র হামলাগুলি হজম করছে কোনো এক উদ্দেশ্যে!
আমার মতে উদ্দেশ্য হলো ইরানের উপর যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইককে লেজিট করে তোলা। কারণ ইউএস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সত্যিকার অর্থেই কোনো জাস্টিফায়েড রিজন নাই ইরানে আক্রমণ করার জন্য। এটা সম্পূর্ণ ট্রাম্পের ইগো।
গত ২০২৫ এর ডিসেম্বরে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার Mar-a-Lago ট্রাম্প হ্যাভেনে গিয়ে ট্রাম্পের কাছ থেকে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ফ্যাসিলিটিতে হামলার জন্য গ্রীন সিগ্ন্যাল নিয়ে আসে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৪ই জানুয়ারি ইরানের উপর আক্রমণ হওয়ার কথা। কিন্তু সেটাও কোনো এক অজানা কারণে পিছিয়ে যায়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের ব্যুরো অফ ইস্টার্ন অ্যাফেয়ার্সের ডাইরেক্টর, আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো এবং জো বাইডেনের ইরান স্ট্রাটেজি প্রজেক্টের ডাইরেক্টর Nate Swanson এর মতে: ট্রাম্প ইরানের উপর যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণকে লেজিট করার পরিকল্পনা করছে। উক্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী ইসরাইলকে এক্সেস দেওয়া হবে ইরানে আক্রমণ করতে। এরপর প্যানিকড হয়ে ইরান রিটালিয়েট করলেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য স্ট্রাইক লেজিট এন্ড জাস্টিফায়েড হয়ে যাবে। তখন আক্রান্ত দেশগুলির জনগন সরকার ও যুদ্ধের পক্ষে আমেরিকান জনগনের সমর্থনও আদায় করা সম্ভব হবে। কারণ জানুয়ারিতেও যুক্তরাষ্ট্রে একটি Quinnipiac Poll-এ দেখা যায় ৭০% আমেরিকান যুদ্ধের বিরুদ্ধে। কিন্তু এখন এই মুহূর্তে আক্রান্ত দেশগুলিকে সাথে নিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের আক্রমণ করবে যুক্তরাষ্ট্র। ফলাফল: রেজিম চেঞ্জ।